গৌতম হোড়
নয়াদিল্লি: সঙ্কট কাটল বিজেপির৷ দু'দিন ধরে জমজমাট নাটকের পর সেই গান্ধীনগর থেকেই ভোটে লড়তে রাজি হলেন লালকৃষ্ণ আদবানি৷ তবে তার আগে মোদী-রাজনাথকেও আদবানির সম্মানরক্ষার জন্য কিছুটা পিছু হঠতে হয়েছে৷ সঙ্ঘের সমাধানসূত্র মেনে নিয়ে রাজনাথ সিং এ দিন একটি বিবৃতি দেন৷ তাতে বলা হয়, ভোপাল না গান্ধীনগর, আদবানি কোথা থেকে লড়বেন, সেই সিদ্ধান্ত তিনিই নেবেন৷ দল তাঁর ইচ্ছাকেই মর্যাদা দেবে৷ মোদী-রাজনাথরা পিছু হঠে এ ভাবে আদবানির সম্মানরক্ষার ব্যবস্থা করার পর তিনিও নরেন্দ্র মোদীর সম্মানরক্ষা করেছেন৷ রাতে আদবানি আর একটি বিবৃতি দিয়ে জানিয়ে দেন, তিনি গান্ধীনগর থেকেই লড়বেন৷ তাতে তিনি জানান, ১৯৪৭ সালে দেশভাগের সময় করাচি থেকে এ দেশে আসার পর থেকেই তিনি গুজরাটের সঙ্গে যুক্ত৷ নরেন্দ্র মোদীও তাঁকে বলেছেন, গুজরাটের মানুষ চান, তিনি গান্ধীনগর থেকেই লড়াই করুন৷ ফলে মোদী-রাজনাথরা যে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, সেটাই শেষমেশ বহাল থাকল৷ কিন্ত্ত তাঁর সম্মানরক্ষার জন্য দল এমন একটা মধ্যপন্থা গ্রহণ করল, যাতে মনে হয় সিদ্ধান্তটা বুঝি তিনিই নিলেন৷
এ দিন সকালে প্রথমে আদবানির বাড়িতে যান নরেন্দ্র মোদী৷ তার পর একে একে যান সুষমা স্বরাজ, বেঙ্কাইয়া নাইডু এবং অরুণ জেটলি৷ বেঙ্কাইয়া বলেন, 'সব ঠিক আছে৷ আদবানিজি কি আপনাদের বলেছেন, তিনি অখুশি?' বিজেপি সূত্রের খবর, এর আগে এ দিন সকালে নরেন্দ্র মোদী-সহ বিজেপি নেতারা আদবানিকে আশ্বস্ত করেন যে, গান্ধীনগর থেকে লড়লে তিনি জিতবেনই৷ এখানে বিজেপি কর্মীরা তাঁর উপর মোটেও ক্ষুব্ধ নন৷ কোনও অন্তর্ঘাত হবে না৷ আদবানির ধারণা হয়েছিল, প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী হিসাবে মোদীর বিরোধিতা করায় গুজরাটে বিজেপি কর্মীরা তাঁর বিরুদ্ধাচরণ করবেন৷ কিন্ত্ত এখন অবস্থা এমন হল, গান্ধীনগর থেকে আদবানির হারের আশঙ্কা রইল না৷ সে দিক থেকে দেখতে গেলে, ৮৭ বছর বয়সী নেতা শেষবার লড়াইয়ে জয়ের নিশ্চয়তাটুকু আদায় করে নিতে পারলেন৷
দলের সঙ্কট মেটাতে এ দিন সরসঙ্ঘচালক মোহনরাও ভাগবত ফোনে আদবানির সঙ্গে কথা বলেন৷ তাঁর অনুরোধ ছিল, ভোটের মুখে বিজেপিতে যেন অনৈক্যের চেহারা প্রকট না হয়৷ তার আগেই অবশ্য আরএসএস নেতা ভাইয়াজি যোশী বিজেপি সভাপতি রাজনাথ সিংয়ের সঙ্গে কথা বলেন৷ সমাধানসূত্র নিয়ে দিনভর ম্যারাথন আলোচনা চলে৷ সঙ্কট কাটে রাতের দিকে৷ তবে আদবানিকে নিয়ে সঙ্কট মিটতে না মিটতেই বিজেপিতে নতুন সমস্যা তৈরি হয়েছে প্রবীণ নেতা ও প্রাক্তন অর্থ ও বিদেশমন্ত্রী যশবন্ত সিংকে নিয়ে৷ যশবন্ত এ বার তাঁর নিজের এলাকা বারমের থেকে লড়তে চান৷ কিন্ত্ত রাজস্থানের মুখ্যমন্ত্রী বসুন্ধরারাজে সিন্ধিয়া তাঁকে সেখানে প্রার্থী করতে নারাজ৷ গতবার যশবন্ত মোর্চার সমর্থনে দার্জিলিং থেকে জিতেছিলেন৷ আর তাঁর ছেলে মানবেন্দ্র সিং লড়েছিলেন বারমের থেকে৷ মানবেন্দ্র ২০০৪ সালে বারমের থেকে জিতলেও ২০০৯-এ হেরে যান৷ কিন্ত্ত এ বার বারমের ছাড়তে নারাজ যশবন্ত৷ এ দিন তিনি বলেছেন, দল তাঁকে প্রার্থী না করলে তিনি নির্দল হিসেবেই দাঁড়াবেন৷ বিজেপি সূত্রের খবর, আদবানির সঙ্কট কাটার পর যশবন্তের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে দল৷
আদবানিকে নিয়ে রাজনাথ সিং এ দিন যে বিবৃতি দিয়েছেন, তাতে বলা হয়েছে, '১৯৯১ সাল থেকে আদবানি গান্ধীনগর কেন্দ্র থেকে লোকসভা ভোটে লড়ছেন৷ গত পাঁচবার তিনি এই কেন্দ্র থেকে বিপুল ভোটে জিতেছেন৷ বিজেপির গুজরাট শাখা এ বারও সর্বসম্মতিতে আদবানির নাম সুপারিশ করেছে৷ কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটিও মতৈক্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তাঁর গান্ধীনগর থেকেই লড়া উচিত৷ তবে বিজেপির মধ্যপ্রদেশ শাখার একটি বিকল্প প্রস্তাব রয়েছে, তিনি ভোপাল থেকে লোকসভায় লড়ুন৷ আমি দলের সংসদীয় বোর্ড ও কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটির সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করেছি৷ তাঁদের সর্বসম্মত মত হল, কোথা থেকে লড়বেন সেটা আদবানির উপরেই ছেড়ে দেওয়া উচিত৷ উনি যা চাইবেন, দল তাকে সম্মান জানাবে৷'
রাতে আদবানিও একটি বিবৃতি দেন৷ তাতে তিনি বলেন, 'রাজনাথ সিং আমায় জানিয়েছেন, দলের গুজরাট শাখা ও কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটি চায়, আমি গান্ধীনগর থেকে লড়ি৷ সকালে নরেন্দ্র মোদী আমার বাড়িতে এসেছিলেন৷ তিনিও বলেন, গুজরাটের মানুষ চান, আমি গান্ধীনগর থেকেই আবার দাঁড়াই৷ রাজনাথ সিং আমাকে বলেন, দলের মধ্যপ্রদেশ শাখা চায়, আমি ভোপাল থেকে ভোটে লড়ি৷ দলের সহকর্মীদের এই মনোভাবে আমি অভিভূত৷ কয়েক সপ্তাহ আগে জানিয়েছিলাম যে, আমি গান্ধীনগর থেকে লড়তে চাই৷ করাচি থেকে ১৯৪৭-এ আসার পর থেকেই আমি গুজরাটের সঙ্গে যুক্ত৷ এখান থেকেই আমি লোকসভা ও রাজ্যসভার সদস্য হয়েছি৷ তাই ২০১৪ সালেও আমি গান্ধীনগর থেকেই লড়তে চাই৷'
নয়াদিল্লি: সঙ্কট কাটল বিজেপির৷ দু'দিন ধরে জমজমাট নাটকের পর সেই গান্ধীনগর থেকেই ভোটে লড়তে রাজি হলেন লালকৃষ্ণ আদবানি৷ তবে তার আগে মোদী-রাজনাথকেও আদবানির সম্মানরক্ষার জন্য কিছুটা পিছু হঠতে হয়েছে৷ সঙ্ঘের সমাধানসূত্র মেনে নিয়ে রাজনাথ সিং এ দিন একটি বিবৃতি দেন৷ তাতে বলা হয়, ভোপাল না গান্ধীনগর, আদবানি কোথা থেকে লড়বেন, সেই সিদ্ধান্ত তিনিই নেবেন৷ দল তাঁর ইচ্ছাকেই মর্যাদা দেবে৷ মোদী-রাজনাথরা পিছু হঠে এ ভাবে আদবানির সম্মানরক্ষার ব্যবস্থা করার পর তিনিও নরেন্দ্র মোদীর সম্মানরক্ষা করেছেন৷ রাতে আদবানি আর একটি বিবৃতি দিয়ে জানিয়ে দেন, তিনি গান্ধীনগর থেকেই লড়বেন৷ তাতে তিনি জানান, ১৯৪৭ সালে দেশভাগের সময় করাচি থেকে এ দেশে আসার পর থেকেই তিনি গুজরাটের সঙ্গে যুক্ত৷ নরেন্দ্র মোদীও তাঁকে বলেছেন, গুজরাটের মানুষ চান, তিনি গান্ধীনগর থেকেই লড়াই করুন৷ ফলে মোদী-রাজনাথরা যে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, সেটাই শেষমেশ বহাল থাকল৷ কিন্ত্ত তাঁর সম্মানরক্ষার জন্য দল এমন একটা মধ্যপন্থা গ্রহণ করল, যাতে মনে হয় সিদ্ধান্তটা বুঝি তিনিই নিলেন৷
এ দিন সকালে প্রথমে আদবানির বাড়িতে যান নরেন্দ্র মোদী৷ তার পর একে একে যান সুষমা স্বরাজ, বেঙ্কাইয়া নাইডু এবং অরুণ জেটলি৷ বেঙ্কাইয়া বলেন, 'সব ঠিক আছে৷ আদবানিজি কি আপনাদের বলেছেন, তিনি অখুশি?' বিজেপি সূত্রের খবর, এর আগে এ দিন সকালে নরেন্দ্র মোদী-সহ বিজেপি নেতারা আদবানিকে আশ্বস্ত করেন যে, গান্ধীনগর থেকে লড়লে তিনি জিতবেনই৷ এখানে বিজেপি কর্মীরা তাঁর উপর মোটেও ক্ষুব্ধ নন৷ কোনও অন্তর্ঘাত হবে না৷ আদবানির ধারণা হয়েছিল, প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী হিসাবে মোদীর বিরোধিতা করায় গুজরাটে বিজেপি কর্মীরা তাঁর বিরুদ্ধাচরণ করবেন৷ কিন্ত্ত এখন অবস্থা এমন হল, গান্ধীনগর থেকে আদবানির হারের আশঙ্কা রইল না৷ সে দিক থেকে দেখতে গেলে, ৮৭ বছর বয়সী নেতা শেষবার লড়াইয়ে জয়ের নিশ্চয়তাটুকু আদায় করে নিতে পারলেন৷
দলের সঙ্কট মেটাতে এ দিন সরসঙ্ঘচালক মোহনরাও ভাগবত ফোনে আদবানির সঙ্গে কথা বলেন৷ তাঁর অনুরোধ ছিল, ভোটের মুখে বিজেপিতে যেন অনৈক্যের চেহারা প্রকট না হয়৷ তার আগেই অবশ্য আরএসএস নেতা ভাইয়াজি যোশী বিজেপি সভাপতি রাজনাথ সিংয়ের সঙ্গে কথা বলেন৷ সমাধানসূত্র নিয়ে দিনভর ম্যারাথন আলোচনা চলে৷ সঙ্কট কাটে রাতের দিকে৷ তবে আদবানিকে নিয়ে সঙ্কট মিটতে না মিটতেই বিজেপিতে নতুন সমস্যা তৈরি হয়েছে প্রবীণ নেতা ও প্রাক্তন অর্থ ও বিদেশমন্ত্রী যশবন্ত সিংকে নিয়ে৷ যশবন্ত এ বার তাঁর নিজের এলাকা বারমের থেকে লড়তে চান৷ কিন্ত্ত রাজস্থানের মুখ্যমন্ত্রী বসুন্ধরারাজে সিন্ধিয়া তাঁকে সেখানে প্রার্থী করতে নারাজ৷ গতবার যশবন্ত মোর্চার সমর্থনে দার্জিলিং থেকে জিতেছিলেন৷ আর তাঁর ছেলে মানবেন্দ্র সিং লড়েছিলেন বারমের থেকে৷ মানবেন্দ্র ২০০৪ সালে বারমের থেকে জিতলেও ২০০৯-এ হেরে যান৷ কিন্ত্ত এ বার বারমের ছাড়তে নারাজ যশবন্ত৷ এ দিন তিনি বলেছেন, দল তাঁকে প্রার্থী না করলে তিনি নির্দল হিসেবেই দাঁড়াবেন৷ বিজেপি সূত্রের খবর, আদবানির সঙ্কট কাটার পর যশবন্তের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে দল৷
আদবানিকে নিয়ে রাজনাথ সিং এ দিন যে বিবৃতি দিয়েছেন, তাতে বলা হয়েছে, '১৯৯১ সাল থেকে আদবানি গান্ধীনগর কেন্দ্র থেকে লোকসভা ভোটে লড়ছেন৷ গত পাঁচবার তিনি এই কেন্দ্র থেকে বিপুল ভোটে জিতেছেন৷ বিজেপির গুজরাট শাখা এ বারও সর্বসম্মতিতে আদবানির নাম সুপারিশ করেছে৷ কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটিও মতৈক্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তাঁর গান্ধীনগর থেকেই লড়া উচিত৷ তবে বিজেপির মধ্যপ্রদেশ শাখার একটি বিকল্প প্রস্তাব রয়েছে, তিনি ভোপাল থেকে লোকসভায় লড়ুন৷ আমি দলের সংসদীয় বোর্ড ও কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটির সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করেছি৷ তাঁদের সর্বসম্মত মত হল, কোথা থেকে লড়বেন সেটা আদবানির উপরেই ছেড়ে দেওয়া উচিত৷ উনি যা চাইবেন, দল তাকে সম্মান জানাবে৷'
রাতে আদবানিও একটি বিবৃতি দেন৷ তাতে তিনি বলেন, 'রাজনাথ সিং আমায় জানিয়েছেন, দলের গুজরাট শাখা ও কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটি চায়, আমি গান্ধীনগর থেকে লড়ি৷ সকালে নরেন্দ্র মোদী আমার বাড়িতে এসেছিলেন৷ তিনিও বলেন, গুজরাটের মানুষ চান, আমি গান্ধীনগর থেকেই আবার দাঁড়াই৷ রাজনাথ সিং আমাকে বলেন, দলের মধ্যপ্রদেশ শাখা চায়, আমি ভোপাল থেকে ভোটে লড়ি৷ দলের সহকর্মীদের এই মনোভাবে আমি অভিভূত৷ কয়েক সপ্তাহ আগে জানিয়েছিলাম যে, আমি গান্ধীনগর থেকে লড়তে চাই৷ করাচি থেকে ১৯৪৭-এ আসার পর থেকেই আমি গুজরাটের সঙ্গে যুক্ত৷ এখান থেকেই আমি লোকসভা ও রাজ্যসভার সদস্য হয়েছি৷ তাই ২০১৪ সালেও আমি গান্ধীনগর থেকেই লড়তে চাই৷'
http://eisamay.indiatimes.com/-/advani-to-fight-from-gandhinagar/articleshow/32402025.cms
No comments:
Post a Comment