Thursday, July 3, 2014

স্বপ্নের রেল দেবে কেন্দ্র

স্বপ্নের রেল দেবে কেন্দ্র


jpg
নয়াদিল্লি : ট্রেনে উঠছেন , মসৃণ ভাবে খুলে যাচ্ছে কামরার স্বয়ংক্রিয় দরজা৷ বাঙ্কে এলিয়ে পড়ে একটু জিরিয়ে নেওয়ার সময় রেকলকর্মীরা দিয়ে যাচ্ছেন ঝকঝকে তকতকে চাদর , যা ব্যবহার করার পর ফেলেও দেওয়া যাবে৷ নির্ভয়ে থাকুন , কারণ কামরায় রয়েছে আগুন নেভানোর উন্নত ব্যবস্থা৷

স্বপ্নের মতো শোনাচ্ছে ? ভারতীয় রেলের 'আপাত অসম্ভব ' এই ছবিটাকে বাস্তব করতেই আসন্ন রেলবাজেটে একগুচ্ছ চমকের পরিকল্পনা করছে মোদী সরকার৷ আগামী ৮ জুলাই সংসদে এমনই স্বপ্নের বাজেট পেশ করতে পারেন রেলমন্ত্রী সদানন্দ গৌড়া৷ ভারতীয় রেলকে 'চাঙ্গা ' করার যুক্তি দেখিয়ে সম্প্রতি ১৪ .২ শতাংশ রেলভাড়া বাড়িয়েছে কেন্দ্র৷ তাই ক্ষমতায় আসার পর প্রথম রেলবাজেটকে রীতিমতো চ্যালেঞ্জ হিসেবেই দেখছে বিজেপি -চালিত এনডিএ সরকার৷

সূত্রের খবর , এই বাজেটে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে যাত্রীসুরক্ষার বিষয়টি৷ আপাতত পাইলট প্রজেক্ট হিসেবে শতাব্দী এক্সপ্রেসগুলিতে এমন ব্যবস্থা আনার কথা ভাবা হচ্ছে , যাতে কামরার দরজা স্বয়ংক্রিয় ভাবে বন্ধ হয়ে যেতে পারে৷ পরবর্তীকালে ইএমইউ ট্রেনগুলিতেও স্বয়ংক্রিয় দরজা বসবে৷ পরিচ্ছন্নতার বিষয়টাও রেলমন্ত্রকের মাথায় রয়েছে৷ দেশের অন্যতম অভিজাত এবং ব্যয়বহুল ট্রেন রাজধানী এক্সপ্রেসের যাত্রীরা মাঝেমধ্যেই অভিযোগ করেন , শোওয়ার সময় রেল কর্তৃপক্ষের তরফে যে বিছানাপত্র দেওয়া হয় , তা অত্যন্ত নোংরা৷ এই ধরনের ঘটনা এড়াতে যাত্রীদের পলিয়েস্টার ফ্যাব্রিকে তৈরি বিশেষ চাদর সরবরাহের কথা ভাবছে রেল মন্ত্রক , যেগুলি একবার ব্যবহারের পর ফেলে দেওয়া যাবে৷ পাইলট প্রজেক্ট হিসেবে বেঙ্গালুরু রাজধানীতে এই ব্যবস্থা চালু হতে পারে৷ পরে যাত্রীদের মতামত নিয়ে তা অন্যান্য এক্সপ্রেস ট্রেনেও প্রয়োগ করার যায় কি না খতিয়ে দেখা হবে৷

দেশের উত্পাদন শিল্পের চাহিদাকে গুরুত্ব দিয়ে উচ্চ ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন ওয়াগন তৈরির পরিকল্পনাও করছে গৌড়ার মন্ত্রক৷ বর্তমানে একটি ওয়াগনে সর্বোচ্চ ২,৩৪৬ টন ইস্পাতের কয়েল নিয়ে যাওয়া যায়৷ সরকারের পরিকল্পনা রয়েছে এমন ওয়াগন বানানো , যার ভিতরে ৩ ,৯৪৪ টন ইস্পাত কয়েল বহন করা সম্ভব৷ পাশাপাশি , পার্সেল পরিবহণের হার বাড়িয়ে সেখান থেকে সরকারি কোষাগারে আরও বেশি রাজস্ব আনার কথাও ভাবছে রেলমন্ত্রক৷ তাই পার্সেল ভ্যানগুলির ধারণক্ষমতা বাড়ানোর প্রস্তাবও এসেছে৷ একই ধরনের বদল আসবে মিল্ক ভ্যানগুলির ক্ষেত্রেও৷ বর্তমানে রেলের একটি মিল্ক ভ্যানে ৪০ হাজার লিটার দুধ ধরে৷ কিন্ত্ত নতুন যে ভ্যানগুলি বানানো হবে , সেগুলির প্রত্যেকটিতে ৪৪ ,৬০০ লিটার দুধ বহনের সুযোগ থাকবে৷ দেশে দুধ উত্পাদন ও দুগ্ধজাত দ্রব্যের চাহিদার বৃদ্ধির কথা মাথায় রেখেই এই পদক্ষেপ৷ তবে বহনক্ষমতা বাড়লেও নয়া মিল্ক ভ্যানগুলির ওজন কমে যাবে অনেকটাই৷ 

No comments:

Post a Comment