৪ আগস্ট– প্রিয়াঙ্কা কি শেষ পর্যম্ত কংগ্রেসে বড় ভূমিকা নিতে চলেছেন? কংগ্রেস কর্মীদের তরফ থেকে ফের আওয়াজ উঠেছে: ‘প্রিয়াঙ্কা লাও দেশ বাঁচাও’, ‘প্রিয়াঙ্কা লাও কংগ্রেস বাঁচাও’৷ শোনা যাচ্ছে, কংগ্রেস নেতৃত্ব এবার এই দাবিতে কর্ণপাত করতে পারে৷ প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভদ্রকে কংগ্রেসের নেতৃত্বে সামিল করা হতে পারে এই বছরের শেষের দিকে৷ ততদিনে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনগুলি হয়ে যাবে৷ বলা হচ্ছে প্রিয়াঙ্কাকে করা হতে পারে সাধারণ সম্পাদক (সংগঠন) অথবা দলের উত্তরপ্রদেশ শাখার প্রধান৷ এ আই সি সি-র মুখপাত্র রণদীপ সিং সুরজেওয়ালা অবশ্য বলেন, প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর রাজনৈতিক কাজ আমেথি ও রায়বেরিলি কেন্দ্রের মধ্যেই সীমাবদ্ধ৷ বাকি সবটাই গুজব৷ উল্টোদিকে প্রিয়াঙ্কার ভূমিকা নিয়ে বি জে পি নেতা ড. মুরলীমনোহর যোশিকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, আমি কংগ্রেস সম্পর্কে কোনও মম্তব্য করতে চাই না৷ তারা কোথাও বি জে পি-র কাছে চ্যালেঞ্জ নয়৷ বি জে পি-র আরেক নেতা সুব্রহ্মণ্যম স্বামীর কথায়: কংগ্রেস নেতৃত্ব দেউলিয়া হয়ে গেছে৷ ওরা একটা পরিবারের ওপর নির্ভরশীল৷ দলটাকে এখন গুটিয়ে দেওয়াই ভাল৷ লোকসভা ভোটে ডুবে যাওয়া দশা থেকে দলের পুনরুত্থানের জন্য কংগ্রেস প্রিয়াঙ্কাকে নেতৃত্বে আনার কথা ভাবছে৷ বেশ কয়েক বছর ধরেই প্রিয়াঙ্কা দলের কাজ করছেন৷ কিন্তু নেতৃত্বের অংশ নন তিনি৷ তাঁর সক্রিয় ভূমিকা শুধু সোনিয়া ও রাহুলের কেন্দ্রে৷ দলের দুর্দিনে তাঁকে যে সাধারণ সম্পাদক (সংগঠন) করার কথা উঠেছে, সেই পদটি এখন অলঙ্কৃত করে আছেন ১০ জনপথের বিশ্বস্ত জনার্দন দ্বিবেদী৷ আরেকটি মত অনুযায়ী, প্রিয়াঙ্কাকে এখন উত্তরপ্রদেশের সংগঠনের প্রধান করারই কথা৷ কারণ কংগ্রেস মনে করে তাদের পুনরুত্থান হবে বিহার ও উত্তরপ্রদেশে দল ঘুরে দাঁড়ানোর পর৷ যদিও প্রিয়াঙ্কা দলের নেতৃত্বে এলেও নেতৃত্বের কাঠামোয় আমূল কোনও পরিবর্তন হবে না৷ তিনি এলেও রাহুল গান্ধী যেমন নেতৃত্ব দিচ্ছেন তেমনই দেবেন৷
উত্তরপ্রদেশের কংগ্রেস নেত্রী রীতা বহুগুণা যোশি বলেন, আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি প্রিয়াঙ্কাজির সক্রিয় রাজনীতিতে যোগদান করা উচিত৷ তবে শেষ পর্যম্ত এটা তাঁর নিজের সিদ্ধাম্তের ব্যাপার৷ উল্লেখ্য, প্রিয়াঙ্কা দলে এলে কর্মীদের মনোবল বাড়বে, কংগ্রেসের সংগঠন চাঙ্গা হবে এটাই সাধারণ ধারণা৷ তবে উত্তরপ্রদেশের রাজনৈতিক রণক্ষেত্রে প্রিয়াঙ্কা অমিত শাহকে কতটা পরাস্ত করতে পারেন সেটাই দেখার৷ যিনি লোকসভা নির্বাচনে বি জে পি-কে ৭২টি আসন পাইয়ে দিয়ে সবাইকে অবাক করে দিয়েছেন৷ এদিকে রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বের বিরুদ্ধে দলে তলে তলে বিক্ষোভ ক্রমশই ছড়াচ্ছে৷ আসাম, মহারাষ্ট্র, হরিয়ানা, গোয়া সর্বত্রই বিক্ষোভ দানা বাঁধছে৷ লোকসভা ভোটের পর রাহুলের যোগ্যতা বা ক্ষমতা নিয়ে দলের ভেতরেই প্রশ্ন উঠছে৷ শেষ তোপটি দেগেছেন পাঞ্জাবের নেতা, ওয়ার্কিং কমিটির প্রাক্তন সদস্য জগমিত সিং ব্রার৷ বলেছেন, রাহুল এবং সোনিয়া বছর দুয়েকের জন্য ছুটি নিলে কী ক্ষতি! এই বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে জনার্দন দ্বিবেদীর তাৎপর্যপূর্ণ মম্তব্য, শোনার ক্ষমতাও থাকতে হবে সংগঠনের৷ প্রিয়াঙ্কাকে নেতৃত্বে আনার বিষয়টি নিয়ে মম্তব্য করতে চাননি দ্বিবেদী৷ ঘটনা হল, অসম্তোষ ছড়াচ্ছে উত্তরপ্রদেশেও৷ গত মাসে দলের প্রবীণ নেতা আমির হায়দর ২০ পাতার একটি পুস্তিকা প্রকাশ করেন৷ ‘তিক্ত সত্য’ নামে প্রকাশিত এই পুস্তিকায় রাহুলের নেতৃত্বের নানা দিক তুলে ধরা হয়েছে৷ উত্তরপ্রদেশের জন্য রাহুলের পছন্দের মধুসূদন মিস্ত্রির কথা উল্লেখ করে বলা হয়েছে, যখন তাঁর উত্তরপ্রদেশে প্রচারে নেতৃত্ব দেওয়ার কথা, তখন তিনি বরোদায় নরেন্দ্র মোদির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ব্যস্ত৷ হায়দর ১৯৬৭-তে দলে আসেন৷ তাঁর সমালোচনা দলের অনেকেই গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করছেন৷ তিনিও প্রিয়াঙ্কাকে বড় দায়িত্বে চাইছেন৷ দলের ভেতর স্লোগান উঠেছে: শাহ কো অগর দেনা হ্যায় মাত৷প্রিয়াঙ্কা কো সোঁপ দো কংগ্রেস কা হাথ৷ ছবি লাগানো হয়েছে প্রিয়াঙ্কা ও সোনিয়ার৷ এ ছবিতে রাহুল নেই৷ যদিও প্রিয়াঙ্কার সঙ্গে রাহুলের বোঝাপড়া যথেষ্ট ভাল, বেশ কিছু রাজনৈতিক সিদ্ধাম্ত রাহুল নিয়েছেন প্রিয়াঙ্কার পরামর্শ অনুযায়ী৷
|
No comments:
Post a Comment