লাশ যাবে কার কাছে
যুগান্তর রিপোর্ট
প্রকাশ : ০৩ জুলাই, ২০১৪
উনি (রাজীব চৌধুরী) আমার স্বামী। ২৬ জুন বারডেম হাসপাতালে মারা যান। তার মৃতদেহ হাসপাতালের হিমঘরে রাখা আছে। উনি হিন্দু না। মুসলমান। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ত। রোজা পালন করত। উনার লাশ আমি কবর দেব। জীবন থাকতে তার দেহ পোড়াতে দেব না। ত্রিশ বছর আগে মুসলিম ধর্ম গ্রহণ করেই ইসলাম ধর্মমতে আমাকে বিয়ে করেন। অপরদিকে মীরা নন্দিও কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলছিলেন, উনি রাজীব চৌধুরী না। খোকন নন্দি। আমার স্বামী। উনি হিন্দু। মুসলমান না। বায়ান্ন বছর তার সঙ্গে সংসার করেছি। সনাতন হিন্দু মতে জীবনযাপন করতেন তিনি। হিন্দু মতে আমি তাকে সমাহিত করব।
বুধবার ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে কাঁদতে কাঁদতে বিচারক নুরু মিয়ার কাছে এ ভাবেই আকুতি জানিয়েছেন মুসলিম হাবিবা আক্তার খানম বাবলি ও হিন্দু মীরা নন্দি। দুই জনের আইনজীবী যুগান্তরকে জানান, বিচারক বিষয়টি গভীর পর্যালোচনা করে আদেশ দেবেন, রাজীব কিংবা খোকন হিন্দু না মুসলমান। তিনি বাবলীর না মীরার স্বামী। এ বিষয়ে ১০ জুলাই আদালত আদেশ দেবেন। এর আগে মৃত ব্যক্তি হিন্দু না মুসলমান তা নির্ধারণ করতে হিমশিম খায় রমনা থানা পুলিশ। মৃত ব্যক্তি মুসলিম বাবলীর স্বামী, না মীরা নন্দির স্বামী তাও ঠিক করতে ব্যর্থ হয়ে আদালতে শরণাপন্ন হয় পুলিশ।
জানতে চাইলে বাবলির আইনজীবী আবুবকর সিদ্দিক যুগান্তরকে বলেন, আশা করি, আদালত বাবলিকে লাশ বুঝিয়ে দেয়ার আদেশ দেবেন। একইভাবে মীরার আইনজীবী কিশোররঞ্জন মণ্ডল বলেন, ন্যায়বিচার করলে আদালত মীরাকে লাশ বুঝিয়ে দেয়ার আদেশ দেবেন।
আদালতের কাছে জমা দেয়া নথিপত্র পর্যালোচনা করে জানা গেছে, ১৫ জুন খোকন কিংবা রাজীব অুসস্থ হয়ে বারডেম হাসপাতালে ভর্তি হন। ১১ দিন পর ওই হাসপাতালেই ২৬ জুন সকালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মারা যাওয়ার পর পরই মৃত ব্যক্তিকে নিজের স্বামী দাবি করেন ঢাকার একটি বেসরকারি স্কুলের শিক্ষক হাবিবা আক্তার খানম বাবলি। তবে মৃত ব্যক্তির চিকিৎসাসংক্রান্ত সব ব্যয় বহন করেন মীরা। বিচারের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের দেয়া তথ্য মতে, হাসপাতালেই মীরা নন্দি ও বাবলির মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়। মুসলিম বাবলি মীরাকে বলেন, উনি রাজীব। আমার স্বামী। তুমি তাকে স্বামী বলে দাবি করতে পার না। অপরদিকে মীরা বাবলিকে বলেন, তুমি ওর স্ত্রী না। ও আমাকে ছাড়া আর কাউকে বিয়ে করেনি। তুমি ভুয়া। সম্পত্তির লোভে এখন তাকে স্বামী দাবি করছ। হাসপাতালে এই দুই নারীর উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ের কারণে চরম বিপাকে পড়েন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। লাশ কার কাছে হস্তান্তর করবেন তা নিয়ে সিদ্ধান্তহীনতায় ভোগে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। পরে রমনা থানার সাহায্য চান হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
মুসলিম বাবলি আদালতের কাছে বলেন, মৃত ব্যক্তির পুরো নাম খোকা চৌধুরী ওরফে রাজীব চৌধুরী। তিনি একজন মুসলমান। ১৯৮০ সালের ২ এপ্রিল ঢাকার প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে হলফনামার মাধ্যমে তার পূর্ব হিন্দু ধর্ম ত্যাগ করে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত ইসলাম ধর্মের যাবতীয় নিয়ম-কানুন পালন করেন। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়তেন এবং পবিত্র রমজানের রোজা রাখতেন। ১৯৮৪ সালের ১৫ জুলাই আমাকে বিবাহ করেন। মসলিম স্বামী-স্ত্রী হিসেবে মৃত্যুর আগে প্রায় ১৮ বছর রাজধানীর ৩৩১ উত্তর শাহজাহানপুর আতাউর রহমানের বাসায় দাম্পত্য জীবন কাটিয়েছি। বাবলি আদালতে আরও বলেন, বিয়ে করার আগে মীরা নন্দিকে ডিভোর্স দেন আমার স্বামী। কথিত ছেলে বাবলু নন্দি, কথিত মেয়ে চন্দনা নন্দি ও কথিত ভাই সুলতান নন্দি মৌখিকভাবে আমার স্বামীর লাশ দাবি করেন। আমাকে তারা ভয়ভীতি দেখিয়েছে। এমনকি ওরা পুলিশের ভয় দেখিয়ে লাশ জোরপূর্বক নিয়ে পোড়ানোর চেষ্টাও করে। আমার জীবন যতক্ষণ আছে আমি তার লাশ পোড়াতে দেব না।
এ ঘটনায় দায়ের করা জিডির তদন্ত কর্মকর্তা হলেন রমনা থানার উপ-পরিদর্শক আবুল কালাম আজাদ। তিনি এক প্রতিবেদনের মাধ্যমে আদালতকে জানান, মৃত ব্যক্তি একজন মুসলমান। তারা শাহজাহানপুরে বসবাস করত। বাবলি আদালতে রাজীব চৌধুরী মুসলিম ধর্মগ্রহণ ও বিয়ের সব কাগজপত্র আদালতের কাছে জমা দিয়েছেন। বাবলির কাগজপত্র পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, গত বছরের ২৩ অক্টোবর স্বামী-স্ত্রী হিসেবেই তারা ভারত ভ্রমণ করেছেন। সেখানে বাবলির স্বামীর নাম হিসেবে খোকন উল্লেখ করা হয়েছে। অপরদিকে মীরা নন্দি আদালতে বলেন, আমার স্বামীর পুরো নাম রনজিৎ নন্দি ওরফে খোকন নন্দি। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত আমরা একসঙ্গে মোহাম্মদপুরের ১৫ নম্বর রায়ের বাজার এলাকায় বসবাস করতাম। ১৫ জুন অসুস্থ হলে তাকে বারডেম হাসপাতালে ভর্তি করি। হাসপাতালের সব টাকা পরিশোধের পরেও তারা লাশ বুঝিয়ে দেয়নি। হাবিবা আদালতের কাছে আমার স্বামীকে নিজের স্বামী দাবি করে যেসব কাগজপত্র জমা দিয়েছেন তা পুরোপুরি ভুয়া। কোনো ভাবেই খোকন নন্দিকে খোকা চৌধুরী বানানো যাবে না। লোভের বশবর্তী হয়ে বাবলি কোনো ভাবেই একজন হিন্দুর লাশ পেতে পারেন না। আদালতে জমা দেয়া মীরা নন্দির কাজগপত্র পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, মৃত ব্যক্তির জাতীয় পরিচয়পত্রে নিজেকে খোকন নন্দি হিসেবে নাম অন্তর্ভুক্তি করিয়েছেন। ২০১২ সালের ৬ আগস্ট একটি বায়না দলিলেও নিজেকে রনজিৎ নন্দি ওরফে খোকন নন্দি হিসেবে স্বাক্ষর করেছেন। বারডেম হাসপাতালেও তার নাম খোকন নন্দি হিসেবেই লেখা হয়েছে।
- See more at: http://www.jugantor.com/first-page/2014/07/03/118121#sthash.yWpcEKCa.dpufবুধবার ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে কাঁদতে কাঁদতে বিচারক নুরু মিয়ার কাছে এ ভাবেই আকুতি জানিয়েছেন মুসলিম হাবিবা আক্তার খানম বাবলি ও হিন্দু মীরা নন্দি। দুই জনের আইনজীবী যুগান্তরকে জানান, বিচারক বিষয়টি গভীর পর্যালোচনা করে আদেশ দেবেন, রাজীব কিংবা খোকন হিন্দু না মুসলমান। তিনি বাবলীর না মীরার স্বামী। এ বিষয়ে ১০ জুলাই আদালত আদেশ দেবেন। এর আগে মৃত ব্যক্তি হিন্দু না মুসলমান তা নির্ধারণ করতে হিমশিম খায় রমনা থানা পুলিশ। মৃত ব্যক্তি মুসলিম বাবলীর স্বামী, না মীরা নন্দির স্বামী তাও ঠিক করতে ব্যর্থ হয়ে আদালতে শরণাপন্ন হয় পুলিশ।
জানতে চাইলে বাবলির আইনজীবী আবুবকর সিদ্দিক যুগান্তরকে বলেন, আশা করি, আদালত বাবলিকে লাশ বুঝিয়ে দেয়ার আদেশ দেবেন। একইভাবে মীরার আইনজীবী কিশোররঞ্জন মণ্ডল বলেন, ন্যায়বিচার করলে আদালত মীরাকে লাশ বুঝিয়ে দেয়ার আদেশ দেবেন।
আদালতের কাছে জমা দেয়া নথিপত্র পর্যালোচনা করে জানা গেছে, ১৫ জুন খোকন কিংবা রাজীব অুসস্থ হয়ে বারডেম হাসপাতালে ভর্তি হন। ১১ দিন পর ওই হাসপাতালেই ২৬ জুন সকালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মারা যাওয়ার পর পরই মৃত ব্যক্তিকে নিজের স্বামী দাবি করেন ঢাকার একটি বেসরকারি স্কুলের শিক্ষক হাবিবা আক্তার খানম বাবলি। তবে মৃত ব্যক্তির চিকিৎসাসংক্রান্ত সব ব্যয় বহন করেন মীরা। বিচারের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের দেয়া তথ্য মতে, হাসপাতালেই মীরা নন্দি ও বাবলির মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়। মুসলিম বাবলি মীরাকে বলেন, উনি রাজীব। আমার স্বামী। তুমি তাকে স্বামী বলে দাবি করতে পার না। অপরদিকে মীরা বাবলিকে বলেন, তুমি ওর স্ত্রী না। ও আমাকে ছাড়া আর কাউকে বিয়ে করেনি। তুমি ভুয়া। সম্পত্তির লোভে এখন তাকে স্বামী দাবি করছ। হাসপাতালে এই দুই নারীর উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ের কারণে চরম বিপাকে পড়েন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। লাশ কার কাছে হস্তান্তর করবেন তা নিয়ে সিদ্ধান্তহীনতায় ভোগে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। পরে রমনা থানার সাহায্য চান হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
মুসলিম বাবলি আদালতের কাছে বলেন, মৃত ব্যক্তির পুরো নাম খোকা চৌধুরী ওরফে রাজীব চৌধুরী। তিনি একজন মুসলমান। ১৯৮০ সালের ২ এপ্রিল ঢাকার প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে হলফনামার মাধ্যমে তার পূর্ব হিন্দু ধর্ম ত্যাগ করে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত ইসলাম ধর্মের যাবতীয় নিয়ম-কানুন পালন করেন। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়তেন এবং পবিত্র রমজানের রোজা রাখতেন। ১৯৮৪ সালের ১৫ জুলাই আমাকে বিবাহ করেন। মসলিম স্বামী-স্ত্রী হিসেবে মৃত্যুর আগে প্রায় ১৮ বছর রাজধানীর ৩৩১ উত্তর শাহজাহানপুর আতাউর রহমানের বাসায় দাম্পত্য জীবন কাটিয়েছি। বাবলি আদালতে আরও বলেন, বিয়ে করার আগে মীরা নন্দিকে ডিভোর্স দেন আমার স্বামী। কথিত ছেলে বাবলু নন্দি, কথিত মেয়ে চন্দনা নন্দি ও কথিত ভাই সুলতান নন্দি মৌখিকভাবে আমার স্বামীর লাশ দাবি করেন। আমাকে তারা ভয়ভীতি দেখিয়েছে। এমনকি ওরা পুলিশের ভয় দেখিয়ে লাশ জোরপূর্বক নিয়ে পোড়ানোর চেষ্টাও করে। আমার জীবন যতক্ষণ আছে আমি তার লাশ পোড়াতে দেব না।
এ ঘটনায় দায়ের করা জিডির তদন্ত কর্মকর্তা হলেন রমনা থানার উপ-পরিদর্শক আবুল কালাম আজাদ। তিনি এক প্রতিবেদনের মাধ্যমে আদালতকে জানান, মৃত ব্যক্তি একজন মুসলমান। তারা শাহজাহানপুরে বসবাস করত। বাবলি আদালতে রাজীব চৌধুরী মুসলিম ধর্মগ্রহণ ও বিয়ের সব কাগজপত্র আদালতের কাছে জমা দিয়েছেন। বাবলির কাগজপত্র পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, গত বছরের ২৩ অক্টোবর স্বামী-স্ত্রী হিসেবেই তারা ভারত ভ্রমণ করেছেন। সেখানে বাবলির স্বামীর নাম হিসেবে খোকন উল্লেখ করা হয়েছে। অপরদিকে মীরা নন্দি আদালতে বলেন, আমার স্বামীর পুরো নাম রনজিৎ নন্দি ওরফে খোকন নন্দি। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত আমরা একসঙ্গে মোহাম্মদপুরের ১৫ নম্বর রায়ের বাজার এলাকায় বসবাস করতাম। ১৫ জুন অসুস্থ হলে তাকে বারডেম হাসপাতালে ভর্তি করি। হাসপাতালের সব টাকা পরিশোধের পরেও তারা লাশ বুঝিয়ে দেয়নি। হাবিবা আদালতের কাছে আমার স্বামীকে নিজের স্বামী দাবি করে যেসব কাগজপত্র জমা দিয়েছেন তা পুরোপুরি ভুয়া। কোনো ভাবেই খোকন নন্দিকে খোকা চৌধুরী বানানো যাবে না। লোভের বশবর্তী হয়ে বাবলি কোনো ভাবেই একজন হিন্দুর লাশ পেতে পারেন না। আদালতে জমা দেয়া মীরা নন্দির কাজগপত্র পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, মৃত ব্যক্তির জাতীয় পরিচয়পত্রে নিজেকে খোকন নন্দি হিসেবে নাম অন্তর্ভুক্তি করিয়েছেন। ২০১২ সালের ৬ আগস্ট একটি বায়না দলিলেও নিজেকে রনজিৎ নন্দি ওরফে খোকন নন্দি হিসেবে স্বাক্ষর করেছেন। বারডেম হাসপাতালেও তার নাম খোকন নন্দি হিসেবেই লেখা হয়েছে।
No comments:
Post a Comment