বিশ্ব আদিবাসী দিবস আজ
স্টাফ রিপোর্টার ॥ বিশ্ব আদিবাসী দিবস পালিত হচ্ছে আজ শনিবার। সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীতে আদিবাসী জনগণকে ইতোমধ্যে ‘উপজাতি, নৃ-গোষ্ঠী, ক্ষুদ্র জাতিসত্তা বা সম্প্রদায়’ হিসেবে অভিহিত করেছে সরকার। সরকারী ঘোষণা প্রত্যাখ্যান করে লড়াই সংগ্রাম চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন আদিবাসী নেতৃবৃন্দ। তাঁরা অভিযোগ করেন, সরকার আরেকটি পদক্ষেপ নিয়ে আদিবাসীদের উত্তেজিত করে তুলেছে। গত দুই বছর আগে ৯ আগস্ট বিশ্ব আদিবাসী দিবস পালনের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে সরকার। কিন্তু সরকারী নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে দিবসটি পালন করে আদিবাসীরা। এ বছর নিষেধাজ্ঞা না দিলেও স্বীকৃতি তো দূরের কথা, রাষ্ট্রীয়ভাবে পালনের উদ্যোগ নিচ্ছে না সরকার। তবে দিবসটি উপলক্ষে নানা কর্মসূচী হাতে নিয়েছে বিভিন্ন আদিবাসী সংগঠন। এবার দিবসটির মূল প্রতিপাদ্য বিষয় হচ্ছে ‘আদিবাসী অধিকার প্রতিষ্ঠায় মুক্তিকামী জনতার সেতুবন্ধন। আজ শনিবার সকাল ১০টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অনুষ্ঠিত হবে সমাবেশ, র্যালি ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
আদিবাসী নেতৃবৃন্দ জানান, বাংলাদেশে ৪৫টি জাতিসত্তার প্রায় ৩০ লাখ আদিবাসী রয়েছে। আদিবাসী হিসেবে সাংবিধানিক স্বীকৃতি দিতে দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানিয়ে আসছে পাহাড়ী ও সমতল অঞ্চলের বিভিন্ন আদিবাসী সংগঠন। দাবি আদায়ের লক্ষ্যে একের পর এক কর্মসূচী পালন করে যাচ্ছে তারা। সংবিধান সংশোধনের লক্ষ্যে গঠিত বিশেষ কমিটির কাছে তারা নিজেদের দাবি-দাওয়া পেশ করেন। স্বীকৃতি পাওয়ার আশায় তারা বুক বেঁধে ছিলেন। কিন্তু আদিবাসীদের দাবি এখন পর্যন্ত এড়িয়ে চলেছে সরকার।
জাতিসংঘ ঘোষিত ৯ আগস্ট ‘আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস’ রাষ্ট্রীয়ভাবে পালন করার দাবি তুলেছেন আদিবাসী ফোরামের সভাপতি জ্যোতিরিন্দ্র্র বোধিপ্রিয় লারমা (সন্তু লারমা)। তিনি বলেন, সংবিধানে আদিবাসীদের উপজাতি, ক্ষুদ্র জাতিসত্তা, নৃ-গোষ্ঠী ও সম্প্রদায় হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। আদিবাসী জনগণ তা প্রত্যাখ্যান করেছে। সংবিধান সংশোধন করে আদিবাসীদের সাংবিধানিক স্বীকৃতি দিতে হবে। দাবি আদায়ে আন্দোলন-সংগ্রামের বিকল্প নেই। বাংলাদেশের আদিবাসী জনগণ নানামুখী শোষণ, বঞ্চনা ও বৈষম্যের শিকার হয়ে চলেছে। অব্যাহত শোষণ-বঞ্চনার কারণে তাদের আত্ম-পরিচয়, আত্ম নিয়ন্ত্রণাধিকার, ভাষা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য হারাতে বসেছে। জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্র হওয়া সত্ত্বেও সরকার কখনও রাষ্ট্রীভাবে আদিবাসী দিবস উদযাপন করেনি। ১২ দফা দাবি উত্থাপন করে সন্তু লারমা বলেন, আদিবাসী জাতিসমূহের অধিকার প্রতিষ্ঠায় মুক্তিকামী জনতার সেতুবন্ধর রচনায় রাষ্ট্র ও সংশ্লিষ্ট সকলকে এগিয়ে আসতে হবে। পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি যথাযথ বাস্তবায়ন করতে হবে এবং এ লক্ষ্যে সময়সূচী ভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা করতে হবে। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ২০০৭ সালে গৃহীত আদিবাসী অধিকার বিষয়ক ঘোষণাপত্র অনুসমর্থন ও বাস্তবায়ন করতে হবে। স্বীকৃতি প্রদান করতে হবে আদিবাসীদের ঐতিহ্যগত ও প্রথাগত ভূমি অধিকারের। আদিবাসী অঞ্চলে সরকারী ও বেসরকারী কোন উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণের পূর্বে আদিবাসীদের স্বাধীন মতামত গ্রহণ এবং প্রকল্পে আদিবাসীদের অর্থবহ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। সমতল অঞ্চলের বেদখল হওয়া জায়গা-জমি পুনরুদ্ধার ও ভূমি সমস্যা সমাধানের জন্য ভূমি কমিশন গঠন করতে হবে। আদিবাসী অধিকার আইন প্রণয়ন এবং আদিবাসী অধিকার বিষয়ক জাতীয় কমিশন গঠন করতে হবে।
ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জীব দ্রং বলেন, আদিবাসীদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় দেশের প্রগতিশীল, গণতান্ত্রিক ও অসাম্প্রদায়িক ব্যক্তি, সংগঠন ও গোষ্ঠীকে আরও বেশি ঐক্যবদ্ধ ও সংহত হতে হবে। রাষ্ট্রকে প্রকৃত অর্থেই গণতান্ত্রিক ও আদিবাসী জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় আন্তরিক হতে হবে। আদিবাসীদের সঙ্গে দূরত্ব কমানোর ক্ষেত্রে রাষ্ট্রকে সক্রিয় ও সংবেদনশীল হতে হবে মনে করেন সঞ্জীব্র দং।
আদিবাসী শব্দ ব্যবহার না করার অনুরোধ ॥ বাসস জানায়, বাংলাদেশ সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী অনুযায়ী বর্তমানে দেশে আদিবাসীদের কোন অস্তিত্ব না থাকলেও বিভিন্ন সময় বিশেষ করে জাতিসংঘ ঘোষিত আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবসে ‘আদিবাসী’ শব্দটি বার বার ব্যবহার হয়ে থাকে।
পঞ্চদশ সংশোধনীতে বাংলাদেশে বসবাসরত ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীকে উপজাতি বা ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে। এক তথ্য বিবরণীতে শুক্রবার বলা হয়, আজ আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস উপলক্ষে বিভিন্ন অনুষ্ঠান, আলোচনা ও টকশোতে ‘আদিবাসী’ শব্দটির ব্যবহার পরিহার করার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। এ সব আলোচনা ও টকশোতে অংশগ্রহণকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, বিশেষজ্ঞ এবং সংবাদপত্রের সম্পাদকসহ সুশীল সমাজের প্রতি বাংলাদেশের ক্ষেত্রে আদিবাসী শব্দটির ব্যবহার পরিহারের জন্য পূর্বেই সচেতন থাকতে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
আদিবাসী নেতৃবৃন্দ জানান, বাংলাদেশে ৪৫টি জাতিসত্তার প্রায় ৩০ লাখ আদিবাসী রয়েছে। আদিবাসী হিসেবে সাংবিধানিক স্বীকৃতি দিতে দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানিয়ে আসছে পাহাড়ী ও সমতল অঞ্চলের বিভিন্ন আদিবাসী সংগঠন। দাবি আদায়ের লক্ষ্যে একের পর এক কর্মসূচী পালন করে যাচ্ছে তারা। সংবিধান সংশোধনের লক্ষ্যে গঠিত বিশেষ কমিটির কাছে তারা নিজেদের দাবি-দাওয়া পেশ করেন। স্বীকৃতি পাওয়ার আশায় তারা বুক বেঁধে ছিলেন। কিন্তু আদিবাসীদের দাবি এখন পর্যন্ত এড়িয়ে চলেছে সরকার।
জাতিসংঘ ঘোষিত ৯ আগস্ট ‘আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস’ রাষ্ট্রীয়ভাবে পালন করার দাবি তুলেছেন আদিবাসী ফোরামের সভাপতি জ্যোতিরিন্দ্র্র বোধিপ্রিয় লারমা (সন্তু লারমা)। তিনি বলেন, সংবিধানে আদিবাসীদের উপজাতি, ক্ষুদ্র জাতিসত্তা, নৃ-গোষ্ঠী ও সম্প্রদায় হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। আদিবাসী জনগণ তা প্রত্যাখ্যান করেছে। সংবিধান সংশোধন করে আদিবাসীদের সাংবিধানিক স্বীকৃতি দিতে হবে। দাবি আদায়ে আন্দোলন-সংগ্রামের বিকল্প নেই। বাংলাদেশের আদিবাসী জনগণ নানামুখী শোষণ, বঞ্চনা ও বৈষম্যের শিকার হয়ে চলেছে। অব্যাহত শোষণ-বঞ্চনার কারণে তাদের আত্ম-পরিচয়, আত্ম নিয়ন্ত্রণাধিকার, ভাষা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য হারাতে বসেছে। জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্র হওয়া সত্ত্বেও সরকার কখনও রাষ্ট্রীভাবে আদিবাসী দিবস উদযাপন করেনি। ১২ দফা দাবি উত্থাপন করে সন্তু লারমা বলেন, আদিবাসী জাতিসমূহের অধিকার প্রতিষ্ঠায় মুক্তিকামী জনতার সেতুবন্ধর রচনায় রাষ্ট্র ও সংশ্লিষ্ট সকলকে এগিয়ে আসতে হবে। পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি যথাযথ বাস্তবায়ন করতে হবে এবং এ লক্ষ্যে সময়সূচী ভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা করতে হবে। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ২০০৭ সালে গৃহীত আদিবাসী অধিকার বিষয়ক ঘোষণাপত্র অনুসমর্থন ও বাস্তবায়ন করতে হবে। স্বীকৃতি প্রদান করতে হবে আদিবাসীদের ঐতিহ্যগত ও প্রথাগত ভূমি অধিকারের। আদিবাসী অঞ্চলে সরকারী ও বেসরকারী কোন উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণের পূর্বে আদিবাসীদের স্বাধীন মতামত গ্রহণ এবং প্রকল্পে আদিবাসীদের অর্থবহ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। সমতল অঞ্চলের বেদখল হওয়া জায়গা-জমি পুনরুদ্ধার ও ভূমি সমস্যা সমাধানের জন্য ভূমি কমিশন গঠন করতে হবে। আদিবাসী অধিকার আইন প্রণয়ন এবং আদিবাসী অধিকার বিষয়ক জাতীয় কমিশন গঠন করতে হবে।
ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জীব দ্রং বলেন, আদিবাসীদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় দেশের প্রগতিশীল, গণতান্ত্রিক ও অসাম্প্রদায়িক ব্যক্তি, সংগঠন ও গোষ্ঠীকে আরও বেশি ঐক্যবদ্ধ ও সংহত হতে হবে। রাষ্ট্রকে প্রকৃত অর্থেই গণতান্ত্রিক ও আদিবাসী জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় আন্তরিক হতে হবে। আদিবাসীদের সঙ্গে দূরত্ব কমানোর ক্ষেত্রে রাষ্ট্রকে সক্রিয় ও সংবেদনশীল হতে হবে মনে করেন সঞ্জীব্র দং।
আদিবাসী শব্দ ব্যবহার না করার অনুরোধ ॥ বাসস জানায়, বাংলাদেশ সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী অনুযায়ী বর্তমানে দেশে আদিবাসীদের কোন অস্তিত্ব না থাকলেও বিভিন্ন সময় বিশেষ করে জাতিসংঘ ঘোষিত আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবসে ‘আদিবাসী’ শব্দটি বার বার ব্যবহার হয়ে থাকে।
পঞ্চদশ সংশোধনীতে বাংলাদেশে বসবাসরত ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীকে উপজাতি বা ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে। এক তথ্য বিবরণীতে শুক্রবার বলা হয়, আজ আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস উপলক্ষে বিভিন্ন অনুষ্ঠান, আলোচনা ও টকশোতে ‘আদিবাসী’ শব্দটির ব্যবহার পরিহার করার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। এ সব আলোচনা ও টকশোতে অংশগ্রহণকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, বিশেষজ্ঞ এবং সংবাদপত্রের সম্পাদকসহ সুশীল সমাজের প্রতি বাংলাদেশের ক্ষেত্রে আদিবাসী শব্দটির ব্যবহার পরিহারের জন্য পূর্বেই সচেতন থাকতে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
No comments:
Post a Comment