উদ্বোধনের অপেক্ষায় স্বাধীনতা স্তম্ভ
নিজামুল হক বিপুল
অবশেষে পূর্ণতা পেল 'স্বাধীনতা স্তম্ভ'। শুধু আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের অপেক্ষা। প্রধানমন্ত্রী সময় দিলেই উদ্বোধন করা হবে 'স্বাধীনতা স্তম্ভ'র। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিকে নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরতে প্রায় ১৫ বছর আগে রাজধানীর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে নির্মাণ কাজ শুরু করা হয় মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত 'স্বাধীনতা স্তম্ভ'র। অনেক চড়াই-উতরাই পেরিয়ে অবশেষে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হয়েছে। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে নির্মাণ করা হয়েছে এই প্রকল্পের মূল আকর্ষণ ১৫০ ফুট উচ্চতার কাচের তৈরি টাওয়ার 'গ্লাস টাওয়ার'। এই টাওয়ার নির্মাণেই গত চার বছরের বেশি সময় ধরে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়। এটি নির্মাণ করতেই যত বিলম্ব হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ১৯৯৮ সালে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে 'স্বাধীনতা স্তম্ভ' নির্মাণ প্রকল্প নামে এ প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। এর আওতায় প্রথমে ১০০ ফুট গ্লাস টাওয়ার, ভূ-গর্ভস্থ জাদুঘর, প্লাজা চত্বর, ঝর্নাধারা, ভিআইপি ও সার্ভিস ব্লক, উন্মুক্ত মঞ্চ, ওয়াটার বডি, কেন্দ্রের শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, সিসিটিভি, ফায়ার ফাইটিং, সাউন্ড সিস্টেম, শব্দ নিরোধ ব্যবস্থা, ম্যুরাল তৈরি, শিখা চিরন্তন ও ওয়াকওয়ে নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। শুরুতে ১৯৯৯ সালে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় এটি বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া শুরু করে। প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের ২৪ একর জমির মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা নেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত এর আয়তন বাড়িয়ে করা হয়েছে ৬৭ একর। ২০০১ সালে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় গঠন করা হলে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় পুরো কাজ হস্তান্তর করে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের কাছে। এরপর সরকার পরিবর্তনের কারণে স্বাধীনতা স্তম্ভ নির্মাণের কাজ বাধাগ্রস্ত হয়। প্রথম পর্যায়ে এ প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছিল ৮১ কোটি ২৭ লাখ ৩৯ হাজার টাকা। ২০০৭ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত প্রকল্পের কিছু কাজ পুরোপুরি এবং কিছু কাজ আংশিক সম্পন্ন হয়।
সূত্র জানায়, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর স্বাধীনতা স্তম্ভ নির্মাণ প্রকল্প দ্বিতীয় পর্যায় নামে ২০০৯ সালের ১১ আগস্ট একনেক বৈঠকে প্রকল্পের অনুমোদন দেয়। প্রকল্প ব্যয় বাড়িয়ে পূর্বের ৮১ কোটি টাকার স্থলে ১৮১ কোটি ৬১ লাখ টাকা অনুমোদন দেওয়া হয়। দ্বিতীয় পর্যায়ে প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত করা হয় ১৫০ ফুট উচ্চতার গ্লাস টাওয়ার (যেটি হবে স্বাধীনতা স্তম্ভ)। প্রকল্প বাস্তবায়ন হওয়ার কথা ছিল ২০১২ সালে। এখন এর সবগুলোই সম্পন্ন হয়ে গেছে। তবে মিউজিয়ামের কাজ কিছুটা বাকি আছে। এ কাজ করছে বাংলাদেশ জাদুঘর। প্রকল্পের পরিচালক মিজান উল আলম গতকাল বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ইতোমধ্যে এ প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায়ের প্রায় সব কাজ শেষ হয়েছে। 'ফিনিশিং' এর মতো ছোটখাটো কিছু বাকি আছে। তবে প্রকল্পের মূল কাজ গ্লাস টাওয়ারসহ অন্য কাজ শেষ হয়েছে। এখন শুধু উদ্বোধনের অপেক্ষা। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইতোমধ্যে গত ৭ মার্চ প্রকল্পের সব কাজ সরেজমিন ঘুরে দেখেছেন। এখন প্রধানমন্ত্রী সময় দিলেই এটি আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হবে।
এদিকে মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানায়, এই প্রকল্পকে চূড়ান্ত রূপ দিতে হলে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ঘিরে আরও বেশ কিছু কাজ করতে হবে। তাহলে এর দৃষ্টিনন্দন রূপ দেখা যাবে। এ জন্য নতুন করে প্রকল্প নিতে হবে। নকশা প্রণয়ন করতে হবে। এটা বেশ সময় সাপেক্ষ ব্যাপার। বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীকে জানানো হয়েছে বলেও জানা গেছে।

No comments:
Post a Comment