Saturday, August 9, 2014

এখনো নিখোঁজ ১২৫ যাত্রী ৪৩ লাশ উদ্ধার, শনাক্তে ডিএনএ টেস্টের দাবি

পদ্মায় লঞ্চডুবি

এখনো নিখোঁজ ১২৫ যাত্রী

৪৩ লাশ উদ্ধার, শনাক্তে ডিএনএ টেস্টের দাবি

মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি
পদ্মায় লঞ্চডুবির ছয়দিন পরও নিখোঁজ রয়েছেন ১২৫ জন হতভাগ্য যাত্রী। তাদের ভাগ্যে কি ঘটেছে তা কেউই বলতে পারছেন না। এছাড়া গতকাল শনিবার রাত পর্যন্ত খোঁজ মেলেনি লঞ্চটিরও। তবে ভাটির বিভিন্ন নদী থেকে আরো ৬টি লাশ উদ্ধার হয়েছে। এনিয়ে উদ্ধারকৃত লাশের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৩। এর মধ্যে ভোলা থেকে ১১, শরীয়তপুর থেকে ১০, বরিশাল থেকে ১০, চাঁদপুরে ৫, লক্ষ্মীপুরে ১, মাদারীপুরে ১ ও মুন্সীগঞ্জে ৫টি লাশ উদ্ধার হয়েছে। 

গতকাল পর্যন্ত ২৪টি লাশের পরিচয় নিশ্চিত হওয়ায় তা স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। চেনার উপায় নেই এমন ১৫টি লাশ অজ্ঞাত হিসেবে দাফন করা হয়েছে। বাকি লাশগুলো মাদারীপুরের শিবচরের পাঁচ্চর প্রাথমিক বিদ্যালয় ক্যাম্পে রাখা আছে শনাক্তের জন্য। দীর্ঘ সময় পানিতে থাকায় লাশগুলো শনাক্ত করাও কঠিন হয়ে পড়েছে। তাই স্বজনরা লাশ শনাক্তের জন্য ডিএনএ টেস্টের দাবি জানিয়েছেন। 

গত সোমবার কাওড়াকান্দি থেকে মাওয়া আসার পথে আড়াইশ' যাত্রী নিয়ে পদ্মায় তলিয়ে যায় এমএল পিনাক-৬ নামের লঞ্চটি। গতকাল পদ্মার তলদেশে 'লোহা জাতীয় বস্তু'র সংকেত মিললেও তা ওই লঞ্চের কি না তা নিশ্চিত করতে পারেননি উদ্ধারকারীরা। বিষয়টি আরো নিবিড়ভাবে অনুসন্ধান করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিআইডব্লিউটিএ'র জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আশরাফ। 

এদিকে দীর্ঘ ৬ দিনেও লঞ্চের অবস্থান নিশ্চিত করতে না পারায় উদ্ধারকারী জাহাজ 'নির্ভীক' ও 'রুস্তম' মাঝ পদ্মায় অলস বসে আছে। লঞ্চের অবস্থান নিশ্চিত না হওয়ায় ক্ষোভ বাড়ছে স্বজনহারা পরিবারে। তারা লঞ্চ উদ্ধারের আশা ছেড়ে দিয়ে অনেকেই লাশের জন্য সম্ভাব্য স্থানগুলোতে খুঁজে ফিরছেন। তাই মাওয়ায় এখন স্বজনহারা মানুষের সংখ্যা কম। লঞ্চ উদ্ধারের সর্বাত্মক চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছেন মুন্সীগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. সাইফুল হাসান বাদল। 

নতুন কৌশলে অনুসন্ধান:সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে অনুসন্ধানী জাহাজ জরিপ-১০ ও কাণ্ডারী-২ এবং স্ক্যানার যন্ত্র 'সোনার' ব্যবহার করে 'তিস্তা', 'সন্ধান', 'আইটি ৯৭' ও 'বদ্বীপ' শনিবার সকাল থেকে নতুন কৌশলে পদ্মায় ডুবে যাওয়া লঞ্চ উদ্ধারে কাজ শুরু করছে। নতুন কৌশল সম্পর্কে নৌ-বাহিনী সদর দপ্তরের উপ-পরিচালক কমান্ডার হাবিবুল আলম কাণ্ডারী-২ থেকে জানিয়েছেন, দুর্ঘটনাস্থলের আশপাশের ৫০ বর্গ কিলোমিটার এলাকা কয়েক দফা সার্চ করার পর এখন স্রোতের অনুকূলে জাহাজটি পরিচালনা করা হচ্ছে। এভাবে দুর্ঘটনাস্থল থেকে ভাটির দিকে প্রায় ২০ কিলোমিটার এগিয়ে গেছে কাণ্ডারী-২। এছাড়া লঞ্চটি ওজন অনুযায়ী এবং স্রোতের তীব্রতায় কোথায় গিয়ে পড়ে থাকতে পারে তা হিসাব-নিকাশ করে কয়েকটি সম্ভাব্য লোকেশন চিহ্নিত করা হয়েছে। সেখানে খুব নিবিড়ভাবে জরিপ-১০ কাজ করছে। এছাড়া চারটি জাহাজ নদীর বিভিন্ন লোকেশন টার্গেট করে 'সোনার' দিয়ে জোরালোভাবে সন্ধান চালাচ্ছে। নদীর তলদেশে ১০ মিটার থেকে ৪৬ মিটার পর্যন্ত গভীরতায় এসব সন্ধানী দল কাজ করছে। শনিবার সকাল থেকে নতুন এই কৌশলে কাজ চলছে বলে তিনি জানান। 

উদ্ধার কার্যক্রমে ধীরগতির অভিযোগ:এদিকে নিখোঁজদের স্বজনরা অভিযোগ করছেন, অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারে বিলম্ব করার কারণে লঞ্চটি পাওয়া যাচ্ছে না। তবে এই অভিযোগ অস্বীকার করে বিআইডব্লিউটিএ'র চেয়ারম্যান ড. শামসুদ্দোহা খন্দকার জানান, চেষ্টার কোন ত্রুটি হচ্ছে না। দুর্ঘটনাস্থলে প্রবল ঘূর্ণিস্রোত এবং পানির গভীরতা প্রায় ৮০/৯০ ফুট। তাছাড়া ঘূর্ণির কারণে নদীর তলদেশে গর্ত সৃষ্টি হচ্ছে। স্রোতের টানে দূরে সরে বালুর নিচে চাপা পড়ে থাকতে পারে লঞ্চটি। তাই শনাক্ত করা কঠিন হচ্ছে। 

নৌ-পরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান বলেছেন, অনুসন্ধান কাজে বিশ্বমানের প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা যতদিন পর্যন্ত লঞ্চটি উদ্ধারের সম্ভাবনা দেখছেন, ততদিন পর্যন্তই উদ্ধার তত্পরতা চলবে। 

মা-ছেলের পরিচয় মিলেছে:মাওয়ায় লঞ্চ ডুবির পর উদ্ধার হওয়া আরো দুই লাশের পরিচয় জানা গেছে। এরা হচ্ছে ভোলা দৌলতখানে উদ্ধার হওয়া মাদারীপুরের শিবচরের গোয়ালকান্দা গ্রামের মৃত মিজানুর রহমানের পুত্র মঈন (৩) ও বরিশালের হিজলায় উদ্ধার হওয়া তার মা রোকসানা বেগম (৩০)। শনিবার লাশ দুটি শনাক্তের পর স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। 

লাশের সঙ্গে মিললো ডেবিট কার্ড: হাতিয়া (নোয়াখালী) সংবাদদাতা জানান, গতকাল ভোরে হাতিয়ার টাংকির খালের পাশে ইসলামপুর চতলা নামক স্থানে ১টি লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। লাশটি পদ্মায় ডুবে যাওয়া লঞ্চ এমভি পিনাক-৬ এর বলে ধারণা করা হচ্ছে। লাশটির সাথে ইসলামী ব্যাংকের একটি ডেবিট কার্ড পাওয়া গেছে। নাম:আহম্মদ খান, পিতা:ইব্রাহীম খান, সাং ভাদ্রকান্দা, থানা:ভাঙ্গা, জেলা:ফরিদপুর মোবাইল:০১৮৫০৬৬৩৬৮৬। হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সৈয়দ ফজলে রাব্বি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন।

মেঘনায় মিললো আরো ২ লাশ:বরিশাল অফিস জানায়, মেঘনা নদীর মহিষপুর ও পাল নামক স্থান থেকে গতকাল আরো দুটি লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। হিজলা থানার ওসি শওকত আনোয়ার বলেন, উদ্ধারকৃত লাশ দুটি পুরুষের। এদের মধ্যে একজনের বয়স আনুমানিক ৫০ বছর, অপরটির ২৫ বছর হতে পারে। লাশ দুটি আজ রবিবার মাদারীপুর কন্ট্রোল রুমে পাঠানো হবে।

The Daily Ittefaq

No comments:

Post a Comment