নেইমারের চেয়ে মেসি এগিয়ে
প্রকাশ : ০৩ জুলাই, ২০১৪
মেসি মেসিই। নিজের নামের প্রতি সুবিচার করেই চলেছেন আর্জেন্টাইন বরপুত্র। ম্যারাডোনা-উত্তর আর্জেন্টিনায় মেসি একমেবাদ্বিতীয়ম। কিভাবে একা একটি দলকে কোয়ার্টার ফাইনাল পর্যন্ত টেনে নিয়ে এলেন- এককথায় তা অবিশ্বাস্য। ফুটবল ১১ জনের খেলা। কিন্তু কারও একক পারফরম্যান্সেও যে কোনো দল বহুদূর যেতে পারে, সেটি আর্জেন্টিনাকে না দেখলে বোঝা মুশকিল। নামি ফুটবলারদের মধ্যে রোনাল্ডো ফ্লপ করেছেন। টুর্নামেন্টে আলো জ্বেলে রেখেছেন ব্রাজিলের নেইমার ও আর্জেন্টিনার মেসি। দু’জনেরই চার গোল। আমার মতে, দলের সাফল্যে ব্রাজিলের তারকা ফুটবলার নেইমারের চেয়ে অনেকটাই এগিয়ে রয়েছেন মেসি। কারণ এককভাবে দলকে জেতানোর ক্ষমতা দেখিয়েছেন একমাত্র তিনিই। নেইমার এ ক্ষেত্রে কিছুটা পিছিয়ে রয়েছেন।
সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার ম্যাচটি আমার কাছে খুব যে ভালো লেগেছে, তা নয়। সুইসরা মেসিকে মার্কিংয়ে রেখে খেলেছে। অতিমাত্রায় রক্ষণাত্মক খেলেছে তারা। গ্র“পপর্বে অ্যাটাকিং পদ্ধতিতে খেলা সুইজারল্যান্ড কেন যে এই ম্যাচে ডিফেন্সিভ খেলতে গেল বুঝলাম না। হয়তো তারা চেয়েছিল ম্যাচটি টাইব্রেকারে নিয়ে যেতে। মেসিকে মার্কিংয়ে রেখে খেলার কৌশলটাও তাদের প্রায় সফল হতে যাচ্ছিল। হিগুয়াইনকে আমার কাছে ফ্লপ মনে হয়েছে। ডানে-বাঁয়ে, উপরে-নিচে সব পজিশনেই ডি মারিয়ার মুভমেন্ট ভালো ছিল। তারপরও বার বার অ্যাটাকিংয়ে গিয়েও গোলের দেখা মিলছিল না। একা মেসি ছাড়া কেউই আর্জেন্টিনা ফোকাস তৈরি করতে পারছিলেন না। ম্যাচের ১১৭ মিনিট পর্যন্ত সুইসদের সেই কৌশলে বন্দি হয়েছিল আর্জেন্টিনা। কিন্তু তাদের একটি মিস পাসেই সব শেষ হয়ে যায়। বড় টুর্নামেন্টে মিস পাসের খেসারত তো দিতেই হয়। আর মেসির মতো স্ট্রাইকাররা যে সেই সুযোগ লুফে নেবেন, তা বিশ্ববাসী আরও একবার দেখল। ১১৮ মিনিটে আর্জেন্টিনার জয়সূচক গোলটির জন্য আমি মেসিকে ৬০ এবং ডি মারিয়াকে ৪০ ভাগ সার্টিফিকেট দেব। কারণ বল বানিয়ে দিয়েছেন মেসিই। ওই বলে ফিনিশিংটা সুন্দরভাবে করেছেন ডি মারিয়া। এই যা। তবে এটা কিন্তু আর্জেন্টিনার জন্য অশনি সংকেত। কারণ কার্ড, অসুস্থ বা ইনজুরির কারণে যদি মেসি কোনো ম্যাচে খেলতে না পারেন, তাহলে কে হাল ধরবেন আর্জেন্টিনার? দলকে সাফল্যের তীরে পৌঁছানোর দায়িত্ব কে নেবেন, সেটাই এখন বড় বিষয়। তবে মেসি যদি সুস্থ থাকেন এবং একই ঝলক দেখিয়ে দলকে ফাইনাল পর্যন্ত নিয়ে যান, তাহলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। আর্জেন্টাইন ভক্তরা নিশ্চয়ই তাই চান।
এদিকে চমৎকার একটি ম্যাচ হয়েছে বেলজিয়াম ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে। দু’দলই নির্ধারিত ৯০ ও অতিরিক্ত আরও ৩০ মিনিট (১২০ মিনিট) অ্যাটাকিং খেলেছে। যুক্তরাষ্ট্রের গোলকিপার হাওয়ার্ড অসাধারণ সুন্দর ফুটবল খেলেছেন। দলকে ম্যাচের শেষ মিনিট পর্যন্ত টিকিয়ে রেখেছিলেন। পুরো ম্যাচেই আধিপত্য ছিল যুক্তরাষ্ট্রের। শেষ মুহূর্তে দুর্ভাগ্য চেপে ধরে যুক্তরাষ্ট্রকে। নইলে নির্ধারিত সময়ের শেষ দিকে ব্র“ইনের শটে গোল করার সহজ সুযোগ কেন নষ্ট হবে তাদের। এই দুর্ভাগ্যই তাদের বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে দেয়। নকআউট পর্বে এমন অনেক ম্যাচেই নির্ধারিত সময়ে যারা দুর্ভাগ্যের কারণের গোল করতে পারেনি, তারাই বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে পড়েছে। ব্রাজিলের বিপক্ষে চিলির ম্যাচেও তাই হয়েছে।
No comments:
Post a Comment