বিদ্যুত ও পানি সমস্যা থেকেই কালশীর মর্মান্তিক ঘটনা
বিহারীদের কয়েকটি সংগঠনের অভ্যন্তরীণ কোন্দল অনেকাংশে দায়ী
গাফফার খান চৌধুরী ॥ বিদ্যুত ও পানি সমস্যা নিয়ে বিহারী-বিহারী ও বস্তিবাসীদের মধ্যে দীর্ঘদিনের ক্ষোভ থেকেই মিরপুরের কালশীতে বিহারী ক্যাম্পের ৭টি ঘরে আগুন ধরিয়ে দেয়ার ঘটনা ঘটে। দগ্ধ হয়ে ৯ জনসহ ১০ জনের মৃত্যু হয়। ঘটনাটি সংঘটিত হওয়ার পেছনে পুলিশের অদূরদর্শিতা ছিল। বিহারীদের বেশ কয়েকটি সংগঠনের অভ্যন্তরীণ কোন্দল এর জন্য অনেকটাই দায়ী। অন্তত শতাধিক যুবক ক্যাম্পে আগুন ধরিয়ে দেয়। মৃত্যুর ঘটনায় দায়েরকৃত হত্যা মামলাটির তদন্তে, গ্রেফতারকৃত ৭ জনের রিমান্ডে দেয়া বক্তব্য এবং প্রত্যক্ষদর্শী ২২ জনের জবানবন্দীতেও এমন তথ্য বেরিয়ে এসেছে।
গত ১৩ জুন শুক্রবার শব-ই-বরাতের ভোররাত শনিবার পল্লবী-১২ নম্বরের ই-ব্লকের কালশী নতুন রাস্তার পাশে আটকেপড়া পাকিস্তানীদের বাসস্থান কুর্মিটোলা ক্যাম্পের ৭টি ঘরে আগুন ধরিয়ে দেয় দুর্বৃত্তরা। আগুনে পুড়ে একই পরিবারের ৭ জনসহ ৯ জনের মৃত্যু হয়। এঁরা হচ্ছেন, বেবী আক্তার (৪২), মেয়ে শাহানা (২৫), যমজ ভাই লালু ও ভুলু (১২), রোখসানা (২৪), আশিক (২২), বাবুল (২৩), আফসানা (২৪) ও তার ছেলে মারুফ (৩)। এ ঘটনার জেরধরে সংঘর্ষে গুলিতে আজাদ নামে (৪২) একজনের মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় পল্লবী থানায় প্রায় ৪ হাজার ব্যক্তিকে আসামি করে একটি হত্যা মামলাসহ মোট ৬টি মামলা হয়। হত্যা মামলাটি ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ তদন্ত করছে। তদন্তের ধারাবাহিকতায় ৭ জনকে গ্রেফতার করে ২ দিনের রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। হত্যা মামলাটির তদন্তকারী কর্মকর্তা ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক নিবারণ চন্দ্র বর্মন জনকণ্ঠকে জানান, মামলাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তের ধারাবাহিকতায় এখন পর্যন্ত ২২ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তাদের দেয়া সাক্ষ্য লিপিবদ্ধ করা হয়েছে। আসামিদের গ্রেফতারে চেষ্টা চলছে।
তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে জানা গেছে, কালশীর বিহারী ক্যাম্পটিতে ৭ শতাধিক পরিবারের বসবাস। পূর্ব দিকে বালুর মাঠ, বেগুন টিলা ও রাজু বস্তির অবস্থান। স্থান সঙ্কুলান না হওয়ায় এ তিনটি বস্তিতেও বিহারীরা ভাড়া করে থাকছেন। বালুর মাঠ বস্তিতে থাকা প্রায় দেড় হাজার পরিবারের মধ্যে দুই শতাধিক বিহারী পরিবারের বসবাস। বেগুন টিলা বস্তিতে দুই শতাধিক পরিবারের মধ্যে বিহারী পরিবারের সংখ্যা অন্তত ৫০টি আর রাজু বস্তিতে ৪২০টি পরিবারের মধ্যে ৩ শতাধিক বিহারী পরিবারের বসবাস। এসব বস্তির অবস্থান সরকারী জায়গার ওপর। বস্তিগুলোতে ৪ বছর আগে প্রতিপরিবারের কাছ থেকে এক হাজার থেকে দুই হাজার টাকা নিয়ে বিদ্যুত ও পানির অবৈধ সংযোগ দেয়া হয়েছিল। রাজু বস্তিতে সম্প্রতি বাঙালী-বিহারী সমিতি গড়ে তোলা হয়। ২০০৯ সালে বস্তিটি গড়ে উঠলেও এক বছর ধরে বস্তিটিতে পানি ও বিদ্যুত সংযোগ নিয়ে কুর্মিটোলা বিহারী ক্যাম্পের বাসিন্দাদের মধ্যে ঝামেলা চলছে। গত এপ্রিলে বস্তিটিতে ওয়াসার অবৈধ পানির সংযোগ বন্ধ করে দেয়া হয়।
গত ২ জুন কালশী রোডের মাঝামাঝি জায়গায় বিদ্যুতের ট্রান্সফর্মার বিকল হয়ে পড়ে। ট্রান্সফর্মারটির সঙ্গে রাজু বস্তির বিপুলসংখ্যক অবৈধ বিদ্যুত সংযোগ ছিল। অতিরিক্ত বিদ্যুত সরবরাহের চাপে ট্রান্সফর্মারটি বিকল হয়ে পড়ে বলে বিহারীদের দাবি। এরপর থেকেই রাজু বস্তির সব বিদ্যুত সংযোগ বন্ধ করে দেয়া হয়।
বিদ্যুত না থাকায় রাজু বস্তির ২ শিশুর মৃত্যু হয়। অসুস্থ হয়ে পড়েন অনেকেই। পানি আর বিদ্যুতের এমন সমস্যা নিয়ে রাজু বস্তির বিহারী ও বাঙালী পরিবার আর কুর্মিটোলা ক্যাম্পের বিহারী বাসিন্দাদের মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এ নিয়ে কয়েক দফায় মারামারিও হয় দুই ক্যাম্পের বাসিন্দাদের মধ্যে।
পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করলে গত ১১ জুন বুধবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে ঘটনার দুইদিন আগে রাজু বস্তির সামনে বিহারী-বাঙালীদের সঙ্গে বৈঠক হয়। তাতে ব্যাপক হৈচৈ হয়। মানবিক কারণে হলেও বিহারী হয়ে বিহারীর পাশে দাঁড়ানোর জন্য সাময়িকভাবে বিদ্যুত সংযোগ দেয়ার প্রস্তাব দেয়া হয়। কিন্তু বিহারীরা বিদ্যুত সংযোগ দেয়নি। সেই থেকে বিহারীদের সঙ্গে বিহারীদের চরম দ্বন্দ্ব চলছিল।
প্রসঙ্গত, বিহারী ক্যাম্পে সরকারীভাবে পানি ও বিদ্যুত সরবরাহ করা হয়। এর জন্য বিহারীদের তরফ থেকে কোন বিল সরকারকে পরিশোধ করতে হয় না।
তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানান, ভোর ৪টার দিকে আতশবাজির জেরধরে বিহারীদের সঙ্গে বিহারী ও পাশের বস্তির উঠতি বয়সী ছেলেদের মারামারি হয়। মারামারি ব্যাপক আকার ধারণ করলে সেখানে পুলিশ উপস্থিত হয়। আতশবাজির সঙ্গে জড়িতরা পুলিশের গাড়িতে বোমা হামলা করে। পুলিশের ১২ থেকে ১৪ জনের দলটি পটকাবাজদের ধরতে বিহারী ক্যাম্পের মসজিদের দিকে যায়। এই ফাঁকে শতাধিক যুবক হৈচৈ করে বিহারী ক্যাম্পের দিকে যায়। ভয়ে ঘরের বাসিন্দারা ঘরের ভেতর থেকে দরজার ছিটকিনি লাগিয়ে দেয়। আবার হামলাকারী যুবকরাও কয়েকটি ঘরের দরজার বাইরের ছিটকিনি লাগিয়ে দেয়। তখনই ঘরে আগুন ধরিয়ে দেয়ার ঘটনা ঘটে। পুলিশ মসজিদের দিক থেকে ঘটনাস্থলে পৌঁছতে পৌঁছতেই আগুন দেয়া সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়। পরে পুলিশের জলকামানের গরম পানি দিয়ে আগুন নেভানো হয়।
মামলাটির তদন্তের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য গ্রহণকারী কর্মকর্তা ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের জ্যেষ্ঠ সহকারী পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম জনকণ্ঠকে জানান, পানি, বিদ্যুত, ব্যক্তিগত রেষারেষি, বিহারীদের বিভিন্ন সংগঠনের নেতাদের মধ্যে নেতৃত্বের দ্বন্দ্বসহ নানা কারণে দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ থেকেই ঘটনাটি ঘটে। আগুন দেয়ার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতারে সরকারের কড়া নির্দেশ রয়েছে। আমরা গুরুত্বের সঙ্গে বিষয়টি তদন্ত এবং হত্যাকারীদের গ্রেফতারের চেষ্টা করছি।
সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, কালশীর ঘটনাকে পুঁজি করে সারাদেশের ৭০টি বিহারী ক্যাম্পে নানা ধরনের অপপ্রচার চলছে। বিশেষ করে ঢাকার ৩৩টি ক্যাম্পের বাসিন্দাদের সরকারবিরোধী আন্দোলনে নামার জন্য বিভিন্ন গোষ্ঠী বিহারী ক্যাম্পগুলোতে নানামুখী তৎপরতা চালাচ্ছে।
এ ঘটনায় পল্লবী থানায় পুলিশের ওপর পটকা, আতশবাজি, ইটপাটকেল নিক্ষেপ, হামলা, সরকারী কাজে বাধা দান, বেআইনীভাবে ঘরে প্রবেশ করে অগ্নিসংযোগ, লুটপাট ও আগুন দিয়ে হত্যার অভিযোগে পৃথক ৬টি মামলা হয়। হত্যা মামলায় কাউকে আসামি না করা হলেও অন্য মামলায় আসামির সংখ্যা ৩ হাজার ৭৫৪ জন। পুলিশ ৭ জনকে ২ দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। মামলা ৬টি ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ তদন্ত করছে।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের জ্যেষ্ঠ সহকারী কমিশনার মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম জনকণ্ঠকে বলেন, তারা ২৫ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করেছেন। দগ্ধ হয়ে যে ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে তার মধ্যে ৭ জন ইয়াসিনের পরিবারের। সেই ইয়াসিনের এক মেয়ে ফারজানা আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাঁরও জবানবন্দী নেয়া হবে। অগ্নিসংযোগের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করতে কাজ চলছে।
গত ১৩ জুন শুক্রবার শব-ই-বরাতের ভোররাত শনিবার পল্লবী-১২ নম্বরের ই-ব্লকের কালশী নতুন রাস্তার পাশে আটকেপড়া পাকিস্তানীদের বাসস্থান কুর্মিটোলা ক্যাম্পের ৭টি ঘরে আগুন ধরিয়ে দেয় দুর্বৃত্তরা। আগুনে পুড়ে একই পরিবারের ৭ জনসহ ৯ জনের মৃত্যু হয়। এঁরা হচ্ছেন, বেবী আক্তার (৪২), মেয়ে শাহানা (২৫), যমজ ভাই লালু ও ভুলু (১২), রোখসানা (২৪), আশিক (২২), বাবুল (২৩), আফসানা (২৪) ও তার ছেলে মারুফ (৩)। এ ঘটনার জেরধরে সংঘর্ষে গুলিতে আজাদ নামে (৪২) একজনের মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় পল্লবী থানায় প্রায় ৪ হাজার ব্যক্তিকে আসামি করে একটি হত্যা মামলাসহ মোট ৬টি মামলা হয়। হত্যা মামলাটি ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ তদন্ত করছে। তদন্তের ধারাবাহিকতায় ৭ জনকে গ্রেফতার করে ২ দিনের রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। হত্যা মামলাটির তদন্তকারী কর্মকর্তা ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক নিবারণ চন্দ্র বর্মন জনকণ্ঠকে জানান, মামলাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তের ধারাবাহিকতায় এখন পর্যন্ত ২২ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তাদের দেয়া সাক্ষ্য লিপিবদ্ধ করা হয়েছে। আসামিদের গ্রেফতারে চেষ্টা চলছে।
তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে জানা গেছে, কালশীর বিহারী ক্যাম্পটিতে ৭ শতাধিক পরিবারের বসবাস। পূর্ব দিকে বালুর মাঠ, বেগুন টিলা ও রাজু বস্তির অবস্থান। স্থান সঙ্কুলান না হওয়ায় এ তিনটি বস্তিতেও বিহারীরা ভাড়া করে থাকছেন। বালুর মাঠ বস্তিতে থাকা প্রায় দেড় হাজার পরিবারের মধ্যে দুই শতাধিক বিহারী পরিবারের বসবাস। বেগুন টিলা বস্তিতে দুই শতাধিক পরিবারের মধ্যে বিহারী পরিবারের সংখ্যা অন্তত ৫০টি আর রাজু বস্তিতে ৪২০টি পরিবারের মধ্যে ৩ শতাধিক বিহারী পরিবারের বসবাস। এসব বস্তির অবস্থান সরকারী জায়গার ওপর। বস্তিগুলোতে ৪ বছর আগে প্রতিপরিবারের কাছ থেকে এক হাজার থেকে দুই হাজার টাকা নিয়ে বিদ্যুত ও পানির অবৈধ সংযোগ দেয়া হয়েছিল। রাজু বস্তিতে সম্প্রতি বাঙালী-বিহারী সমিতি গড়ে তোলা হয়। ২০০৯ সালে বস্তিটি গড়ে উঠলেও এক বছর ধরে বস্তিটিতে পানি ও বিদ্যুত সংযোগ নিয়ে কুর্মিটোলা বিহারী ক্যাম্পের বাসিন্দাদের মধ্যে ঝামেলা চলছে। গত এপ্রিলে বস্তিটিতে ওয়াসার অবৈধ পানির সংযোগ বন্ধ করে দেয়া হয়।
গত ২ জুন কালশী রোডের মাঝামাঝি জায়গায় বিদ্যুতের ট্রান্সফর্মার বিকল হয়ে পড়ে। ট্রান্সফর্মারটির সঙ্গে রাজু বস্তির বিপুলসংখ্যক অবৈধ বিদ্যুত সংযোগ ছিল। অতিরিক্ত বিদ্যুত সরবরাহের চাপে ট্রান্সফর্মারটি বিকল হয়ে পড়ে বলে বিহারীদের দাবি। এরপর থেকেই রাজু বস্তির সব বিদ্যুত সংযোগ বন্ধ করে দেয়া হয়।
বিদ্যুত না থাকায় রাজু বস্তির ২ শিশুর মৃত্যু হয়। অসুস্থ হয়ে পড়েন অনেকেই। পানি আর বিদ্যুতের এমন সমস্যা নিয়ে রাজু বস্তির বিহারী ও বাঙালী পরিবার আর কুর্মিটোলা ক্যাম্পের বিহারী বাসিন্দাদের মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এ নিয়ে কয়েক দফায় মারামারিও হয় দুই ক্যাম্পের বাসিন্দাদের মধ্যে।
পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করলে গত ১১ জুন বুধবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে ঘটনার দুইদিন আগে রাজু বস্তির সামনে বিহারী-বাঙালীদের সঙ্গে বৈঠক হয়। তাতে ব্যাপক হৈচৈ হয়। মানবিক কারণে হলেও বিহারী হয়ে বিহারীর পাশে দাঁড়ানোর জন্য সাময়িকভাবে বিদ্যুত সংযোগ দেয়ার প্রস্তাব দেয়া হয়। কিন্তু বিহারীরা বিদ্যুত সংযোগ দেয়নি। সেই থেকে বিহারীদের সঙ্গে বিহারীদের চরম দ্বন্দ্ব চলছিল।
প্রসঙ্গত, বিহারী ক্যাম্পে সরকারীভাবে পানি ও বিদ্যুত সরবরাহ করা হয়। এর জন্য বিহারীদের তরফ থেকে কোন বিল সরকারকে পরিশোধ করতে হয় না।
তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানান, ভোর ৪টার দিকে আতশবাজির জেরধরে বিহারীদের সঙ্গে বিহারী ও পাশের বস্তির উঠতি বয়সী ছেলেদের মারামারি হয়। মারামারি ব্যাপক আকার ধারণ করলে সেখানে পুলিশ উপস্থিত হয়। আতশবাজির সঙ্গে জড়িতরা পুলিশের গাড়িতে বোমা হামলা করে। পুলিশের ১২ থেকে ১৪ জনের দলটি পটকাবাজদের ধরতে বিহারী ক্যাম্পের মসজিদের দিকে যায়। এই ফাঁকে শতাধিক যুবক হৈচৈ করে বিহারী ক্যাম্পের দিকে যায়। ভয়ে ঘরের বাসিন্দারা ঘরের ভেতর থেকে দরজার ছিটকিনি লাগিয়ে দেয়। আবার হামলাকারী যুবকরাও কয়েকটি ঘরের দরজার বাইরের ছিটকিনি লাগিয়ে দেয়। তখনই ঘরে আগুন ধরিয়ে দেয়ার ঘটনা ঘটে। পুলিশ মসজিদের দিক থেকে ঘটনাস্থলে পৌঁছতে পৌঁছতেই আগুন দেয়া সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়। পরে পুলিশের জলকামানের গরম পানি দিয়ে আগুন নেভানো হয়।
মামলাটির তদন্তের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য গ্রহণকারী কর্মকর্তা ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের জ্যেষ্ঠ সহকারী পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম জনকণ্ঠকে জানান, পানি, বিদ্যুত, ব্যক্তিগত রেষারেষি, বিহারীদের বিভিন্ন সংগঠনের নেতাদের মধ্যে নেতৃত্বের দ্বন্দ্বসহ নানা কারণে দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ থেকেই ঘটনাটি ঘটে। আগুন দেয়ার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতারে সরকারের কড়া নির্দেশ রয়েছে। আমরা গুরুত্বের সঙ্গে বিষয়টি তদন্ত এবং হত্যাকারীদের গ্রেফতারের চেষ্টা করছি।
সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, কালশীর ঘটনাকে পুঁজি করে সারাদেশের ৭০টি বিহারী ক্যাম্পে নানা ধরনের অপপ্রচার চলছে। বিশেষ করে ঢাকার ৩৩টি ক্যাম্পের বাসিন্দাদের সরকারবিরোধী আন্দোলনে নামার জন্য বিভিন্ন গোষ্ঠী বিহারী ক্যাম্পগুলোতে নানামুখী তৎপরতা চালাচ্ছে।
এ ঘটনায় পল্লবী থানায় পুলিশের ওপর পটকা, আতশবাজি, ইটপাটকেল নিক্ষেপ, হামলা, সরকারী কাজে বাধা দান, বেআইনীভাবে ঘরে প্রবেশ করে অগ্নিসংযোগ, লুটপাট ও আগুন দিয়ে হত্যার অভিযোগে পৃথক ৬টি মামলা হয়। হত্যা মামলায় কাউকে আসামি না করা হলেও অন্য মামলায় আসামির সংখ্যা ৩ হাজার ৭৫৪ জন। পুলিশ ৭ জনকে ২ দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। মামলা ৬টি ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ তদন্ত করছে।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের জ্যেষ্ঠ সহকারী কমিশনার মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম জনকণ্ঠকে বলেন, তারা ২৫ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করেছেন। দগ্ধ হয়ে যে ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে তার মধ্যে ৭ জন ইয়াসিনের পরিবারের। সেই ইয়াসিনের এক মেয়ে ফারজানা আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাঁরও জবানবন্দী নেয়া হবে। অগ্নিসংযোগের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করতে কাজ চলছে।
http://www.allbanglanewspapers.com/janakantha.html
No comments:
Post a Comment