গীতাঞ্জলি ও রবীন্দ্র-বিরহ দর্শন
রাফাত মিশু
প্রথম যৌবনেই যে কবি জীবনের বিরহবোধকে আনন্দসম করে ভেবেছেন (দ্রষ্টব্য: ‘বিরহানন্দ’ ১৮৮৭, মানসী ১৮৯০), যে-বিরহ তাঁর সমগ্র সাহিত্যসাধনার মৌলদর্শন, তিনি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৮৬১-১৯৪১)। আর এই বিরহবোধ কেন্দ্রীয় ভাব হিসেবে প্রকাশিত হয়েছে তাঁর গীতাঞ্জলি (১৯১০) কাব্যে। গীতাঞ্জলি রবীন্দ্রনাথের আত্মমননের কাব্য। এই আত্মমননের পুরোটা জুড়ে রয়েছে এক বিপুল ও গভীর বিরহবোধ। নিয়ত এই বিরহভাবনা নানা অনুষঙ্গে তাঁর কবিতাগুলোতে প্রকাশিত হয়েছে বিচিত্র মাত্রায়। ‘গীতাঞ্জলি’র বিরহদর্শনের আলোচনা কয়েকটি দৃষ্টিকোণ থেকে করা যেতে পারে। প্রথমত, শুধুই বিরহ; দ্বিতীয়ত, বৈষ্ণব পদাবলি ও প্রকৃতির অনুষঙ্গে বিরহ; তৃতীয়ত, অস্তিত্ববাদী দর্শনের আলোকে বিরহ এবং চতুর্থত, রবীন্দ্রনাথের ব্যক্তিগত যাপিত জীবনের পরিপ্রেক্ষিতে বিরহের স্বরূপ।
২.
মানুষের জীবনের এক অনিবার্য ও অপরিহার্য চেতনার নাম বিরহ। বিরহের মধ্য দিয়েই সে উন্নীত হয় স্তর থেকে স্তরান্তরে। তার আত্মপরিচয় ও আত্মউন্মীলনের পথ হচ্ছে বিরহ। না-পাওয়ার ব্যাকুলতা মানুষের চিরন্তন অনুভূতি। এক ছায়াচ্ছন্ন অনির্দেশ্যতা আছে বলেই, মিলনব্যাকুল-বিরহ ও বিষাদ আছে বলেই জীবন ও জগৎ গতিশীল। আত্মদর্শন, প্রকৃতি, দেশ-কাল-রাজনীতি-সমাজ, পরিপার্শ্ব সর্বত্রই বিরহের অবাধ বিস্তার। রবীন্দ্রনাথ ‘গীতাঞ্জলি’র বিভিন্ন কবিতায় মানুষের সেই চিরন্তন বিরহ-ব্যাকুলতাকে মূর্ত করেছেন রূপক-প্রতীকের অনুষঙ্গে- ‘মেঘের’ পরে মেঘ জমেছে/আঁধার করে আসে,/আমায় কেন বসিয়ে রাখ/একা দ্বারের পাশে’। (গীতাঞ্জলি : ১৬) এক চিরবিরহীর বেদনা যেন নিনাদিত হয়েছে এই কবিতায়। বহিঃপ্রকৃতি থেকে ‘আঁধার’, ‘মেঘ’ প্রতীকের সমবায়ে বিরহী প্রেমিকের মনোজগতের ক্রন্দন যেমন প্রকাশ পেয়েছে, তেমনি ‘একা দ্বারের পাশে’ বসিয়ে রাখার মাধ্যমে বিরহের সঙ্গে কবির অন্তরের মিলন-আকুতি ফুটে উঠেছে- তুমি যদি না দেখা দাও,/কর আমায় হেলা,/কেমন করে কাটে আমার/এমন বাদল-বেলা’। (গীতাঞ্জলি : ১৬) এখানে তুমি কে? হতে পারে কবির শুদ্ধতম সত্তা, হতে পারে কবির ব্যক্তিগত ঈশ্বর, হতে পারে কবির দয়িতা। কিন্তু সবকিছুর সঙ্গে যে সুরটি এখানে বেজে উঠছে, তা হচ্ছে বিরহের সুর। এক বাদলঘন সন্ধ্যায় কবি একা; সঙ্গী কেবল বিরহ। এখানে বৈষ্ণব সাহিত্যের পদাবলির সঙ্গে সাযুজ্য লক্ষণীয়। পদাবলিতে রাধা যেমন চিরবিরহী, প্রণয়াকাক্সক্ষী; যেমন প্রণয়তৃষ্ণায় কাতর প্রতিটি সহৃদয় হৃদয়সংবেদী মানুষ, কবিও তেমনি বিরহে আকুল। এবং কাক্সিক্ষতের সঙ্গে কবির দূরত্ব অনন্ত ও অসীম। এ বিরহ ঘুচবার নয়। কবি যেন সব জেনেই এই বিরহের জন্যই বিরহ তথা অনন্ত বিরহকে উদ্যাপন করে চলেছেন। মানুষ চিরবিরহী এবং আত্মবিরহীও বটে। এই চিরবিরহে জর্জরিত হয়েই সে মুক্ত হতে চায়। বিরহই প্রেমের সত্তাকে স্পষ্ট করে তোলে। বিরহবোধ আছে বলেই সম্ভাবনাবোধ আছে। রবীন্দ্রনাথ বিরহ উদ্যাপন করেছেন একই সঙ্গে রূপ ও অরূপের অর্থাৎ মূর্ত ও অমূর্তের। ১৭ সংখ্যক কবিতায়ও বিরহের আরতি। বিরহ এখানে মেঘ বা অন্ধকার নয়, বিরহ এখানে অনল- ‘কোথায় আলো, কোথায় ওরে আলো।/বিরহানলে জ্বালো তারে জ্বালো।’ (গীতাঞ্জলি : ১৭) এখানে কবি অনল দিয়ে আলো জ্বালতে বলেছেন। আলো ও অনল এখানে অভিন্ন, যেমন কবির কাছে অভিন্ন মিলন ও বিরহ। যা মিলনাকাক্সক্ষা কবির কাছে তা-ই বিরহাকাক্সক্ষা অর্থাৎ চিরবিরহ। রবীন্দ্র-বিরহ তাই সুগভীর কিন্তু সুমধুর। বেদনা থেকেই মানুষের জন্ম। বেদনাবোধ তথা বিরহবোধ থেকে মানুষের পরিত্রাণ নেই। বিরহের চরাচর অহরহ- ‘হেরি অহরহ তোমারি বিরহ/ভুবনে ভুবনে রাজে হে।/কত রূপ ধ’রে কাননে ভূধরে/আকাশে সাগরে সাজে হে।’ (গীতাঞ্জলি : ২৫)
গীতাঞ্জলিতে বিরহ এক স্থায়ী ভাব হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। অরূপের সন্ধানে কবির এই বিরহ প্রকাশ পেয়েছে নানা আঙ্গিকে। গীতাঞ্জলির বিরহভাবনা আলোচনায় বৈষ্ণব পদাবলির রাধার বিরহের সঙ্গে তুলনা-প্রতিতুলনা করা যেতে পারে। সেখানে রাধা চিরায়ত বিরহী মানবাত্মার প্রতীক। রাধা যতগুলো অবস্থার মধ্য দিয়ে কালাতিপাত করে তার একটিকে বলা হচ্ছে ‘বিরহ’। কিন্তু বিরহ এতই সংক্রামক ও সর্ববিস্তারী যে, অন্যান্য অবস্থাতেও রাধা বেদনাবিধুর। এমনকি মিলনক্ষণেও বিচ্ছিন্নতার আশঙ্কায় বিরহভাবনায় আকুল- ‘দুঁহু কোরে দুঁহু কাঁদে বিচ্ছেদ ভাবিয়া/আধ তিল না দেখিলে যায় যে মরিয়া।’ (চণ্ডীদাসের ‘মিলন’ বিষয়ক পদ) না-পাওয়ার বেদনা এবং পেয়ে হারানোর আশঙ্কা মানবাচেতনায় জাগিয়ে রেখেছে এক চিরন্তন দুঃখ এবং এই দুঃখের কোন পরিসীমা নেই। তাই বিরহ সর্বত্র একাকার হয়ে গেছে। রবীন্দ্র-বিরহ পুরোপুরি রাধা-বিরহের অনুগামী না হলেও মধ্যযুগের রাধা ও আধুনিক মানুষের মধ্যে এক অভিন্ন সূত্র স্থাপন করেছে অর্থাৎ বিরহের সূত্র। বিরহ যেহেতু একটি কালোত্তীর্ণ উপলবদ্ধি, তাই আধুনিক বিরহীর মধ্যেও রাধাসত্তার প্রকাশ লক্ষণীয়- ‘আজি শ্রাবণ-ঘন-গহন-মোহে/গোপন তব চরণ ফেলে/নিশার মতো নীরব ওহে/সবার দিঠি এড়ায়ে এলে।’ (গীতাঞ্জলি : ১৮) এক বিরহী প্রেমিকা যেন অভিসারে বের হচ্ছে; এই বিরহী রাধা কবির অন্তরেই বসবাস করছে। রবীন্দ্রসাহিত্যে প্রকৃতি ও জীবন পরিপূরক। আর এই প্রকৃতির বড়ো অংশ জুড়ে আছে বর্ষা।
রবীন্দ্রঋতু মাত্রই যেন বর্ষাঋতু। তাই তাঁর বিরহবোধেও বর্ষার প্রভাব অপার। বর্ষা বিরহের ঋতু। ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে মানুষের মনোজগতেও ঘটে পরিবর্তন। রবীন্দ্রনাথের বর্ষা কবির মনে জাগিয়ে তোলে সৃষ্টিশীলতার তরঙ্গ - ‘ওরে বৃষ্টিতে মোর ছুটেছে মন,/লুটেছে ওই ঝড়ে,/বুক ছাপিয়ে তরঙ্গ মোর/কাহার পায়ে পড়ে।’ (গীতাঞ্জলি : ২৭)
৩.
রবীন্দ্রনাথের গীতাঞ্জলির বিরহদর্শনের আরেকটি দিক হচ্ছে অস্তিত্ববাদী দর্শনের দৃষ্টিকোণ থেকে বিশ্লেষণ। এক হিসেবে বলা যায়, বিরহ ও অস্তিত্বচেতনা যেন বেণীবদ্ধভাবে অবস্থান করছে এই কাব্যে। ইয়োরোপীয় অস্তিত্বদর্শন থেকে রবীন্দ্রনাথের অস্তিত্বদর্শনের স্বাতন্ত্র্যের জায়গাটি হচ্ছে তাঁর বিরহদর্শন। ইয়োরোপীয় অস্তিত্বদর্শন অনুযায়ী মানুষের কেন্দ্রে অবস্থান করে তার অস্তিত্ব; কেন্দ্রের চারদিক পরিব্যাপ্ত থাকে শূন্যতা, ভয়, আশঙ্কা, যন্ত্রণা, সংশয় প্রভৃতি। আর এই শূন্যতার বলয় অতিক্রম করে মানুষ উত্তীর্ণ হতে চায় শুদ্ধ সত্তায়। রবীন্দ্রনাথ এই কেন্দ্রে অবস্থিত সত্তাকে বললেন ‘আমি’। কেন্দ্র ‘আমি’কে আবৃত করে আছে এক বিরহের সমুদ্র। এই বিরহের সমুদ্র সাঁতরে মানুষ যে শুদ্ধ সত্তা বা মুক্ত সত্তায় উত্তরণ আকাক্সক্ষা করে তা হচ্ছে তার ‘তুমি’ সত্তা। ‘আমি’ ও ‘তুমি’ মূলত একই সত্তার দ্বৈত রূপ। ‘আমি’ই তার অবিদ্যাজনিত জ্ঞানে (ইধফ ঋধরঃয এর কারণে) তৈরি করেছে শুদ্ধ সত্তা ‘তুমি’কে। ‘তুমি’ রবীন্দ্রনাথের শ্রেয় সত্তা। এখানে ‘তুমি’ সত্তা পূর্ণ, ‘আমি’ সত্তা অপূর্ণ। অহংমুক্ত ‘আমি’ই হচ্ছে ‘তুমি’। ‘গীতাঞ্জলি’র কবিতাগুলো ‘তুমি’র দিকে ‘আমি’র অভিসার- ‘আজি ঝড়ের রাতে তোমার অভিসার,/পরাণসখা বন্ধু হে আমার।/আকাশ কাঁদে হতাশ-সম,/নাই যে ঘুম নয়নে মম,/ দুয়ার খুলি হে প্রিয়তম, চাই যে বারে বার।/পরাণসখা বন্ধু হে আমার।’ (গীতাঞ্জলি : ২০) আবার, কখনো ‘তুমি’র কাছে ‘আমি’র সমর্পণ ও সকরুণ প্রার্থনা- ‘আমার মাথা নত করে দাও হে তোমার/ চরণধুলার তলে।/ সকল অহংকার হে আমার/ ডুবাও চোখের জলে।’ (গীতাঞ্জলি : ১) ‘তুমি’র দিকে ‘আমি’র গমন আদতে নিত্য আত্মপরিক্রমণ। এই আত্মপরিক্রমণ ঘটে বিরহের মধ্য দিয়ে। মানবাত্মা চৈতন্যের সূক্ষ্মস্তরে উত্তীর্ণ হয়ে শুধু বিরহকেই লাভ করে। সকল কিছুতে পূর্ণ হয়েও সে যেন অপূর্ণ। এই শূন্যতাবোধ থেকেই চিরবিরহের সৃষ্টি। এই চিরবিরহের উৎস খুঁজতে গিয়েই রূপের বাইরে অরূপের আবিষ্কার এবং তাকে অর্জন করবার জন্য অরূপের সন্ধান প্রবল হয়ে ওঠে - ‘সীমার মাঝে, অসীম, তুমি/বাজাও আপন সুর।/আমার মাঝে তোমার প্রকাশ/তাই এত মধুর।’ (গীতাঞ্জলি : ১২০) এখানে ‘আমি’ সত্তা ‘তুমি’ সত্তায় উত্তীর্ণ হতে চাইছে।
৪.
সাহিত্যে সৃজন ও স্রষ্টা কোন দূরবর্তী বিষয় নয়। বরং মানুষের যদি কোন স্বাধীনতার জায়গা থাকে, তবে সেটা হচ্ছে তার সৃষ্টিসত্তা। কবিতা কোন নির্বস্তুক বা পরিপার্শ্ব-নিরপেক্ষ বিষয় নয়। ‘কবিতা ও জীবন একই জিনিসের দু’রকম উৎসারণ।’ (জীবনানন্দ দাশ, কবিতার কথা) গীতাঞ্জলি রচনার প্রেক্ষাপট হিসেবে তাই রবীন্দ্রনাথের ব্যক্তিজীবনে কী ঘটেছিল, তা দেখা দরকার। ‘গীতাঞ্জলি’ প্রকাশের অব্যবহিত পূর্বের দশ বছরে রবীন্দ্রনাথ বেশ কয়েকজন পরম প্রিয় মানুষের মৃত্যু ও শোকের মুখোমুখি হয়েছিলেন। ১৯০১-এ রবীন্দ্রনাথের সবচেয়ে প্রিয় ভ্রাতুষ্পুত্র বলেন্দ্রনাথ ঠাকুরের মৃত্যু, ১৯০২-এ স্ত্রী মৃণালিনী দেবীর মৃত্যু, ১৯০৩-এ কন্যা রেণুকার মৃত্যু, ১৯০৪-এ প্রতিশ্রুতিশীল কবি ও শান্তিনিকেতনের শিক্ষক সতীশচন্দ্র রায়ের বসন্ত রোগে মৃত্যু, ১৯০৫-এ রবীন্দ্রনাথের বাবা দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের মৃত্যু এবং দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি, ১৯০৬-এ রবীন্দ্র-কাব্যগ্রন্থাবলী-র সম্পাদক মোহিতচন্দ্র সেনের মৃত্যু, ১৯০৭-এ কনিষ্ঠ পুত্র শমীন্দ্রনাথের কলেরা রোগে আকস্মিক মৃত্যু, এটিই তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড়ো শোক, ১৯০৮-এ মেজ জামাতা সত্যেন্দ্র ভট্টাচার্যের মৃত্যু- মৃত্যুর একটি কালোস্রোত যেন রবীন্দ্রনাথের ওপর দিয়ে বয়ে গেল। রবীন্দ্রনাথ শোককে ধারণ ও বহন করেছিলেন এবং তা প্রকাশ করেছেন তাঁর সৃষ্টিশীলতায়। এই মৃত্যুশোকের মধ্যেই তিনি গীতাঞ্জলির কবিতাগুলো লিখেছেন। নিঃসন্দেহে তাঁর কবিতায় ব্যক্তিজীবনের শোক, বিষাদ ও দুঃখ ছায়াপাত করেছে। রবীন্দ্র-বিরহ তাই কেবলই অন্তর্লোকের উৎসারণ নয়। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর ‘দুঃখ’ প্রবন্ধে লিখেছেন- ‘মানুষের এই দুঃখকে আমরা ক্ষুদ্র করিয়া বা দুর্বলভাবে দেখিব না। আমরা বক্ষ বিস্ফারিত ও মস্তক উন্নত করিয়াই ইহাকে স্বীকার করিব। এই দুঃখের শক্তি দ্বারা নিজেকে ভস্ম করিব না, নিজেকে কঠিন করিয়া গড়িয়া তুলিব।... দুঃখের দ্বারা আত্মাকে অবজ্ঞা না করি, দুঃখের দ্বারাই যেন আত্মার সম্মান উপলব্ধি করিতে পারি। দুঃখ ছাড়া সে সম্মান বুঝিবার আর কোনো পন্থা নাই।’ (‘দুঃখ’, ধর্ম)
গীতাঞ্জলিতে মাতৃবিরহও একটি বিশেষ স্থান করে নিয়েছে। ব্যক্তিজীবনে অনেকটা মাতৃস্নেহবঞ্চিত রবীন্দ্রনাথ দেশমাতৃকার মাঝেই আপন মায়ের অস্তিত্ব খুঁজতে চেয়েছেন। তৎকালীন রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহও এতে প্রভাব বিস্তার করেছে, বিশেষত বঙ্গভঙ্গ-বিরোধী আন্দোলন। তবে বঙ্কিমচন্দ্রের মতো রবীন্দ্রনাথ দেশমাতাকে দেবীমাতারুপে কল্পনা করেননি। ঘরের মাকেই তিনি স্থান দিয়েছেন দেশমাতারূপে। তাই মায়ের জন্য আকুতি ও নিবেদনেও বিরহের প্রকাশ- ‘তোমার সোনার থালায় সাজাব আজ/দুখের অশ্রুধার।/জননী গো, গাঁথব তোমার/গলার মুক্তাহার।’ (গীতাঞ্জলি : ১০) সমগ্র গীতাঞ্জলি কাব্যে একটি সুরই যেন বিরামহীনভাবে ধ্বনিত হচ্ছে। সেই সুর বিরহের সুর। রবীন্দ্রনাথের বিরহ বিরহের বিরহ। অস্তিত্বদর্শন, বৈষ্ণব সাহিত্য কিংবা কবির ব্যক্তিজীবন ও পরিপার্শ্ব- যে দৃষ্টিকোণ থেকেই দেখা যাক, বিরহই এ কাব্যের প্রাণ। বহুমাত্রিক বিরহের কাব্যিক রূপায়ণ রবীন্দ্রনাথের গীতাঞ্জলি।
rafatmishu2014@gmail.com
২.
মানুষের জীবনের এক অনিবার্য ও অপরিহার্য চেতনার নাম বিরহ। বিরহের মধ্য দিয়েই সে উন্নীত হয় স্তর থেকে স্তরান্তরে। তার আত্মপরিচয় ও আত্মউন্মীলনের পথ হচ্ছে বিরহ। না-পাওয়ার ব্যাকুলতা মানুষের চিরন্তন অনুভূতি। এক ছায়াচ্ছন্ন অনির্দেশ্যতা আছে বলেই, মিলনব্যাকুল-বিরহ ও বিষাদ আছে বলেই জীবন ও জগৎ গতিশীল। আত্মদর্শন, প্রকৃতি, দেশ-কাল-রাজনীতি-সমাজ, পরিপার্শ্ব সর্বত্রই বিরহের অবাধ বিস্তার। রবীন্দ্রনাথ ‘গীতাঞ্জলি’র বিভিন্ন কবিতায় মানুষের সেই চিরন্তন বিরহ-ব্যাকুলতাকে মূর্ত করেছেন রূপক-প্রতীকের অনুষঙ্গে- ‘মেঘের’ পরে মেঘ জমেছে/আঁধার করে আসে,/আমায় কেন বসিয়ে রাখ/একা দ্বারের পাশে’। (গীতাঞ্জলি : ১৬) এক চিরবিরহীর বেদনা যেন নিনাদিত হয়েছে এই কবিতায়। বহিঃপ্রকৃতি থেকে ‘আঁধার’, ‘মেঘ’ প্রতীকের সমবায়ে বিরহী প্রেমিকের মনোজগতের ক্রন্দন যেমন প্রকাশ পেয়েছে, তেমনি ‘একা দ্বারের পাশে’ বসিয়ে রাখার মাধ্যমে বিরহের সঙ্গে কবির অন্তরের মিলন-আকুতি ফুটে উঠেছে- তুমি যদি না দেখা দাও,/কর আমায় হেলা,/কেমন করে কাটে আমার/এমন বাদল-বেলা’। (গীতাঞ্জলি : ১৬) এখানে তুমি কে? হতে পারে কবির শুদ্ধতম সত্তা, হতে পারে কবির ব্যক্তিগত ঈশ্বর, হতে পারে কবির দয়িতা। কিন্তু সবকিছুর সঙ্গে যে সুরটি এখানে বেজে উঠছে, তা হচ্ছে বিরহের সুর। এক বাদলঘন সন্ধ্যায় কবি একা; সঙ্গী কেবল বিরহ। এখানে বৈষ্ণব সাহিত্যের পদাবলির সঙ্গে সাযুজ্য লক্ষণীয়। পদাবলিতে রাধা যেমন চিরবিরহী, প্রণয়াকাক্সক্ষী; যেমন প্রণয়তৃষ্ণায় কাতর প্রতিটি সহৃদয় হৃদয়সংবেদী মানুষ, কবিও তেমনি বিরহে আকুল। এবং কাক্সিক্ষতের সঙ্গে কবির দূরত্ব অনন্ত ও অসীম। এ বিরহ ঘুচবার নয়। কবি যেন সব জেনেই এই বিরহের জন্যই বিরহ তথা অনন্ত বিরহকে উদ্যাপন করে চলেছেন। মানুষ চিরবিরহী এবং আত্মবিরহীও বটে। এই চিরবিরহে জর্জরিত হয়েই সে মুক্ত হতে চায়। বিরহই প্রেমের সত্তাকে স্পষ্ট করে তোলে। বিরহবোধ আছে বলেই সম্ভাবনাবোধ আছে। রবীন্দ্রনাথ বিরহ উদ্যাপন করেছেন একই সঙ্গে রূপ ও অরূপের অর্থাৎ মূর্ত ও অমূর্তের। ১৭ সংখ্যক কবিতায়ও বিরহের আরতি। বিরহ এখানে মেঘ বা অন্ধকার নয়, বিরহ এখানে অনল- ‘কোথায় আলো, কোথায় ওরে আলো।/বিরহানলে জ্বালো তারে জ্বালো।’ (গীতাঞ্জলি : ১৭) এখানে কবি অনল দিয়ে আলো জ্বালতে বলেছেন। আলো ও অনল এখানে অভিন্ন, যেমন কবির কাছে অভিন্ন মিলন ও বিরহ। যা মিলনাকাক্সক্ষা কবির কাছে তা-ই বিরহাকাক্সক্ষা অর্থাৎ চিরবিরহ। রবীন্দ্র-বিরহ তাই সুগভীর কিন্তু সুমধুর। বেদনা থেকেই মানুষের জন্ম। বেদনাবোধ তথা বিরহবোধ থেকে মানুষের পরিত্রাণ নেই। বিরহের চরাচর অহরহ- ‘হেরি অহরহ তোমারি বিরহ/ভুবনে ভুবনে রাজে হে।/কত রূপ ধ’রে কাননে ভূধরে/আকাশে সাগরে সাজে হে।’ (গীতাঞ্জলি : ২৫)
গীতাঞ্জলিতে বিরহ এক স্থায়ী ভাব হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। অরূপের সন্ধানে কবির এই বিরহ প্রকাশ পেয়েছে নানা আঙ্গিকে। গীতাঞ্জলির বিরহভাবনা আলোচনায় বৈষ্ণব পদাবলির রাধার বিরহের সঙ্গে তুলনা-প্রতিতুলনা করা যেতে পারে। সেখানে রাধা চিরায়ত বিরহী মানবাত্মার প্রতীক। রাধা যতগুলো অবস্থার মধ্য দিয়ে কালাতিপাত করে তার একটিকে বলা হচ্ছে ‘বিরহ’। কিন্তু বিরহ এতই সংক্রামক ও সর্ববিস্তারী যে, অন্যান্য অবস্থাতেও রাধা বেদনাবিধুর। এমনকি মিলনক্ষণেও বিচ্ছিন্নতার আশঙ্কায় বিরহভাবনায় আকুল- ‘দুঁহু কোরে দুঁহু কাঁদে বিচ্ছেদ ভাবিয়া/আধ তিল না দেখিলে যায় যে মরিয়া।’ (চণ্ডীদাসের ‘মিলন’ বিষয়ক পদ) না-পাওয়ার বেদনা এবং পেয়ে হারানোর আশঙ্কা মানবাচেতনায় জাগিয়ে রেখেছে এক চিরন্তন দুঃখ এবং এই দুঃখের কোন পরিসীমা নেই। তাই বিরহ সর্বত্র একাকার হয়ে গেছে। রবীন্দ্র-বিরহ পুরোপুরি রাধা-বিরহের অনুগামী না হলেও মধ্যযুগের রাধা ও আধুনিক মানুষের মধ্যে এক অভিন্ন সূত্র স্থাপন করেছে অর্থাৎ বিরহের সূত্র। বিরহ যেহেতু একটি কালোত্তীর্ণ উপলবদ্ধি, তাই আধুনিক বিরহীর মধ্যেও রাধাসত্তার প্রকাশ লক্ষণীয়- ‘আজি শ্রাবণ-ঘন-গহন-মোহে/গোপন তব চরণ ফেলে/নিশার মতো নীরব ওহে/সবার দিঠি এড়ায়ে এলে।’ (গীতাঞ্জলি : ১৮) এক বিরহী প্রেমিকা যেন অভিসারে বের হচ্ছে; এই বিরহী রাধা কবির অন্তরেই বসবাস করছে। রবীন্দ্রসাহিত্যে প্রকৃতি ও জীবন পরিপূরক। আর এই প্রকৃতির বড়ো অংশ জুড়ে আছে বর্ষা।
রবীন্দ্রঋতু মাত্রই যেন বর্ষাঋতু। তাই তাঁর বিরহবোধেও বর্ষার প্রভাব অপার। বর্ষা বিরহের ঋতু। ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে মানুষের মনোজগতেও ঘটে পরিবর্তন। রবীন্দ্রনাথের বর্ষা কবির মনে জাগিয়ে তোলে সৃষ্টিশীলতার তরঙ্গ - ‘ওরে বৃষ্টিতে মোর ছুটেছে মন,/লুটেছে ওই ঝড়ে,/বুক ছাপিয়ে তরঙ্গ মোর/কাহার পায়ে পড়ে।’ (গীতাঞ্জলি : ২৭)
৩.
রবীন্দ্রনাথের গীতাঞ্জলির বিরহদর্শনের আরেকটি দিক হচ্ছে অস্তিত্ববাদী দর্শনের দৃষ্টিকোণ থেকে বিশ্লেষণ। এক হিসেবে বলা যায়, বিরহ ও অস্তিত্বচেতনা যেন বেণীবদ্ধভাবে অবস্থান করছে এই কাব্যে। ইয়োরোপীয় অস্তিত্বদর্শন থেকে রবীন্দ্রনাথের অস্তিত্বদর্শনের স্বাতন্ত্র্যের জায়গাটি হচ্ছে তাঁর বিরহদর্শন। ইয়োরোপীয় অস্তিত্বদর্শন অনুযায়ী মানুষের কেন্দ্রে অবস্থান করে তার অস্তিত্ব; কেন্দ্রের চারদিক পরিব্যাপ্ত থাকে শূন্যতা, ভয়, আশঙ্কা, যন্ত্রণা, সংশয় প্রভৃতি। আর এই শূন্যতার বলয় অতিক্রম করে মানুষ উত্তীর্ণ হতে চায় শুদ্ধ সত্তায়। রবীন্দ্রনাথ এই কেন্দ্রে অবস্থিত সত্তাকে বললেন ‘আমি’। কেন্দ্র ‘আমি’কে আবৃত করে আছে এক বিরহের সমুদ্র। এই বিরহের সমুদ্র সাঁতরে মানুষ যে শুদ্ধ সত্তা বা মুক্ত সত্তায় উত্তরণ আকাক্সক্ষা করে তা হচ্ছে তার ‘তুমি’ সত্তা। ‘আমি’ ও ‘তুমি’ মূলত একই সত্তার দ্বৈত রূপ। ‘আমি’ই তার অবিদ্যাজনিত জ্ঞানে (ইধফ ঋধরঃয এর কারণে) তৈরি করেছে শুদ্ধ সত্তা ‘তুমি’কে। ‘তুমি’ রবীন্দ্রনাথের শ্রেয় সত্তা। এখানে ‘তুমি’ সত্তা পূর্ণ, ‘আমি’ সত্তা অপূর্ণ। অহংমুক্ত ‘আমি’ই হচ্ছে ‘তুমি’। ‘গীতাঞ্জলি’র কবিতাগুলো ‘তুমি’র দিকে ‘আমি’র অভিসার- ‘আজি ঝড়ের রাতে তোমার অভিসার,/পরাণসখা বন্ধু হে আমার।/আকাশ কাঁদে হতাশ-সম,/নাই যে ঘুম নয়নে মম,/ দুয়ার খুলি হে প্রিয়তম, চাই যে বারে বার।/পরাণসখা বন্ধু হে আমার।’ (গীতাঞ্জলি : ২০) আবার, কখনো ‘তুমি’র কাছে ‘আমি’র সমর্পণ ও সকরুণ প্রার্থনা- ‘আমার মাথা নত করে দাও হে তোমার/ চরণধুলার তলে।/ সকল অহংকার হে আমার/ ডুবাও চোখের জলে।’ (গীতাঞ্জলি : ১) ‘তুমি’র দিকে ‘আমি’র গমন আদতে নিত্য আত্মপরিক্রমণ। এই আত্মপরিক্রমণ ঘটে বিরহের মধ্য দিয়ে। মানবাত্মা চৈতন্যের সূক্ষ্মস্তরে উত্তীর্ণ হয়ে শুধু বিরহকেই লাভ করে। সকল কিছুতে পূর্ণ হয়েও সে যেন অপূর্ণ। এই শূন্যতাবোধ থেকেই চিরবিরহের সৃষ্টি। এই চিরবিরহের উৎস খুঁজতে গিয়েই রূপের বাইরে অরূপের আবিষ্কার এবং তাকে অর্জন করবার জন্য অরূপের সন্ধান প্রবল হয়ে ওঠে - ‘সীমার মাঝে, অসীম, তুমি/বাজাও আপন সুর।/আমার মাঝে তোমার প্রকাশ/তাই এত মধুর।’ (গীতাঞ্জলি : ১২০) এখানে ‘আমি’ সত্তা ‘তুমি’ সত্তায় উত্তীর্ণ হতে চাইছে।
৪.
সাহিত্যে সৃজন ও স্রষ্টা কোন দূরবর্তী বিষয় নয়। বরং মানুষের যদি কোন স্বাধীনতার জায়গা থাকে, তবে সেটা হচ্ছে তার সৃষ্টিসত্তা। কবিতা কোন নির্বস্তুক বা পরিপার্শ্ব-নিরপেক্ষ বিষয় নয়। ‘কবিতা ও জীবন একই জিনিসের দু’রকম উৎসারণ।’ (জীবনানন্দ দাশ, কবিতার কথা) গীতাঞ্জলি রচনার প্রেক্ষাপট হিসেবে তাই রবীন্দ্রনাথের ব্যক্তিজীবনে কী ঘটেছিল, তা দেখা দরকার। ‘গীতাঞ্জলি’ প্রকাশের অব্যবহিত পূর্বের দশ বছরে রবীন্দ্রনাথ বেশ কয়েকজন পরম প্রিয় মানুষের মৃত্যু ও শোকের মুখোমুখি হয়েছিলেন। ১৯০১-এ রবীন্দ্রনাথের সবচেয়ে প্রিয় ভ্রাতুষ্পুত্র বলেন্দ্রনাথ ঠাকুরের মৃত্যু, ১৯০২-এ স্ত্রী মৃণালিনী দেবীর মৃত্যু, ১৯০৩-এ কন্যা রেণুকার মৃত্যু, ১৯০৪-এ প্রতিশ্রুতিশীল কবি ও শান্তিনিকেতনের শিক্ষক সতীশচন্দ্র রায়ের বসন্ত রোগে মৃত্যু, ১৯০৫-এ রবীন্দ্রনাথের বাবা দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের মৃত্যু এবং দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি, ১৯০৬-এ রবীন্দ্র-কাব্যগ্রন্থাবলী-র সম্পাদক মোহিতচন্দ্র সেনের মৃত্যু, ১৯০৭-এ কনিষ্ঠ পুত্র শমীন্দ্রনাথের কলেরা রোগে আকস্মিক মৃত্যু, এটিই তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড়ো শোক, ১৯০৮-এ মেজ জামাতা সত্যেন্দ্র ভট্টাচার্যের মৃত্যু- মৃত্যুর একটি কালোস্রোত যেন রবীন্দ্রনাথের ওপর দিয়ে বয়ে গেল। রবীন্দ্রনাথ শোককে ধারণ ও বহন করেছিলেন এবং তা প্রকাশ করেছেন তাঁর সৃষ্টিশীলতায়। এই মৃত্যুশোকের মধ্যেই তিনি গীতাঞ্জলির কবিতাগুলো লিখেছেন। নিঃসন্দেহে তাঁর কবিতায় ব্যক্তিজীবনের শোক, বিষাদ ও দুঃখ ছায়াপাত করেছে। রবীন্দ্র-বিরহ তাই কেবলই অন্তর্লোকের উৎসারণ নয়। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর ‘দুঃখ’ প্রবন্ধে লিখেছেন- ‘মানুষের এই দুঃখকে আমরা ক্ষুদ্র করিয়া বা দুর্বলভাবে দেখিব না। আমরা বক্ষ বিস্ফারিত ও মস্তক উন্নত করিয়াই ইহাকে স্বীকার করিব। এই দুঃখের শক্তি দ্বারা নিজেকে ভস্ম করিব না, নিজেকে কঠিন করিয়া গড়িয়া তুলিব।... দুঃখের দ্বারা আত্মাকে অবজ্ঞা না করি, দুঃখের দ্বারাই যেন আত্মার সম্মান উপলব্ধি করিতে পারি। দুঃখ ছাড়া সে সম্মান বুঝিবার আর কোনো পন্থা নাই।’ (‘দুঃখ’, ধর্ম)
গীতাঞ্জলিতে মাতৃবিরহও একটি বিশেষ স্থান করে নিয়েছে। ব্যক্তিজীবনে অনেকটা মাতৃস্নেহবঞ্চিত রবীন্দ্রনাথ দেশমাতৃকার মাঝেই আপন মায়ের অস্তিত্ব খুঁজতে চেয়েছেন। তৎকালীন রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহও এতে প্রভাব বিস্তার করেছে, বিশেষত বঙ্গভঙ্গ-বিরোধী আন্দোলন। তবে বঙ্কিমচন্দ্রের মতো রবীন্দ্রনাথ দেশমাতাকে দেবীমাতারুপে কল্পনা করেননি। ঘরের মাকেই তিনি স্থান দিয়েছেন দেশমাতারূপে। তাই মায়ের জন্য আকুতি ও নিবেদনেও বিরহের প্রকাশ- ‘তোমার সোনার থালায় সাজাব আজ/দুখের অশ্রুধার।/জননী গো, গাঁথব তোমার/গলার মুক্তাহার।’ (গীতাঞ্জলি : ১০) সমগ্র গীতাঞ্জলি কাব্যে একটি সুরই যেন বিরামহীনভাবে ধ্বনিত হচ্ছে। সেই সুর বিরহের সুর। রবীন্দ্রনাথের বিরহ বিরহের বিরহ। অস্তিত্বদর্শন, বৈষ্ণব সাহিত্য কিংবা কবির ব্যক্তিজীবন ও পরিপার্শ্ব- যে দৃষ্টিকোণ থেকেই দেখা যাক, বিরহই এ কাব্যের প্রাণ। বহুমাত্রিক বিরহের কাব্যিক রূপায়ণ রবীন্দ্রনাথের গীতাঞ্জলি।
rafatmishu2014@gmail.com
http://allbanglanewspapers.com/janakantha/
No comments:
Post a Comment