Saturday, August 9, 2014

বৈচিত্র্যপূর্ণ জীবন সংস্কৃতি, বাহারি পণ্যের পসরা বাংলা একাডেমিতে আদিবাসী মেলা

বৈচিত্র্যপূর্ণ জীবন সংস্কৃতি, বাহারি পণ্যের পসরা
বাংলা একাডেমিতে আদিবাসী মেলা
মোরসালিন মিজান
আদিবাসী, উপজাতি, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী। নানা নাম ডাক। তর্ক-বিতর্ক চলছেই। এরই মাঝে শনিবার পালিত হয়েছে আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস। জাতিসংঘ ঘোষিত দিবসটি উদ্যাপন করেছে বিশ্বের ৯০টি দেশের ৪০ কোটিরও বেশি আদিবাসী জনগণ। বর্ণাঢ্য আয়োজন ছিল বাংলাদেশেও। রাজধানীর বিভিন্ন জায়গায় উৎসব অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। বিশেষ আয়োজন- আদিবাসী মেলা। বাংলা একাডেমীতে দুই দিনব্যাপী মেলার আয়োজন করেছে মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন।
বিকেলে সেখানে গিয়ে দেখা যায়, একাডেমীর সবুজ চত্বরটি চমৎকার করে সাজানো। ছোট্ট খোলামেলা জায়গায় ২৫টির মতো স্টল। এ সব স্টলে নানা রকমের পণ্য সাজানো। আদিবাসীদের প্রতিদিনের জীবনচিত্র তুলে ধরে স্টলগুলো। বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর কৃষ্টি কালচার সম্পর্কে ধারণা দেয়। একাধিক স্টলে পোশাকের প্রদর্শনী। ঘরে বসে নারীরা এসব পোশাক তৈরি করেছেন। সারাবছরই পোশাক তৈরির কাজ করেন তাঁরা। এসব পোশাকের মধ্যে রয়েছে শাড়ী থ্রি পিস, ওড়না, শার্ট ফতুয়া ইত্যাদি। বাঁশ ও বেতের তৈরি আসবাবপত্র শোপিস ইত্যাদি দিয়ে সাজানো কয়েকটি স্টল। বিভিন্ন রকমের ঝুরি, ফ্লাওয়ার ভাস, মাছ ধরার যন্ত্র সাজিয়ে রাখা হয়েছে স্টলে। কাঠ দিয়ে তৈরি করা হয়েছে বিভিন্ন ধরনের গৃহসজ্জার সামগ্রী। নিত্য প্রয়োজনীয় অনেক জিনিসও তৈরি করা হয়েছে কাঠ দিয়ে।
আছে ঐতিহ্যবাহী গহনা। রূপার প্রাধান্য বেশি। স্বাভাবিক আকার আকৃতির গহনা আছে। তেমনি আছে বিশাল আকৃতির গহনা। বিশেষ ধরনের হাতের চুরি গলার হার খুব চোখে পড়ে। কোন কোন স্টলে গিয়ে দেখা গেল ফলমূল, তরিতরকারি। খাগড়াছড়ি বান্দরবানসহ বিভিন্ন পাহাড়ী অঞ্চলে উৎপাদিত ফল, তরিতরকারি শহর ঢাকায় দেখা যায় না। দেখার সুযোগ হয় না। সে সুযোগটি আয়োজকরা করে দিয়েছেন বলা চলে।
নিথুই তারিনা নামে একটি স্টলের মালিক বাবলু নকরেক। এসেছেন মধুপুর থেকে। তিনি বলেন, এখানে আদিবাসীদের জীবন সংস্কৃতি তুলে ধরার একটি প্রয়াস নেয়া হয়েছে। মেলা উপলক্ষে আমরা একে অন্যের সঙ্গে মিলিত হতে পারছি। সব মিলিয়ে খুব ভাল লাগছে। আশিকা নামের একটি স্টল পরিচালনা করছেন বিপ্লব চাকমা। তিনি এসেছেন রাঙ্গামাটি থেকে। জানালেন, মেলায় এসে খুব ভাল লাগছে তাঁর। কারণ ব্যাখ্যা করে বললেন, আমরা আমাদের সমৃদ্ধ ঐতিহ্য নিয়ে গর্ব করি। সারা দুনিয়ায় নিজেদের সুন্দর শৈল্পিক দিকগুলো তুলে ধরতে চাই। ঢাকায় মেলা আয়োজনের মাধ্যমে সেটি কিছুটা হলেও সম্ভব হয় বলে মনে করেন তিনি।
প্রথমদিন মেলায় আদিবাসীরা ছাড়াও এসেছিলেন কৌতূহলী অনেক দর্শনার্থী। তাঁদের একজন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃ-বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী স্মরণ। জনকণ্ঠকে তিনি বলেন, আদিবাসীদের আয়োজন হলে বাড়তি কৌতূহল কাজ করে। সে কৌতূহল থেকেই মেলায় আসা। আরিফ নামে আরেক শিক্ষার্থী জানালেন, প্রতিটি সটল তিনি ঘুরে দেখেছেন। দেখে মনে হয়েছে, এটি ঢাকা নয়। পাহাড়ী কোন অঞ্চল। বৈচিত্র্যে ভরপুর একটি সংস্কৃতি।
আদিবাসী মেলা আজ রবিবার শেষ হবে
http://allbanglanewspapers.com/janakantha/

No comments:

Post a Comment