Sunday, March 30, 2014

মিথ্যার বেসতি গড়েছেন তারেক ও তার দল বিএনপি

মিথ্যার বেসতি গড়েছেন তারেক ও তার দল বিএনপি

ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
একটা মিথ্যাকে ঢাকতে তোমাকে অনবরত মিথ্যা বলেই যেতে হবে। এক সময় জালে জরাতে জরাতে এমন অবস্থা হবে যে তোমাকেই সেই মিথ্যা অস্বিকার করতে হবে।

১। সূত্র: www.bangla.bdnews24.com/politics/article765009.bdnews

প্রসঙ্গ তারেক রহমান, তার মা এবং দলের ক্রমাগত মিথ্যাচার। বিএনপির পক্ষ থেকে দাবী করা হয়েছেwww.bangladeshnationalistparty-bnp.org এই সাইটটি তাদের নয়। অথচ এই সাইটের whois রিপোর্ট দেখুন যেটা তাদের নয়াপল্টনের অফিসের একই ঠিকানা এবং ফোন নাম্বার দিয়ে রেজিস্টার হয়েছে যা তাদের সাইট বলে দাবী করা www.bnpbd.org এর whois রিপোর্টের সাথে মিলে যায়। তাই খালেদা জিয়ার প্রেসসচিব মারুফ কামাল খান সোহেলের দাবী যে www.bangladeshnationalistparty-bnp.org সাইটটি তাদের নয় এটা সর্বৈব মিথ্যা।





তারেক রহমান জন্ম ২০ নভেম্বর ১৯৬৭ করাচী, পাকিস্তান। যদিও কোন কোন সূত্র তার জন্ম ১৯৬৪ সালে বলে দাবী করে সে বিতর্কে যাচ্ছি না। ২০১০ সালে প্রকাশিত একটি বইতে "আমার শিক্ষক" নামে প্রবন্ধের লেখা থেকে কোট করছি,
১৯৭৬ সালের কথা। তখন স্কুলে পড়ি। প্রতিদিনের মতো সেদিনও দু ভাই স্কুলে যাচ্ছি। সকাল ৭টায় সেদিন আমরাও বের হচ্ছি। বাবা অফিসে যাচ্ছেন। গাড়িতে গিয়ে উঠলাম। বাবা তাঁর গাড়িতে উঠলেন। তার গাড়ি বেরিয়ে যাচ্ছে। হঠাৎ তার গাড়ির ব্রেক লাইট জ্বলে উঠল। বাসার গেট থেকে বেরোবার আগেই জোর গলায় আমাদের গাড়ির ড্রাইভারকে ডাক দিলেন। সে দৌড়ে গেল। আমরা গাড়িতে বসেছিলাম, ড্রাইভার যখন ফিরে এলো চেহারা দেখে মনে হলো বাঘের খাঁচা থেকে বের হয়েছে। জিজ্ঞাস করলাম কী ব্যাপার? উত্তরে বলল, ‘স্যার বলেছেন আপনাদের এই বেলা নামিয়ে দিয়ে অফিসে গিয়ে পিএসের কাছে রিপোর্ট করতে।’


লক্ষ্য করুন, তারেক রহমান এই লেখাতে তার বাবার গাড়িতে করে অফিস যাওয়ার কথা বলছে। রাষ্ট্রপতি গাড়ি করে কোথাও অফিসে যায় বলে আমরা জানি না। তার মানে হলো ১৯৭৬ সাল পর্যন্ত জিয়া রাষ্ট্রপতি ছিলেন না। সাধারণ একটি কথোপকথনকে তারেক যেভাবে উপস্থাপন করছেন তাতে জিয়ার বদরাগী ও রুক্ষ মেজাজ এবং স্টাফদের সাথে রূঢ় ব্যবহারের প্রমাণ মিলে। তারেকের ভাষায় এই কথোপকথনকে বলা হচ্ছে, "যেন বাঘের খাঁচা থেকে বের হয়েছে"।


আরেকটি ঘটনা। বয়স কম। স্কুলে পড়ি। কিন্তু গালাগাল রপ্ত করেছি। সময় সুযোগ পেলে আক্রমণের সুযোগ হাতছাড়া করি না। সেদিনও করিনি। কারণটি পুরোপুরি মনে নেই। তবে বাসার বাইরের গেটের সামনে সন্ধ্যাবেলা পাড়ার বন্ধুদের সঙ্গে দুষ্টমি করছি। রাস্তা দিয়ে মাঝেমধ্যেই গাড়ি যাওয়া-আসা করছে, গেটে কর্তব্যরত সেনাবাহিনীর গার্ড দাঁড়িয়ে ডিউটিতে। আমাকে বলল, ‘ভাইয়া সন্ধ্যা হয়ে গেছে। ভেতরে যান।’ আর যায় কোথায়? খেলার মধ্যে বিড়ম্বনা, যা এলো মুখে স্বরচিত কবিতার মতো বলে গেলাম। খেলা শেষ। ভেতরে এলাম। ক্লান্ত। কোনোমতে পড়া শেষ করে রাতে খেয়ে ঘুম। ঘুমিয়েছিলাম বোধহয় ঘণ্টা দেড়েক। হঠাৎ মনে হলো ভূমিকম্প হচ্ছে। চোখ খুলে দেখি শিকারের সময় বাঘ থাবা দিয়ে যেভাবে হরিণ শাবক ধরে, বাবা ঠিক সেভাবে হাত দিয়ে আমার মাথার চুল ধরে টেনে তুললেন এবং বাঘের মতো গর্জন করে বললেন, ‘কেন গাল দিয়েছিস? ওকি তোর বাপের চাকরি করে? যা মাফ চেয়ে আয়।’ মাকে বললেন, ‘যাও ওকে নিয়ে যাও। ও মাফ চাইবে তারপর ঘরে ঢুকবে।’ মা আমাকে নিয়ে গেলেন সামনের বারান্দায়। বিনা দোষে গাল খাওয়া ব্যক্তিটিকে ডেকে আনা হলো। যদিও লোকটি অত্যন্ত ভদ্রতার সঙ্গে মাকে বলল, ‘না ম্যাডাম, ভাইয়ার কথায় আমি কিছু মনে করিনি। ছোট মানুষ। ওমন করেই।’ জানি না তিনি আজ কোথায়। তবে ২৫ বছর পরে আজ যদি বেঁচে থাকেন এবং এই লেখা পড়েন তবে বলছি, সেদিন না বুঝে যা বলেছি, তার জন্য আমি আপনার কাছে ক্ষমাপ্রার্থী।


ঘুমের মাঝে থেকে চুল ধরে ছেলেকে টেনে তুলার অর্থ হলো সে অত্যন্ত সিভিয়ার কোন ধরনের ক্রাইম করেছে। যদিও তারেক তার খিস্তি খেউড়কে "স্বরচিত কবিতা" বলেছেন কিন্তু, ঘটনার বর্ণনা শুনে আপনিই অনুমান করুন যে তারেক কী ধরনের অশ্রাব্য ভাষায় সেনাবাহিনীর গার্ডকে গালাগাল দিয়েছিলো। এ থেকে বুঝা যায় তারেক সেনাবাহিনীর সদস্যদের সাথে কী দুর্ব্যবহারই না করতো। শেষ লাইন থেকে আরও বুঝা যায়, সেদিন তারেক মা-বাবার অবাধ্য হয়েছিলো এবং ঐ জোয়ানের কাছে ক্ষমা চায়নি। ২৫ বছর পর অর্থ্যাৎ ২০০২ সালের দিকে নিজেকে মহানুভব সাজানোর চেস্টা থেকে সে তার লেখায় ক্ষমাপ্রার্থী শব্দটা ব্যবহার করেছে মাত্র। এ পর্যন্ত এও বুঝা যায় ১৯৭৬ সালের শেষ পর্যন্ত তার বাবা রাষ্ট্রপতি ছিলো না।

অনেক ঘটনার মধ্যে আরেকটি ঘটনা। তখন বাবা প্রেসিডেন্ট। হঠাৎ বিটিভি থেকে খবর এলো, গেলাম। তারা বললেন, গান গাইতে হবে। বয়স কম। গানের ‘গ’ও পারি না। তাও আবার টিভিতে। আমাকে পায় কে। প্রযোজক বললেন, কিচ্ছু না। আমি ঠিকই গান গাইয়ে নেব প্রেসিডেন্টের ছেলেকে দিয়ে এবং সুন্দর গান হবে। বুঝতেই পারছেন সবাই, কি গান গাইলাম। পরে যখন নিজে দেখলাম ও শুনলাম, মনে হল সেই মুহূর্তে টিভি স্টেশনের কারেন্ট চলে গেলে ভালো হতো। যদিও রাতে স্বপ্ন দেখলাম বিরাট গায়ক হয়ে গেছি। কদিন পর প্রযোজককে ফোন করলাম, ‘চাচা, আবার কবে গান গাইব?’ উনি বললেন, ‘বাবা, প্রেসিডেন্টের পিএ ফোন করে তোমাকে টিভিতে অনুষ্ঠান দিতে বারণ করেছেন।’ বেশ গায়ক হবার খায়েস মিটে গেল।


এই ঘটনা ১৯৭৭ সালের। বিটিভির আর্কাইভে তারেকের সেই গানের রেকর্ড রয়েছে। ছোট বেলা থেকেই সে যে ক্ষমতার অপব্যবহার করতো তা এই লেখার মাধ্যমে প্রমাণ হয়। সেই সাথে লক্ষনীয় যে সে তার বাবাকে এখন প্রেসিডেন্ট বলছে। যদি ২য় বারের মত প্রেসিডেন্ট হতো তবে সেটা সে অবশ্যই উল্লেখ করতো। তাই তারেকের নিজের লেখাই প্রমাণ করে তার বাবা বাংলাদেশের ৭ম প্রেসিডেন্ট এবং সেটা ১৯৭৭ সালে।

সূত্র: আমার শিক্ষক, তারেক রহমান: অপেক্ষায় বাংলাদেশ; সম্পাদনায়ঃ ড. এমাজউদ্দীন আমহদ, অধ্যাপক মাজিদুল ইসলাম, শওকত মাহমুদ ও আব্দুল হাই শিকদার, জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন, ঢাকা, ফেব্রয়ারী ২০১০, পৃষ্ঠা-৪৪০

সূত্র: https://web.archive.org/web/20140308220149/http://bnpbd.org/news/details/118



এবার আরেক মিথ্যাবাদি সহ-দপ্তর সম্পাদক আব্দুল লতিফ জনির বক্তব্য। সে দাবী করছে, www.bnpbd.org"দেড়মাস ধরে এই সাইটে নির্মাণকাজ চলার জন্য এটি বন্ধ রয়েছে"। যা একটি ডাহা মিথ্যা কথা। কারণ আপনারা www.archive.org এ গিয়ে যদি www.bnpbd.org সার্চ করেন তবে সেখানে দেখতে পাবেন তারা ৮ মার্চ ২০১৪ তারা সর্বশেষ আর্কাইভ রেখেছে। বাস্তবে এটি আরও পরে পর্যন্ত সচল ছিলো। তারেক রহমান এবং তার মা জিয়াকে প্রথম রাষ্ট্রপতি দাবী করে মিথ্যা প্রচারণা শুরুর সাথে সাথেই এই সাইটটি তারা বন্ধ করে দেয়। কিন্তু সাইট বন্ধ করে যে ইতিহাস পাল্টানো যায় না তা এই মা-পুত্রের হয়তো জানা নেই। ৮ তারিখের রেকর্ড থেকে দেখা যায় সাইটটির পরিচিতি সেকশনের ইতিহাস সাব সেকশনে "প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব গ্রহণ" অংশে বলা হয়েছে, "২১ এপ্রিল ১৯৭৭ প্রেসিডেন্ট বিচারপতি সায়েম ভগ্নস্বাস্থ্যের কারণে দায়িত্ব ত্যাগ করে জেনারেল জিয়াউর রহমানকে প্রেসিডেন্ট পদে মনোনিত করেন। সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল জিয়াউর রহমান বঙ্গভবনে অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের নতুন প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেন। ২২ এপ্রিল জিয়াউর রহমান প্রেসিডেন্ট হিসেবে জাতির উদ্দেশ্যে প্রথম বেতার ও টেলিভিশনে ভাষণ দেন।"

সূত্র: www.web.archive.org/web/20140308210720/http://bnpbd.org/page/details/249

মিথ্যাবাদি এই দল বিএনপিকে বর্জন করুন।

মন্তব্য


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

বিএনপি মিথ্যার বেসাতি করেও ২য় বৃহত্তম দল। এর দায় কি লীগ এড়াতে পারে? কেন ঘুরে ফিরে অর্ধশিক্ষিত এক নেতার অধীনে বার বার দেশ জিম্মি হয়? দেশে আজ উপযুক্ত বিরোধীদল নেই বলেই লীগের মানও অনেক নীচে। দেশে ডাকসুসহ কোন ছাত্র রাজনীতিতে নির্বাচন হয় না, এটা কি স্বাভাবিক? যুগে যুগে আমরা তারেক, না হয় জয়কে নেতা মানতে বাধ্য! এ রাজনীতি থেকে দেশ কি আশা করতে পারে?

ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

ইমো ভাই কুকুর জন্ম সালটা জানলে একটু জানান।

লেখার জন্য ধন্যবাদ।
জয় বাংলা,জয় বঙ্গবন্ধু

https://www.amarblog.com/iftheker/posts/178302

No comments:

Post a Comment