Saturday, August 9, 2014

সিয়েরালিওনের হাসপাতালের ওয়ার্ডগুলো ফাঁকা হয়ে যাচ্ছে ইবোলা ভাইরাসের চেয়ে আক্রান্তদের নিয়েই এখন উদ্বেগ বাড়ছে

সিয়েরালিওনের হাসপাতালের ওয়ার্ডগুলো ফাঁকা হয়ে যাচ্ছে
ইবোলা ভাইরাসের চেয়ে আক্রান্তদের নিয়েই এখন উদ্বেগ বাড়ছে
পশ্চিম আফ্রিকায় সিয়েরালিওনে ইবোলায় আক্রান্ত অনেক মানুষের মৃত্যু হয়েছে। শহরটির একটি সরকারী হাসপাতালে ইবোলা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে অনেক রোগী, নার্স এবং স্বাস্থ্যকর্মী মারা যাচ্ছেন। এটি হচ্ছে বিশ্বের মারাত্মক ইবোলা মহামারি রোগের কেন্দ্রস্থল। এ রোগটিকে একটি মরণফাঁদ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ইন্টারন্যাশনাল নিউইয়র্ক টাইমস।
এ রোগ মোকাবেলার প্রধান হাসপাতালের ওয়ার্ডগুলো এখন খালি হয়ে যাচ্ছে। এ শহরটিতে ইবোলা ভাইরাসটি ধীর পদক্ষেপে হাঁটছে। এ রোগে প্রতিদিনই প্রাণহানি হচ্ছে। কিন্তু হাসপাতালে দীর্ঘদিন ধরে থাকা রোগীরা পালিয়ে যাচ্ছে। হাসপাতাল ভবনটি দিন দিন সঙ্কীর্ণ হয়ে যাচ্ছে। নীরবতা এবং প্রতিধ্বনিতে এখানকার আসনগুলোর আলো কমে আসছে। কিছুসংখ্যক মানুষ এ রোগের কোন সুযোগ নিতে এখানে আসছে। পশ্চিমাঞ্চলীয় এক হাসপাতাল প্রকৌশলী বলেছেন, ‘এ হাসপাতালের দেয়ালগুলো স্বর্শ কর না। তাহলে সম্পূর্ণভাবে এ রোগে আক্রান্ত হয়ে যাবে।’ প্রতি চার দিনে কিছু ইবোলা আক্রান্ত রোগী এখনও হাসপাতালে মারা যাচ্ছে। ফলে মানুষ হাসপাতালের বাইরে মাটিতে তাঁবুর মতো পৃথকীকরণ অস্থায়ী ওয়ার্ড করে থাকছে। কিন্তু শহরটিতে এবং পার্শ্ববর্তী গ্রামে মানুষ আগের মতোই মারা যাচ্ছে। বিস্তৃত এ রোগের ঝুঁকি দিন দিন বেড়েই চলেছে। এ রোগ প্রতিরোধ করার আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টাকে দিন দিন দুর্বল করে দিচ্ছে। সমাধির কাজে নিয়োজিত করা দলের ডেপুটি প্রধান এ্যালবার্ট জে মাটিয়া দীর্ঘদিন ইবোলা আক্রান্ত রোগীদের সমাধি করার পর ক্রোধান্বিত হয়ে বলেন, ‘মানুষ এখন এক-দুইজন করে মরছে না। এখন একদিনে পাঁচ-ছয়জন করে মানুষ মারা যাচ্ছে।’ মাটিয়া বিশেষভাবে বিরক্ত যে, বাইরের হাসপাতাল থেকে আসা অনেক মৃতদেহকে তাঁর দল সমাধিস্থ করেছে। এ ভাইরাস রোগীদের প্রচেষ্টাকেও ব্যর্থ করে দিচ্ছে এবং এ রোগে আক্রান্ত একজনের কাছ থেকে অন্যজনকেও নিবৃত করে দিচ্ছে। তিনি তার দুই সহকারীকে বলেন, এটি খুবই ভয়ানক এবং খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। এ রোগটি ইবোলা আক্রান্ত মানুষদের মৃত্যুর পথে এগিয়ে নিতে অবদান রাখছে।
আপনি হাসপাতালের ওয়ার্ডগুলোতে যান সেখানে কোন রোগী নেই। দেশটির বড় শহরগুলোর মধ্যে একটি কেনেমায় এই ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা অনেক। দেশটির এই অঞ্চলটিতে যোয়ানে এ রোগটি অবাধভাবে প্রবেশ করছে। মার্চে জিনিয়ায় সীমান্ত পার হয়ে এ রোগটির প্রাদুর্ভাব ঘটে। তার পর থেকে সিয়েরালিওনে এ পর্যন্ত ৯৩০ জনের বেশি মানুষ মারা গিয়েছে। এর পর অন্য যে কোন দেশের চেয়ে সিয়েরালিওনে এ রোগে আক্রান্ত হচ্ছে বেশি।

No comments:

Post a Comment