Wednesday, July 2, 2014

খেলাফত যুগের পুরাতন শংকা

খেলাফত যুগের পুরাতন শংকা
যুগান্তর ডেস্ক
প্রকাশ : ০৩ জুলাই, ২০১৪
ইরাকে আসলে কী হতে যাচ্ছে- এ প্রশ্ন এখন খুবই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তার কারণ দেশটির একটি অঞ্চলে নতুন করে খেলাফত রাষ্ট্রের ঘোষণা দিয়েছে সুন্নিদের একটি সশস্ত্র বিদ্রোহী সংগঠন। প্রায় দেড় মাস ধরে আইএসআইএল (ইসলামিক স্টেট ইন ইরাক অ্যান্ড দ্য লিভ্যান্ট) ইরাকের উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলে একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ শহর ও এলাকা দখল করে নেয়। এমন পরিস্থিতিতেই সোমবার সংগঠনটি ইরাক ও সিরিয়ায় খেলাফত-এর ঘোষণা দিয়েছে। বিশ্বের সব মুসলমানকে এই খেলাফতের আনুগত্য স্বীকার করার আহ্বানও জানিয়েছে সংগঠনটি।
এ ঘোষণাকে এখন আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে বেশ তাৎপর্যপূর্ণভাবে দেখা হচ্ছে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি গত সপ্তাহে কায়রো-জর্ডান হয়ে টানা তিনদিন ইরাক সফর করলেন। পরে তিনি ইসরাইল হয়ে সৌদি আরবে গেলেন। এ সফরের মাত্র দুদিন পরই এমন ঘোষণা দিল সংগঠনটি।
যুক্তরাষ্ট্রে নাইন-ইলেভেন হামলার পর থেকে জিহাদি তৎপরতা প্রতিহত করার বিষয়টি যেমন করে মার্কিন পররাষ্ট্র নীতির স্বার্থগত উপায় হয়ে উঠেছে, তেমনি এর উল্টা প্রতিক্রিয়া হিসেবে জিহাদের বিস্তারও ঘটেছে।
সুদান, উত্তর আফ্রিকা, মিসর, লিবিয়া, আফগানিস্তান ও পাকিস্তানসহ বিভিন্ন মুসলিম দেশে যখন জিহাদি তৎপরতা অনেকটা নিয়ন্ত্রণে চলে আসছিল, সে মুহূর্তে আইএসআইএলের খেলাফত রাষ্ট্রের ঘোষণা নাইন-ইলেভেনের সন্ত্রাসী হামলার পর সবচেয়ে বড় ধরনের ঘটনা। আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমগুলো এ ঘোষণাকে ঠিক এভাবেই আখ্যায়িত করেছে।
সিরিয়ায় বাশারবিরোধী চলমান গৃহযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তার সঙ্গে ইরাকের অস্থিতিশীলতা আরও ভয়াবহ করে তোলে পুরো দৃশ্যপটকে। এর সঙ্গে বর্তমানে যোগ হয়েছে আইএসআইএলের খেলাফত ঘোষণা।
হজরত মুহাম্মদ (স.)-এর পরে যে খেলাফত রাষ্ট্র ব্যবস্থার পত্তন ঘটে, সেটি একটি সাম্রাজ্যিক রূপ ধারণ করে উমাইয়া এবং আব্বাসি আমলে। উমাইয়া ও আব্বাসি- এ দুই খেলাফত ব্যবস্থারই মূল কেন্দ্র ছিল সিরিয়া ও ইরাক। আব্বাসি আমলের পতনের পরও স্পেনকে ঘিরে উমাইয়া খেলাফত বহুদিন ধরে টিকে থাকে। এর পাশাপাশি আরও ছোট ছোট কয়েকটি খেলাফত অঞ্চল গড়ে ওঠে। ফাতেমি ও সেলজুক ব্যবস্থা। এ দুটোও ফেলাফত প্রক্রিয়া অনুসরণ করেছে। তবে ঠিক এ সময়ে একই সঙ্গে গড়ে ওঠে ওসমানি খেলাফত। যেটাকে অনেকে অটোমান সাম্রাজ্যও বলেন।
আজকে ইরাকে ও সিরিয়ায় আইএসআইএল যে সশস্ত্র জিহাদি তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে, তার উদ্দেশ্যই হল মূলত সেই আব্বাসি খেলাফত ব্যবস্থাকে পুনরুদ্ধার করা। যে কারণে তারা এর নামও দিয়েছে ইসলামিক স্টেট ইন ইরাক অ্যান্ড দ্য লিভ্যান্ট। লিভ্যান্ট মূলত শাম দেশকে বুঝানো হয়। শাম মানে আজকের সিরিয়া। তবে বর্তমানে যে সিরিয়া দেখা যায়, আব্বাসি আমলে সেই সিরিয়া বা শামের সীমান্ত ছিল অনেকখানি বিস্তৃত। রয়টার্স, এএফপি, বিবিসি।
- See more at: http://www.jugantor.com/ten-horizon/2014/07/03/118177#sthash.jBr8YT02.dpuf

No comments:

Post a Comment