Tuesday, March 25, 2014

ইসলামী দলগুলোকে নমনীয় রাখতে সরকারের উদ্যোগ

ইসলামী দলগুলোকে নমনীয় রাখতে সরকারের উদ্যোগ

হেফাজতসহ ছোট ছোট ইসলামী দলগুলোকে যে কোনো মূল্যে নিয়ন্ত্রণে রাখার কৌশল নিয়েছে সরকার। সম্ভাব্য রাজপথের আন্দোলন নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি সমঝোতারও চেষ্টা চালাচ্ছে প্রশাসন। ইসলাম ধর্ম ও আলেম-ওলামা সম্পর্কে বক্তব্য-বিবৃতির ব্যাপারেও সতর্কতা অবলম্বন করছেন সরকারের দায়িত্বশীলরা। বরং ইসলামের পক্ষে এ সরকারের ইতিবাচক কর্মকা-গুলো ব্যাপকভাবে প্রচারের চেষ্টা চলছে। এজন্য ওলামা নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করছেন সংশ্লিষ্টরা। ইসলামী দলগুলো আগামীতে যেন আর রাস্তায় না নামে সেজন্য প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বলে সরকারি একটি গোয়েন্দা সংস্থা সূত্র জানিয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ইসলামী দলগুলোও আপাতত সরকারবিরোধী কোনো কর্মসূচি না দিয়ে কৌশলী অবস্থানে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানা গেছে।
সরকারের পক্ষ থেকে সমঝোতা প্রস্তাব পাওয়ার কথা স্বীকার করে হেফাজতে ইসলামের উপদেষ্টা ও ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান মাওলানা আবদুল লতিফ নেজামী বলেন, এ ধরনের প্রস্তাব বেশ আগেই দেয়া হয়েছে। তবে কোনো সমঝোতা হয়েছে বলে জানা নেই। আমাদের দাবিগুলো মেনে নিলেই আর কোনো আন্দোলনের প্রয়োজন
হবে না বলে সরকারি মহলকে জানিয়ে দেয়া হয়েছে। ইসলামী দলগুলোর বর্তমান কৌশলী অবস্থান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বড় দলগুলোকেই যেখানে সরকার রাজপথে নামতে দিচ্ছে না, সেখানে ইসলামী দলগুলোর কী করার আছে? আমাদের অফিসেও কোনো কর্মসুচি বাস্তবায়ন করতে দেয়া হচ্ছে না। এ অবস্থায় সরকারের কর্মকা- পর্যবেক্ষণ ও মাঠে নামার উপযুক্ত পরিবেশের জন্য ইসলামী দলগুলো অপেক্ষা করছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
শনিবার ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আলোচনা সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বর্তমান সরকার মদিনা সনদ অনুসারে দেশ চালাবে। কোরআন-সুন্নাহবিরোধী কোনো আইন করা হবে না। ইসলামের নামে সন্ত্রাস ও ষড়যন্ত্রকারী এবং জঙ্গিবাদীদের ব্যাপারে সতর্ক থাকার জন্য আলেমদের প্রতি আহক্ষান জানান তিনি। প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্যকে ইতিবাচক ও সরকারের কৌশলী অবস্থানের অংশ হিসেবে দেখছেন ইসলামী দলের নেতারা।
এ বিষয়ে খেলাফত আন্দোলনের মহাসচিব ও হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা জাফরুল্লাহ খান বলেন, মদিনা সনদ অনুযায়ী দেশ চালানোর যে কথা প্রধানমন্ত্রী বলেছেন তা আমরা ইতিবাচক হিসেবে দেখতে চাই। আমরা তো এটাই চাই। প্রধানমন্ত্রী তার কথার বাস্তবায়ন করলে তো আর আমাদের কোনো দাবি থাকতে পারে না। সমঝোতার মাধ্যমে ইসলামী দলগুলোকে সরকার নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা চালাচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
হেফাজতের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, সরকারের উচ্চ পর্যায়ের একজন কর্মকর্তা সম্প্রতি হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা শাহ আহমদ শফীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এসময় রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রাম থেকে বিরত থাকার আহক্ষান জানান ওই কর্মকর্তা। এই আহক্ষানে সাড়া দেয়ার শর্ত হিসেবে হেফাজতের পক্ষ থেকে আটক নেতাদের মুক্তি ও দায়েরকৃত সব মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়। এ দাবি মেনে নেয়ার আশ্বাস দিয়ে আটক নেতাদের তালিকা চাওয়া হয় পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে। হেফাজতের পক্ষ থেকে দেয়া তালিকা অনুযায়ী আটক নেতাদের মুক্তির ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এছাড়া হেফাজত ও বিভিন্ন ইসলামী দলের নেতাদের বিরুদ্ধে অসংখ্য মামলা থাকলেও তাদের আপাতত আর গ্রেফতার বা হয়রানি করা হবে না বলেও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
সূত্রমতে, হেফাজতের পক্ষ থেকে কারাগারে আটক ১৮ জনের প্রাথমিক একটি তালিকা দেয়া হয়। এর মধ্যে এ পর্যন্ত আটজন মুক্তি পেয়েছেন। তবে তালিকাভুক্ত হারুন বিন ইজহারসহ কয়েকজনের মুক্তির ব্যাপারে সরকার এখনও অনমনীয় অবস্থানে আছে বলে জানা গেছে। আর মুফতি ওয়াক্কাসসহ বাকিরা শিগগিরই মুক্তি পাবেন বলে হেফাজত নেতারা আশা প্রকাশ করছেন।
গত বছর ৫ মে রাজধানীর মতিঝিলে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশকে কেন্দ্র করে অপ্রীতিকর ঘটনার পর থেকেই ইসলামী দলগুলোর ব্যাপারে কঠোর অবস্থান নেয় সরকার। মামলা করা হয় হাজার হাজার নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে। গ্রেফতার হয়ে কারাগারে যান অনেকে। গ্রেফতার আতঙ্কে আত্মগোপন করেন শীর্ষ নেতারা। এরপর থেকে আর রাজপথে দেখা যায়নি ইসলামী দলগুলোকে। কয়েক দফা চেষ্টা করেও প্রশাসনের তৎপরতায় শেষ পর্যন্ত ঘোষিত বিভিন্ন কর্মসূচি পালনে ব্যর্থ হয় হেফাজত ও কয়েকটি ইসলামী দল। বর্তমান মহাজোট সরকার নতুন করে ক্ষমতায় আসার পর ইসলামী দলগুলোও নতুন কৌশলে চলা শুরু করেছে। সরকারের বিপক্ষে না গিয়ে নমনীয় অবস্থানে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারা। সরকারি একটি গোয়েন্দা সংস্থার ব্যবস্থাপনায় হেফাজতের কয়েকজন নেতা এরই মধ্যে ওমরাহ পালন করে এসেছেন বলেও সংশ্লিষ্ট মহল জানিয়েছে।
http://www.alokitobangladesh.com/last-page/2014/03/25/61717
__._,_.___

No comments:

Post a Comment