অধিকার-এর প্রতিবেদন
বদরুদ্দোজা সুমন
প্রকাশ : ০৩ জুলাই, ২০১৪
মানবাধিকার সংস্থা অধিকার-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ছয় মাসে ১০৮ জন বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন। প্রতি মাসে গড়ে এমন হত্যাকাণ্ডের শিকার হন ১৮ জন। এর ফলে দেশের আইন ও বিচার ব্যবস্থা প্রতিনিয়তই হুমকির সম্মুখীন হচ্ছে। ভিকটিম পরিবারগুলোর পক্ষ থেকে অভিযোগ পাওয়া গেছে, আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা তাদের স্বজনদের গুলি করে হত্যা করেছে। বারবার দোষীদের বিচারের সম্মুখীন করার দাবি জানানো হলেও সরকার বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি অস্বীকার করছে। এদিকে মিরপুরে বিহারি ক্যাম্পে হত্যার ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছে অধিকার। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্থানীয় সংসদ সদস্য ইলিয়াস উদ্দিন মোল্লার লোকেরা ক্যাম্পে হামলা ও অগ্নিসংযোগ করে হত্যাকাণ্ড ঘটায়। অধিকার মনে করে, ক্ষমতাসীন দলের সহযোগিতায় দুবৃর্ত্তরা দেশজুড়ে ভূমি দখল ও চাঁদাবাজির জন্য দুর্বল জনগোষ্ঠীর ওপর হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।
বিচারবহির্ভূত হত্যা, গুম ও রাজনৈতিক সহিংসতা : অধিকারের তথ্যানুযায়ী, ২০০৯ সালে বর্তমান ক্ষমমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে ২০১৪ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত ৮৭০ জনকে বিচারবহির্ভূতভাবে হত্যা করা হয়েছে। ২০১৪ সালের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত বিচারবহির্ভূত হত্যার শিকার হন ১০৮ জন। এ হিসাবে প্রতি মাসে গড়ে ১৮ জন বিচারবহির্ভূত হত্যার শিকার হয়েছেন। নিহত ১০৮ জনের মধ্যে ৬৬ জন ক্রসফায়ার/এনকাউন্টার/বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে পুলিশের হাতে ৩৯, র্যাবের হাতে ১৪, যৌথ বাহিনীর হাতে ৮, র্যাব-বিজিবির হাতে ২ এবং কোস্টগার্ডের হাতে ৩ জন নিহত হন। গত ছয় মাসে পুলিশের হাতে ছয়জন এবং র্যাবের হাতে একজন নির্যাতিত হয়ে প্রাণ হারান। এ ছাড়া ৩০ জন গুলিতে মারা গেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এর মধ্যে পুলিশের গুলিতে ২০, র্যাবের গুলিতে ৪, বিজিবির গুলিতে ২, যৌথ বাহিনীর গুলিতে ৩ এবং একজন সেনা সদস্যের হাতে নিহত হয়েছেন। নিহত ১০৮ জনের মধ্যে ১২ জন বিএনপির নেতাকর্মী, তিনজন আওয়ামী লীগ কর্মী, ২১ জন জামায়াত-শিবির কর্মী, তিনজন পূর্ব বাংলার কমিউনিস্ট পার্টির (এমএল জনযুদ্ধ) সদস্য, দুজন সর্বহারা পার্টির সদস্য, একজন জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির কর্মী, একজন নিউ বিপ্লবী কমিউনিস্ট পার্টির সদস্য, দুজন আওয়ামী লীগ সমর্থিত উপজেলা নির্বাচনের চেয়ারম্যান প্রার্থী, একজন আওয়ামী লীগ সমর্থিত ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থীর এজেন্ট, একজন বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীর স্ত্রী, একজন জেএমবির সদস্য, দুজন ব্যবসায়ী, একজন পোশাক শ্রমিক, একজন ওয়েল্ডিং শ্রমিক, একজন দিনমজুর, একজন রাজমিস্ত্রী, একজন ছাত্র, একজন ড্রাইভার, একজন ঠিকাদার ও তার একজন সহকারী, একজন সাংবাদিক, একজন চা বিক্রেতা, একজন ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা, একজনের পেশা জানা যায়নি এবং ৪৬ জন কথিত অপরাধী। ছয় মাসে ২৬ জন জেল হেফাজতে মৃত্যুবরণ করেছেন। এর মধ্যে ২৩ জন অসুস্থতাজনিত কারণে মারা গেছেন ও তিনজন আত্মহত্যা করেছেন। আর ৬৩ ব্যক্তি গণপিটুনিতে মারা গেছেন। এ ছাড়া ছয় মাসে ২৮ জনকে আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য পরিচয়ে ধরে নিয়ে যাওয়ার পর থেকে তাদের গুম হওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। অধিকার-এর তথ্য অনুযায়ী, গত ছয় মাসে রাজনৈতিক সহিংসতায় ১৩২ জন নিহত এবং ৫২২৪ জন আহত হয়েছেন। আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ সংঘাতের ১৬৩টি এবং বিএনপির ১৩টি ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে। এ ছাড়া আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ সংঘাতে ১৮ জন নিহত ও ১৬২১ জন আহত হয়েছেন। অন্যদিকে বিএনপির অভ্যন্তরীণ সংঘাতে দুজন নিহত ও ১২৯ জন আহত হয়েছেন।
সীমান্ত হত্যা ও সংখ্যালঘু : অধিকার মনে করে, সীমান্তে প্রতিনিয়ত মানবাধিকার লংঘন এবং অভিন্ন নদীগুলো থেকে একতরফাভাবে পানি প্রত্যাহারের কারণে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের মানুষের পারস্পরিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে বড় বাধা হয়ে আছে। এখনও ৫৪টি অভিন্ন নদীর পানির ন্যায্য প্রাপ্যতার ব্যাপারে বাংলাদেশের অবস্থান এবং অধিকার স্বীকৃত হয়নি। এ ছাড়া ভারতীয় সীমান্ত রক্ষী বিএসএফ সীমান্তের কাছে কাউকে দেখলে বা কেউ সীমান্ত অতিক্রমের চেষ্টা করলে তাকে গুলি করে হত্যা করছে, যা পরিষ্কারভাবে আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকারের চরম লংঘন। অধিকার-এর তথ্য অনুযায়ী জানুয়ারি থেকে জুন বিএসএফ ১৪ জন বাংলাদেশীকে হত্যা করেছে।
- See more at: http://www.jugantor.com/news/2014/07/03/118136#sthash.gb3NkVvx.dpufবিচারবহির্ভূত হত্যা, গুম ও রাজনৈতিক সহিংসতা : অধিকারের তথ্যানুযায়ী, ২০০৯ সালে বর্তমান ক্ষমমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে ২০১৪ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত ৮৭০ জনকে বিচারবহির্ভূতভাবে হত্যা করা হয়েছে। ২০১৪ সালের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত বিচারবহির্ভূত হত্যার শিকার হন ১০৮ জন। এ হিসাবে প্রতি মাসে গড়ে ১৮ জন বিচারবহির্ভূত হত্যার শিকার হয়েছেন। নিহত ১০৮ জনের মধ্যে ৬৬ জন ক্রসফায়ার/এনকাউন্টার/বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে পুলিশের হাতে ৩৯, র্যাবের হাতে ১৪, যৌথ বাহিনীর হাতে ৮, র্যাব-বিজিবির হাতে ২ এবং কোস্টগার্ডের হাতে ৩ জন নিহত হন। গত ছয় মাসে পুলিশের হাতে ছয়জন এবং র্যাবের হাতে একজন নির্যাতিত হয়ে প্রাণ হারান। এ ছাড়া ৩০ জন গুলিতে মারা গেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এর মধ্যে পুলিশের গুলিতে ২০, র্যাবের গুলিতে ৪, বিজিবির গুলিতে ২, যৌথ বাহিনীর গুলিতে ৩ এবং একজন সেনা সদস্যের হাতে নিহত হয়েছেন। নিহত ১০৮ জনের মধ্যে ১২ জন বিএনপির নেতাকর্মী, তিনজন আওয়ামী লীগ কর্মী, ২১ জন জামায়াত-শিবির কর্মী, তিনজন পূর্ব বাংলার কমিউনিস্ট পার্টির (এমএল জনযুদ্ধ) সদস্য, দুজন সর্বহারা পার্টির সদস্য, একজন জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির কর্মী, একজন নিউ বিপ্লবী কমিউনিস্ট পার্টির সদস্য, দুজন আওয়ামী লীগ সমর্থিত উপজেলা নির্বাচনের চেয়ারম্যান প্রার্থী, একজন আওয়ামী লীগ সমর্থিত ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থীর এজেন্ট, একজন বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীর স্ত্রী, একজন জেএমবির সদস্য, দুজন ব্যবসায়ী, একজন পোশাক শ্রমিক, একজন ওয়েল্ডিং শ্রমিক, একজন দিনমজুর, একজন রাজমিস্ত্রী, একজন ছাত্র, একজন ড্রাইভার, একজন ঠিকাদার ও তার একজন সহকারী, একজন সাংবাদিক, একজন চা বিক্রেতা, একজন ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা, একজনের পেশা জানা যায়নি এবং ৪৬ জন কথিত অপরাধী। ছয় মাসে ২৬ জন জেল হেফাজতে মৃত্যুবরণ করেছেন। এর মধ্যে ২৩ জন অসুস্থতাজনিত কারণে মারা গেছেন ও তিনজন আত্মহত্যা করেছেন। আর ৬৩ ব্যক্তি গণপিটুনিতে মারা গেছেন। এ ছাড়া ছয় মাসে ২৮ জনকে আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য পরিচয়ে ধরে নিয়ে যাওয়ার পর থেকে তাদের গুম হওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। অধিকার-এর তথ্য অনুযায়ী, গত ছয় মাসে রাজনৈতিক সহিংসতায় ১৩২ জন নিহত এবং ৫২২৪ জন আহত হয়েছেন। আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ সংঘাতের ১৬৩টি এবং বিএনপির ১৩টি ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে। এ ছাড়া আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ সংঘাতে ১৮ জন নিহত ও ১৬২১ জন আহত হয়েছেন। অন্যদিকে বিএনপির অভ্যন্তরীণ সংঘাতে দুজন নিহত ও ১২৯ জন আহত হয়েছেন।
সীমান্ত হত্যা ও সংখ্যালঘু : অধিকার মনে করে, সীমান্তে প্রতিনিয়ত মানবাধিকার লংঘন এবং অভিন্ন নদীগুলো থেকে একতরফাভাবে পানি প্রত্যাহারের কারণে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের মানুষের পারস্পরিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে বড় বাধা হয়ে আছে। এখনও ৫৪টি অভিন্ন নদীর পানির ন্যায্য প্রাপ্যতার ব্যাপারে বাংলাদেশের অবস্থান এবং অধিকার স্বীকৃত হয়নি। এ ছাড়া ভারতীয় সীমান্ত রক্ষী বিএসএফ সীমান্তের কাছে কাউকে দেখলে বা কেউ সীমান্ত অতিক্রমের চেষ্টা করলে তাকে গুলি করে হত্যা করছে, যা পরিষ্কারভাবে আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকারের চরম লংঘন। অধিকার-এর তথ্য অনুযায়ী জানুয়ারি থেকে জুন বিএসএফ ১৪ জন বাংলাদেশীকে হত্যা করেছে।
No comments:
Post a Comment