বাম ঘরানায় ক্ষোভ : বিক্ষুব্ধ শরিকরা
শেখ মামুনূর রশীদ
প্রকাশ : ০৫ আগস্ট, ২০১৪
জামায়াতে ইসলামীর বিচার ইস্যুতে ১৪ দলীয় জোটের শরিকদের মাঝে ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে। বিক্ষুব্ধ বাম ঘরানার রাজনৈতিক দলগুলোও। আওয়ামী লীগ ও জামায়াতের মধ্যে গোপন সমঝোতার অভিযোগ তুলেছেন এসব দলের নেতারা।
১৪ দলীয় জোটের শরিকসহ বাম প্রগতিশীল ঘরানার দলগুলোর শীর্ষ নেতারা দাবি করেন, জামায়াতকে বিএনপির কাছ থেকে সরানোর ফন্দিফিকির কোনো কাজে আসবে না। অতীতে বিভিন্ন সময়ে জামায়াতকে অনেকেই ব্যবহারের চেষ্টা করেছে। পরে দেখা গেছে, জামায়াতই তাদের ব্যবহার করে লাভবান হয়েছে। এবার সমঝোতার যে গুঞ্জন চলছে তাতে আওয়ামী লীগ যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হবে তেমনি ক্ষতিগ্রস্ত হবে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী অসাম্প্রদায়িক প্রগতিশীল ঘরানাও। লাভবান হবে জামায়াত-শিবির এবং তাদের প্রধান শরিক বিএনপি।
সর্বশেষ গত ১৮ জুলাই ধানমণ্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত ১৪ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতাদের বৈঠকেও এ নিয়ে আলোচনা হয়। আওয়ামী লীগের শরিক ও বাম ঘরানার নেতারা এসব ঘটনায় ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশের পাশাপাশি বিচার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত এবং জামায়াত-শিবিরের রাজনীতি দ্রুত নিষিদ্ধ করার দাবি তোলেন। জামায়াতে ইসলামী নিষিদ্ধ করতে কেন আইন সংশোধের প্রয়োজন হল তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তাদের মতে, সাবেক আইন বিচার ও সংসদবিষয়কমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ যেখানে বলেছেন, সংগঠন হিসেবে বিচারের জন্য বিদ্যমান আইন সংশোধনের প্রয়োজন নেই। সেখানে আইন সংশোধনের প্রশ্ন তোলা সময়ক্ষেপণের নামান্তর মাত্র। তারা সার্বিকভাবে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রক্রিয়া আরও তরান্বিত করার দাবি জানান। নেতারা মানবতাবিরোধী অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত তদন্ত শেষ করার দাবিও জানান। এটা না করায় জনমনে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হচ্ছে। শরিক দলগুলোর মধ্যে সন্দেহ-অবিশ্বাসের ঘটনাও ঘটছে। এসব সমস্যা সমাধানে সরকারকেই দ্রুত এবং কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে বলে তারা মনে করেন। তা না হলে এ ইস্যুতে সমস্যার ডালপালা বাড়তেই থাকবে। জোটের বৈঠক ছাড়াও বিভিন্ন সময়ে আনুষ্ঠানিক-অনানুষ্ঠানিকভাবেও ১৪ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতারা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নজরেও আনেন বিষয়টি। দশম জাতীয় সংসদের সর্বশেষ অধিবেশনেও বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে ১৪ দলীয় জোটের শরিক সদস্যরা এ ইস্যুতে সোচ্চার ছিলেন।
এ প্রসঙ্গে কমিউনিস্ট পার্টির সভাপতি (সিপিবি) মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম রোববার যুগান্তরকে বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ইস্যুতে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ভুল কৌশলের ফাঁদে পড়েছে। তারা জামায়াতকে প্রধান টার্গেট না করে বিএনপিকে প্রধান টার্গেট করেছে। রাজনীতির মাঠে বিএনপিকে একঘরে করতে গিয়ে জামায়াতকে কাছে টানার কৌশল গ্রহণ করেছে। আর এই কৌশলের অংশ হিসেবেই জামায়াতের বিচার প্রক্রিয়া থমকে আছে। জামায়াত-শিবিরের রাজনীতিও নিষিদ্ধ করছে না তারা। আওয়ামী লীগের এই নীতি হচ্ছে আত্মঘাতী নীতি। যা একসময় তাদের জন্যই বুমেরাং হবে।
জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) সভাপতি আ স ম আবদুর রব বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার এবং জামায়াত-শিবিরকে নিষিদ্ধ করা নিয়ে আওয়ামী লীগ জনগণকে ধোঁকা দিচ্ছে। আওয়ামী লীগ জামায়াতের রাজনীতি নিষিদ্ধ করার প্রতিশ্র“তি দিয়েছে। কিন্তু এজন্য সংবিধান সংশোধন করতে হবে। কিন্তু তারা তা করেনি। সংবিধান সংশোধন না করে কখনোই জামায়াত-শিবিরকে নিষিদ্ধ করা যাবে না। একইভাবে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের প্রতিশ্র“তি দিয়ে ক্ষমতায় এলেও দেশের ১৬ কোটি মানুষের মনে এখন বদ্ধমূল ধারণা জন্মেছে যে, আওয়ামী লীগ জামায়াতের সঙ্গে এ ইস্যুতেও গোপন আঁতাত করেছে। আওয়ামী লীগের এই ধোঁকাবাজির রাজনীতি দিন দিন জনগণের কাছে স্পষ্ট হয়ে উঠছে।
ঐক্য ন্যাপের আহ্বায়ক পঙ্কজ ভট্টাচার্য বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের গতি শ্লথ দেখে কিছু দিন ধরেই মানুষের মনে উদ্বেগ বাসা বেঁধেছে। বিশেষ করে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী অসাম্প্রদায়িক প্রগতিশীল ঘরানার মানুষের মনে এ ঘটনায় হতাশার সৃষ্টি হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে কেউ কেউ আওয়ামী লীগের সঙ্গে জামায়াতের আঁতাতের কথা বলছেন। এরকম সম্ভাবনা প্রতিরোধে সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে হবে। যাতে তারা বিচার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত এবং জামায়াত-শিবিরকে নিষিদ্ধ করতে উদ্যোগী হয়।
বাসদের সাধারণ সম্পাদক খালেকুজ্জামান বলেন, আওয়ামী লীগ এই বিচার নিয়ে আত্মঘাতী খেলায় মেতে উঠেছে। তারা একটি সংকীর্ণ রাজনৈতিক পরিকল্পনা ও চিন্তা থেকেই এ কাজ করছে। তিনি আরও বলেন, আইন স্বাভাবিক গতিতে চলবে বলা হলেও যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের ক্ষেত্রে আইন স্বাভাবিকভাবে চলছে কিনা- তা নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।
১৪ দলীয় জোটের অন্যতম প্রধান শরিক ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশা এমপি বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রক্রিয়া আরও তরান্বিত করা উচিত। অন্যথায় জনমনে বিভ্রান্তির পাশাপাশি ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হচ্ছে। নানা ধরনের গুজবের জন্ম হচ্ছে। এ প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, জামায়াত-শিবিরকে নিষিদ্ধ এবং যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করা ছাড়া বাংলাদেশের গণতন্ত্র সুসংহত হবে না। এখানে পিছিয়ে যাওয়া কিংবা আঁতাতের কোনো সুযোগ নেই। জোটের আরেক প্রধান শরিক জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সাধারণ সম্পাদক শরীফ নুরুল আম্বিয়া বলেন, যত দ্রুত সম্ভব জামায়াত-শিবিরকে নিষিদ্ধ করা উচিত। তিনি আওয়ামী লীগের প্রতি ইঙ্গিত করে বলেন, জামায়াতকে বিএনপির কাছ থেকে সরানোর ফন্দিফিকির কোনো কাজে আসবে না। অতীতে বিভিন্ন সময়ে জামায়াতকে অনেকেই ব্যবহারের চেষ্টা করেছে। পরে দেখা গেছে, জামায়াতই তাদের ব্যবহার করে লাভবান হয়েছে।
জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) সাধারণ সম্পাদক আবদুল মালেক রতন বলেন, আওয়ামী লীগ নীতিগতভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েই জামায়াত-শিবিরকে নিষিদ্ধ করছে না। তারা রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের কৌশল হিসেবেই এ পথ বেছে নিয়েছে। যা জাতির জন্য, ভবিষ্যৎ রাজনীতির জন্য এমনকি আওয়ামী লীগের জন্য অমঙ্গল ডেকে আনবে।
গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসিন মন্টু বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রক্রিয়া বিলম্বিত হওয়ায় আওয়ামী লীগের সঙ্গে জামায়াতের আঁতাতসহ জনমনে নানা ধরনের প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। এসব প্রশ্নের সমাধান আওয়ামী লীগকেই তাদের কাজের মধ্য দিয়ে করতে হবে। তা না হলে মানুষের মনে এ নিয়ে ক্ষোভ ও হতাশা বাড়তেই থাকবে।
১৪ দলীয় জোটের আরেক শরিক গণতন্ত্রী পার্টির সাধারণ সম্পাদক নুরুর রহমান সেলিম বলেন, সরকারের কর্মকাণ্ড দেখে মনে হয়, তারা জামায়াত-শিবিরকে নিষিদ্ধ করতে চায় না। এমনকি যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রক্রিয়ায়ও ঢিলেমিভাব পরিলক্ষিত হচ্ছে। এর দায়ভার তাদেরই নিতে হবে। তিনি বলেন, সর্বশেষ অনুষ্ঠিত ১৪ দলীয় জোটের বৈঠকেও বিষয় দুটি নিয়ে আলোচনা হয়। শরিক দলগুলো এ ইস্যুতে জোটের প্রধান দল আওয়ামী লীগের ওপর চাপ প্রয়োগ অব্যাহত রেখেছে।
- See more at: http://www.jugantor.com/last-page/2014/08/05/130564#sthash.Xl4Cy9q6.dpuf১৪ দলীয় জোটের শরিকসহ বাম প্রগতিশীল ঘরানার দলগুলোর শীর্ষ নেতারা দাবি করেন, জামায়াতকে বিএনপির কাছ থেকে সরানোর ফন্দিফিকির কোনো কাজে আসবে না। অতীতে বিভিন্ন সময়ে জামায়াতকে অনেকেই ব্যবহারের চেষ্টা করেছে। পরে দেখা গেছে, জামায়াতই তাদের ব্যবহার করে লাভবান হয়েছে। এবার সমঝোতার যে গুঞ্জন চলছে তাতে আওয়ামী লীগ যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হবে তেমনি ক্ষতিগ্রস্ত হবে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী অসাম্প্রদায়িক প্রগতিশীল ঘরানাও। লাভবান হবে জামায়াত-শিবির এবং তাদের প্রধান শরিক বিএনপি।
সর্বশেষ গত ১৮ জুলাই ধানমণ্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত ১৪ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতাদের বৈঠকেও এ নিয়ে আলোচনা হয়। আওয়ামী লীগের শরিক ও বাম ঘরানার নেতারা এসব ঘটনায় ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশের পাশাপাশি বিচার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত এবং জামায়াত-শিবিরের রাজনীতি দ্রুত নিষিদ্ধ করার দাবি তোলেন। জামায়াতে ইসলামী নিষিদ্ধ করতে কেন আইন সংশোধের প্রয়োজন হল তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তাদের মতে, সাবেক আইন বিচার ও সংসদবিষয়কমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ যেখানে বলেছেন, সংগঠন হিসেবে বিচারের জন্য বিদ্যমান আইন সংশোধনের প্রয়োজন নেই। সেখানে আইন সংশোধনের প্রশ্ন তোলা সময়ক্ষেপণের নামান্তর মাত্র। তারা সার্বিকভাবে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রক্রিয়া আরও তরান্বিত করার দাবি জানান। নেতারা মানবতাবিরোধী অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত তদন্ত শেষ করার দাবিও জানান। এটা না করায় জনমনে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হচ্ছে। শরিক দলগুলোর মধ্যে সন্দেহ-অবিশ্বাসের ঘটনাও ঘটছে। এসব সমস্যা সমাধানে সরকারকেই দ্রুত এবং কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে বলে তারা মনে করেন। তা না হলে এ ইস্যুতে সমস্যার ডালপালা বাড়তেই থাকবে। জোটের বৈঠক ছাড়াও বিভিন্ন সময়ে আনুষ্ঠানিক-অনানুষ্ঠানিকভাবেও ১৪ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতারা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নজরেও আনেন বিষয়টি। দশম জাতীয় সংসদের সর্বশেষ অধিবেশনেও বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে ১৪ দলীয় জোটের শরিক সদস্যরা এ ইস্যুতে সোচ্চার ছিলেন।
এ প্রসঙ্গে কমিউনিস্ট পার্টির সভাপতি (সিপিবি) মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম রোববার যুগান্তরকে বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ইস্যুতে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ভুল কৌশলের ফাঁদে পড়েছে। তারা জামায়াতকে প্রধান টার্গেট না করে বিএনপিকে প্রধান টার্গেট করেছে। রাজনীতির মাঠে বিএনপিকে একঘরে করতে গিয়ে জামায়াতকে কাছে টানার কৌশল গ্রহণ করেছে। আর এই কৌশলের অংশ হিসেবেই জামায়াতের বিচার প্রক্রিয়া থমকে আছে। জামায়াত-শিবিরের রাজনীতিও নিষিদ্ধ করছে না তারা। আওয়ামী লীগের এই নীতি হচ্ছে আত্মঘাতী নীতি। যা একসময় তাদের জন্যই বুমেরাং হবে।
জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) সভাপতি আ স ম আবদুর রব বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার এবং জামায়াত-শিবিরকে নিষিদ্ধ করা নিয়ে আওয়ামী লীগ জনগণকে ধোঁকা দিচ্ছে। আওয়ামী লীগ জামায়াতের রাজনীতি নিষিদ্ধ করার প্রতিশ্র“তি দিয়েছে। কিন্তু এজন্য সংবিধান সংশোধন করতে হবে। কিন্তু তারা তা করেনি। সংবিধান সংশোধন না করে কখনোই জামায়াত-শিবিরকে নিষিদ্ধ করা যাবে না। একইভাবে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের প্রতিশ্র“তি দিয়ে ক্ষমতায় এলেও দেশের ১৬ কোটি মানুষের মনে এখন বদ্ধমূল ধারণা জন্মেছে যে, আওয়ামী লীগ জামায়াতের সঙ্গে এ ইস্যুতেও গোপন আঁতাত করেছে। আওয়ামী লীগের এই ধোঁকাবাজির রাজনীতি দিন দিন জনগণের কাছে স্পষ্ট হয়ে উঠছে।
ঐক্য ন্যাপের আহ্বায়ক পঙ্কজ ভট্টাচার্য বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের গতি শ্লথ দেখে কিছু দিন ধরেই মানুষের মনে উদ্বেগ বাসা বেঁধেছে। বিশেষ করে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী অসাম্প্রদায়িক প্রগতিশীল ঘরানার মানুষের মনে এ ঘটনায় হতাশার সৃষ্টি হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে কেউ কেউ আওয়ামী লীগের সঙ্গে জামায়াতের আঁতাতের কথা বলছেন। এরকম সম্ভাবনা প্রতিরোধে সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে হবে। যাতে তারা বিচার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত এবং জামায়াত-শিবিরকে নিষিদ্ধ করতে উদ্যোগী হয়।
বাসদের সাধারণ সম্পাদক খালেকুজ্জামান বলেন, আওয়ামী লীগ এই বিচার নিয়ে আত্মঘাতী খেলায় মেতে উঠেছে। তারা একটি সংকীর্ণ রাজনৈতিক পরিকল্পনা ও চিন্তা থেকেই এ কাজ করছে। তিনি আরও বলেন, আইন স্বাভাবিক গতিতে চলবে বলা হলেও যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের ক্ষেত্রে আইন স্বাভাবিকভাবে চলছে কিনা- তা নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।
১৪ দলীয় জোটের অন্যতম প্রধান শরিক ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশা এমপি বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রক্রিয়া আরও তরান্বিত করা উচিত। অন্যথায় জনমনে বিভ্রান্তির পাশাপাশি ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হচ্ছে। নানা ধরনের গুজবের জন্ম হচ্ছে। এ প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, জামায়াত-শিবিরকে নিষিদ্ধ এবং যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করা ছাড়া বাংলাদেশের গণতন্ত্র সুসংহত হবে না। এখানে পিছিয়ে যাওয়া কিংবা আঁতাতের কোনো সুযোগ নেই। জোটের আরেক প্রধান শরিক জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সাধারণ সম্পাদক শরীফ নুরুল আম্বিয়া বলেন, যত দ্রুত সম্ভব জামায়াত-শিবিরকে নিষিদ্ধ করা উচিত। তিনি আওয়ামী লীগের প্রতি ইঙ্গিত করে বলেন, জামায়াতকে বিএনপির কাছ থেকে সরানোর ফন্দিফিকির কোনো কাজে আসবে না। অতীতে বিভিন্ন সময়ে জামায়াতকে অনেকেই ব্যবহারের চেষ্টা করেছে। পরে দেখা গেছে, জামায়াতই তাদের ব্যবহার করে লাভবান হয়েছে।
জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) সাধারণ সম্পাদক আবদুল মালেক রতন বলেন, আওয়ামী লীগ নীতিগতভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েই জামায়াত-শিবিরকে নিষিদ্ধ করছে না। তারা রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের কৌশল হিসেবেই এ পথ বেছে নিয়েছে। যা জাতির জন্য, ভবিষ্যৎ রাজনীতির জন্য এমনকি আওয়ামী লীগের জন্য অমঙ্গল ডেকে আনবে।
গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসিন মন্টু বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রক্রিয়া বিলম্বিত হওয়ায় আওয়ামী লীগের সঙ্গে জামায়াতের আঁতাতসহ জনমনে নানা ধরনের প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। এসব প্রশ্নের সমাধান আওয়ামী লীগকেই তাদের কাজের মধ্য দিয়ে করতে হবে। তা না হলে মানুষের মনে এ নিয়ে ক্ষোভ ও হতাশা বাড়তেই থাকবে।
১৪ দলীয় জোটের আরেক শরিক গণতন্ত্রী পার্টির সাধারণ সম্পাদক নুরুর রহমান সেলিম বলেন, সরকারের কর্মকাণ্ড দেখে মনে হয়, তারা জামায়াত-শিবিরকে নিষিদ্ধ করতে চায় না। এমনকি যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রক্রিয়ায়ও ঢিলেমিভাব পরিলক্ষিত হচ্ছে। এর দায়ভার তাদেরই নিতে হবে। তিনি বলেন, সর্বশেষ অনুষ্ঠিত ১৪ দলীয় জোটের বৈঠকেও বিষয় দুটি নিয়ে আলোচনা হয়। শরিক দলগুলো এ ইস্যুতে জোটের প্রধান দল আওয়ামী লীগের ওপর চাপ প্রয়োগ অব্যাহত রেখেছে।
No comments:
Post a Comment