গাজা এখন খোলা গোরস্থান
যুগান্তর ডেস্ক
প্রকাশ : ২৩ জুলাই, ২০১৪
গাজায় গত ১৪ দিনের ইসরাইলি হামলায় ৫৬০ জনেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। প্রতিদিন এত এত মৃতদেহ সমাহিত করতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছে ফিলিস্তিনি পরিবারগুলো। দিনে দিনে এ সমস্যাটি আরও জটিল হয়ে পড়ছে। দাফন ছাড়া রাস্তায় পচে-গলে উঠছে লাশ। এতে গাজা এখন হয়ে উঠেছে খোলা গোরস্থান।
মঙ্গলবার দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, মৃতদেহ সমাধিস্থলে বয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য অ্যাম্বুলেন্স তো দূরের কথা, একটি ভ্যান জোগাড় করতেই রীতিমতো লড়াই করতে হচ্ছে শোকাহত স্বজনদের। গাজা সিটির প্রধান মর্গটিতে লাশ উপচে পড়ছে। লাশের চাপে ফ্রিজগুলোও যেন স্বাভাবিকভাবে সার্ভিস দিতে পারছে না। ফলে মর্গের চারপাশের বাতাস মাংস পচা গন্ধে ভারি হয়ে ওঠেছে। স্থান সংকুলান হচ্ছে না গোরস্থানগুলোতেও। আর এ অবস্থায় গোর তৈরির লোক খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। তাই মৃতের শোকার্ত স্বজনরা নিজেরাই এখন কোদাল হাতে কবর খুঁড়তে শুরু করেছেন।
গাজায় হামাসের বিরুদ্ধে ইসরাইলি হামলা শুরু হওয়ার প্রথম দিনগুলোতে লোকজন মৃতদেহগুলো জানাজার জন্য মসজিদে নিয়ে যেত। জানাজা শেষে মরদেহ তাঁবুতে এনেই রাখতো তারা। সেখানেই জড়ো হয়ে শোক প্রকাশ করতো মৃতের স্বজনরা। পরে কফিনটি পতাকায় জড়িয়ে নিয়ে গোরস্থানের উদ্দেশ্য রওনা হতো তারা। সেখানে আবেগতাড়িত ভাষায় সুরা কেরাত পাঠ করতেন আলেমরা।
এদিকে মর্গের প্রবেশমুখে দাঁড়িয়ে রয়েছেন মোহাম্মদ জিনদেয়া, পেশায় শিক্ষক। তিনি এসেছেন তার ফুফুর লাশ নিয়ে। লাশ পড়ে আছে মর্গের মেঝেতে। ইসরাইলি বিমান হামলাতেই মারা গেছেন তার ফুফুও। কিন্তু এখন মর্গের ফ্রিজে জায়গা নেই। তাকে প্রশ্ন করা হল, আর কতদিন ইসরাইলি হামলা চলতে পারে? হতাশ কণ্ঠে জিনদেয়া বলেন, কত দিন বা কত সপ্তাহ ধরে এ হামলা চলবে তা আমি বলতে পারব না। আমার তো মনে হয় আমাদের সবাইকে হত্যা না করা পর্যন্ত ইসরাইল থামবে না।
ফুফুকে কোথায় কবর দেবেন তা নিয়েও দুশ্চিন্তার অন্ত নেই এই শিক্ষকের। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, আমরা তো শিজাইয়ায় নিজেদের বাড়ির কাছেই লাশ দাফন করার অনুমতি চেয়েছিলাম। কিন্তু তা বোধহয় সম্ভব হবে না। ইসরাইলিরা এখনও যেভাবে বোমা মারছে! তাকে দেখতে এখন খুবই ক্লান্ত মনে হচ্ছিল।
প্রসঙ্গত, ইসরাইল সবচেয়ে ভয়াবহ হামলাটি চালিয়েছে গাজা উপত্যকার শিজাইয়াতে। বোমা নিক্ষেপের পাশাপাশি ওই এলাকায় হামাস যোদ্ধাদের সঙ্গে ইসরাইলি সেনাদের স্থল যুদ্ধও চলছে। ইসরাইলি ট্যাংকের গতিরোধ করতে তারা স্থল মাইন, ববি ট্রাপ এবং ট্যাংকবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাচ্ছে।
ইতিমধ্যে হাসপাতালের মর্গ থেকে ছয়টি মৃতদেহ সরিয়ে আনা হয়েছে। সেগুলো এক এক করে একটি ভলক্সওয়াগন ভ্যান, একটি ট্যাক্সি এবং ছোট একটি ট্রাকে তোলা হল। ইসলামী নিয়মানুযায়ী নারীদের গোরস্থানে যাওয়ার নিয়ম নেই। তাই নারী স্বজনরা গাড়ির দরজায় দাঁড়িয়ে প্রিয় মানুষদের মুখগুলো শেষবারের মতো দেখে নিলেন। সবার চোখেই তখন অশ্র“। কয়েকজন তো গাড়ির সামনে সংজ্ঞা হারিয়ে লুটিয়ে পড়লেন হাসপাতাল প্রাঙ্গণে।
লাশের সঙ্গে তাদেরও গাড়িতে তুলে নেয়া হল। ইসরাইলি সেনাবাহিনী গাজার বাসিন্দাদের এলাকা ছেড়ে চলে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। ফলে লাশ গোর দেয়ার জন্য মাটি খুঁজে পাওয়া আরও দুষ্কর হয়ে পড়েছে। দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট।
- See more at: http://www.jugantor.com/ten-horizon/2014/07/23/126263#sthash.b9O7HQpJ.dpufমঙ্গলবার দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, মৃতদেহ সমাধিস্থলে বয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য অ্যাম্বুলেন্স তো দূরের কথা, একটি ভ্যান জোগাড় করতেই রীতিমতো লড়াই করতে হচ্ছে শোকাহত স্বজনদের। গাজা সিটির প্রধান মর্গটিতে লাশ উপচে পড়ছে। লাশের চাপে ফ্রিজগুলোও যেন স্বাভাবিকভাবে সার্ভিস দিতে পারছে না। ফলে মর্গের চারপাশের বাতাস মাংস পচা গন্ধে ভারি হয়ে ওঠেছে। স্থান সংকুলান হচ্ছে না গোরস্থানগুলোতেও। আর এ অবস্থায় গোর তৈরির লোক খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। তাই মৃতের শোকার্ত স্বজনরা নিজেরাই এখন কোদাল হাতে কবর খুঁড়তে শুরু করেছেন।
গাজায় হামাসের বিরুদ্ধে ইসরাইলি হামলা শুরু হওয়ার প্রথম দিনগুলোতে লোকজন মৃতদেহগুলো জানাজার জন্য মসজিদে নিয়ে যেত। জানাজা শেষে মরদেহ তাঁবুতে এনেই রাখতো তারা। সেখানেই জড়ো হয়ে শোক প্রকাশ করতো মৃতের স্বজনরা। পরে কফিনটি পতাকায় জড়িয়ে নিয়ে গোরস্থানের উদ্দেশ্য রওনা হতো তারা। সেখানে আবেগতাড়িত ভাষায় সুরা কেরাত পাঠ করতেন আলেমরা।
এদিকে মর্গের প্রবেশমুখে দাঁড়িয়ে রয়েছেন মোহাম্মদ জিনদেয়া, পেশায় শিক্ষক। তিনি এসেছেন তার ফুফুর লাশ নিয়ে। লাশ পড়ে আছে মর্গের মেঝেতে। ইসরাইলি বিমান হামলাতেই মারা গেছেন তার ফুফুও। কিন্তু এখন মর্গের ফ্রিজে জায়গা নেই। তাকে প্রশ্ন করা হল, আর কতদিন ইসরাইলি হামলা চলতে পারে? হতাশ কণ্ঠে জিনদেয়া বলেন, কত দিন বা কত সপ্তাহ ধরে এ হামলা চলবে তা আমি বলতে পারব না। আমার তো মনে হয় আমাদের সবাইকে হত্যা না করা পর্যন্ত ইসরাইল থামবে না।
ফুফুকে কোথায় কবর দেবেন তা নিয়েও দুশ্চিন্তার অন্ত নেই এই শিক্ষকের। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, আমরা তো শিজাইয়ায় নিজেদের বাড়ির কাছেই লাশ দাফন করার অনুমতি চেয়েছিলাম। কিন্তু তা বোধহয় সম্ভব হবে না। ইসরাইলিরা এখনও যেভাবে বোমা মারছে! তাকে দেখতে এখন খুবই ক্লান্ত মনে হচ্ছিল।
প্রসঙ্গত, ইসরাইল সবচেয়ে ভয়াবহ হামলাটি চালিয়েছে গাজা উপত্যকার শিজাইয়াতে। বোমা নিক্ষেপের পাশাপাশি ওই এলাকায় হামাস যোদ্ধাদের সঙ্গে ইসরাইলি সেনাদের স্থল যুদ্ধও চলছে। ইসরাইলি ট্যাংকের গতিরোধ করতে তারা স্থল মাইন, ববি ট্রাপ এবং ট্যাংকবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাচ্ছে।
ইতিমধ্যে হাসপাতালের মর্গ থেকে ছয়টি মৃতদেহ সরিয়ে আনা হয়েছে। সেগুলো এক এক করে একটি ভলক্সওয়াগন ভ্যান, একটি ট্যাক্সি এবং ছোট একটি ট্রাকে তোলা হল। ইসলামী নিয়মানুযায়ী নারীদের গোরস্থানে যাওয়ার নিয়ম নেই। তাই নারী স্বজনরা গাড়ির দরজায় দাঁড়িয়ে প্রিয় মানুষদের মুখগুলো শেষবারের মতো দেখে নিলেন। সবার চোখেই তখন অশ্র“। কয়েকজন তো গাড়ির সামনে সংজ্ঞা হারিয়ে লুটিয়ে পড়লেন হাসপাতাল প্রাঙ্গণে।
লাশের সঙ্গে তাদেরও গাড়িতে তুলে নেয়া হল। ইসরাইলি সেনাবাহিনী গাজার বাসিন্দাদের এলাকা ছেড়ে চলে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। ফলে লাশ গোর দেয়ার জন্য মাটি খুঁজে পাওয়া আরও দুষ্কর হয়ে পড়েছে। দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট।
No comments:
Post a Comment