Wednesday, July 2, 2014

শামীম ওসমানের সাক্ষাতকার কেন্দ্র করে সারাদেশে তোলপাড়

শামীম ওসমানের সাক্ষাতকার কেন্দ্র করে সারাদেশে তোলপাড়
স্টাফ রিপোর্টার ॥ একটি পত্রিকায় সংসদ সদস্য শামীম ওসমানের দেয়া সাক্ষাতকারকে কেন্দ্র করে সারাদেশে তোলপাড় চলছে। তবে ওই সাক্ষাতকার প্রকাশের ঘটনাকে আপত্তিকর, অসম্পূর্ণ, মিথ্যা ও বানোয়াট সংবাদ অভিহিত করে শামীম ওসমান বলেছেন, আমি ওই পত্রিকায় কোন সাক্ষাতকার দেইনি এবং আমি যা বলেছি সবই ছিল অন্য কারও উদ্ধৃতি দিয়ে কথা বা ‘কোড।’ আল্লাহর সৃষ্টির সেরা জীব আশরাফুল মাখলুকাত বা কোন সাংবাদিককে ‘কুকুর’ বলে মন্তব্য করার মতো নির্বোধ আমি নই। যারা মহানবী রাসূলে পাক (স) সম্পর্কে কটূক্তি আর ব্যঙ্গ করতে পারে, এমন মিথ্যা মন্তব্য শুধু তারাই করতে পারে। আমার স্বাভাবিক আলাপচারিতা রেকর্ড করে টেম্পারিং করে ওই মিথ্যা সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে। গল্পের ছলে কথোপকথনে আমার নিজস্ব কোন মতামত ছিল না বা সাংবাদিকদের সম্পর্কে আমার নিজস্ব কোন মন্তব্যও ছিল না। পত্রিকাটিতে মিথ্যাচার করে সাংবাদিক সমাজের বিপক্ষে আমাকে দাঁড় করানো হয়েছে।
জাতির বিবেক সাংবাদিকদের কাছে উদাত্ত আহ্বান জানিয়ে সাংসদ শামীম ওসমান বুধবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বার্তায় তুলে ধরেছেন ওই সাক্ষাতকার প্রকাশ ও এর পেছনের নানা কারণ। সাংবাদিক সমাজকে জাতির বিবেক আখ্যা দিয়ে শামীম ওসমান বলেছেন, জাতির বিবেক শ্রদ্ধেয় সাংবাদিক বন্ধুরা। আমি অত্যন্ত পরিতাপের সঙ্গে জানাচ্ছি যে, গত ২৯ জুন একটি পত্রিকায় আমার উদ্ধৃতি দিয়ে দেশ বরেণ্য কিছু ব্যক্তিবর্গ ও সাংবাদিক সমাজকে জড়িয়ে যে আপত্তিকর, অসম্পূর্ণ, মিথ্যা ও বানোয়াট সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে তাতে আবারও আমাকে হলুদ অপসাংবাদিকতার থাবায় ক্ষতবিক্ষত করা হয়েছে। প্রথমেই বলতে চাই আমি ওই পত্রিকায় কোন সাক্ষাতকার দেইনি এবং আমি যা বলেছি সবই ছিল অন্য কারও উদ্ধৃতি দিয়ে কথা বা ‘কোড।’ প্রকৃতপক্ষে, গত ২৬ জুন নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের উপনির্বাচন ভোটগ্রহণ শেষে বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে দুটি বেসরকারী টিভি চ্যানেলের সাংবাদিকরা আমার সঙ্গে সাক্ষাত করতে আসেন। কিন্তু সেখানে একটি পত্রিকার দুইজন সাংবাদিক তাদের প্রকৃত পরিচয় গোপন করেছিলেন। আমি ওই মুহূর্তে আমার ভাই সেলিম ওসমানের জয়ের পথে এতটাই আবেগাপ্লুত ছিলাম যে উপস্থিত সংবাদকর্মীদের সামনেও আমি আমার আবেগকে ধরে রাখতে পারছিলাম না। ওই সময়ে তাদের সঙ্গে কথোপকথনের এক পর্যায়ে বর্তমান সময়ের সাংবাদিকতায় পেশাগত সমস্যা, দুর্ভোগ ও কিছু নেতিবাচক বিষয় নিয়ে কথা উঠলে আমিও তাদের সঙ্গে সমব্যথী হয়ে দেশের ২-৩ জন খ্যাতনামা অগ্রজ সাংবাদিকের সঙ্গে কোন এক আড্ডার উদাহরণ টেনে বলেছিলাম, ওই আড্ডায় একজন খ্যাতনামা সাংবাদিক বলছিলেন, সেই মানিক মিয়া, জহুর হোসেনদের মতো সময় আর নেই। সাংবাদিকতায় নীতি-আদর্শ ধরে রাখা কষ্টসাধ্য হয়ে যাচ্ছে। পত্রিকা আর চ্যানেলগুলো এখন কর্পোরেট হাউস হয়ে গেছে। আগে বড়লোকরা কুকুর পুষত, এখন পত্রিকা করেন।’ ওই সাংবাদিক এ সময় আমাকেও বলেন, শামীম ভাই আপনিও দুইটা বের করেন, তাহলে আপনার বিরুদ্ধে যারা লেখে তখন আপনি তাদের বিরুদ্ধে লিখবেন। আমি তখন বলি আমার এত টাকা নেই। তখন ওই সাংবাদিক আমাকে হাসতে হাসতে বলেন, শেফার্ড না পারেন দুটি সরাইলই বের করেন।’
গল্পের ছলে এ সব কথোপকথনে আমার নিজস্ব কোন মতামত ছিল না বা সাংবাদিকদের সম্পর্কে আমার নিজস্ব কোন মন্তব্যও ছিল না। আমি তাদের সঙ্গে কথা বলার সময় কাঁদতে কাঁদতেই বলেছিলাম আজ এই মুহূর্তে কোন সাক্ষাতকার নয়, যা বলছি অব দ্যা রেকর্ডে। খোদ ওই পত্রিকাই তাদের প্রকাশিত দুটি সংবাদের মধ্যেই স্বীকার করেছে, ‘আমি বলেছি আজ কোন কথা বলব না, আজ আমি কাঁদব’ এবং আমি তখন অনবরত কাঁদছিলামও। আবার আমার নেতাকর্মীরা যখন আমার কাছে আসছিল তখন আমি তাদের মাথা নিচু করে রাখতে নির্দেশ দিয়েছি এবং মাথা নিচু করে তা শিখিয়েও দিয়েছি। নির্বাচনটি কতটুকু নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন হয়েছে যে, পত্রিকাটির ওই প্রতিবেদনেই বলা হয়েছে ফলাফল পাল্টে দেয়ার আশঙ্কা করে মিডিয়া কিছু হচ্ছে কিনা তা দেখার জন্য আমি তাদের অনুরোধ করেছিলাম। ওই সময়ে নারায়ণগঞ্জের কয়েক সাংবাদিকও উপস্থিত ছিলেন এবং এই পুরো ঘটনা তারাও দেখেছেন।
তাহলে আমার প্রশ্ন হলো, দেশ ও জাতির জন্য যারা অবদান রাখছেন সেই বসুন্ধরা গ্রুপের শ্রদ্ধেয় সোবহান ভাই, যমুনা গ্রুপের চেয়ারম্যান শ্রদ্ধেয় নুরুল ইসলাম বাবুল ভাই, বেক্সিমকোর সালমান এফ রহমান ভাই কিংবা আজাদ ভাই, যাদের সঙ্গে আমার ব্যক্তিগত সুসম্পর্কের কথা অনেকেই জানেন, তাদের বিষয়ে অর্বাচিনের মতো মন্তব্য করা কিংবা সাংবাদিকদের সামনেই সকল সাংবাদিকদের নিয়ে অশালীন মন্তব্য করার মতো নির্বোধ আমি শামীম ওসমান কিনা তা একটিবারের জন্য ভেবে দেখুন। আমি নিশ্চিত যে, আমার স্বাভাবিক আলাপচারিতা রেকর্ড করে টেম্পারিং করে ওই মিথ্যা সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে। শামীম ওসমান বলেন, কেন ওই পত্রিকাটির এই মিথ্যাচার এবং সাংবাদিক সমাজের বিপক্ষে আমাকে দাঁড় করানো হলো সেই কারণ বলতে চাই। নারায়ণগঞ্জের ৭ খুনের ঘটনায় আমাকে ‘খুনী’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে পত্রিকাটির প্রকাশিত একটি সংবাদের বিরুদ্ধে আমি আইনী নোটিস পাঠিয়েছিলাম কোন সূত্রের মাধ্যমে তারা আমাকে খুনী বলে আখ্যা দিয়েছে তা জানাতে। নোটিসের জবাবে পত্রিকাটি জানায়, সাংবাদিকতার নীতিমালায় ‘সূত্র’ প্রকাশ করা যায় না। আমি পরবর্তী নোটিসে বলেছি, কেউই আইনের উর্ধে নয়। আমি যদি সত্যিকারভাবেই অপরাধী হয়ে থাকি বা পত্রিকাটির ভাষায় ‘খুনী’ হয়ে থাকি তবে ওই সূত্রের ব্যাপারে আমাকে না জানালেও আমার অভিভাবক জাতীয় সংসদের মাননীয় স্পীকারকে জানানো হোক। তাঁকেও না জানানো হলে আমি পরবর্তী নোটিস দিয়ে বলেছিলাম, মাননীয় স্পীকারকে জানাতে সমস্যা থাকলে যিনি সংসদ অধিবেশন আহ্বান করেন, মহামান্য রাষ্ট্রপতির কাছে তা জানানো হোক। সর্বশেষ, যারা এই পত্রিকাটির ডিক্লায়রেশন দিয়েছেন, সেই ঢাকা জেলার প্রশাসক ও তথ্য মন্ত্রণালয়ের কাছে আইনী নোটিস প্রেরণ করার প্রক্রিয়াধীন রয়েছে, যেন তারা আমাকে ওই সূত্রের বিষয়ে অবগত করেন নতুবা পত্রিকাটির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। অন্যথায় আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি জেলা প্রশাসক ও তথ্য মন্ত্রণালয়ের বিরুদ্ধেই মামলা করব। পত্রিকাটি যখন বুঝতে পেরেছে আমি বিষয়টি নিয়ে শক্তভাবে এগিয়ে যাচ্ছি তখনই তারা এই মিথ্যা, বানোয়াট, নীতি বিবর্জিত সংবাদ প্রকাশ করে পুরো সাংবাদিক সমাজকে ক্ষিপ্ত করেছে। বিশেষ করে যে সকল প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়া সকল সময় বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন করে আমাকে উপকৃত করেছেন, সাহস যুগিয়েছেন, যাদের সঙ্গে আমার সুসম্পর্ক রয়েছে তাদেরই এবার আমার বিরুদ্ধে জড়ানো হয়েছে। ওই পত্রিকা ও তাদের সহযোগী আরেকটি পত্রিকার এই চরিত্র নতুন নয়। কারণ, মহানবী রাসূলে পাককে (স) নিয়ে ব্যঙ্গ করার পর ধর্মপ্রাণ কোটি কোটি মুসলমানদের হাত থেকে রক্ষা পেতে দেশের প্রথিতযশা সম্পাদকদের সঙ্গে নিয়ে জাতীয় মসজিদের ইমাম সাহেবের কাছে তওবা করেছিলেন পত্রিকাটির সম্পাদক। ঠিক একইভাবে হাইকোর্টের ব্যাপারেও যখন ওই পত্রিকা ফেঁসে গিয়েছিল তখনও সাংবাদিক সমাজকে জড়িয়ে রক্ষা পেয়েছিল। এখন আমার এই আইনী প্রক্রিয়ার শক্ত অবস্থানের কারণেই মিথ্যাচারের আশ্রয়ে এই কল্পনাপ্রসূত বানোয়াট সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে। সংসদ সদস্য বলেন, আমি জাতির বিবেক সাংবাদিক সমাজের কাছে আহ্বান রাখতে চাই, এদেশে ওই পত্রিকার মতো হলুদ সাংবাদিকতার যেমন দৃষ্টান্ত রয়েছে, তেমনি গোলাম সরোয়ার, ইকবাল সোবহান চৌধুরী, আনোয়ার হোসেন মঞ্জু, তোয়াব খান, নাইমুল ইসলাম খান, শাহজাহান সরদার, মঞ্জুরুল আহসান বুলবুল, সাইফুল আলম, নঈম নিজাম, পীর হাবিবুর রহমান, শ্যামল দত্তদের মতো সৎ প্রকৃত ও আদর্শবান সাংবাদিকরাও এদেশ এবং জাতির কাছে উদাহরণ। আমি দেখলাম অনেকেই বিষয়টি নিয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। আমি বলতে চাই, আমার মতো নগণ্য ব্যক্তির জন্য প্রধানমন্ত্রী নয়, বরং এই সকল সৎ ও নির্ভীক সাংবাদিক ভাইদের কাছে আমার আহ্বান, নারায়ণগঞ্জে আসুন অথবা আপনাদের সমন্বয়ে টিম প্রেরণ করুন। কোথাও যদি আমার বিরুদ্ধে সরাসরি কোন অপরাধের প্রমাণ পান তবে আপনারা জাতির দর্পণ, আমাকে যে শাস্তি দেবেন আমি তা মাথা পেতে নেব। পাশাপাশি আপনাদের কাছেই আমি হলুদ অপসাংবাদিকতার বিরুদ্ধে ন্যায়বিচার প্রার্থনা করছি। কারণ, আমার সাধারণ আলাপচারিতা, ‘অব দ্যা রেকর্ড’ বলার পরও অডিও রেকর্ড টেম্পারিং করে তা বানোয়াট নিউজ আকারে প্রকাশ করে সাংবাদিকতার নীতিমালাকে গলাটিপে হত্যা করা হয়েছে। পরিশেষে আমি বলতে চাই, আমি অপরের উদ্ধৃতি দিয়ে যে কথা বলেছিলাম সেদিনের কথায় যদি সাংবাদিক সমাজ আমার এই ব্যাখ্যার পরও বিন্দুমাত্র মানসিক কষ্ট পেয়ে থাকেন তবে আমি সকলের কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করছি এবং আপনাদের কাছে ন্যায়বিচার আশা করছি। আল্লাহ আপনাদের সকলের সহায় হোন।
বক্তব্যের প্রতিবাদে সমাবেশ
পত্রিকাটিতে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য এ কে এম শামীম ওসমানের দেয়া বক্তব্যের প্রতিবাদে নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাব ও জেলা সাংবাদিক ইউনিয়ন সমাবেশ ডেকেছে। আগামীকাল শুক্রবার সকাল ১০টায় নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাব চত্বরে এ প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের ম্যানেজার মোঃ শাহ আলমের স্বাক্ষরিত এক বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়।

http://www.allbanglanewspapers.com/janakantha.html

No comments:

Post a Comment