Tuesday, August 5, 2014

কাওয়াখালির অনিচ্ছুক ৪০০ পরিবারকে জমি ফেরত দিচ্ছে রাজ্য সরকার

কাওয়াখালির অনিচ্ছুক ৪০০ পরিবারকে জমি ফেরত দিচ্ছে রাজ্য সরকার

আজকালের প্রতিবেদন: মামলায় হেরে যাওয়ার পরও শিলিগুড়ির কাওয়াখালি-পোড়াঝাড় প্রকল্পের অনিচ্ছুক ৪০০ পরিবারকে জমি ফেরত দিচ্ছে রাজ্য সরকার৷‌ উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তরের মন্ত্রী গৌতম দেব সোমবার মহাকরণে এ খবর জানিয়েছেন৷‌ তিনি সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, আইনজ্ঞদের পরামর্শ নিয়ে নিয়ম অনুসারে এই জমি ফেরত দেওয়া হচ্ছে৷‌ ইতিমধ্যে এই ৪০০ পরিবারের মধ্যে ৮০টি পরিবারের হাতে জমি তুলে দেওয়া হয়েছে৷‌ মন্ত্রীর বক্তব্য, মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির ইচ্ছা অনুসারে কোনও প্রকল্পের জন্য অনিচ্ছুক কৃষকদের জমি নেওয়া চলবে না৷‌ সরকারের এই নীতির ওপর ভিত্তি করে আইনের মধ্যে থেকে অনিচ্ছুকদের জমি ফেরত দিতে শুরু করেছে শিলিগুড়ি-জলপাইগুড়ি উন্নয়ন পর্ষদ৷‌ এ বিষয়ে রাজ্যের প্রাক্তন পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অশোক ভট্টাচার্য বলেন, ‘আমি বিষয়টি এখনও শুনিনি৷‌ তবে আমি এস জে ডি এ-র দায়িত্বে থাকাকালীন অনিচ্ছুকদের ৭০ একর জমিতে পুনর্বাসনের ব্যবস্হা করেছিলাম৷‌ এখন এরা বলছে জমি ফেরত দিয়ে দেবে৷‌ দেখা যাক কোন পদ্ধতিতে ওরা জমি ফেরত দেয়৷‌’ কাওয়াখালির এই অনিচ্ছুক পরিবারগুলি উচ্চতর আদালতে সরকারের বিরুদ্ধে মামলা করে হেরে গেছে৷‌ ফলে, সরকার চাইলে জমি ফেরত নাও দিতে পারত৷‌ কিন্তু স্বয়ংসম্পূর্ণ নগরায়নের জন্য ২০০৪ সালে অধিকৃত ৩০২ একর জমি থেকে অনিচ্ছুকদের ১১ একর জমি প্রকল্প থেকে বাদ দেওয়ার জন্য তৎকালীন বিরোধী দল তৃণমূল কংগ্রেস আন্দোলনে নেমেছিল৷‌ তারাই তৈরি করেছিল কৃষি জীবন জীবিকা রক্ষা কমিটি৷‌ ফলে, এই ১১ একর জমির মধ্যে ৬ একর জমি স্হানীয় হরিচাঁদ মার্কেটে ফেরত দেওয়ার পাশাপাশি বাকি জমি ৪০০ পরিবারকে ফেরত দেওয়া শুরু করেছে৷‌ পুজোর আগে সবাইকে আইনমাফিক জমি ফেরত দেওয়া যাবে বলে দাবি করেছেন গৌতম দেব৷‌ কিন্তু সরকার অধিকৃত জমি এভাবে ফেরত দেওয়া যায় কিনা তা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে৷‌ সিঙ্গুরে অনিচ্ছুক কৃষকদের জমি এখনও ফেরত দেওয়া যায়নি৷‌ তা নিয়ে মামলাও চলছে৷‌ জমি একবার অধিগ্রহণ করা হয়ে গেলে তা ফেরত দিতে গেলে হয় পাট্টা, নয়ত দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির ভিত্তিতে ফেরত দিতে হবে৷‌ সেক্ষেত্রে সম্পূর্ণ মালিকানা দেওয়া যায় না৷‌ এমনকী বিক্রির অধিকার থাকে না৷‌ এক্ষেত্রে আইনের মাধ্যমে কীভাবে জমি ফেরত দেওয়া হচ্ছে তা নিয়ে স্পষ্ট ধারণা দিতে রাজি হননি গৌতম দেব৷‌ এই ৩০২ একর জমিতে ২৪০ একর জমির ওপর নগরায়ন করার কথা বেঙ্গল ইউনিটেক সংস্হার৷‌ তারা ২০০৬ সালে তৎকালীন সরকার ৮৪ কোটি টাকা দিয়ে দিয়েছিল৷‌ কিন্তু এই সরকার ১১ একর জমি অনিচ্ছুকদের ফেরত দেওয়ার পাশাপাশি ৯০ একরের ওপর ফিল্মসিটি বানাতে চায়৷‌ ৪ একরের ওপর স্হায়ী মেলা প্রাঙ্গণ ‘বাংলার হাট’ করতে চায়৷‌ যেখানে ক্ষুদ্র কুটির শিল্পীরা স্হায়ীভাবে প্রদর্শনী ও বিক্রি করতে পারবে৷‌ এ ছাড়া শিক্ষা ও স্বাস্হ্য প্রকল্পের জন্য ইতিমধ্যে বেশকিছু একর জমি দিয়েছে শিলিগুড়ি-জলপাইগুড়ি উন্নয়ন পর্ষদ৷‌ তা ছাড়া জমি অধিগ্রহণের সময় যে ১৭০০ পরিবার উদ্বাস্তু হয়েছিল, তাদের পুনর্বাসন প্রকল্পে ৯৫ একর জমি বরাদ্দ করা হয়েছে৷‌ বাকি জমিতে নগরায়ন প্রকল্প কীভাবে করা যাবে তা নিয়ে আলোচনায় বসেছে শিলিগুড়ি-জলপাইগুড়ি উন্নয়ন পর্ষদ৷‌ আর এই পর্ষদের চেয়ারম্যান গৌতম দেব৷‌ এদিনও বেঙ্গল ইউনিটেকের সঙ্গে বৈঠকে বসেছিল পর্ষদ৷‌ এই বেসরকারি সংস্হার নগরায়নের জন্য ৯০ একর জমি দেওয়া যাবে না বলে খবর৷‌ সেক্ষেত্রে আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়া শ্রেণীর মানুষদের জন্য আবাসনের একাংশ সংরক্ষণ করে রাখতে হবে৷‌ পাশাপাশি কিছু শর্তও রাখতে হবে৷‌

No comments:

Post a Comment