টিআইবি’র প্রতিবেদন প্রকাশ : খাদ্য ব্যবস্থাপনায় ধাপে ধাপে দুর্নীতি
স্বাস্থ্য অধিদফতরের স্যানিটারি ইন্সপেক্টর ক্ষুদ্র খাদ্য প্রস্তুতকারী ও খুচরা বিক্রেতা পরিদর্শনে ঘুষ নেন ২শ’ থেকে ৪শ’ টাকা। মাসিক ভিত্তিতে রেস্তোরাঁ-বেকারির মালিকের সঙ্গে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের স্যানিটারি ইন্সপেক্টরের সমঝোতা হয় ৫শ’ থেকে হাজার টাকার বিনিময়ে। বিএসটিআইর ফিল্ড অফিসার ছোট বা মাঝারি কারখানা পরিদর্শনে ঘুষ নেন ৫ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা। কাস্টমস হাউজের পরীক্ষাগারে আমদানিকৃত খাদ্যের নমুনা পরীক্ষায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ঘুষ নেন এক থেকে দেড় হাজার টাকা। কাস্টম হাউজে নমুনার সার্টিফিকেট দাখিলে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দিতে হয় ৫শ’ থেকে ৮শ’ টাকা। খাদ্য ব্যবস্থাপনা বিষয়ে টিআইবির এক প্রতিবেদনে এই চিত্র উঠে এসেছে। গতকাল রাজধানীর একটি মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ‘নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতকরণ : সুশাসনের চ্যালেঞ্জ ও উত্তরণের উপায়’ শীর্ষক ওই প্রতিবেদন প্রকাশ করে টিআইবি। প্রভাবশালী মহল খাদ্যে ভেজাল মিশিয়ে পার পেয়ে যাচ্ছে দাবি করে ট্রাস্টিবোর্ডের সভাপতি অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল সংবাদ সম্মেলনে বলেন, প্রভাবশালীরা বিভিন্ন মহলের যোগসাজশে বড় ধরনের সুবিধা প্রদান করে থাকেন। ফলে তাদের দুর্নীতির অঙ্কটা নিরূপণ করা সম্ভব হয়নি।
সংবাদ সম্মেলনে ‘খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ : সুশাসনের চ্যালেঞ্জ ও উত্তরণের উপায়’ শীর্ষক টিআইবির প্রতিবেদনে নাগরিকের জন্য নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে নিরাপদ খাদ্য আইন-২০১৩ দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি জানিয়ে বলা হয়, দেশের শতকরা ৫০ ভাগ খাদ্যেই ভেজাল রয়েছে। ভেজাল বন্ধে আইনি সীমাবদ্ধতা ও সেইসঙ্গে নিরাপত্তা খাদ্য নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট অন্যান্য আইনের কার্যকর প্রয়োগের ওপরও জোর দেয়া হয় অনুষ্ঠানে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, কিছু ইতিবাচক পদক্ষেপ সত্ত্বেও একটি সার্বিক নিরাপদ ব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগের অভাব রয়েছে। নিরাপদ খাদ্য আইন-২০১৩ পাস হলেও গেজেট বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে আজও তা কার্যকর করা হয়নি। প্রতিবেদনে নিরাপদ খাদ্য বিষয়ক আইনি কাঠামোতে সীমাবদ্ধতা ও প্রায়োগিক চ্যালেঞ্জের যে তথ্য উঠে এসেছে, তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো নিরাপদ খাদ্য আইন-২০১৩ বলবত্ না করা; ভোক্তার সরাসরি মামলা করার বিধান না থাকা ও ভোক্তার অভিযোগ নিরসনে প্রক্রিয়াগত জটিলতা এবং ভোক্তা বা ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি কর্তৃক নমুনা পরীক্ষার ব্যয়ভার বহনের বাধ্যবাধকতা।
খাদ্য তদারকি ও পরিবীক্ষণের ক্ষেত্রে জনবলের স্বল্পতা একটি অন্যতম সীমাবদ্ধতা হিসেবে প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়। প্রতিবেদন অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের ৩১৯টি পৌরসভা ও ১১টি সিটি করপোরেশনে অর্গানোগ্রামে ৩৭০টি স্যানিটারি ইন্সপেক্টরের পদ থাকলেও কর্মরত আছেন মাত্র ৭৮ জন। এছাড়া এ খাতে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দের ঘাটতি; চুক্তিভিত্তিক আইনজীবী না থাকা ও মামলা পরিচালনায় রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ; সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যে পারস্পরিক সমন্বয়, সহযোগিতা ও যোগাযোগের অভাব; ফরমালিন আমদানিতে তদারকি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণের অভাব; খাদ্যের নমুনা পরীক্ষার ক্ষেত্রে দীর্ঘসূত্রতা; পরীক্ষাগারে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও জনবলের অভাব; এবং খাদ্যপণ্যের নমুনা পরীক্ষায় অনিয়ম ও দুর্নীতির চিত্র উঠে এসেছে গবেষণা প্রতিবেদনে।
গবেষণায় নিরাপদ খাদ্য ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম ও দুর্নীতির সুনির্দিষ্ট উদাহরণ দিয়ে বলা হয়, স্যানিটারি ইন্সপেক্টররা খাদ্যপ্রস্তুতকারী রেস্তোরাঁ বা বেকারি ও খুচরা বিক্রেতা পরিদর্শনে ঘুষ গ্রহণ; বিএসটিআই’র ফিল্ড অফিসার খাদ্য কারখানা পরিদর্শনে খাদ্যপণ্যের নমুনা সংগ্রহে ঘুষের বিনিময়ে শৈথিল্য প্রদর্শন (ক্ষেত্রভেদে স্যানিটারি ইন্সপেক্টর ও ফিল্ড অফিসাররা ৫০০ থেকে ১০ হাজার টাকা ঘুষ নিয়ে থাকেন); মাসিক ভিত্তিতে স্যানিটারি ইন্সপেক্টর কর্তৃক বড় দোকানদার, রেস্তোরাঁ ও বেকারির মালিকের সঙ্গে সমঝোতামূলক দুর্নীতি; স্যানিটারি ইন্সপেক্টর কর্তৃক আইনের ভয় দেখিয়ে মূল্য পরিশোধ না করে নমুনা সংগ্রহ এবং ব্যক্তিগত ভোগে ব্যবহার; ঢাকা সিটি করপোরেশনের কিছুসংখ্যক স্যানিটারি ইন্সপেক্টর কর্তৃক পরিদর্শন কার্যক্রমে নিজ উদ্যোগে সোর্স নিয়োগ এবং সোর্সদের বেতন ও অন্যান্য সুবিধা প্রদানের খরচও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে নিয়মবহির্ভূতভাবে আদায়; জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের পরীক্ষাগার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সাথে মাঠ পর্যায়ের স্যানিটারি ইন্সপেক্টরদের যোগসাজশ ও নমুনা পরীক্ষা না করে ঘুষ ও উপঢৌকনের বিনিময়ে সনদ প্রদান; এবং আমদানিকৃত খাদ্যপণ্যের নমুনা পরীক্ষায় ঘুষের বিনিময়ে পরীক্ষাগার থেকে সনদ গ্রহণ ইত্যাদি।
http://www.amardeshonline.com/ pages/details/2014/03/21/ 239295#.UyulMs7m689
http://mzamin.com/details.php? mzamin=MTU3ODk=&sMQ==
স্বাস্থ্য অধিদফতরের স্যানিটারি ইন্সপেক্টর ক্ষুদ্র খাদ্য প্রস্তুতকারী ও খুচরা বিক্রেতা পরিদর্শনে ঘুষ নেন ২শ’ থেকে ৪শ’ টাকা। মাসিক ভিত্তিতে রেস্তোরাঁ-বেকারির মালিকের সঙ্গে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের স্যানিটারি ইন্সপেক্টরের সমঝোতা হয় ৫শ’ থেকে হাজার টাকার বিনিময়ে। বিএসটিআইর ফিল্ড অফিসার ছোট বা মাঝারি কারখানা পরিদর্শনে ঘুষ নেন ৫ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা। কাস্টমস হাউজের পরীক্ষাগারে আমদানিকৃত খাদ্যের নমুনা পরীক্ষায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ঘুষ নেন এক থেকে দেড় হাজার টাকা। কাস্টম হাউজে নমুনার সার্টিফিকেট দাখিলে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দিতে হয় ৫শ’ থেকে ৮শ’ টাকা। খাদ্য ব্যবস্থাপনা বিষয়ে টিআইবির এক প্রতিবেদনে এই চিত্র উঠে এসেছে। গতকাল রাজধানীর একটি মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ‘নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতকরণ : সুশাসনের চ্যালেঞ্জ ও উত্তরণের উপায়’ শীর্ষক ওই প্রতিবেদন প্রকাশ করে টিআইবি। প্রভাবশালী মহল খাদ্যে ভেজাল মিশিয়ে পার পেয়ে যাচ্ছে দাবি করে ট্রাস্টিবোর্ডের সভাপতি অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল সংবাদ সম্মেলনে বলেন, প্রভাবশালীরা বিভিন্ন মহলের যোগসাজশে বড় ধরনের সুবিধা প্রদান করে থাকেন। ফলে তাদের দুর্নীতির অঙ্কটা নিরূপণ করা সম্ভব হয়নি।
সংবাদ সম্মেলনে ‘খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ : সুশাসনের চ্যালেঞ্জ ও উত্তরণের উপায়’ শীর্ষক টিআইবির প্রতিবেদনে নাগরিকের জন্য নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে নিরাপদ খাদ্য আইন-২০১৩ দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি জানিয়ে বলা হয়, দেশের শতকরা ৫০ ভাগ খাদ্যেই ভেজাল রয়েছে। ভেজাল বন্ধে আইনি সীমাবদ্ধতা ও সেইসঙ্গে নিরাপত্তা খাদ্য নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট অন্যান্য আইনের কার্যকর প্রয়োগের ওপরও জোর দেয়া হয় অনুষ্ঠানে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, কিছু ইতিবাচক পদক্ষেপ সত্ত্বেও একটি সার্বিক নিরাপদ ব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগের অভাব রয়েছে। নিরাপদ খাদ্য আইন-২০১৩ পাস হলেও গেজেট বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে আজও তা কার্যকর করা হয়নি। প্রতিবেদনে নিরাপদ খাদ্য বিষয়ক আইনি কাঠামোতে সীমাবদ্ধতা ও প্রায়োগিক চ্যালেঞ্জের যে তথ্য উঠে এসেছে, তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো নিরাপদ খাদ্য আইন-২০১৩ বলবত্ না করা; ভোক্তার সরাসরি মামলা করার বিধান না থাকা ও ভোক্তার অভিযোগ নিরসনে প্রক্রিয়াগত জটিলতা এবং ভোক্তা বা ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি কর্তৃক নমুনা পরীক্ষার ব্যয়ভার বহনের বাধ্যবাধকতা।
খাদ্য তদারকি ও পরিবীক্ষণের ক্ষেত্রে জনবলের স্বল্পতা একটি অন্যতম সীমাবদ্ধতা হিসেবে প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়। প্রতিবেদন অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের ৩১৯টি পৌরসভা ও ১১টি সিটি করপোরেশনে অর্গানোগ্রামে ৩৭০টি স্যানিটারি ইন্সপেক্টরের পদ থাকলেও কর্মরত আছেন মাত্র ৭৮ জন। এছাড়া এ খাতে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দের ঘাটতি; চুক্তিভিত্তিক আইনজীবী না থাকা ও মামলা পরিচালনায় রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ; সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যে পারস্পরিক সমন্বয়, সহযোগিতা ও যোগাযোগের অভাব; ফরমালিন আমদানিতে তদারকি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণের অভাব; খাদ্যের নমুনা পরীক্ষার ক্ষেত্রে দীর্ঘসূত্রতা; পরীক্ষাগারে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও জনবলের অভাব; এবং খাদ্যপণ্যের নমুনা পরীক্ষায় অনিয়ম ও দুর্নীতির চিত্র উঠে এসেছে গবেষণা প্রতিবেদনে।
গবেষণায় নিরাপদ খাদ্য ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম ও দুর্নীতির সুনির্দিষ্ট উদাহরণ দিয়ে বলা হয়, স্যানিটারি ইন্সপেক্টররা খাদ্যপ্রস্তুতকারী রেস্তোরাঁ বা বেকারি ও খুচরা বিক্রেতা পরিদর্শনে ঘুষ গ্রহণ; বিএসটিআই’র ফিল্ড অফিসার খাদ্য কারখানা পরিদর্শনে খাদ্যপণ্যের নমুনা সংগ্রহে ঘুষের বিনিময়ে শৈথিল্য প্রদর্শন (ক্ষেত্রভেদে স্যানিটারি ইন্সপেক্টর ও ফিল্ড অফিসাররা ৫০০ থেকে ১০ হাজার টাকা ঘুষ নিয়ে থাকেন); মাসিক ভিত্তিতে স্যানিটারি ইন্সপেক্টর কর্তৃক বড় দোকানদার, রেস্তোরাঁ ও বেকারির মালিকের সঙ্গে সমঝোতামূলক দুর্নীতি; স্যানিটারি ইন্সপেক্টর কর্তৃক আইনের ভয় দেখিয়ে মূল্য পরিশোধ না করে নমুনা সংগ্রহ এবং ব্যক্তিগত ভোগে ব্যবহার; ঢাকা সিটি করপোরেশনের কিছুসংখ্যক স্যানিটারি ইন্সপেক্টর কর্তৃক পরিদর্শন কার্যক্রমে নিজ উদ্যোগে সোর্স নিয়োগ এবং সোর্সদের বেতন ও অন্যান্য সুবিধা প্রদানের খরচও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে নিয়মবহির্ভূতভাবে আদায়; জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের পরীক্ষাগার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সাথে মাঠ পর্যায়ের স্যানিটারি ইন্সপেক্টরদের যোগসাজশ ও নমুনা পরীক্ষা না করে ঘুষ ও উপঢৌকনের বিনিময়ে সনদ প্রদান; এবং আমদানিকৃত খাদ্যপণ্যের নমুনা পরীক্ষায় ঘুষের বিনিময়ে পরীক্ষাগার থেকে সনদ গ্রহণ ইত্যাদি।
http://www.amardeshonline.com/
http://mzamin.com/details.php?
No comments:
Post a Comment