Tuesday, August 5, 2014

চা-বাগান: মুখ্যমন্ত্রীর কাছে আসছেন বাণিজ্যমন্ত্রী নির্মলা

চা-বাগান: মুখ্যমন্ত্রীর কাছে আসছেন বাণিজ্যমন্ত্রী নির্মলা

Aajkaal: the leading bengali daily newspaper from Kolkata

রাজীব চক্রবর্তী: দিল্লি, ৪ আগস্ট– উত্তরবঙ্গের বন্ধ ও রুগ‍্ণ চা-বাগান এবং সেখানকার শ্রমিকদের সমস্যার সমাধানের লক্ষ্যে কলকাতায় যাচ্ছেন কেন্দ্রীয় শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রী নির্মলা সীতারামন৷‌ মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করে চা-বাগান সমস্যার সমাধানের পথ খুঁজতে চান সীতারামন৷‌ বৈঠকে ডাকা হতে পারে বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং রুগ‍্ণ চা-বাগানের মালিকদেরও৷‌ সমস্যা মেটাতে কেন্দ্র সরকার রাজ্যের সঙ্গে যৌথ কোনও উদ্যোগ গ্রহণ করতেও আগ্রহী৷‌ সোমবার কেন্দ্রীয় বাণিজ্য মন্ত্রক সূত্রে এই খবর জানা গেছে৷‌ সংসদেও এমনই ইঙ্গিত দিয়েছেন শ্রম ও কর্মসংস্হান মন্ত্রী নরেন্দ্র সিং তোমর৷‌ এদিন লোকসভার প্রশ্নোত্তর পর্বে আসামের চা-বাগান শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি ৯৪ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৫০ টাকা করার আর্জি জানিয়ে আসাম সরকারের কাছে শ্রমিকদের প্রভিডেন্ট ফান্ডের বকেয়া টাকা মেটানো নিয়ে প্রশ্ন তোলেন ডিব্রুগড়ের বি জে পি সাংসদ রামেশ্বর তেলি৷‌ উত্তরে মন্ত্রী তোমর বলেন, এটা ঠিক যে চা-বাগান শ্রমিকদের মজুরি অত্যম্ত কম৷‌ কিন্তু, এক্ষেত্রে কেন্দ্রের কিছু করার নেই৷‌ কেন্দ্র সরকার শ্রমিকদের মজুরি নির্ধারণ করে না৷‌ এরজন্য ১৯৫১-র চা-বাগান আইন আছে, যা রাজ্য সরকারের এক্তিয়ারে৷‌ রাজ্যস্তরে দ্বিপাক্ষিক ও ত্রিপাক্ষিক আলোচনার মাধ্যমে মজুরি ঠিক হয়৷‌ তবে ১৯৯১ সালে কেন্দ্রীয়ভাবে শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণের প্রয়াস করা হয়৷‌ ঠিক হয়, চা-শ্রমিকদের ন্যূনতম ১৩৭ টাকা মজুরি দিতে হবে৷‌ চা-উৎপাদনকারী রাজ্যগুলিকে বিষয়টি জানানো হয়৷‌ কিন্তু, এর পরেও বিভিন্ন রাজ্যে চা-শ্রমিকদের বিভিন্ন রকম মজুরি দেওয়া হয়৷‌ এখনও কোনও রাজ্যে ১৩৭ টাকার কম মজুরিও দেওয়া হচ্ছে৷‌ কেন্দ্র সরকার চা-উৎপাদনকারী সবক’টি রাজ্যকে আরও একবার চিঠি দিয়ে অনুরোধ জানাবে শ্রমিকদের মজুরি ঠিক করার সময় যেন ন্যূনতম মজুরির বিষয়টি মাথায় রাখা হয়৷‌

অধীররঞ্জন চৌধুরি বলেন, চা-বাগান ইস্যুতে কেন্দ্র সরকার এইভাবে মুখ ফিরিয়ে রাখতে পারে না৷‌ দীর্ঘদিন ধরে চা-বাগানের শ্রমিকেরা ন্যায্য মজুরি থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন৷‌ ২০০৩ সাল থেকে বাংলায় ২৭৩টি চা-বাগানে এক হাজারের বেশি শ্রমিকের অনাহারে মৃত্যু হয়েছে৷‌ এখনও একই দশা৷‌ ১৯৫৩-র চা-আইন অনুযায়ী কেন্দ্র সরকার তদম্ত করে শ্রমিকদের মজুরি ও প্রভিডেন্ট ফান্ড তছরুপের ক্ষেত্রে হস্তক্ষেপ করতে পারে৷‌ তছরুপ হলে সরকার চা-বাগানের মালিকানা নিয়ে নিতেও পারে৷‌ কিন্তু, এই আইন কখনও কাজে আসেনি৷‌ আইনে মূল মজুরির পাশাপাশি শ্রমিকদের অন্য যে সমস্ত সুবিধা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে মালিকপক্ষ সেগুলিকে মূল মজুরির সঙ্গে যুক্ত করে দেন৷‌ ফলে বঞ্চিত হন শ্রমিকেরা৷‌ কেন্দ্র খোলাখুলি জানাক, তারা কী ভাবছে, কী পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে? অধীরের এই প্রশ্নের পর ট্রেজারি বেঞ্চের সাংসদেরা প্রতিবাদ জানান৷‌ পূর্ববর্তী সরকারের সদিচ্ছা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে৷‌ মন্ত্রী বলেন, এটা রাজনীতি করার জায়গা নয়৷‌ তাই রাজনৈতিক প্রশ্নের উত্তর অন্যভাবে দেওয়া যেতে পারে৷‌ এতদিন যা হয়নি তার উত্তর সরাসরি আমি দিতে পারব না৷‌ তবে, সরকারের কাছে এটা সত্যিই আশ্চর্যের ব্যাপার যে কীভাবে এত কম মজুরি দেওয়া হচ্ছে৷‌ বর্তমান সরকারের বয়স মাত্র দু-মাস৷‌ আর একটু সময় দিন, সরকার এ নিয়ে বিবেচনা করছে৷‌ 

তৃণমূল সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার বলেন, বাংলার দার্জিলিং চা ভারত-সহ গোটা বিশ্বে বিখ্যাত৷‌ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী এই বিষয়ে চিম্তিত৷‌ তিনি কেন্দ্রকে চিঠিও দিয়েছেন৷‌ কিন্তু এই মুহূর্তে দার্জিলিং-সংলগ্ন ব্যক্তি মালিকানাধীন ৬টি চা-বাগান বন্ধ হয়ে গেছে৷‌ বন্ধ চা-বাগানের শ্রমিকদের জন্য রাজ্য সরকার স্বাস্হ্য ও আর্থিক প্যাকেজ ঘোষণা করেছে৷‌ শ্রমিকদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে এই সুবিধা পাইয়ে দেওয়া হচ্ছে৷‌ কেন্দ্র সরকারের অধীন টি-বোর্ড শ্রমিকদের সাহায্যে এমন কোনও প্যাকেজ নিয়ে ভাবছে কি? জবাবে মন্ত্রী বলেন, বাংলার মুখ্যমন্ত্রী শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রীকে চিঠি দিয়ে চা-বাগান সমস্যার কথা জানিয়েছেন৷‌ বাণিজ্য মন্ত্রী নির্মলা সীতারামন চিঠি দিয়ে জানিয়েছেন, তিনি শিগগিরই রাজ্যে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করে শ্রমিক স্বার্থে যৌথভাবে সমাধানের চেষ্টা করবেন৷‌ সি পি এম সাংসদ মহম্মদ সেলিম প্রশ্ন করেন, যে ‘আচ্ছে দিন’-এর কথা বলা হচ্ছিল সেটা কোথায়? চা-বাগানের শ্রমিকদের কবে ভাল দিন আসবে? এত গুরুত্বপূর্ণ একটি সমস্যা রাজ্যের ওপর ছেড়ে দেওয়া ঠিক হবে না৷‌ চা-শ্রমিকদের জন্য সরকার কী করতে চায় জানানো হোক৷‌ টি-বোর্ডের মাধ্যমে অথবা শ্রম মন্ত্রক শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রকের পক্ষে কোনও বিশেষ পদক্ষেপ নেওয়া হোক৷‌ মনে রাখতে হবে, অনাহারে থাকা এই সব চা-শ্রমিকের রক্ত জল করা পরিশ্রমের ফলেই দেশের কোষাগারে বিদেশি মুদ্রা আসে৷‌ মহিলা ও তফসিলি জাতি-উপজাতির শ্রমিকই বেশি৷‌ তাঁরাই সব থেকে বেশি বঞ্চিত৷‌ জবাবে মন্ত্রী বলেন, রাজ্যের ওপর সবটা ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে না৷‌ সরকারের সম্পূর্ণ সদিচ্ছা আছে৷‌ একটু সময়ের প্রয়োজন৷‌ কেন্দ্র সরকার কোনও নিয়ম করলে রাজ্য সরকারের মাধ্যমে তা কার্যকর হয়৷‌ যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোয় রাজ্য সরকারকে এড়িয়ে যাওয়ার উপায় নেই৷‌

No comments:

Post a Comment