আজকালের প্রতিবেদন: ফের রতন টাটার সমালোচনায় সরব হলেন রাজ্যের তিন মন্ত্রী পার্থ চ্যাটার্জি, ফিরহাদ হাকিম ও সৌমেন্দ্রনাথ মহাপাত্র৷ তবে টাটার মম্তব্যের সঙ্গে সহমত পোষণ করেছেন বি জে পি-র রাজ্য সভাপতি রাহুল সিন্হা৷ রাজ্যের শিল্পায়ন নিয়ে কটাক্ষ করেছিলেন টাটা সংস্হার এমিরেটাস চেয়ারম্যান৷ এর জন্য তাঁর তীব্র সমালোচনা করেন রাজ্যের অর্থমন্ত্রী ড. অমিত মিত্র ও পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম৷ রতন টাটার মতিভ্রম হয়েছে বলে মম্তব্য করেন অমিতবাবু৷ ফিরহাদ হাকিম বলেন রতন টাটার মাথা খারাপ হয়ে গেছে৷ শুক্রবারও সমালোচনায় সরব রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চ্যাটার্জি এবং পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম৷ এদিন পার্থবাবু বলেন, শিল্প শহরে হয় না৷ রতন টাটা যে পথ দিয়ে এসেছেন সেখানে রাস্তাঘাটের কেমন উন্নয়ন হয়েছে তা তিনি নিশ্চয়ই দেখতে পেয়েছেন৷ সে’র ফাইভ দিয়ে গেলে তথ্যপ্রযুক্তি শিল্প কেমন হয়েছে তা তিনি দেখতে পেতেন৷ যদি শহরের বাইরে যেতেন তা হলে শিল্পেরও খোঁজ পেতেন৷ তাঁকে যাঁরা তথ্য দিচ্ছেন তাঁরা আসলে ভুল তথ্য সরবরাহ করছেন৷ দু’বছর পর যখন তিনি এলেন তখন সিঙ্গুরের কৃষকদের মুখে হাসি ফোটাতে উদ্যোগ নিতে পারতেন৷ অনিচ্ছুক কৃষকদের জমি ফেরত দিয়ে দিন না৷ তা তিনি করেননি৷ রতন টাটার মম্তব্যে তিনি ব্যথিত বলে জানিয়েছেন পার্থবাবু৷ এদিকে এদিন মহাকরণে পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম ফের রতন টাটার সমালোচনা করেন৷ বলেন, শিল্পপতি রতন টাটা শিল্পের ব্যাপারে যদি কোনও উপদেশ দিতে চান তা হলে আমাদের কোনও আপত্তি নেই৷ তাঁকে আমরা সম্মান জানাই৷ তিনি রাজনৈতিক ব্যক্তি নন৷ শিল্পের মানুষ৷ তিনি যদি রাজনৈতিক ব্যক্তির মতো কথা বলেন তা হলে আমরা রাজনৈতিক ভাবেই সেটার মোকাবিলা করব৷ সিঙ্গুরে আমাদের লড়াই টাটার বিরুদ্ধে ছিল না৷ তৎকালীন রাজ্য সরকার যে পদ্ধতিতে অনিচ্ছুক চাষীদের কাছ থেকে জোর করে জমি নিয়ে নিচ্ছিল আমরা তার বিরুদ্ধেই ছিলাম৷ অনিচ্ছুক চাষীদের স্বার্থই আমরা রক্ষা করে এসেছি৷ সানন্দ প্রসঙ্গে জানতে চাওয়া হলে মন্ত্রীর মম্তব্য, গুজরাটে কৃষিজমির পরিমাণ খুবই কম৷ আমাদের রাজ্যে সেই তুলনায় কৃষিজমির পরিমাণ বেশি৷ রাজ্যের জলসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রী সৌমেন্দ্রনাথ মহাপাত্র বলেন, রতন টাটা এখন ব্যবসায় নেই৷ প্রোমোটারি করতে হয়ত ইচ্ছে হয়েছে, তাই বড় বড় বাড়ি দেখতে পেয়েছেন৷ তিনি যে পথে গেছেন, সেখানে তো শিল্প হওয়ার কথা ছিল না৷ আমি চাই ক্ষিপ্রগতির রতন টাটাই ফিরে আসুন৷ এদিন রাজ্য বি জে পি-র সভাপতি রাহুল সিন্হা রতন টাটার বক্তব্য সমর্থন করে বলেন, রাজ্যে শিল্প কিছুই হচ্ছে না৷ পরিকাঠামো নেই৷ রাজ্যের দুই মন্ত্রী রতন টাটাকে যেভাবে চ্যালেঞ্জ করছেন তা খুবই হাস্যকর এবং দুর্ভাগ্যজনক৷ রতন টাটা বাংলার মানুষের মনের কথাই বলেছেন৷ অবশ্য রাজ্যে তৃণমূল সরকার তিনটি শিল্প গড়ে তুলেছে তা হলক্ট প্রোমোটারি, তোলাবাজি এবং সিন্ডিকেট৷ রাজ্যের অর্থমন্ত্রী যদি শিল্পের পরিকাঠামো ব্যবস্হার যদি উন্নতি করতে পারতেন তা হলে টাটার সমালোচনার জবাব দেওয়া যেত৷
|
No comments:
Post a Comment