Thursday, July 3, 2014

সুনন্দার মৃত্যু ঘিরে নয়া বিতর্ক

সুনন্দার মৃত্যু ঘিরে নয়া বিতর্ক

shashi
নয়াদিল্লি: প্রায় সাড়ে পাঁচ মাস পর ফের মাথাচাড়া দিয়ে উঠল শশী থারুরের স্ত্রী সুনন্দা পুস্করের মৃত্যু নিয়ে বিতর্ক৷ এইমসের চিকিত্‍সক সুধীর গুপ্ত সুনন্দার দেহের ময়নাতদন্ত করেছিলেন৷ তিনিই এইমসের ফরেন্সিক বিভাগের প্রধান৷ কয়েক দিন আগে ডঃ মূর্তিকে বিভাগীয় প্রধান করার প্রস্তাব করা হয়৷ এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানিয়ে সিএটি-তে একটি হলফনামা জমা দেন সুধীর গুপ্ত৷ তাঁর অভিযোগ, ময়নাতদন্তের রিপোর্টে সুনন্দার মৃত্যুকে স্বাভাবিক বলে উল্লেখ করার জন্য তাঁর উপর চাপ সৃষ্টি করা হয়েছিল, তা মানতে চাননি বলেই তাঁকে সরানোর পরিকল্পনা চলছে৷ সুধীর গুপ্তের এই দাবির পরই বিভিন্ন মহলে আলোচনা শুরু হয়ে যায়৷ কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী হর্ষ বর্ধন এ ব্যাপারে এইমস কর্তৃপক্ষের কাছে বিস্তারিত রিপোর্ট চেয়েছেন৷

প্রসঙ্গত, চলতি বছরের ৭ জানুয়ারি দিল্লির একটি পাঁচতারা হোটেলের ঘর থেকে সুনন্দার দেহ উদ্ধার হয়৷ থারুরের সঙ্গে পাক সাংবাদিক মেহের তারারের সম্পর্ক নিয়ে সুনন্দার সঙ্গে তারারের টুইট-যুদ্ধের পর দিনই সুনন্দার এই রহস্যজনক মৃত্যু নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল৷ অভিযোগের আঙুল উঠেছিল তত্‍কালীন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী থারুরের দিকেও৷ থারুরের দাবি ছিল, তিনি সে সময় হোটেলে ছিলেন না৷ ময়নাতদন্তে অবশ্য সুনন্দার হাত ও গালে বেশ কিছু আঘাতের চিহ্ন ও হাতে কামড়ের দাগের কথা উল্লেখ করা হয়েছিল৷ সুনন্দার ভিসেরা নমুনা সিএফএসএলে পাঠানো হলে তারা জানিয়েছিল, ওষুধে বিষক্রিয়াতেই মৃত্যু হয়েছে সুনন্দার৷

থারুর এ দিন লিখিত বিবৃতিতে জানান, তাঁর ও সুনন্দার পরিবারের একটাই আবেদন, তদন্তের কাজ দ্রুত শেষ করে সঠিক ও স্বচ্ছ সিদ্ধান্ত নেওয়া হোক৷ তবেই সমস্ত জল্পনার অবসান ঘটবে৷ অন্য দিকে, এই বিতর্ক প্রসঙ্গে এইমস কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, সুধীর গুপ্তের অভিযোগ ভিত্তিহীন৷ এইমস কর্তৃপক্ষ কোনও ভাবেই তাঁর উপর চাপ সৃষ্টি করেনি৷ এইমসের জনসংযোগের দায়িত্বে থাকা দুই চিকিত্‍সক অমিত গুপ্ত ও নীরজা ভাটলার বক্তব্য, 'সুধীর গুপ্তের উপর যদি বাইরে থেকে চাপ এসে থাকে, তবে তা প্রমাণের দায় তাঁরই৷ তিনি জানান, কে তাঁকে রিপোর্ট বদলাতে বলেছেন?'

দিল্লির পুলিশ কমিশনার বি এস বাসসি এ দিন জানান, প্রয়োজনে সুধীর গুপ্ত এবং শশী থারুরকে জেরা করা হতে পারে৷ তাঁর কথায়, 'এই মামলার ভবিষ্যত্‍ সম্বন্ধে এখনই কোনও কথা বলতে পারছি না, কিন্ত্ত তদন্ত চলছে৷ যদি মনে হয় ডক্টর গুপ্তকে জেরা করা প্রয়োজন তবে তাই করা হবে৷ সিএটি-র কাছে তাঁর জমা দেওয়া হলফনামাটিও খতিয়ে দেখা হবে৷ উপযুক্ত প্রমাণের কথা মাথায় রেখেই তদন্ত চালানো হবে৷ যদি মনে হয়, থারুরকে জেরা করা প্রয়োজন, তবে তাও করা হবে৷'

তবে, এ ধরনের অভিযোগ করার জন্য সুধীর গুপ্তের বিরুদ্ধে কি কোনও ব্যবস্থা নেবেন এইমস কর্তৃপক্ষ? হাসপাতাল সূত্রে জানানো হয়েছে, কর্তৃপক্ষ মনে করলে নিয়ম মেনেই ওই চিকিত্‍সকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারেন৷ সুধীর গুপ্ত অবশ্য এ দিন কোনও মন্তব্য করতে চাননি৷ এ দিন তাঁর বক্তব্য, 'আমি এ ব্যাপারে কোনও কথা বলতে চাই না৷ এটা একটা আইনি বিষয়৷ আমার যা কিছু বলার, উপযুক্ত স্থানেই তা জানিয়েছি৷'

No comments:

Post a Comment