মহান স্বাধীনতা দিবস

আজ ২৬ মার্চ। মহান স্বাধীনতা দিবস। জাতি এ বছর গৌরবদীপ্ত স্বাধীনতার ৪৩তম বার্ষিকী পালন করছে। স্বাধীনতা যে কোনো জাতির সবচেয়ে বড় অর্জন। বাঙালি জাতির ৫ হাজার বছরের ইতিহাসের এটি সবচেয়ে উজ্জ্বল ঘটনা। এ দেশের মানুষ স্বাধীনতা অর্জন করেছে রক্তস্নাত পথ ধরে। স্বাধীনতার জন্য ৩০ লাখ মানুষকে আত্দোৎসর্গ করতে হয়েছে। ১৯৭০-এর নির্বাচনে নিরঙ্কুশভাবে জয়ী আওয়ামী লীগের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে অস্বীকার করে পাকিস্তানি সামরিক জান্তা। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ তারা রাতের অাঁধারে ঝাঁপিয়ে পড়ে ঘুমন্ত মানুষের ওপর। শুরু হয় ইতিহাসের সবচেয়ে বর্বরতম গণহত্যা। জাতির এ ক্রান্তিলগ্নে ২৬ মার্চের শুরুতেই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। ডাক দেন সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের। দীর্ঘ নয় মাসের মুক্তিযুদ্ধ শেষে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর আত্দসমর্পণের মাধ্যমে অর্জিত হয় মুক্তিযুদ্ধের মহিমান্বিত বিজয়। মহান স্বাধীনতার এই দিনে আমরা স্মরণ করছি সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধুকে। স্মরণ করছি মুক্তিযুদ্ধের ৩০ লাখ শহীদ এবং পাকিস্তানি হানাদারদের দ্বারা নিগৃহীত দুই লাখ মা-বোনকে। কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করছি মুক্তিযুদ্ধের বন্ধু-সুহৃদ, বিশাল হৃদয় বিদেশি বন্ধুদের। একটি সুখী ও সমৃদ্ধশালী বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা ছিল মুক্তিযুদ্ধের স্বপ্ন। সেই স্বপ্ন পূরণে দেশ গত ৪৩ বছরে যতটুকু এগিয়ে যাবে বলে আশা করা হয়েছিল তা সম্ভব হয়নি জাতীয় নেতৃত্বের ব্যর্থতার কারণে। স্বাধীনতার সুফল দেশের প্রতিটি মানুষের কাছে পেঁৗছে দেওয়ার অঙ্গীকার এখনো পূরণ হয়নি। ৪৩তম স্বাধীনতা দিবসে এ ব্যর্থতা কীভাবে কাটিয়ে ওঠা যায় সে বিষয়ে মূল্যায়ন হওয়া উচিত। জাতি এ বছর এমন এক সময় ৪৩তম স্বাধীনতা দিবস পালন করছে যখন মুক্তিযুদ্ধে মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের দায়ে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চলছে। ইতোমধ্যে এক শীর্ষ যুদ্ধাপরাধীর বিচারের রায় কার্যকর হয়েছে। দেশ ও জাতির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতাকারী যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের মাধ্যমে দেশকে কলঙ্কমুক্ত করার এ প্রয়াসের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চালাচ্ছে পাকিস্তানি বশংবদরা। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার নস্যাৎ করতে তারা সন্ত্রাস ও অন্তর্ঘাতের আশ্রয় নিয়ে দেশজুড়ে তাণ্ডব চালিয়েছে। দেশের অর্থনীতিকেও ঝুঁকির মধ্যে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা চলেছে। এই অশুভ শক্তির মোকাবিলায় দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী প্রতিটি মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। ৩০ লাখ মানুষের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতা রক্ষায় সন্ত্রাস ও অন্তর্ঘাতমূলক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত অপশক্তিকে রুখতে হবে।
No comments:
Post a Comment