
কিছুদিন আগের কথা। আর দশটা দিনের মতো ব্যস্ত আরেকটি দিনের শুরুতেই চমকে উঠলেন আমেরিকার সবচেয়ে নিরাপদ স্থানগুলোর একটি বলে স্বীকৃত হোয়াইট হাউসের নিরাপত্তা কর্মীরা। উচ্চ শব্দে একটানা বেজে চলেছে নিরাপত্তা এলার্ম। যার মানে নিরাপত্তা ব্যবস্থা ফাঁকি দিয়ে কেউ একজন ঢুকে পড়েছে হোয়াইট হাউসের চৌহদ্দিতে। মুহূর্তের মধ্যেই তারা নিশ্চিত হয়ে গেলেন যে অবৈধ অনুপ্রবেশের এই ঘটনাটি ঘটেছে হোয়াইট হাউসের উত্তর গেট দিয়ে। কোনো রকম ঝুঁকি না নিয়ে তাত্ক্ষণিকভাবেই মূল ভবন আর পেনসিলভানিয়া এভিনিউ এ প্রবেশ করার সকল পথ বন্ধ করে দেন সিক্রেট সার্ভিসের প্রধান কর্তা ব্যক্তিরা। সেই সাথে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা ছুটতে থাকেন হোয়াইট হাউসের সামনের সবুজ ঘাসের লন ধরে। উদ্দেশ্য, বাজে কিছু ঘটবার আগেই অনুপ্রবেশকারীকে আটকে দেওয়া। তবে শেষতক যখন ধরা হলো সেই অনুপ্রবেশকারীকে তখন কোনো ধরনের জেরা না করে এবং তাকে আটক করার কোনো উদ্যোগ না নিয়েই ছেড়ে দেন নিরাপত্তাকর্মীরা। ভাবছেন, হোয়াইট হাউসে এভাবে অনুপ্রবেশ করেও কীভাবে বিনা বিচারে মুক্তি পাওয়া সম্ভব? আসলে, অনুপ্রবেশকারীর বয়স যেখানে দুই বছরই পেরোয়নি সেখানে তাকে নিয়ে কী-ই বা করতে পারেন নিরাপত্তাকর্মীরা। আর তাই কোনো রকম কথা না বাড়িয়ে মা-বাবার চোখ এড়িয়ে নিরাপত্তা বলয়ে ঢুকে পড়া এই শিশুকে অচিরেই তার অভিভাবকের কাছে পৌঁছে দেন তারা। নিরাপত্তা কর্মীরা জানিয়েছেন আকৃতিতে ছোট হওয়ার কারণেই শিশুটি অনায়াসে গ্রিলের ফাঁক গলে হোয়াইট হাউসের চত্তরে ঢুকে পড়তে সক্ষম হয়েছিল। তবে একটু বয়সী কারও জন্য এ কাজটি অসম্ভব বলেই আপাত দৃষ্টিতে হোয়াইট হাউসের নিরাপত্তা নিয়ে বাড়তি দুশ্চিন্তার কোনো কারণ নেই বলে জানিয়েছেন নিরাপত্তাকর্মীরা। অন্যদিকে শিশুটিকে ছেড়ে দেওয়া প্রসঙ্গে ইউএস সিক্রেট সার্ভিসের এক মুখপাত্র এডউইন ডোনোভান মজা করেই বলেছেন, 'শিশুটিকে জেরা করার জন্য আমাদেরকে তার কথা বলা শেখা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে!'
No comments:
Post a Comment