সংসদে সমাপনী ভাষণে প্রধানমন্ত্রীর সাফ কথা আমার চোখে অপরাধী অপরাধীই, তার বিচার হবেই
‘বিএনপি-জামায়াত শত শত মানুষ খুন করেছে, মসজিদে আগুন দিয়েছে, পবিত্র কোরান পুড়িয়েছে, ৫৮৩ স্কুল ধ্বংস করেছে’
৫ জানুয়ারির নির্বাচন ঠেকানোর নামে জামায়াতকে সঙ্গে নিয়ে খালেদা জিয়া যা করেছেন-
৫ জানুয়ারির নির্বাচন ঠেকানোর নামে জামায়াতকে সঙ্গে নিয়ে খালেদা জিয়া যা করেছেন-
সংসদ রিপোর্টার ॥ প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা শেখ হাসিনা বিদেশী গণমাধ্যমে কথা বলার আগে আয়নায় নিজের চেহারা দেখার জন্য বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, আমাদের ওপর দোষ চাপানোর আগে আয়নায় নিজের চেহারা দেখুন। আপনারা ক্ষমতায় থাকতে মানুষ হত্যা করেন, বিরোধী দলে থাকলেও হত্যাকা- চালান। নির্বাচন ঠেকানোর নামে খালেদা জিয়া জামায়াতকে সঙ্গে নিয়ে এদেশে যাতে নির্বাচন না হয়, দেশ ও গণতন্ত্র ধ্বংস হয়, দেশ অগণতান্ত্রিক পথে যাক- সেটাই চেয়েছিলেন। নির্বাচন ঠেকানোর নামে বিএনপি-জামায়াত জোট ১৬ পুলিশ, ২ বিজিবি ২ আনসার ও সেনাবাহিনীর এক সদস্যকে হত্যা করে। শত শত মানুষকে নির্মম ও নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করে। তাদের হাতে ছোট শিশু থেকে অবলা গরু পর্যন্ত রেহাই পায়নি। মানুষের গায়ে পেট্রোল ঢেলে, বাসে পেট্রোলবোমা মেরে মানুষ হত্যা করেছে। হাজার হাজার গাছ কেটে উজাড় করেছে। রেলে আগুন দিয়েছে। রেলের ফিশপ্লেট উপড়ে ফেলে শত শত মানুষ হত্যার চেষ্টা করেছে। আমরা তাদের সকল সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও ধ্বংসযজ্ঞ মোকাবেলা করে নির্বাচনের মাধ্যমে গণতন্ত্রকে সুসংহত ও অর্থনীতির চাকাকে সচল রাখতে সক্ষম হয়েছি। দেশের মানুষের ভাগ্য নিয়ে অনেক খেলা হয়েছে আর নয়। দেশ চলবে সংবিধান অনুযায়ীই। ভবিষ্যতে আর এ ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকা- ঘটুক তা আমরা চাই না। সহিংস আন্দোলন মেনে নেয়া হবে না। আমরাই পারি এবং পারব দেশকে এগিয়ে নিতে। আওয়ামী লীগই পারবে ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত উন্নত-সমৃদ্ধ দেশ গড়তে।
বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বিএনপি-জামায়াত জোটের নারকীয় নৃশংসতা ও ভয়াল তা-বের সচিত্র প্রতিবেদন দেশবাসীর সামনে তুলে ধরার পাশাপাশি সন্ত্রাসী-অপরাধীদের উদ্দেশে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, আমার চোখে অপরাধী- অপরাধীই। সে যেই হোক না কেন তার বিচার হবেই হবে। আমরা যা বলি তাই করি। আইন তার আপন গতিতে চলবে। অপরাধীদের বিচার হচ্ছে, হবে। দেশ চলবে সংবিধান অনুযায়ী। কাউকে মানুষের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলতে দেয়া হবে না। দেশের মানুষের ভাগ্য নিয়ে অনেক খেলাধুলা হয়েছে, আর নয়।
সংসদ নেতা বলেন, অনেকেই বলেন দেশে সুশাসন নেই। কিন্তু তাদের উদ্দেশে বলতে চাই, দেশে সুশাসন না থাকলে গণতন্ত্র অব্যাহত থাকত না। অনেক প্রতিকূলতার মধ্য দিয়েই আমরা এগিয়ে চলছি। তবে কিছু কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটছে। যেমন ফেনী, নারায়ণগঞ্জ, লক্ষ্মীপুরে। তবে সরকার কিন্তু বসে নেই। অপরাধীরা ধরা পড়ছে। তাদের বিচার শুরু হয়েছে। বিচার হবে। আইন তার আপন গতিতেই চলবে। কেউ রেহাই পাবে না সে যে দলেরই হোক।
ভারতের ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসে দেয়া সাক্ষাতকারে খালেদা জিয়ার প্রদত্ত বক্তব্যের সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সাক্ষাতকারে বিএনপি নেত্রী সব দায় আওয়ামী লীগের ঘাড়ে চাপানোর চেষ্টা করেছেন, সংখ্যালঘুদের নিয়ে মায়াকান্না করেছেন। প্রধানমন্ত্রী এ সময় বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে এবং বিগত ৫ জানুয়ারি নির্বাচন ঠেকাতে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি-জামায়াতের ভয়াল ধ্বংসযজ্ঞ, নিষ্ঠুর কায়দায় মানুষকে পুড়িয়ে হত্যা এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর নিপীড়ন-নির্যাতন ও মা-বোনদের ওপর পাশবিক নির্যাতনের ভয়াল সচিত্র চিত্র সংসদে প্রদর্শন করেন।
তিনি বলেন, বিএনপি নেত্রী ক্ষমতায় থাকার সময় এদেশের হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রীস্টান ও মুসলমান কোন সম্প্রদায়ের মানুষ রেহাই পায়নি। সব ধর্মের মানুষকে নিষ্ঠুরভাবে তারা নির্যাতন ও হত্যা করেছে। দেশের মানুষ বিএনপি-জামায়াতের এমন নিষ্ঠুরতার কথা কোনদিন ভুলবে না। নির্বাচনে না এসে সব হারিয়ে বিএনপি নেত্রী ও তাঁর দলের নেতারা চিঠি পাঠিয়ে মিথ্যা কুৎসা রটিয়ে দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। বিএনপি নেত্রীর প্রতি প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, আন্দোলনের নামে এভাবে মানুষ হত্যা করে দেশের কী লাভ হলো? আপনি কী অর্জন করেছেন? আপনি নির্বাচনে না এসে দেশের কষ্টার্জিত গণতন্ত্র ও দেশকে ধ্বংস করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু আপনার সেই ষড়যন্ত্র ব্যর্থ হয়েছে। নির্বাচনে দেশের মানুষ আমাদের ওপর যে আস্থা-বিশ্বাস রেখেছে, সেই আস্থা-বিশ্বাস অটুট রেখেই দেশকে আমরা এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি। এই অগ্রযাত্রা কেউ থামাতে পারবে না।
‘ভাবি সাহেবের মন গলাতে একটা কবিতা লিখলেন না কেন?’
ভাবি সাহেবার জন্য এত কিছু করলেন, জীবনে অনেক কবিতা লিখে দিলেন, কিন্তু ভাবি (খালেদা জিয়া) সাহেবানের মনের মতো একটা কবিতা লিখে দিতে পারলেন না? জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান হুসাইন মুহম্মদ এরশাদের প্রতি কৌতুকোচ্ছলে এমন প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৯১ সালের নির্বাচনে আমরা অংশ নিলাম। কিন্তু ওই নির্বাচনে কোন দলই সরকার গঠন করার মতো সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি। বিচারপতি সাহাবুদ্দিন আহমেদ তখন রাষ্ট্রপতি। তিনি তখন আমাদের ডেকেছিলেন, বঙ্গভবনে আলোচনা হয়েছিল। ইচ্ছা করলে জাতীয় পার্টি ও জামায়াতের সমর্থন নিয়ে সরকার গঠন করতে পারতাম। কিন্তু নীতিগতভাবে আমি ক্ষমতা গ্রহণ করতে চাইনি। যাদের বিরুদ্ধে আন্দোলন করলাম, তাদের নিয়ে একটি দুর্বল সরকার গঠন করতে চাইনি।
তিনি বলেন, ওইসময় বিএনপি জামায়াতকে সঙ্গে নিয়ে সরকার গঠন করল। কিন্তু বিএনপি ক্ষমতায় এসে প্রথম নির্যাতন চালাল জাতীয় পার্টির ওপর। আমার প্রশ্ন- যে ভাবি সাহেবার (খালেদা জিয়া) জন্য আপনি (এরশাদ) এত কিছু করলেন, গাড়ি দিলেন, বাড়ি দিলেন। সন্তানদের পড়ালেখার ভরণপোষণের টাকা দিলেন। এত চেষ্টা করলেন ভাবি সাহেবার মন পেতে কিন্তু তিনিই (খালেদা জিয়া) ক্ষমতায় গিয়ে আপনাকে, আপনার স্ত্রীকে আপনার সরকারের মন্ত্রীদের গ্রেফতার করলেন। আমি আপনাকে (এরশাদ) বলব, যদি কোন দিন সুযোগ পান তাহলে ভাবি সাহেবাকে জিজ্ঞেস করবেন কেন আপনি মন পেলেন না?
জেনারেল জিয়ার মতোই এরশাদও ক্ষমতা দখল করে
সমাপনী বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী সাবেক স্বৈরশাসক এরশাদের বেশকিছু অভিযোগের জবাব দেন। বঙ্গবন্ধু হত্যাকা-ের সঙ্গে জেনারেল জিয়ার সম্পৃক্ততার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর সামরিক শাসন জারি করে গণতন্ত্রকে হত্যা করেন জেনারেল জিয়া। বঙ্গবন্ধুর খুনী মীরজাফর মোশতাক এই জিয়াকেই সেনাবাহিনীপ্রধান করেছিল। বঙ্গবন্ধুর দুই খুনী ফারুক-রশিদও বিবিসিতে সাক্ষাতকার দিয়ে বলেছে, বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডে জেনারেল জিয়া তাদের সঙ্গে ছিল। রাষ্ট্রপতি বিচারপতি সায়েমকে অস্ত্রের মুখে ক্ষমতা থেকে হটিয়ে জিয়া হাজার হাজার সেনাবাহিনীর অফিসার ও সদস্যকে হত্যা করে। একমাত্র বিমানবাহিনীতেই ৫৬২ অফিসারকে হত্যা করেন তিনি। বিএনপি নেতারা দাবি করেন তাঁরা নাকি গণতন্ত্র দিয়েছেন! জিয়া প্রতিরাতে কার্ফু দিয়ে দেশ চালিয়েছে। কার্ফু দিয়ে দেশ চালানো কি গণতন্ত্রের নমুনা?
তিনি বলেন, জেনারেল জিয়ার পথ অনুসরণ করে জেনারেল এরশাদও তিন মাসের মাথায় রাষ্ট্রপতি আহসান উদ্দিন চৌধুরীকে হটিয়ে ক্ষমতা দখল করেছিলেন। বাংলাদেশে অস্ত্র, সন্ত্রাস, কালো টাকা, ঋণখেলাপী ও নির্বাচনে কারচুপি-ডাকাতি সামরিক স্বৈরাচাররাই সৃষ্টি করেছিল। তারা অবৈধ ক্ষমতাকে পাকাপোক্ত করতেই ভোট কারচুপি ও ক্ষমতার উচ্ছিষ্ট বিলিয়ে নতুন দল সৃষ্টি করেছিল। তিনি বলেন, আমরা সব সময় গণতন্ত্র চেয়েছি, গণতন্ত্রের জন্য লড়াই-সংগ্রাম করেছি। তিনি বলেন, ’৮১ সালের নির্বাচন যদি অবাধ ও নিরপেক্ষভাবে অনুষ্ঠানের সুযোগ দেয়া হতো তবে এরশাদ সাহেবকে ওভাবে পদত্যাগ করতে হতো না।
এরশাদকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ত্রি-জোটের রূপরেখা নিয়ে এরশাদ সাহেব পদত্যাগ করলেও রাজপথে অনেক রক্ত ঝরেছে। বার বার আমাকে হত্যার চেষ্টা এবং আওয়ামী লীগকে নিশ্চিহ্ন করার ষড়যন্ত্র হয়েছে। এরশাদ সাহেব ক্ষমতায় থাকার সময় চট্টগ্রামে আমাদের মিছিলে নির্বিচারে গুলি চালিয়ে ৩০ নেতাকর্মীকে হত্যা করা হয়েছে। আমি প্রাণে বেঁচে যাই। তখন যে পুলিশ অফিসার এত সংখ্যক নেতাকর্মীকে হত্যার নেতৃত্ব দিল তাকে খালেদা জিয়া ক্ষমতায় এসে পদোন্নতি দিলেন! টিপ্পনি কেটে তিনি বলেন, উনাদের মধ্যে (এরশাদ ও খালেদা জিয়া) কখন যে রাগ, অনুরাগ ও অভিমান চলে- এটাই রহস্য!
খালেদা জিয়ার সাক্ষাতকারের সমালোচনা
ভারতের ‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসে’ প্রদত্ত খালেদা জিয়ার সাক্ষাতকারের প্রসঙ্গে তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সাক্ষাতকারে উনি (খালেদা জিয়া) বলেছেন আওয়ামী লীগ নাকি কিছুই করতে পারিনি! কিন্তু ক্ষমতায় থেকে উনি কী করেছেন তা দেশের মানুষ সব জানে। ওনার সন্ত্রাসী কর্মকা-, জঙ্গীবাদ সৃষ্টি, সীমাহীন দুর্নীতি ও খুন-খারাবির দেশের মানুষ কোনদিন ভুলে যাবে না। তিনি বলেন, জিয়া-এরশাদ-খালেদা জিয়ারা ক্ষমতায় এসে সংখ্যালঘুদের ওপর নিপীড়ন-নির্যাতন চালিয়েছেন আর বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রীস্টান কেউ-ই রেহাই পায়নি। একাত্তরের কায়দায় তারা শত শত মা-বোনের ওপর পাশবিক নির্যাতন চালিয়েছে, হাজার হাজার মানুষকে হত্যা করেছে। সংখ্যালঘুদের উপাসনালয় মন্দির, গীর্জা, প্যাগোডায় হামলা চালিয়ে ধ্বংস করে দিয়েছে। আজ সেই নেত্রীর মুখে সংখ্যালঘুদের সম্পর্কে কোন কথা মানায় না।
নির্বাচন ঠেকাতে বিএনপি-জামায়াতের ভয়াল ধ্বংসযজ্ঞের ভয়াল চিত্র দেশবাসীর সামনে তুলে ধরে সংসদ নেতা বলেন, নির্বাচন ঠেকানোর নামে বিএনপি-জামায়াত জোট ১৬ পুলিশ, ২ বিজিবি, আনসারের ২ ও সেনাবাহিনীর এক সদস্যসহ শত শত মানুষকে নির্মম ও নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করে। তাদের হাতে ছোট ছোট শিশু এমনকি অবলা গরুরাও রেহাই পায়নি। মানুষের গায়ে পেট্রোল ঢেলে, বাসে পেট্রোলবোমা মেরে পুড়িয়ে মানুষকে হত্যা করেছে। হাজার হাজার গাছ কেটে উজাড় করেছে, রেলে আগুন দিয়েছে, রেলের ফিশপ্লেট উপড়িয়ে ফেলে শত শত মানুষকে হত্যার চেষ্টা করেছে।
তিনি বলেন, নির্বাচন ঠেকানোর নামে তারা কী বীভৎস ও পৈশাচিক ঘটনা ঘটিয়েছে তা দেশের মানুষ কোন দিন ভুলবে না। নির্বাচন ঠেকানোর নামে তারা মসজিদে আগুন দিয়েছে। শত শত পবিত্র কোরান শরীফ পুড়িয়েছে। বিএনপি-জামায়াত ও হেফাজতীরা ক্ষমতায় থেকে তারা মানুষ মেরেছে, বিরোধী দলে থেকেও মানুষ মেরেছে। এদের হাতে দেশের কোন মানুষই নিরাপদ নয়। নির্বাচনে না এসে এখন আন্দোলনের নামে সরকার উৎখাতের হুমকি দিচ্ছে আর তাদের আন্দোলন মানেই মানুষ হত্যা, দেশের সম্পদ ধ্বংস করা। দেশে এ ধরনের জঘন্য ঘটনা আর ঘটুক তা আমরা চাই না।
খালেদা জিয়ার বক্তব্যের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জিয়া-এরশাদ-খালেদা জিয়ারা ২১ বছর এবং পরবর্তীতে খালেদা জিয়ারা আরও ৫ বছরÑ সবমিলিয়ে তাঁরা ২৬ বছর ক্ষমতায় ছিলেন। কিন্তু দেশের অমীমাংসিত একটি ইস্যু তাঁরা সমাধান করে যাননি, কোন উদ্যোগও নেননি। একমাত্র আওয়ামী লীগই ক্ষমতায় এসে ঐতিহাসিক গঙ্গার পানি চুক্তি, পাবর্ত্য শান্তি চুক্তি করেছে। দু’দেশের সীমানা নির্ধারণ ও ছিটমহল সমস্যার সমাধান করেছে। মিয়ানমারের সঙ্গে আইনী লড়াইয়ের মাধ্যমে সমুদ্রসীমায় আমাদের অধিকার নিশ্চিত করেছি। সমুদ্রসীমা নিয়ে ভারতের সঙ্গে চলা মামলার রায় এই মাসেই ঘোষিত হবে। এই রায়ও যাতে বাংলাদেশের অনুকূলে আসে, আমাদের ন্যায্য অধিকার ফিরে পাই সেজন্য আল্লাহর দরবারে দোয়া-প্রার্থনা করার জন্য প্রধানমন্ত্রী দেশবাসীর প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান।
সাবেক রাষ্ট্রপতি এরশাদের বক্তব্যের জবাব দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নির্বাচন ঠেকানোর নামে বিএনপি-জামায়াত জোট ৫৮৩টি স্কুল-প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করেছে, প্রিসাইডিং অফিসারকে মেরেছে, ভোটারদের ওপর হামলা-নির্যাতন করেছে। এতকিছুর পরও দেশের শতকরা ৪০ ভাগ ভোটার নির্বাচনে ভোট দিয়েছে। শত প্রতিকূলতা হামলা-নির্যাতনের মুখেও নির্বাচন কমিশন সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক ধারাকে অব্যাহত রাখতে পেরেছেÑ এ জন্য তাদের ধন্যবাদ জানানো উচিত আর ছাত্র রাজনীতি নষ্ট করেছে সাবেক স্বৈরাচাররাই।
বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বিএনপি-জামায়াত জোটের নারকীয় নৃশংসতা ও ভয়াল তা-বের সচিত্র প্রতিবেদন দেশবাসীর সামনে তুলে ধরার পাশাপাশি সন্ত্রাসী-অপরাধীদের উদ্দেশে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, আমার চোখে অপরাধী- অপরাধীই। সে যেই হোক না কেন তার বিচার হবেই হবে। আমরা যা বলি তাই করি। আইন তার আপন গতিতে চলবে। অপরাধীদের বিচার হচ্ছে, হবে। দেশ চলবে সংবিধান অনুযায়ী। কাউকে মানুষের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলতে দেয়া হবে না। দেশের মানুষের ভাগ্য নিয়ে অনেক খেলাধুলা হয়েছে, আর নয়।
সংসদ নেতা বলেন, অনেকেই বলেন দেশে সুশাসন নেই। কিন্তু তাদের উদ্দেশে বলতে চাই, দেশে সুশাসন না থাকলে গণতন্ত্র অব্যাহত থাকত না। অনেক প্রতিকূলতার মধ্য দিয়েই আমরা এগিয়ে চলছি। তবে কিছু কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটছে। যেমন ফেনী, নারায়ণগঞ্জ, লক্ষ্মীপুরে। তবে সরকার কিন্তু বসে নেই। অপরাধীরা ধরা পড়ছে। তাদের বিচার শুরু হয়েছে। বিচার হবে। আইন তার আপন গতিতেই চলবে। কেউ রেহাই পাবে না সে যে দলেরই হোক।
ভারতের ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসে দেয়া সাক্ষাতকারে খালেদা জিয়ার প্রদত্ত বক্তব্যের সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সাক্ষাতকারে বিএনপি নেত্রী সব দায় আওয়ামী লীগের ঘাড়ে চাপানোর চেষ্টা করেছেন, সংখ্যালঘুদের নিয়ে মায়াকান্না করেছেন। প্রধানমন্ত্রী এ সময় বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে এবং বিগত ৫ জানুয়ারি নির্বাচন ঠেকাতে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি-জামায়াতের ভয়াল ধ্বংসযজ্ঞ, নিষ্ঠুর কায়দায় মানুষকে পুড়িয়ে হত্যা এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর নিপীড়ন-নির্যাতন ও মা-বোনদের ওপর পাশবিক নির্যাতনের ভয়াল সচিত্র চিত্র সংসদে প্রদর্শন করেন।
তিনি বলেন, বিএনপি নেত্রী ক্ষমতায় থাকার সময় এদেশের হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রীস্টান ও মুসলমান কোন সম্প্রদায়ের মানুষ রেহাই পায়নি। সব ধর্মের মানুষকে নিষ্ঠুরভাবে তারা নির্যাতন ও হত্যা করেছে। দেশের মানুষ বিএনপি-জামায়াতের এমন নিষ্ঠুরতার কথা কোনদিন ভুলবে না। নির্বাচনে না এসে সব হারিয়ে বিএনপি নেত্রী ও তাঁর দলের নেতারা চিঠি পাঠিয়ে মিথ্যা কুৎসা রটিয়ে দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। বিএনপি নেত্রীর প্রতি প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, আন্দোলনের নামে এভাবে মানুষ হত্যা করে দেশের কী লাভ হলো? আপনি কী অর্জন করেছেন? আপনি নির্বাচনে না এসে দেশের কষ্টার্জিত গণতন্ত্র ও দেশকে ধ্বংস করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু আপনার সেই ষড়যন্ত্র ব্যর্থ হয়েছে। নির্বাচনে দেশের মানুষ আমাদের ওপর যে আস্থা-বিশ্বাস রেখেছে, সেই আস্থা-বিশ্বাস অটুট রেখেই দেশকে আমরা এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি। এই অগ্রযাত্রা কেউ থামাতে পারবে না।
‘ভাবি সাহেবের মন গলাতে একটা কবিতা লিখলেন না কেন?’
ভাবি সাহেবার জন্য এত কিছু করলেন, জীবনে অনেক কবিতা লিখে দিলেন, কিন্তু ভাবি (খালেদা জিয়া) সাহেবানের মনের মতো একটা কবিতা লিখে দিতে পারলেন না? জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান হুসাইন মুহম্মদ এরশাদের প্রতি কৌতুকোচ্ছলে এমন প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৯১ সালের নির্বাচনে আমরা অংশ নিলাম। কিন্তু ওই নির্বাচনে কোন দলই সরকার গঠন করার মতো সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি। বিচারপতি সাহাবুদ্দিন আহমেদ তখন রাষ্ট্রপতি। তিনি তখন আমাদের ডেকেছিলেন, বঙ্গভবনে আলোচনা হয়েছিল। ইচ্ছা করলে জাতীয় পার্টি ও জামায়াতের সমর্থন নিয়ে সরকার গঠন করতে পারতাম। কিন্তু নীতিগতভাবে আমি ক্ষমতা গ্রহণ করতে চাইনি। যাদের বিরুদ্ধে আন্দোলন করলাম, তাদের নিয়ে একটি দুর্বল সরকার গঠন করতে চাইনি।
তিনি বলেন, ওইসময় বিএনপি জামায়াতকে সঙ্গে নিয়ে সরকার গঠন করল। কিন্তু বিএনপি ক্ষমতায় এসে প্রথম নির্যাতন চালাল জাতীয় পার্টির ওপর। আমার প্রশ্ন- যে ভাবি সাহেবার (খালেদা জিয়া) জন্য আপনি (এরশাদ) এত কিছু করলেন, গাড়ি দিলেন, বাড়ি দিলেন। সন্তানদের পড়ালেখার ভরণপোষণের টাকা দিলেন। এত চেষ্টা করলেন ভাবি সাহেবার মন পেতে কিন্তু তিনিই (খালেদা জিয়া) ক্ষমতায় গিয়ে আপনাকে, আপনার স্ত্রীকে আপনার সরকারের মন্ত্রীদের গ্রেফতার করলেন। আমি আপনাকে (এরশাদ) বলব, যদি কোন দিন সুযোগ পান তাহলে ভাবি সাহেবাকে জিজ্ঞেস করবেন কেন আপনি মন পেলেন না?
জেনারেল জিয়ার মতোই এরশাদও ক্ষমতা দখল করে
সমাপনী বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী সাবেক স্বৈরশাসক এরশাদের বেশকিছু অভিযোগের জবাব দেন। বঙ্গবন্ধু হত্যাকা-ের সঙ্গে জেনারেল জিয়ার সম্পৃক্ততার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর সামরিক শাসন জারি করে গণতন্ত্রকে হত্যা করেন জেনারেল জিয়া। বঙ্গবন্ধুর খুনী মীরজাফর মোশতাক এই জিয়াকেই সেনাবাহিনীপ্রধান করেছিল। বঙ্গবন্ধুর দুই খুনী ফারুক-রশিদও বিবিসিতে সাক্ষাতকার দিয়ে বলেছে, বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডে জেনারেল জিয়া তাদের সঙ্গে ছিল। রাষ্ট্রপতি বিচারপতি সায়েমকে অস্ত্রের মুখে ক্ষমতা থেকে হটিয়ে জিয়া হাজার হাজার সেনাবাহিনীর অফিসার ও সদস্যকে হত্যা করে। একমাত্র বিমানবাহিনীতেই ৫৬২ অফিসারকে হত্যা করেন তিনি। বিএনপি নেতারা দাবি করেন তাঁরা নাকি গণতন্ত্র দিয়েছেন! জিয়া প্রতিরাতে কার্ফু দিয়ে দেশ চালিয়েছে। কার্ফু দিয়ে দেশ চালানো কি গণতন্ত্রের নমুনা?
তিনি বলেন, জেনারেল জিয়ার পথ অনুসরণ করে জেনারেল এরশাদও তিন মাসের মাথায় রাষ্ট্রপতি আহসান উদ্দিন চৌধুরীকে হটিয়ে ক্ষমতা দখল করেছিলেন। বাংলাদেশে অস্ত্র, সন্ত্রাস, কালো টাকা, ঋণখেলাপী ও নির্বাচনে কারচুপি-ডাকাতি সামরিক স্বৈরাচাররাই সৃষ্টি করেছিল। তারা অবৈধ ক্ষমতাকে পাকাপোক্ত করতেই ভোট কারচুপি ও ক্ষমতার উচ্ছিষ্ট বিলিয়ে নতুন দল সৃষ্টি করেছিল। তিনি বলেন, আমরা সব সময় গণতন্ত্র চেয়েছি, গণতন্ত্রের জন্য লড়াই-সংগ্রাম করেছি। তিনি বলেন, ’৮১ সালের নির্বাচন যদি অবাধ ও নিরপেক্ষভাবে অনুষ্ঠানের সুযোগ দেয়া হতো তবে এরশাদ সাহেবকে ওভাবে পদত্যাগ করতে হতো না।
এরশাদকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ত্রি-জোটের রূপরেখা নিয়ে এরশাদ সাহেব পদত্যাগ করলেও রাজপথে অনেক রক্ত ঝরেছে। বার বার আমাকে হত্যার চেষ্টা এবং আওয়ামী লীগকে নিশ্চিহ্ন করার ষড়যন্ত্র হয়েছে। এরশাদ সাহেব ক্ষমতায় থাকার সময় চট্টগ্রামে আমাদের মিছিলে নির্বিচারে গুলি চালিয়ে ৩০ নেতাকর্মীকে হত্যা করা হয়েছে। আমি প্রাণে বেঁচে যাই। তখন যে পুলিশ অফিসার এত সংখ্যক নেতাকর্মীকে হত্যার নেতৃত্ব দিল তাকে খালেদা জিয়া ক্ষমতায় এসে পদোন্নতি দিলেন! টিপ্পনি কেটে তিনি বলেন, উনাদের মধ্যে (এরশাদ ও খালেদা জিয়া) কখন যে রাগ, অনুরাগ ও অভিমান চলে- এটাই রহস্য!
খালেদা জিয়ার সাক্ষাতকারের সমালোচনা
ভারতের ‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসে’ প্রদত্ত খালেদা জিয়ার সাক্ষাতকারের প্রসঙ্গে তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সাক্ষাতকারে উনি (খালেদা জিয়া) বলেছেন আওয়ামী লীগ নাকি কিছুই করতে পারিনি! কিন্তু ক্ষমতায় থেকে উনি কী করেছেন তা দেশের মানুষ সব জানে। ওনার সন্ত্রাসী কর্মকা-, জঙ্গীবাদ সৃষ্টি, সীমাহীন দুর্নীতি ও খুন-খারাবির দেশের মানুষ কোনদিন ভুলে যাবে না। তিনি বলেন, জিয়া-এরশাদ-খালেদা জিয়ারা ক্ষমতায় এসে সংখ্যালঘুদের ওপর নিপীড়ন-নির্যাতন চালিয়েছেন আর বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রীস্টান কেউ-ই রেহাই পায়নি। একাত্তরের কায়দায় তারা শত শত মা-বোনের ওপর পাশবিক নির্যাতন চালিয়েছে, হাজার হাজার মানুষকে হত্যা করেছে। সংখ্যালঘুদের উপাসনালয় মন্দির, গীর্জা, প্যাগোডায় হামলা চালিয়ে ধ্বংস করে দিয়েছে। আজ সেই নেত্রীর মুখে সংখ্যালঘুদের সম্পর্কে কোন কথা মানায় না।
নির্বাচন ঠেকাতে বিএনপি-জামায়াতের ভয়াল ধ্বংসযজ্ঞের ভয়াল চিত্র দেশবাসীর সামনে তুলে ধরে সংসদ নেতা বলেন, নির্বাচন ঠেকানোর নামে বিএনপি-জামায়াত জোট ১৬ পুলিশ, ২ বিজিবি, আনসারের ২ ও সেনাবাহিনীর এক সদস্যসহ শত শত মানুষকে নির্মম ও নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করে। তাদের হাতে ছোট ছোট শিশু এমনকি অবলা গরুরাও রেহাই পায়নি। মানুষের গায়ে পেট্রোল ঢেলে, বাসে পেট্রোলবোমা মেরে পুড়িয়ে মানুষকে হত্যা করেছে। হাজার হাজার গাছ কেটে উজাড় করেছে, রেলে আগুন দিয়েছে, রেলের ফিশপ্লেট উপড়িয়ে ফেলে শত শত মানুষকে হত্যার চেষ্টা করেছে।
তিনি বলেন, নির্বাচন ঠেকানোর নামে তারা কী বীভৎস ও পৈশাচিক ঘটনা ঘটিয়েছে তা দেশের মানুষ কোন দিন ভুলবে না। নির্বাচন ঠেকানোর নামে তারা মসজিদে আগুন দিয়েছে। শত শত পবিত্র কোরান শরীফ পুড়িয়েছে। বিএনপি-জামায়াত ও হেফাজতীরা ক্ষমতায় থেকে তারা মানুষ মেরেছে, বিরোধী দলে থেকেও মানুষ মেরেছে। এদের হাতে দেশের কোন মানুষই নিরাপদ নয়। নির্বাচনে না এসে এখন আন্দোলনের নামে সরকার উৎখাতের হুমকি দিচ্ছে আর তাদের আন্দোলন মানেই মানুষ হত্যা, দেশের সম্পদ ধ্বংস করা। দেশে এ ধরনের জঘন্য ঘটনা আর ঘটুক তা আমরা চাই না।
খালেদা জিয়ার বক্তব্যের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জিয়া-এরশাদ-খালেদা জিয়ারা ২১ বছর এবং পরবর্তীতে খালেদা জিয়ারা আরও ৫ বছরÑ সবমিলিয়ে তাঁরা ২৬ বছর ক্ষমতায় ছিলেন। কিন্তু দেশের অমীমাংসিত একটি ইস্যু তাঁরা সমাধান করে যাননি, কোন উদ্যোগও নেননি। একমাত্র আওয়ামী লীগই ক্ষমতায় এসে ঐতিহাসিক গঙ্গার পানি চুক্তি, পাবর্ত্য শান্তি চুক্তি করেছে। দু’দেশের সীমানা নির্ধারণ ও ছিটমহল সমস্যার সমাধান করেছে। মিয়ানমারের সঙ্গে আইনী লড়াইয়ের মাধ্যমে সমুদ্রসীমায় আমাদের অধিকার নিশ্চিত করেছি। সমুদ্রসীমা নিয়ে ভারতের সঙ্গে চলা মামলার রায় এই মাসেই ঘোষিত হবে। এই রায়ও যাতে বাংলাদেশের অনুকূলে আসে, আমাদের ন্যায্য অধিকার ফিরে পাই সেজন্য আল্লাহর দরবারে দোয়া-প্রার্থনা করার জন্য প্রধানমন্ত্রী দেশবাসীর প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান।
সাবেক রাষ্ট্রপতি এরশাদের বক্তব্যের জবাব দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নির্বাচন ঠেকানোর নামে বিএনপি-জামায়াত জোট ৫৮৩টি স্কুল-প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করেছে, প্রিসাইডিং অফিসারকে মেরেছে, ভোটারদের ওপর হামলা-নির্যাতন করেছে। এতকিছুর পরও দেশের শতকরা ৪০ ভাগ ভোটার নির্বাচনে ভোট দিয়েছে। শত প্রতিকূলতা হামলা-নির্যাতনের মুখেও নির্বাচন কমিশন সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক ধারাকে অব্যাহত রাখতে পেরেছেÑ এ জন্য তাদের ধন্যবাদ জানানো উচিত আর ছাত্র রাজনীতি নষ্ট করেছে সাবেক স্বৈরাচাররাই।
http://allbanglanewspapers.com/janakantha/
No comments:
Post a Comment