Wednesday, July 2, 2014

তাপস পালের ক্ষমা প্রার্থনায় স্বস্তি মমতার, ব্যবস্থা না নেয়ার আশ্বাস

তাপস পালের ক্ষমা প্রার্থনায় স্বস্তি মমতার, ব্যবস্থা না নেয়ার আশ্বাস
ক্ষমাপ্রার্থনা করে দলকে স্রেফ একটা চিঠি! আর তাতেই পার পেয়ে গেলেন তৃণমূলের অভিনেতা-সাংসদ তাপস পাল! তাপসের চিঠিতে সন্তুষ্ট খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী। চরম অশালীন ও উস্কানিমূলক মন্তব্য করা সত্ত্বেও তাপসকে যে গ্রেফতার করা হবে না, এমনকি রাজনৈতিক পর্যায়ে কোন ব্যবস্থা নেয়া হবে না, তা এ দিন স্পষ্ট করে দিয়েছেন তিনি। আনন্দবাজার পত্রিকা অনলাইন।
যদিও বিভিন্ন মহল থেকে তাপসকে গ্রেফতার করার দাবি মঙ্গলবার আরও তীব্র হয়েছে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও রাজ্য সরকারের কাছে জানতে চেয়েছে, ওই সাংসদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। মুখ্যসচিব এবং স্বরাষ্ট্র সচিবকে চিঠি দিয়ে সাংসদের মন্তব্যের ভিডিও ফুটেজও চেয়েছে তারা।
এবং মঙ্গলবারই তাপসের কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যের আরও একটি ভিডিও ফুটেজ সংবাদমাধ্যমের হাতে এসেছে। গত ১৪ জুন নাকাশিপাড়ার চৌমুহা গ্রামে বিরোধীদের ঘরে তৃণমূলের ছেলে ঢুকিয়ে রেপ করানোর হুমকি দেয়ার দিনই তেহট্টের গোপীনাথপুর গ্রামে গিয়ে তিনি বলেছিলেন, ‘যারা মানুষকে খুন করে, তারা মানুষ হতে পারে না। ওর মা কুকুরের সঙ্গে শুয়েছিল।... এই সিপিএমের বাচ্চা যারা, তাদের ছাড়বেন না। যত দিন তাপস পাল আপনাদের সঙ্গে আছে, তত দিন কোন সিপিএমের বাচ্চাকে ছাড়বেন না।... মেয়েদেরও একটা কথা বলছি, বঁটি চেনেন?.. আপনারা বঁটিটা দিয়ে পারলে কেটে দিন নলিটা।’
(ঘটনাচক্রে সোমবারই বাঁকুড়ার মন্যাডি গ্রামে গিয়ে বিজেপি কর্মীদের বঁটি দিয়ে কেটে ফেলার নিদান দিয়ে এসেছেন বাঁকুড়া জেলা পরিষদের সভাধিপতি, তৃণমূল নেতা অরূপ চক্রবর্তী। বিরোধীদের ছাপার অযোগ্য ভাষায় গালাগাল দিয়ে তৃণমূল কর্মীদের তিনি বলেছেন, ‘শোন তোর ঘরে যদি কোন ব্যাটা ঢোকে, কেটে দিবি। আমি বুঝে নেব।’) কৃষ্ণনগরের সাংসদ অবশ্য নলি কাটার পরামর্শেই থামেননি। তাঁর আরও মন্তব্য, ‘উদোম কেলান কেলাব আমি বলে রাখছি। আমি একটা মাল ছেলে কিন্তু। আমি স্ট্রেটওয়ে বলে যাচ্ছি সবার সামনে, টাঙ্গি দিয়ে মাথা কিন্তু অর্ধেক করে দিয়ে যাব। আমিও ছ’টা গুলি চালাব আমার রিভলবার থেকে...। কারও বাবার যদি ক্ষমতা থাকে আমাকে আটকে দেখাবে সে।’

ভারতে প্রতিদিন ৯৩ নারী ধর্ষণের শিকার
ভারতে প্রতিদিন গড়ে ৯৩ নারী ধর্ষণের শিকার হন বলে সরকারী সংস্থা ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ড ব্যুরোর (এনসিআরবি) বার্ষিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এনসিআরবির রেকর্ড অনুযায়ী, ২০১২ সালের তুলনায় গত বছর ধর্ষণের সংখ্যা বেড়েছে। ২০১২ সালে ২৪ হাজার ৯২৩ মহিলা ধর্ষিত হয়েছিলেন। ২০১৩ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৩৩ হাজার ৭০৭ জনে। ধর্ষণের পরিসংখ্যানে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে রাজধানী নয়াদিল্লী­। মেডিক্যাল কলেজছাত্রী ‘নির্ভয়া’র ঘটনার পরও নয়াদিল্লীতে ধর্ষণ কমেনি বলে এনসিআরবি দাবি করেছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০১২ সালে দিল্লীতে ৫৮৫ জন মহিলা ধর্ষিত হলেও ২০১৩ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ১,১৪১ জনে। দিল্লিীর পরেই রয়েছে মুম্বাই (৩৯১), জয়পুর (১৯২) ও পুণে শহর (১৭১)। ধর্ষণের ক্ষেত্রে রাজ্যগুলোর মধ্যে এগিয়ে রয়েছে মধ্যপ্রদেশ। ২০১৩ সালের হিসাবে ওই রাজ্যে ৪,৩৩৫ মহিলাকে ধর্ষণ করা হয়। এ বছরের এপ্রিলে মধ্যপ্রদেশে চলন্ত একটি বাসের মধ্যে ১৪ বছরের এক দলিত বালিকাকে গণধর্ষণের অভিযোগ ওঠে পাঁচজনের বিরুদ্ধে। জমি সংক্রান্ত বিবাদের জেরে এ বছরের জুনে এক উপজাতি মহিলাকে গণধর্ষণ করে তার স্বামীসহ ১০ ব্যক্তি।

No comments:

Post a Comment