অমিতকুমার ঘোষ: শাম্তিপুর, ৮ আগস্ট– রতন টাটা রাজ্যের শিল্প-প্রসঙ্গ পেড়ে ইতিমধ্যে ঝড় তুলেছেন৷ আর শুক্রবার তার জবাব দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি নিজেই৷ আজ এখানে মুখ্যমন্ত্রী বললেন, ‘যে যা-ই বলুক, রাজ্যে শিল্প হচ্ছেই৷’ উল্লেখ্য, বুধবারই রতন টাটা রাজারহাট হয়ে আসার পথে কোনও শিল্পায়ন তাঁর চোখে পড়েনি বলে মম্তব্য করেছিলেন৷ তার পরেই তাঁর সমালোচনায় মুখর হন অমিত মিত্র, পার্থ চ্যাটার্জি, ফিরহাদ হাকিমরা৷ এদিন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি রাজ্যের শিল্প নিয়ে ওই মম্তব্য করে রতন টাটার পর্যবেক্ষণকে পুরোপুরি উড়িয়েই দিলেন৷ শিল্প-পরিস্হিতি যে অনুকূল তা বোঝাতে মমতা বললেন, ‘রাজ্যের প্রায় আট থেকে নয় লক্ষ বেকার যুবক-যুবতীকে প্রশিক্ষণ দিয়ে তাঁদের কর্মসংস্হানের ব্যবস্হাও করা হবে৷’ শাম্তিপুরে এক সরকারি অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা যুবশ্রী প্রকল্পে রাজ্যের এক লক্ষ বেকারকে মাসে দেড় হাজার টাকা করে ভাতা দিচ্ছি৷ এবার রাজ্যের আট থেকে নয় লক্ষ বেকারকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে৷ তার পর তাঁদের বেসরকারি সংস্হা-সহ রাজ্যের বিভিন্ন সংস্হায় নিয়োগ করা হবে৷ রাজ্যে আট-নয় লক্ষ নতুন কর্মসংস্হান হবে৷’ মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমরা ঢেলে কাজ করছি৷ একবার এসে শিলান্যাস করি৷ পরের বার এসে সেই প্রকল্পের উদ্বোধন করি৷ এটাই আমার টেকনিক৷ আগে শুধু শিলান্যাস হত৷ কাজ হত না৷’ শাম্তিপুরের অনুষ্ঠানমঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রী এদিন নদীয়ার ১৬৫টি প্রকল্পের ও মুর্শিদাবাদের ১১১টি প্রকল্পের উদ্বোধন করেন৷ এর মধ্যে আছে ফুলিয়ার ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ হ্যান্ডলুম টেকনোলজি৷ মুখ্যমন্ত্রী এদিন দুপুরে প্রথমে কৃষ্ণনগর রবীন্দ্রভবনে নদীয়া ও মুর্শিদাবাদ জেলার প্রশাসনিক বৈঠক করেন৷ উপস্হিত ছিলেন রাজ্যের মন্ত্রী সুব্রত মুখার্জি, উজ্জ্বল বিশ্বাস, পুণ্ডরীকাক্ষ সাহা, সাংসদ মুকুল রায়-সহ দুই জেলা প্রশাসনের আধিকারিকরা৷ এর পর মুখ্যমন্ত্রী শাম্তিপুর স্টেডিয়ামে বিভিন্ন প্রকল্পের উদ্বোধন ও শিলান্যাস করেন এবং পরিষেবা প্রদান করে বক্তব্য পেশ করেন৷ মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি বলেন, ‘একশো দিনের কাজ প্রকল্পে কাজ পাওয়া মানুষের সাংবিধানিক অধিকার৷ অথচ সারা দেশের সব ব্লকে এখনও এই প্রকল্প চালু করা হয়নি৷ কেন্দ্রীয় সরকার এই প্রকল্পকে সব ব্লকে সম্প্রসারিত করার বদলে সঙ্কুচিত করার চেষ্টা করছে৷ আমাদের রাজ্যে ৩৪১টি গ্রামীণ ব্লক আছে৷ তার মধ্যে মাত্র ১২৪টি ব্লকে এই প্রকল্প চালু করা হয়েছে৷ বাকি ব্লকগুলিতেও অনেক গরিব মানুষ আছেন৷ সেই সব ব্লকের মানুষরা কি কাঁচকলা খাবেন, না আঙুল চুষবেন?’ বাইশে শ্রাবণ রবীন্দ্রনাথের মৃত্যুদিনে সংস্কারের পর নবকলেবর কৃষ্ণনগর রবীন্দ্রভবনের উদ্বোধন করেন৷ সেখানেই প্রশাসনিক বৈঠক হয়৷ পরে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা ৭০টি প্রশাসনিক বৈঠক করেছি৷ আমরা প্রশাসনিক ক্যালেন্ডার তৈরি করেছি৷ সেইমতো কাজ করি৷ এ বছর মালদা, উত্তর দিনাজপুর ও দক্ষিণ দিনাজপুর ছাড়া সব জেলার প্রশাসনিক বৈঠক হয়ে গেছে৷ আগামী ১২ তারিখ ওই তিন জেলার বৈঠক হয়ে গেলে গোটা রাজ্যেরই সব জেলার এ বছরের বৈঠক এই আগস্ট মাসেই শেষ হয়ে যাবে৷ ’ কন্যাশ্রী প্রকল্প নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘এই প্রকল্প সারা পৃথিবীর কাছেই দৃষ্টাম্ত৷ এই প্রকল্পে ১৩ লক্ষ কন্যার নাম নথিভুক্ত করা হয়ে গেছে৷ ১৪ আগস্ট রাজ্যের সব ব্লকে কন্যাশ্রী দিবস পালন করা হবে৷ ওই দিন আড়াই লক্ষ নাম এই প্রকল্পে অনলাইনে নথিভুক্ত করা হবে৷ এতদিন অন্যদের জন্যে দিন থাকলেও কন্যাদের জন্যে কোনও দিন ছিল না৷ এবার তাদের জন্যেও দিন হল৷’ মুখ্যমন্ত্রী বিভিন্ন প্রকল্প ঘোষণা করেন৷ বছরে ১ থেকে ১৮ বছর বয়সী তিন হাজার ছেলেমেয়ের হৃদ্যন্ত্রের অস্ত্রোপচার বিনা খরচায় করাবে রাজ্য সরকার৷ এই প্রকল্পের নাম দেওয়া হয়েছে ‘মধুর স্নেহ’৷ রাজ্যে ৩৪টি সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল তৈরি হবে৷ মুখ্যমন্ত্রী এদিন ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ হ্যান্ডলুম টেকনোলজির উদ্বোধন করেন শাম্তিপুরের মঞ্চ থেকেই৷
http://www.aajkaal.net/09-08-2014/news/226481/
|
No comments:
Post a Comment