Tuesday, August 5, 2014

পিনাকের সন্ধান মেলেনি ০ উদ্ধারের আশা ক্ষীণ ০ সরকারী হিসেবে এখনও নিখোঁজ ১৩৩ ০ আর কারও বেঁচে থাকার সম্ভাবনা নেই ॥ নৌমন্ত্রী ০ লঞ্চ মালিকসহ ৬ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের

পিনাকের সন্ধান মেলেনি
০ উদ্ধারের আশা ক্ষীণ 
০ সরকারী হিসেবে এখনও নিখোঁজ ১৩৩
০ আর কারও বেঁচে থাকার সম্ভাবনা নেই ॥ নৌমন্ত্রী
০ লঞ্চ মালিকসহ ৬ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের
মীর নাসিরউদ্দিন উজ্জ্বল/আরাফাত মুন্না, মাওয়া থেকে ॥ মাওয়ার কাছে মাঝপদ্মায় তিন শতাধিক যাত্রী নিয়ে এমএল পিনাক-৬ ডুবে যাওয়ার ঘটনায় সরকারী হিসাবে এখনও ১৩৩ নিখোঁজ রয়েছে। মৃতের সংখ্যা ২। রাত সোয়া একটায় লঞ্চটির খোঁজ মেলেনি। সন্ধ্যায় লঞ্চের মালিকসহ ৬ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। এর আগে ক্ষুব্ধ স্বজনরা সকাল পৌনে ৮টা থেকে পৌনে ৯টা পর্যন্ত মাওয়া ঘাটের মুখে পদ্মা রেস্ট হাউসের সামনের রাস্তা অবরোধ করে। এতে যানজট সৃষ্টিসহ ফেরিঘাট থেকে যানবাহন আসা-যাওয়া বন্ধ হয়ে যায়। পরে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। এর আগে সোমবার রাত আড়াইটার দিকে একই স্থানে ‘দ্রুত লঞ্চ উদ্ধারের’ দাবিতে সড়ক অবরোধ করে নিখোঁজদের স্বজনরা। পরে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে ১৫ মিনিট পর তা সরিয়ে নেয়া হয়।
লঞ্চডুবির একদিন পার হয়ে গেলেও উদ্ধারকাজে তেমন কোন অগ্রগতি নেই। এখনও পর্যন্ত ডুবে যাওয়া লঞ্চটিই শনাক্ত করা যায়নি। সকাল সাড়ে ৯টায় উদ্ধারকারী জাহাজ নির্ভীক ঘটনাস্থলে এসে পৌঁছায়। এদিকে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে জরিপ-১০ নামে শনাক্তকারী যে জাহাজ মাওয়ায় আসার কথা ছিল বৈরী আবহাওয়ার কারণে সেটি ফিরে গেছে। এর বদলে অন্য একটি জাহাজ কান্ডারী-২ আসছে। মন্ত্রী আশঙ্কা করে বলেন, পদ্মায় এখন প্রচ- ঘূর্ণিস্রোত। এতে নদীর তলদেশে প্রতিনিয়ত বালি ও পলি জমছে। যদি ডুবে যাওয়া লঞ্চটি এই পলি বা বালির নিচে পড়ে যায় তাহলে লঞ্চটি উদ্ধার করা কঠিন হবে। তিনি নদী তীরে অপেক্ষমাণ স্বজনদের খোঁজখবর নেন এবং উদ্ধারকাজ দ্রুততর করার বিষয়ে আশ্বস্ত করেন।
পিনাক-৬ লঞ্চটির বর্তমান মালিক এবি সিদ্দিক কালু মেদিনীম-ল ইউপি বিএনপির সহসভাপতি। বাড়ি মাওয়া ঘাটের কাছে দক্ষিণ মেদিনীম-ল গ্রামে। তাঁর আরও একটি লঞ্চ রয়েছে এই রুটে। এটির নাম মাওয়া এক্সপ্রেস।
রাতভর বোটে করে ডুবন্ত লঞ্চটি খোঁজা হলেও সকাল থেকে তা আরও ব্যাপকভাবে শুরু হয়। বিআইডব্লিউটিএ, নৌবাহিনী ও ফায়ার সার্ভিসের ১৩ ডুবুরি স্পিডবোট নিয়ে নানা কৌশলে লঞ্চটি খোঁজার কাজ করছেন। এ ছাড়া অস্ট্রেলিয়া থেকে সম্প্রতি আমদানি করা বিআইডব্লিউটিএ ‘সাউন্ড স্ক্যানার সোনার’ যন্ত্র ব্যবহার করে লঞ্চটি শনাক্তের চেষ্টা চলছে। মুন্সীগঞ্জের জেলা প্রশাসক সাইফুল হাসান বাদল এ সব তথ্য নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, বর্তমানে নিখোঁজের তালিকায় রয়েছে ১২৭। ১শ’ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার লাশ দুটির পরিচয় পাওয়া গেছে। তারা হলেন মাদারীপুর জেলার শিবচর উপজেলার উতরাইল গ্রামের আলম শেখের স্ত্রী হাসি বেগম (৫০)। তিনি তাঁর ভাই হান্নানের বাড়ি টঙ্গীতে যাচ্ছিলেন। অপরজন শিবচর উপজেলার কাদেরপুর গ্রামের নুরুল হকের কন্যা নুসরাত জাহান হিরা (২০)। হিরা শিকদার মেডিক্যাল কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী। ঈদের ছুটি শেষে সে ঢাকা যাচ্ছিল।
মাওয়া ঘাটের শেডের নিচে অপেক্ষমাণ সহস্রাধিক মানুষ কেউ ট্রলার ও কেউ স্পিডবোট নিয়ে পদ্মায় স্বজনদের খুঁজে ফিরছেন। স্বজনদের বুকফাটা আর্তনাদ ও গগনবিদারী আহাজারিতে পদ্মাপারের বাতাস ভারি হয়ে উঠেছে।
বিআইডব্লিউটিএর পরিচালক শফিকুল হক জানিয়েছেন, মাওয়া লঞ্চঘাট থেকে পৌনে ১ কিলোমিটার দূরে লৌহজং চ্যানেলে লঞ্চটি ডুবেছে-এমন একটি ধারণা রেখে লঞ্চটি চিহ্নিত করার কাজ চলছে। তবে এখানে পানির গভীরতা ৮০ থেকে ৯০ ফুট। এখানে প্রবল ঘূর্ণিস্রোত। নদীর তলদেশে বেশ বালিও জমা হচ্ছে।
উদ্ধারকারী জাহাজ নির্ভীকের কমান্ডার ফজলুর রহমান জানান, সাউন্ড স্ক্যানার দিয়ে এ পর্যন্ত ঘটনাস্থলের চারপাশের ৭-৮ কিলোমিটার এলাকা সার্চ করা হয়েছে। লঞ্চটির সন্ধান মেলেনি।
উদ্ধার কাজে যেসব যন্ত্রপাতি ব্যবহৃত হচ্ছে ॥ সেনাবাহিনীর ৫০, নেভির ২৫, ফায়ার সার্ভিসের ৫৯, পুলিশ ২২৫, কোস্টগার্ড ২০ ও নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ও বিআইডব্লিউটিএর ২৫০ জনসহ মোট ৬২৯ সদস্য দুর্ঘটনাকবলিত লঞ্চ উদ্ধারের কাজ করছেন। এ ছাড়া সিভিল প্রশাসন, স্বাস্থ্য বিভাগ ও রেড ক্রিসেন্টসহ বিভিন্ন সংস্থা উদ্ধার কাজে অংশ নিচ্ছে।
নেভির দুটি ও বিআইডব্লিউটিএর একটি মোট তিনটি সাউন্ড স্ক্যানার সোনার দিয়ে ডুবে যাওয়া লঞ্চটি অনুসন্ধানের চেষ্টা চলছে। এ ছাড়া ডুবুরিরা ২০ সেট স্কুভা ড্রাইভিং সেট ব্যবহার করছে। আধুনিক উদ্ধারকারী জাহাজ নির্ভীকের সঙ্গে সেট করা রয়েছে সোনার স্ক্যানার। এই যন্ত্রের ক্যাপাসিটি ৭৫ মিটার করে দুই পাশে ১৫০ মিটার এলাকা। জেলা প্রশাসক সাইফুল হাসান এ সব তথ্য দিয়ে জানান, এ পর্যন্ত সম্ভাব্য দুর্ঘটনাস্থল থেকে চার কিলোমিটার এলাকায় নদীর তলদেশে সন্ধান চালানো হয়েছে। তবে এখন জাল ফেলে চিরুনি অভিযানের ব্যাপারে পরিকল্পনা চলছে।
নিখোঁজদের সন্ধানে হেলিকপ্টার ॥ এমএল পিনাক-৬ ডুবে যাওয়ার ঘটনায় নিখোঁজদের সন্ধানে মাঠে নেমেছে হেলিকপ্টার। সোমবার পিনাক-৬ ডুবে যাওয়ার পর থেকেই লঞ্চডুবির স্থান ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় নিখোঁজদের খুঁজে বের করতে টহল দেয় র‌্যাব ও পুলিশের দুটি হেলিকপ্টার। মঙ্গলবারও নৌবাহিনীর একটি হেলিকপ্টার লঞ্চ ডুবে যাওয়ার স্থান ও আশপাশের এলাকায় সন্ধান চালায়।
স্বজনদের সড়ক অবরোধ ॥ মাওয়া ফেরিঘাটের অদূরে পদ্মায় তলিয়ে যাওয়া এমএল পিনাক-৬ লঞ্চ উদ্ধার কার্যক্রমে ধীরগতি ও অবহেলার অভিযোগ তুলে মাওয়া ঘাট সংলগ্ন সড়ক অবরোধ করেছে বিক্ষুব্ধ স্বজন এবং স্থানীয়রা। এতে কয়েক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে যানজটের সৃষ্টি হয়। আটকে পড়ে ৩৫০-৪০০টি গাড়ি। দুই দফায় এ অবরোধ করে স্বজনরা।
সাংবাদিকদের ওপর হামলা ॥ পিনাক-৬ পদ্মায় তলিয়ে যাওয়ার ঘটনায় বিভ্রান্তিকর সংবাদ পরিবেশনের অভিযোগ এনে মাওয়া ঘাটে পেশাগত দায়িত্বরত সাংবাদিকদের ওপর হামলা চালিয়েছেন ক্ষুব্ধ স্বজনরা। এতে বেসরকারী টেলিভিশন চ্যানেল বাংলাভিশনের সিনিয়র রিপোর্টার সিকান্দার রেমান ও ক্যামেরাপার্সন মনিরুল ইসলাম আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার সকাল ৯টার দিকে মাওয়াসংলগ্ন পদ্মাপারে সাংবাদিকদের ওপর এ হামলার ঘটনা ঘটে। এ বিষয়ে সিকান্দার রেমান সাংবাদিকদের বলেন, দুটি শীর্ষস্থানীয় জাতীয় দৈনিক জীবিত উদ্ধারের সংখ্যা বাড়িয়ে লেখায় স্বজনরা সাংবাদিকদের ওপর এ হামলা চালিয়েছে। এ ঘটনার দায় ওই পত্রিকা দুটির। পরে উদ্ধার তৎপরতা পরিদর্শনে গেলে নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খানকে এ বিষয়ে সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে অবহিত করে নৌবাহিনীর একটি বিশেষ টিম।
নৌমন্ত্রীর তিন ভাগ্নি ছিল পিনাক-৬ লঞ্চে ॥ মাওয়ায় সোমবার ডুবে যাওয়া লঞ্চ ‘পিনাক-৬’-এ নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খানের তিন ভাগ্নি ছিল। তাদের মধ্যে একজনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। অন্য দুইজন এখনও নিখোঁজ। মঙ্গলবার দুপুরে মাওয়ায় অবস্থানকালে শাজাহান খান সাংবাদিকদের এ কথা জানান। মাদারীপুর থেকে একই তথ্য জানিয়েছেন আমাদের সংবাদদাতা সুবল বিশ্বাস।
নৌপরিবহনমন্ত্রী বলেন, ‘লঞ্চডুবির ঘটনায় কোন কোন পরিবারের ১০ জন পর্যন্ত লোক নিখোঁজ হয়েছে। এমনকি আমার খালাত বোনের তিন মেয়েও লঞ্চে ছিল। এর মধ্যে একজন শিকদার মেডিক্যালের ছাত্রী, আরেকজন একটি কলেজের ছাত্রী। অন্যজন গ্রামে পড়াশোনা করে। তাদের নাম স্বর্ণা, হিরা ও লাকি।’ এদের মধ্যে শিকদার মেডিক্যালের ছাত্রী নূসরাত জাহান হিরার লাশ সোমবার উদ্ধার করা হয়েছে। বাকি দুইজন এখনও নিখোঁজ।
শাজাহান খান সাংবাদিকদের বলেন, ‘লঞ্চটিতে কাওড়াকান্দি ঘাট থেকে দেড় শ’ বা ১৬০ জন যাত্রী ওঠে। যদি ওই যাত্রী নিয়ে আসত, তাহলে এত বড় দুর্ঘটনা ঘটত না। কাঁঠালবাড়ি ঘাটে এসে আরও ৮০ থেকে ১০০ জন যাত্রী লঞ্চে উঠানো হয়। এতে সব মিলিয়ে ২৫০ জনের মতো যাত্রী ছিল ওই লঞ্চে। এর মধ্যে নিখোঁজ যাত্রীর সংখ্যা ১২৫ জন, উদ্ধার হওয়া যাত্রীর সংখ্যা ১১০ জন। আমরা আগেই ধারণা করেছিলাম, ডুবে যাওয়া লঞ্চে যাত্রীর সংখ্যা ২০০ থেকে ২৫০ জন হবে।’ সন্ধ্যায় বিবিসিকে দেয়া সাক্ষাতকারে নৌমন্ত্রী শাজাহান খান ‘আর কারও বেঁচে থাকার সম্ভাবনা নেই’ বলে জানান।
নৌমন্ত্রী যা বললেন ॥ নৌবাহিনীর বিশেষ জাহাজ তাদের সাউন্ড স্ক্যানার ‘সোনার’ ও হাইড্রোগ্রাফিক সার্ভের মাধ্যমে লঞ্চ শনাক্ত করার চেষ্টা চালাচ্ছে বলে জানিয়েছেন নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান। মঙ্গলবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এ কথা জানান তিনি।
শাজাহান খান বলেন, সেনাবাহিনীর এ বিশেষ স্ক্যানার দিয়ে আশপাশের প্রায় ১৫০ গজ পর্যন্ত জায়গা স্ক্যান করা যায়। এ স্ক্যানার দিয়ে কাজ চলছে। তবে এখনও ডুবে যাওয়া লঞ্চের সন্ধান পাওয়া যায়নি। তিনি আরও বলেন, শরীয়তপুর থেকে চাঁদপুর পর্যন্ত সব জায়গায়ই স্ক্যান করা হবে।
বিআইডব্লিউটিএ থেকে নিহতের স্বজনদের মধ্য থেকে ২৫ জনকে ১ লাখ ৫ হাজার টাকা করে পুনর্বাসনের জন্য দেয়া হবে। এ ছাড়া জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে প্রতি লাশের সঙ্গে ২০ হাজার টাকা করে দেয়া হচ্ছে। উল্লেখ্য, লঞ্চডুবির পর থেকে সর্বক্ষণিক উদ্ধার অভিযান তদারক করছেন নৌপরিবহনমন্ত্রী।
মাঝপথে শতাধিক যাত্রী তোলা হয় ॥ বিডিনিউজ জানায়, কাওড়াকান্দি থেকে মাওয়া আসার পথে লঞ্চ পিনাক-৬ আরেকটি ঘাট থেকে বাড়তি শতাধিক যাত্রী তুলেছিল জানিয়ে নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান বলেছেন, এ ঘটনায় নিয়মমাফিক মামলা করা হবে। মঙ্গলবার মাওয়ায় পদ্মা নদীতে লঞ্চডুবির ঘটনাস্থল ঘুরে দেখে মন্ত্রী সাংবাদিকদের এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘আমরা খোঁজ নিয়ে জেনেছি, কাওড়াকান্দি থেকে লঞ্চটি ১৬০-১৭০ যাত্রী নিয়ে আসছিল। এরপর কাঁঠালবাড়ি লঞ্চঘাট থেকে আরও শতাধিক যাত্রী তুলেছিল।
তিনি বলেন, যদি কাওড়াকান্দি থেকে সরাসরি মাওয়া আসত, তাহলে লঞ্চটি হয়তো ডুবত না। বাড়তি এই শতাধিক যাত্রীর চাপ লঞ্চডুবির অন্যতম কারণ বলে মনে হচ্ছে। ভবিষ্যতে কেউ যাতে এভাবে ‘মানুষের জীবন নিয়ে খেলতে না পারে’ সেজন্য সরকার কঠোর হবে বলেও মন্ত্রী উল্লেখ করেন। শাজাহান খান বলেন, ‘একটা মামলা আমরা করতে বলেছি লঞ্চের মালিক, শ্রমিক ও ব্যবস্থাপনায় যারা ছিল তাদের আসামি করে।’
বিব্রত নৌমন্ত্রী ॥ লঞ্চ দুর্ঘটনার দ্বিতীয় দিন মঙ্গলবার দুপুর ২টার দিকে মাওয়ায় লঞ্চ দুর্ঘটনার তথ্যকেন্দ্র এলাকায় স্বজনদের সঙ্গে সাক্ষাত ও মিডিয়ার সঙ্গে কথা বলে গাড়ির দিকে এগিয়ে যান নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান। এ সময় নিখোঁজদের কয়েক স্বজন পুলিশ ব্যারিকেড ভেঙ্গে মন্ত্রীর কাছে চিৎকার করে বলেন, ‘আমাগো লাশ দিয়া যান, আমরা আর কিছু চাই না’ বলেই মন্ত্রীর পায়ে ধরে এক স্বজনহারা মধ্যবয়সী পুরুষ কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘আপনের পায়ে পড়ি, লাশটা দিয়া যান।’
এ সময় মন্ত্রী থেমে গিয়ে তাদের শান্ত করে গাড়িতে ওঠেন। তার পতাকাবাহী জিপটি দ্রুত কয়েক গজ এগোতেই ‘শা’ শব্দ! থেমে যায় গাড়ি। দ্রুত পুলিশসহ অন্যরা ছুটে যান জিপের কাছে। জিপটির ডান পাশের সামনের চাকা রাস্তার পাশে সেনাবাহিনীর সেবা ক্যাম্পে তাবুর লোহার চোখা এঙ্গেলে লেগে পাংচার হয়ে যায়।
বিব্রত মন্ত্রী জিপেই বসে থাকা অবস্থায়ই জ্যাক দিয়ে গাড়িটি উঁচিয়ে চাকা পরিবর্তন করে প্রায় ১৫ মিনিট পরে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন। এ সময়টুকুতে স্থানীয় প্রশাসনে বিশেষ অস্থিরতা বিরাজ করছিল।
জরিপ-১০ ফিরে গেছে, আসছে কান্ডারী-২ ॥ মাওয়ায় ডুবে যাওয়া লঞ্চ শনাক্ত করতে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে রওনা দেয়ার পর বৈরী আবহাওয়ার কারণে বন্দরে ফিরে গেছে জরিপ-১০ জাহাজটি। তবে জরিপ জাহাজের সঙ্গে থাকা ‘কান্ডারী-২’ নামে অপর একটি উদ্ধারকারী জাহাজ মাওয়ার পথে রয়েছে বলে জানিয়েছেন মুন্সীগঞ্জ জেলা প্রশাসক সাইফুল হাসান বাদল। তিনি বলেন, বুধবার দুপুরে কান্ডারী-২ মাওয়ায় পৌঁছাবে। জাহাজটিতে ‘সাউন্ড স্ক্যানার সোনার’, ‘সাব বটম প্রোপেলার’ ও ‘গেন্টাবাল পজিশনিং সিস্টেম’ এই তিনটি যন্ত্র রয়েছে।
মাওয়ায় লঞ্চ ডুবির ঘটনায় হত্যা মামলা ॥ প্রায় তিনশতাধিক যাত্রী নিয়ে মাওয়ায় এম এল পিনাক-৬ ডুবে যাওয়ার ঘটনায় লঞ্চের বর্তমান মালিক ও সাবেক মালিক সহ ছয় জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। মাওয়া বিআইডব্লিউটিএর পরিবহন পরিদর্শক জাহাঙ্গীর হোসেন বাদী হয়ে মুন্সীগঞ্জের লৌহজং থানায় মামলাটি দায়ের করেন।
আসামিরা হলেন লঞ্চ মালিক এবি সিদ্দিক কালু, সাবেক মালিক খোকন, লঞ্চটির মাস্টার, সুকানি, গ্রিজার ও কাওড়াকান্দি লঞ্চ ঘাটের ইজারাদার।
মুন্সীগঞ্জের ডিসি জনকণ্ঠকে এই তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, জানমাল রক্ষার জন্য যা যা করণীয় সবই করা হবে। তিনি বলেন, ইতোমধ্যে এই রুটে চলাচলকারী অনুপযোগী লঞ্চ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ধারণ ক্ষমতার অতিরিক্ত যাত্রী বহন নিয়ন্ত্রণে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।
পর্যালোচনা সভা ॥ দুর্ঘটনা কবলিত লঞ্চ উদ্ধারে মঙ্গলবার মাওয়া পদ্মা সেতু রেস্ট হাউসে মুন্সীগঞ্জের ডিসির উদ্যোগে একটি পর্যালোচনা সভা হয়েছে। সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় সভা শেষে জেলা প্রশাসক বলেন, বিআইডব্লিউটিএ, পুলিশ, নৌ-বাহিনী, সেনাবাহিনী, ফায়ার সার্ভিস, কোস্ট গার্ড, র‌্যাবসহ উদ্ধার অভিযানে অংশ নেয়া বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিদের নিয়ে এ সভায় লঞ্চ উদ্ধারে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। রাতে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত পদ্মায় এ অভিযান চলছিল।

উদ্ধার কাজে রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির প্রশিক্ষিত দল ॥ লঞ্চ দুর্ঘটনায় পর থেকে সরকারের পাশাপাশি বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির শক্তিশালী ও প্রশিক্ষিত উদ্ধারকারী দল উদ্ধার কাজে অংশগ্রহণ করছে। উদ্ধার কাজের সমন্বয় করছে বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির যুব স্বেচ্ছাসেবক ও রেসপন্স বিভাগ।
সোসাইটির জাতীয় সদর দফতর ও মুন্সীগঞ্জ জেলা রেড ক্রিসেন্ট ইউনিটের অর্ধশত সদস্য ও ১০ কর্মকর্তা সর্বক্ষণিক উদ্ধার কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। তাঁরা মৃত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে ডেডবডি ব্যাগে সংরক্ষণ করে যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করছেন। পাশাপাশি নিখোঁজ ব্যক্তিদের তালিকা প্রণয়ন ও প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা প্রদান করে যাচ্ছেন।
এদিকে উদ্ধার কার্যক্রম শেষ না হওয়া পর্যন্ত রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির উদ্ধার দলকে সোসাইটির চেয়ারম্যান প্রফেসর ডাঃ এমএস আকবর এমপি এই কার্যক্রম চালিয়ে যাবার নিদের্শ দিয়েছেন। -বিজ্ঞপ্তি
http://allbanglanewspapers.com/janakantha/

No comments:

Post a Comment