আর নয় হিরোশিমা, আর নয় নাগাসাকি, নয় কোন গাজা
হিরোশিমা দিবস নিয়ে আলোকচিত্র প্রদর্শনী
মোরসালিন মিজান ॥ শিশুরা ফুলের মতো। বাগানে উড়ে বেড়ানো পাখির মতো। অথচ এই ফুল, পাখিদের কি নির্মমভাবে হত্যা করা হচ্ছে! প্রতিদিন বুলেটবিদ্ধ হচ্ছে শিশু। তাদের তুলতুলে শরীর রক্তে ভেসে যাচ্ছে। হাসপাতালে শুয়ে কাতরাচ্ছে ফুটফুটে শিশুমুখ। অসহায় পিতা-মাতার কান্না প্রিয় সন্তানকে বাঁচাতে পারছে না। বলাবাহুল্য, এটি গাজার চিত্র। ইসরাইলী বর্বর বাহিনীর আক্রমণে ছোট্ট ভূখণ্ডটি মৃত্যুপুরীতে পরিণত হয়েছে!
এইসব মৃত্যু, এইসব ধ্বংসের মাঝেই বুধবার ঢাকায় পালিত হয় হিরোশিমা দিবস। ১৯৪৫ সালের ৬ আগস্ট জাপানের এই শহরে আণবিক বোমার বিস্ফোরণ ঘটায় মার্কিনীরা। একই রকম বোমায় ভস্মে পরিণত হয় নাগাসাকি শহর। দুটো বিস্ফোরণে অসংখ্য মানুষ প্রাণ হারায়। করুণ মৃত্যুর শিকার হয় শিশুরা। হিরোশিমা দিবসে তাই যুদ্ধের বিপক্ষে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেন মানবিক গুণসম্পন্ন মানুষ। যুদ্ধ যুদ্ধ খেলার নামে শিশুহত্যা বন্ধের দাবি জানায়। এবার সে দাবি ছিল আরও বেশি জোরালো। হিরোশিমা নাগাসাকির পাশাপাশি গাজার চিত্র তুলে ধরা হয় এদিন। দিবসটি উপলক্ষে শিল্পকলা একাডেমির পরীক্ষণ থিয়েটার হলে বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে স্বপ্নদল। নাটক, পোস্টার ও আলোকচিত্রের মাধ্যমে তাঁরা আওয়াজ তোলেন- ‘আর নয় হিরোশিমা, আর নয় নাগাসাকি, নয় কোন গাজা।’
দিবসটি উপলক্ষে পরীক্ষণ থিয়েটার হলের লবির চার দেয়ালে দুর্লভ পোস্টার সেঁটে দেয়া হয়। জাপানের হিরোশিমা পিস্ মেমোরিয়াল মিউজিয়াম প্রকাশিত পোস্টারে হিরোশিমা ও নাগাসাকির ধ্বংসযজ্ঞ। সাদা কালো আলোকচিত্র দেখেও গা শিউরে ওঠে। মানুষ, পশুপাখি, ভবন, বৃক্ষ- কোন কিছুই তা-ব থেকে রক্ষা পায়নি। লাশগুলো আগুনে পোড়া। এত বিকৃত যে, দেখে মনে হয় না মানুষের শরীর। কোন কোন ছবিতে অর্ধমৃত মানুষ হাসপাতালে তীব্র যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছে। অধিকাংশ ভবন মাটির সঙ্গে মিশে গেছে। ভয়াল দিনের স্মৃতি হয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায় একটি ভবনকে।
আয়োজকরা পাশাপাশি দেখান গাজার চিত্রটি। এ চিত্র ২০১৪ সালের। অথচ যেন এক এবং অভিন্ন। এখানেও নির্মম হত্যাকাণ্ড। এখানেও শিশু হত্যা। প্রদর্শনী ঘুরে দেখতে দেখতে মন সত্যি ভারাক্রান্ত হয়ে যায়। প্রজেক্টরের মাধ্যমেও যুদ্ধের ভয়াবহতা তুলে ধরা হয়। সন্ধ্যায় হিরোশিমা নাগাসাকি ও গাজায় নিহত শিশুদের স্মরণে প্রদীপ প্রজ্বলন করা হয়। এতে অংশ নেয় একদল শিশু। যুদ্ধের ভয়াবহতা থেকে শিশুদের মুক্তি দেয়ার দাবি জানায় তারা।
এদিন যুদ্ধযন্ত্রণার প্রতীক জাপানী শিশু সাদাকো সাসাকি স্মরণে সারস পাখি তৈরি করা হয়। আণবিক বোমার তেজস্ক্রিয়ায় আক্রান্ত হয় ২ বছরের শিশু সাদাকো সাসাকি। ১০ বছর শরীরে তেজস্ক্রিয়ার ক্ষত বহন করে ১২ বছর বয়সে ধরণী ত্যাগ করে শিশুটি। মৃত্যুর আগে জাপানী রূপকথা অনুযায়ী, তেজস্ক্রিয়ার ক্ষত থেকে মুক্তি পেতে ১ হাজার কাগজের সারস পাখি তৈরির উদ্যোগ নেয় সাদাকো। কিন্তু ৬৪৪টি সারস তৈরির পর মৃত্যু হয় তার। সেই থেকে জাপানী শিশুরা প্রতিবছর হিরোশিমা দিবসে সাদাকোকে স্মরণ করে বিশেষ এ আয়োজনের মাধ্যমে। এরই ধারাবাহিকতায় কাগজ দিয়ে সারস পাখি তৈরি করেন আয়োজকরা।
হিরোশিমা দিবসের আলোচনায় অংশ নেন শিল্পকলা একাডেমির সচিব জাহাঙ্গীর হোসেন চৌধুরী, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জেটের সহ-সভাপতি গোলাম কুদ্দুছ, জাপান ইউনিভার্সিটি এ্যালামনাই এ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশ-এর সভাপতি অধ্যাপক ড. মোঃ খোরশেদ আলম, জাপান দূতাবাসের গণসংযোগ ও সাংস্কৃতিক বিভাগের প্রধান রিওজি সুগে, নাট্যজন মাসুম রেজা, গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক আকতারুজ্জামান, জাপান-বাংলা পিস ফাউন্ডেশনের সভাপতি হুমায়ুন কবীর প্রমুখ। স্বাগত বক্তব্য রাখেন স্বপ্নদলের প্রধান সম্পাদক জাহিদ রিপন।
সবশেষে ছিল যুদ্ধবিরোধী নাটকের মঞ্চায়ন। এদিন ‘ত্রিংশ শতাব্দী’ প্রযোজনার ৬৫তম মঞ্চায়ন করে স্বপ্নদল। বাদল সরকারের মূল রচনা অবলম্বনে রূপান্তর ও নির্দেশনা দিয়েছেন জাহিদ রিপন। জাপানের হিরোশিমা ও নাগাসাকি শহরে আণবিক বোমা বিস্ফোরণের যে ভয়াবহ পরিণতি নাট্যভাষায় সেটি বলার চেষ্টা করেছেন অভিনেতা-অভিনেত্রীরা। প্রসঙ্গ হয়ে এসেছে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধও। মানবসৃষ্ট সভ্যতা ধ্বংসকারী যুদ্ধ-গণহত্যা-অনাচারের বিপরীতে মানুষ হিসেবে বর্তমান কর্তব্য অনুধাবন এবং এ ক্ষেত্রে দর্শককে সিদ্ধান্ত গ্রহণের মুখোমুখি স্থাপনই ‘ত্রিংশ শতাব্দী’ প্রযোজনার অভীষ্ট। নাটকে অভিনয় করেন মিটুল চৌধুরী, সোনালী রহমান জুলি, আসিফ ইসতিয়ার, ফজলে রাব্বী সুকর্ন, ফারজানা চৌধুরী মিতা, হাসান রেজাউল, শিশির সিকদার, রাকিব হোসেন, আমজাদ শরীফ, আফরিন অনু, সামাদ ভূঞা, আল-আমিন, জিয়াউল হাসান, শাখাওয়াত শ্যামল, এস এম তারেক ও জাহিদ রিপন।
এইসব মৃত্যু, এইসব ধ্বংসের মাঝেই বুধবার ঢাকায় পালিত হয় হিরোশিমা দিবস। ১৯৪৫ সালের ৬ আগস্ট জাপানের এই শহরে আণবিক বোমার বিস্ফোরণ ঘটায় মার্কিনীরা। একই রকম বোমায় ভস্মে পরিণত হয় নাগাসাকি শহর। দুটো বিস্ফোরণে অসংখ্য মানুষ প্রাণ হারায়। করুণ মৃত্যুর শিকার হয় শিশুরা। হিরোশিমা দিবসে তাই যুদ্ধের বিপক্ষে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেন মানবিক গুণসম্পন্ন মানুষ। যুদ্ধ যুদ্ধ খেলার নামে শিশুহত্যা বন্ধের দাবি জানায়। এবার সে দাবি ছিল আরও বেশি জোরালো। হিরোশিমা নাগাসাকির পাশাপাশি গাজার চিত্র তুলে ধরা হয় এদিন। দিবসটি উপলক্ষে শিল্পকলা একাডেমির পরীক্ষণ থিয়েটার হলে বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে স্বপ্নদল। নাটক, পোস্টার ও আলোকচিত্রের মাধ্যমে তাঁরা আওয়াজ তোলেন- ‘আর নয় হিরোশিমা, আর নয় নাগাসাকি, নয় কোন গাজা।’
দিবসটি উপলক্ষে পরীক্ষণ থিয়েটার হলের লবির চার দেয়ালে দুর্লভ পোস্টার সেঁটে দেয়া হয়। জাপানের হিরোশিমা পিস্ মেমোরিয়াল মিউজিয়াম প্রকাশিত পোস্টারে হিরোশিমা ও নাগাসাকির ধ্বংসযজ্ঞ। সাদা কালো আলোকচিত্র দেখেও গা শিউরে ওঠে। মানুষ, পশুপাখি, ভবন, বৃক্ষ- কোন কিছুই তা-ব থেকে রক্ষা পায়নি। লাশগুলো আগুনে পোড়া। এত বিকৃত যে, দেখে মনে হয় না মানুষের শরীর। কোন কোন ছবিতে অর্ধমৃত মানুষ হাসপাতালে তীব্র যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছে। অধিকাংশ ভবন মাটির সঙ্গে মিশে গেছে। ভয়াল দিনের স্মৃতি হয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায় একটি ভবনকে।
আয়োজকরা পাশাপাশি দেখান গাজার চিত্রটি। এ চিত্র ২০১৪ সালের। অথচ যেন এক এবং অভিন্ন। এখানেও নির্মম হত্যাকাণ্ড। এখানেও শিশু হত্যা। প্রদর্শনী ঘুরে দেখতে দেখতে মন সত্যি ভারাক্রান্ত হয়ে যায়। প্রজেক্টরের মাধ্যমেও যুদ্ধের ভয়াবহতা তুলে ধরা হয়। সন্ধ্যায় হিরোশিমা নাগাসাকি ও গাজায় নিহত শিশুদের স্মরণে প্রদীপ প্রজ্বলন করা হয়। এতে অংশ নেয় একদল শিশু। যুদ্ধের ভয়াবহতা থেকে শিশুদের মুক্তি দেয়ার দাবি জানায় তারা।
এদিন যুদ্ধযন্ত্রণার প্রতীক জাপানী শিশু সাদাকো সাসাকি স্মরণে সারস পাখি তৈরি করা হয়। আণবিক বোমার তেজস্ক্রিয়ায় আক্রান্ত হয় ২ বছরের শিশু সাদাকো সাসাকি। ১০ বছর শরীরে তেজস্ক্রিয়ার ক্ষত বহন করে ১২ বছর বয়সে ধরণী ত্যাগ করে শিশুটি। মৃত্যুর আগে জাপানী রূপকথা অনুযায়ী, তেজস্ক্রিয়ার ক্ষত থেকে মুক্তি পেতে ১ হাজার কাগজের সারস পাখি তৈরির উদ্যোগ নেয় সাদাকো। কিন্তু ৬৪৪টি সারস তৈরির পর মৃত্যু হয় তার। সেই থেকে জাপানী শিশুরা প্রতিবছর হিরোশিমা দিবসে সাদাকোকে স্মরণ করে বিশেষ এ আয়োজনের মাধ্যমে। এরই ধারাবাহিকতায় কাগজ দিয়ে সারস পাখি তৈরি করেন আয়োজকরা।
হিরোশিমা দিবসের আলোচনায় অংশ নেন শিল্পকলা একাডেমির সচিব জাহাঙ্গীর হোসেন চৌধুরী, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জেটের সহ-সভাপতি গোলাম কুদ্দুছ, জাপান ইউনিভার্সিটি এ্যালামনাই এ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশ-এর সভাপতি অধ্যাপক ড. মোঃ খোরশেদ আলম, জাপান দূতাবাসের গণসংযোগ ও সাংস্কৃতিক বিভাগের প্রধান রিওজি সুগে, নাট্যজন মাসুম রেজা, গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক আকতারুজ্জামান, জাপান-বাংলা পিস ফাউন্ডেশনের সভাপতি হুমায়ুন কবীর প্রমুখ। স্বাগত বক্তব্য রাখেন স্বপ্নদলের প্রধান সম্পাদক জাহিদ রিপন।
সবশেষে ছিল যুদ্ধবিরোধী নাটকের মঞ্চায়ন। এদিন ‘ত্রিংশ শতাব্দী’ প্রযোজনার ৬৫তম মঞ্চায়ন করে স্বপ্নদল। বাদল সরকারের মূল রচনা অবলম্বনে রূপান্তর ও নির্দেশনা দিয়েছেন জাহিদ রিপন। জাপানের হিরোশিমা ও নাগাসাকি শহরে আণবিক বোমা বিস্ফোরণের যে ভয়াবহ পরিণতি নাট্যভাষায় সেটি বলার চেষ্টা করেছেন অভিনেতা-অভিনেত্রীরা। প্রসঙ্গ হয়ে এসেছে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধও। মানবসৃষ্ট সভ্যতা ধ্বংসকারী যুদ্ধ-গণহত্যা-অনাচারের বিপরীতে মানুষ হিসেবে বর্তমান কর্তব্য অনুধাবন এবং এ ক্ষেত্রে দর্শককে সিদ্ধান্ত গ্রহণের মুখোমুখি স্থাপনই ‘ত্রিংশ শতাব্দী’ প্রযোজনার অভীষ্ট। নাটকে অভিনয় করেন মিটুল চৌধুরী, সোনালী রহমান জুলি, আসিফ ইসতিয়ার, ফজলে রাব্বী সুকর্ন, ফারজানা চৌধুরী মিতা, হাসান রেজাউল, শিশির সিকদার, রাকিব হোসেন, আমজাদ শরীফ, আফরিন অনু, সামাদ ভূঞা, আল-আমিন, জিয়াউল হাসান, শাখাওয়াত শ্যামল, এস এম তারেক ও জাহিদ রিপন।
No comments:
Post a Comment