Tuesday, July 22, 2014

গরম বৃষ্টির মতো পড়ছিল কামানের গোলা

গরম বৃষ্টির মতো পড়ছিল কামানের গোলা
যুগান্তর ডেস্ক
প্রকাশ : ২৩ জুলাই, ২০১৪
তিন সন্তানের জননী ইমান মানসুর। বেঁচে যাওয়া ফিলিস্তিনিদের একজন। কোনোমতে তিনি তার সন্তানদের নিয়ে পালিয়ে আসতে পেরেছেন দখলদারি ইসরাইলিদের বোমার হাত থেকে। যদিও বিনিময়ে তাকে হারাতে হয়েছে অনেক আত্মীয়স্বজনকে।
নিরাপদ কোনো আশ্রয় আমরা খুঁজে পাচ্ছিলাম না। গরম বৃষ্টির মতো কামানের গোলা আমাদের বাড়ির ওপর পড়ছিল। আমরা চারজনই বোমার আঘাতে আহত হয়েছি। আমরা যে বাড়িতে থাকতাম সেটা আমার স্বামীর। তারা এই বাড়িতে ১৯৬৭ সাল থেকেই বাস করছিল। আমরা অনেকগুলো যুদ্ধ পার করেছি। কিন্তু এই যুদ্ধের মতো ভয়াবহ পরিস্থিতি, এতটা নিষ্ঠুরতা আমরা দেখিনি।
গাজার শিজাইয়া এলাকা থেকে বেঁচে ফেরা অধিবাসীদের মধ্যে মাহমুদ আল শেখ খাইল (৩৬) একজন। আল শিফা হাসপাতালের মূল ফটকের সামনে পরবর্তী অ্যাম্বুলেন্স আসার অপেক্ষায় আছেন তিনি। তার ভীতসন্ত্রস্ত চোখ হাজারো মানুষের ভিড়ে নির্দিষ্ট কাউকে খুঁজছেন। একদিকে আহত মানুষের কাতর কণ্ঠ, অন্যদিকে রক্ত আর মাংসের স্তূপ। এরই মাঝে তিনি খুঁজে বেরাচ্ছেন তার বেঁচে থাকার স্বপ্নকে।
হাসপাতালের মূল ফটক। অ্যাম্বুলেন্সের দরজা খুলে এক এক করে বের করা হচ্ছিল বোমায় নিহতদের লাশ। আচমকা মাহমুদ চিৎকার করে উঠলেন নিজের তিন বছর বয়সী কন্যার মৃতদেহ দেখে। মেয়ে সালমা আল শেখ খাহিলের লাশ ধরে কাঁদতে লাগলেন তিনি। ইসরাইলি ট্যাংকের গোলার আঘাতে সালমার পুরো শরীর ক্ষতবিক্ষত হয়ে গেলেও বাবার চোখ ঠিকই খুঁজে নিয়েছে মৃত সন্তানের দেহ। মাহমুদ তার সন্তানের শরীর সাদা কাপড় দিয়ে মুড়িয়ে দিচ্ছিলেন আর বিলাপ করছিলেন।
আমরা পালানোর চেষ্টা করছিলাম কিন্তু ট্যাংকের গোলা আমাদের তাড়া করে ফিরছিল। আমরা যেখানেই যাচ্ছিলাম সেখানেই বৃষ্টির মতো কামানের গোলা পড়ছিল। সকাল ৬টার দিকে আমরা আমাদের ঘরে ছিলাম। হঠাৎ শুনতে পেলাম আমাদের প্রতিবেশীরা সাহায্যের জন্য চিৎকার করছে। আমি দৌড়ে বাইরে গেলাম তাদের সাহায্য করার জন্য। কিন্তু বোমার আঘাতে পুরো জায়গা এমন বিধ্বস্ত হয়ে গিয়েছিল যে কাউকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
- See more at: http://www.jugantor.com/ten-horizon/2014/07/23/126264#sthash.CWdlF7YE.dpuf

No comments:

Post a Comment