আর্জেন্টিনার ভরসা মেসি-ডি মারিয়া
প্রকাশ : ০৩ জুলাই, ২০১৪
মঙ্গলবার রাতে অসাধারণ দুটি ম্যাচ দেখলাম। স্নায়ুক্ষয়ী ম্যাচ দুটোতে শেষ পর্যন্ত ফেভারিটরাই জিতেছে। উল্টো ফলও হতে পারত। ভাগ্যের সহায়তা পেয়েছে আর্জেন্টিনা। ম্যাচের শেষ মুহূর্তে সুইজারল্যান্ডের ফরোয়ার্ড জেমিলির হেড পোস্টে না লাগলে ফল অন্যরকম হতে পারত। আর্জেন্টাইনরা আবারও জিতল মেসির ওপর ভর করে। তবে এই ম্যাচে আর্জেন্টিনা দলকে আমার অনেকটা গোছানো মনে হয়েছে। সেই সঙ্গে মেসি ও ডি মারিয়ার ছন্দ ফিরে পাওয়াটা দলটির জন্য শুভ ইঙ্গিত বহন করছে। এই জুটির ওপর নির্ভর করছে আর্জেন্টিনার সাফল্য। সুইজারল্যান্ডের অতিমাত্রায় ডিফেন্সিভ ফুটবল দলটিকে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিতে বাধ্য করেছে। একদিকে যেমন খেলার সৌন্দর্য নষ্ট হয়েছে, তেমনি আর্জেন্টিনার আক্রমণের মুখে শেষ মুহূর্তে তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়েছিল সুইসদের রক্ষণভাগ। বেলজিয়াম ও যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাচটি আমি উপভোগ করেছি। ম্যাচে যুক্তরাষ্ট্রের প্রাধান্য থাকলেও নজর কেড়েছে বেলজিয়ামের খেলা। তবে দু’গোলে এগিয়ে থাকার পরও বেলজিয়াম কেমন যেন চুপসে যায়। শেষ ১৫ মিনিটে যুক্তরাষ্ট্র চারটি গোল দিলেও অবাক হওয়ার কিছু ছিল না। কিন্তু দুর্ভাগ্য দলটির। কোয়ার্টার ফাইনালের আগেই বিদায় নিতে হল যুক্তরাষ্ট্রকে।
এবার একটু ভিন্ন প্রসঙ্গ। ১৯৫৪ সুইজারল্যান্ড বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচটি হয়েছিল বার্নে। ম্যাচের তিন দিন আগে থেকে শুরু হল বৃষ্টি। জার্মানির কোচ শেফ হারবার্জার। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে হিটলারের নাৎসি বাহিনীর অন্যতম মেজর। যুদ্ধে হারের ক্ষত তখনও তার সারা শরীরে। ভাগ হয়ে গেছে জার্মানি। প্রতিপক্ষ হাঙ্গেরি। টানা ৫৩ ম্যাচ অপরাজিত। গ্র“প ম্যাচে জার্মানি ৮-৩ গোলে হারিয়েছিল পুসকাসের হাঙ্গেরিকে। বিশ্বে তখন একটাই নাম পুসকাস। কিং অব হাঙ্গেরি। কোয়ার্টার ফাইনালে ব্রাজিলকে, সেমিফাইনালে উরুগুয়েকে হারিয়ে আসা হাঙ্গেরির সামনে পড়ল আবার পশ্চিম জার্মানি। সারা রাত ঘুম নেই জার্মান কোচের। আকাশ তখন মেঘলা। হঠাৎ জার্মান কোচের মাথায় খেলল বুদ্ধি। সারা রাত নির্ঘুম কাটিয়ে ভোরে ফোন করলেন ডুসেলডর্ফে এক জুতা প্রস্তুতকারক বন্ধু অ্যাডিকে। শেফ অ্যাডিকে বলেছিলেন, এই বৃষ্টি তিন দিনের আগে থামবে না। সবাই এখানে ছোট স্পাইকের বুট এনেছে। ওই বুট বৃষ্টিভেজা মাঠে অচল। তুমি দুই’ জোড়া করে ২২ জনের বুট নিয়ে ম্যাচের দিন সকালে চলে এসো। মনে রেখো, জার্মানরা জিতলে তুমি কিন্তু ইতিহাসের পাতায় ঢুকে যাবে।’ বন্ধুর কথামতো অ্যাডি ডেসলার এক রাতের মধ্যে ৪৪ জোড়া বুট নিয়ে চলে এলেন। বৃষ্টিভেজা মাঠে ওই বুটই পার্থক্য গড়ে দিল দু’দলের মধ্যে। পশ্চিম জার্মানির কাছে হাঙ্গেরি হারল ৩-২ গোলে। সেই থেকে জুতা প্রস্তুতকারী সংস্থা অ্যাডি ডেসলারের কোম্পানি অ্যাডিডাসের যাত্রা শুরু। অ্যাডিডাস আর বিশ্বকাপ ফুটবল এখন সমার্থক শব্দ।
বিশ্বকাপ ফুটবলে অ্যাডিডাসের তৈরি বল দিয়েই খেলা হয়ে আসছে আজ অবধি। ব্রাজিলে এবার মেসি-নেইমাররা খেলছেন অ্যাডিডাসের বল ব্রাজুকা দিয়ে। ফিফা এই ব্রাজুকা তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোকে বিনে পয়সায় বিলিয়েছে। উদ্দেশ্য, বিশ্বকাপের বলে ফুটবল খেললে তরুণ ও কিশোরদের মধ্যে উন্মাদনা সৃষ্টি হবে। অন্য সব দেশে কি হয়েছে জানি না, বাংলাদেশে কিন্তু ফিফার পাঠানো বল পায়নি তৃণমূল পর্যায়ের খেলোয়াড়রা। সাড়ে সাত হাজার বল এসেছে বাংলাদেশে। কর্মকর্তারা যে যার মতো ভাগাভাগি করে নিয়েছেন বলে শুনেছি। জেলা ও ক্লাব পর্যায়ে হাজার দুয়েক বল দিয়েই খালাস। বাকি বলের কোনো হদিস নেই। কথাগুলো বললাম এ কারণে, হাজার মাইল দূরে ব্রাজিলে খেলা হচ্ছে। বাংলাদেশে বিশ্বকাপ উম্মাদনা সৃষ্টি হয়েছে। কিন্তু সেই উম্মাদনা কাজে লাগাতে পারেনি বাফুফে। অথচ এরাই ২০২২ বিশ্বকাপে খেলার স্বপ্ন দেখাচ্ছে বাংলাদেশকে।
No comments:
Post a Comment