হাওড়ার অভিজাত রিসর্টের সুইমিং পুলে বধূর রহস্যমৃত্যু

তার এস এস কে এম হাসপাতালে আনা হলে সেখানে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন৷ ঘটনায় তদম্তে নেমেছে ডোমজুড় থানার পুলিস৷ ঘটনাস্হলে মদের বোতল, বিয়ারের ক্যান এবং ঘুমের ওষুধ নাইট্রোসাম টেন, ডাইজিপামের স্ট্রিপ পাওয়া গেছে৷ ময়নাতদম্তের প্রাথমিক রিপোর্টে শুভঞ্জিতার পেটে অ্যালকোহল মিলেছে৷ জলে ডুবেই মৃত্যু বলে রিপোর্টে বলা হয়েছে৷ তবে মাদক ছিল কি না, সে জন্য ভিসেরা পরীক্ষা করা হবে৷ সোমবার বিকেলে শুভঞ্জিতার সঙ্গে যাওয়া তিন বন্ধুকে থানায় ডেকে দফায় দফায় ঘটনা নিয়ে জেরা করেন পুলিসের পদস্হ কর্তারা৷ শুভঞ্জিতা গড়িয়ার শ্রীরামপুর রোডে একটি বাড়িতে পেয়িং গেস্ট হিসেবে থাকতেন৷ বছর তিনেক আগে বেলেঘাটার বাসিন্দা রাজ্য সরকারের ব্লক এডুকেশন অফিসার হিসেবে কর্মরত সম্রাট সোরেনের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়েছিল৷ কিন্তু পড়াশোনার কারণে গত বছর ১৩ নভেম্বর থেকে গড়িয়ার ওই বাড়িতে পেয়িং গেস্ট হিসেবে প্রিয়াঙ্কা ভট্টাচার্য নামে এক বন্ধুর সঙ্গে থাকতে শুরু করেছিলেন শুভঞ্জিতা৷ দীনবন্ধু অ্যান্ড্রুজ কলেজে ইন্দিরা গান্ধী ন্যাশনাল ওপেন ইউনিভার্সিটির দূরসঞ্চার শিক্ষার কোর্সে ব্যাচেলর অফ কম্পিউটার অ্যাপ্লিকেশন পড়ছিলেন৷ শুভঞ্জিতার সঙ্গে পেয়িং গেস্ট হিসেবে থাকতেন হুগলি তারকেশ্বরের বাসিন্দা প্রিয়াঙ্কা ভট্টাচার্য৷ ওই প্রিয়াঙ্কা ও প্রিয়াঙ্কারই দুই বন্ধু অভিষেক সিং ও রোহিত ত্রিপাঠীর সঙ্গে রবিবার সন্ধ্যায় ‘ফ্রেন্ডশিপ ডে’ উপলক্ষে হাওড়ার অভিজাত লেকল্যান্ড কান্ট্রি ক্লাবের রিসর্টে এক পার্টিতে এসেছিলেন শুভঞ্জিতা৷ মাথাপিছু হাজার টাকা দিয়ে টিকিট কেটে তাঁরা ওই পার্টিতে যোগ দিয়েছিলেন৷ সন্ধের পর জমে উঠেছিল পার্টি৷ সুইমিং পুলের ধারে খাওয়াদাওয়া, সঙ্গে মদ্যপান ও নাচগান শুরু হয়েছিল৷ এর পর ফোম, আইসক্রিম মেখে নাচানাচি আরম্ভ হয়৷ মত্ত হয়ে ডিস্ক জকি মিউজিকের সঙ্গে নাচানাচির সময়ই ছন্দপতন ঘটে রাত ১০টা নাগাদ৷ শুভঞ্জিতা কখন সুইমিং পুলের জলে পড়ে যান খেয়াল ছিল না কারও৷ হঠাৎ দেখা যায় শুভঞ্জিতা জলে ভাসছেন৷ কীভাবে শুভঞ্জিতার দেহ জলে ভেসে উঠল তা নিয়ে ধন্দে পড়েছে পুলিস৷
কীভাবে জলে?
শুভঞ্জিতার হঠাৎ জলে পড়ে যাওয়া নিছকই দুর্ঘটনা, নাকি এর নেপথ্যে অন্য কোনও কারণ আছে, তা নিয়ে রহস্য ঘনীভূত হয়েছে৷ পার্টিতে পরিচিতরা যখন এক জায়গায় পান-ভোজন ও নাচে ব্যস্ত, শুভঞ্জিতা হঠাৎ করে সুইমিং পুলের কাছে চলে গেলেন এবং তা কেউ খেয়াল করলেন না, প্রশ্ন উঠেছে তা নিয়েই৷ কেউ কি ধাক্কা মেরে ফেলে দিয়েছিল তাঁকে? নাকি নেশার ঘোরে তিনি নিজেই সুইমিং পুলে নেমে পড়েছিলেন? সেই প্রশ্ন উঠেছে৷ সুইমিং পুলে তিন সাড়ে তিন ফুটের বেশি জল ছিল না৷ যেখানে শুভঞ্জিতার উচ্চতা পাঁচ ফুট দুই ইঞ্চির মতো৷ তা হলে সেখানে কীভাবে তলিয়ে গেলেন শুভঞ্জিতা? অতিরিক্ত মদ্যপান বা অন্য কোনও ঘুমের ওষুধ জাতীয় কিছু খেয়ে সুইমিং পুলের জলে ভারসাম্য রাখতে না পেরে অচৈতন্য হয়ে পড়ে তাঁর আকস্মিক মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে৷
অ্যালকোহল ও ডাইজিপামের বিক্রিয়া?
ঘটনাস্হলে পুলিস মদ ও বিয়ারের বোতল ছাড়াও ঘুমের ওষুধের স্ট্রিপ পায়৷ সম্ভবত, নেশা চড়াতেই শুভঞ্জিতা ট্যাবলেটও খেয়ে ফেলেছিলেন৷ কিন্তু পার্টিতে বন্ধু-বান্ধবরা কি তাঁকে নিষেধ করেননি? শুধু শুভঞ্জিতা না কি অন্য বন্ধুরাও ট্যাবলেট খেয়েছিলেন? সোমবার সকালে ওই রিসর্টে গিয়ে দেখা গেল, রাত-পার্টির সব আয়োজনই মজুত ছিল৷ যে সুইমিং পুলে শুভঞ্জিতার দেহ পড়েছিল, সেখানেও ফাঁকা বিয়ারের ক্যান ভাসতে দেখা যায়৷ সেই সব নমুনা সংগ্রহ করেছে পুলিস৷ পাশাপাশি শুভঞ্জিতার পকেট থেকে ঘুমের ট্যাবলেটের পাতা পাওয়া গেছে৷ ওই পাতায় ৩টে ট্যাবলেট ছিল না৷ মদ্যপান কিংবা অন্য কোনও মাদকে তাঁর কোনও আসক্তি ছিল কিনা তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে৷ সুইমিং পুলটি আপাতত ঘিরে দেওয়া হয়েছে৷ সেখানে কোমর সমান জল রয়েছে৷ ওই জলে শুভঞ্জিতা কীভাবে ডুবে গেলেন তাই নিয়ে সকলের মনেই প্রশ্ন দেখা দিয়েছে৷ রহস্য উঞ্জাটনে ঘটনার সময় রিসর্টের দায়িত্বে থাকা কর্মচারীদের জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিস৷
সি সি টিভি সেখানে নেই
ওই সুইমিং পুলের কাছে কোনও সি সি টিভি না থাকায় ঠিক কী ঘটনা সেদিন রাতে ঘটেছিল, তা এখন পুলিসের কাছে স্পষ্ট নয়৷ সোমবার দুপুরে ডোমজুড় থানায় যান শুভঞ্জিতার স্বামী সম্রাট ও তাঁর জ্যাঠতুতো দাদা দেব বসাক৷ তাঁরা গোটা ঘটনার তদম্ত করে প্রকৃত রহস্য উঞ্জাটনের আবেদন জানান পুলিসের কাছে৷ সম্রাট বলেন, ‘প্রিয়াঙ্কা ও তার দুই বন্ধুকে জেরা করলে প্রকৃত সত্য জানা যাবে৷ যে পার্টিতে প্রায় ৪০০ জন এসেছিল, সেখানে যথাযথ নিরাপত্তা ব্যবস্হা কেন ছিল না৷ কেন এমন হবে? তাঁর দাদা দেব বসাক বলেন, ‘বাপের বাড়ি বা শ্বশুরবাড়ি কোনও জায়গাতেই থাকতেন না শুভঞ্জিতা৷ দুই বাড়ির সঙ্গে তাঁর খুব একটা ঘনিষ্ঠ সম্পর্কও ছিল না৷ গত কয়েক মাস যাবৎ একাকী জীবনযাপনে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছিলেন৷ তার জেরেই কি তাঁকে মরতে হল? আমরা চাই প্রকৃত রহস্য বের হোক৷
বন্ধুদের জিজ্ঞাসাবাদ
সোমবার বিকেলে শুভঞ্জিতার সঙ্গে থাকা তাঁর ৩ বন্ধু প্রিয়াঙ্কা, অভিষেক ও রোহিতকে ডোমজুড় থানায় ডেকে পাঠিয়ে দীর্ঘক্ষণ জেরা করে পুলিস৷ অভিষেক ও রোহিত জানায়, শুভঞ্জিতাকে আগে আমরা চিনতাম না৷ প্রিয়াঙ্কার মাধ্যমে যোগাযোগের পর এই পার্টিতে তাঁরা এসেছিলেন৷ তাঁদের বক্তব্য খতিয়ে দেখছে পুলিস৷ হাওড়ার অতিরিক্ত পুলিস সুপার (গ্রামীণ) ইন্দ্র চক্রবর্তী জানান, ‘এই বিষয়ে কারও বিরুদ্ধে কোনও লিখিত অভিযোগ জমা পড়েনি৷
সম্রাটের অভিযোগ
রবিবারের ঘটনার পর ভবানীপুর থানায় সম্রাট সোরেন গেলে পুলিস তাঁর কথা শুনতে চায়নি বলে অভিযোগ করেছেন তিনি৷ তাঁর বক্তব্য, স্ত্রীর সঙ্গে সেপারেশন চলছে, এ কথা বলার পরই জনৈক সাব-ইনস্পেক্টর নাকি তাঁকে বলেন, এ সব কথা এখানে বলতে এসেছেন কেন? শুরু হয় কথা কাটাকাটি৷ সম্রাটকে ধমক দিয়ে জনৈক পুলিসকর্মী নাকি বলেছেন, বধূ নির্যাতন মামলায় লকআপে ঢুকিয়ে দেব৷ এর পর সম্রাট সরকারি কর্মী বলে পরিচয় দেন৷ তখন তাঁর বক্তব্য শোনার জন্য অন্য ঘরে নিয়ে যাওয়া হয়৷
শুভঞ্জিতার মৃত্যু ঘিরে প্রশ্ন
মৃত্যুর কারণ ময়নাতদম্তের রিপোর্টে ইতিমধ্যেই স্পষ্ট৷ কিন্তু স্পষ্ট নয় শুভঞ্জিতা প্রিয়াঙ্কার সঙ্গেই গিয়েছিলেন কি না? গড়িয়া থেকে জোমজুড় তাঁরা পৌঁছলেন কীভাবে? প্রিয়াঙ্কা বলেছেন, তিনি নাকি ঘটনার সময় ফুড কোর্টে ছিলেন৷ হঠাৎ পাবলিক অ্যাড্রেস সিস্টেমে ঘোষণা করা হয়, একজন সুইমিং পুলে তলিয়ে গেছেন৷ তখন তিনি ছুটে গিয়ে দেখেন, শুভঞ্জিতাকে জল থেকে তোলা হচ্ছে৷ শার্ট দেখে চিনতে পারেন বন্ধুকে৷

তার এস এস কে এম হাসপাতালে আনা হলে সেখানে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন৷ ঘটনায় তদম্তে নেমেছে ডোমজুড় থানার পুলিস৷ ঘটনাস্হলে মদের বোতল, বিয়ারের ক্যান এবং ঘুমের ওষুধ নাইট্রোসাম টেন, ডাইজিপামের স্ট্রিপ পাওয়া গেছে৷ ময়নাতদম্তের প্রাথমিক রিপোর্টে শুভঞ্জিতার পেটে অ্যালকোহল মিলেছে৷ জলে ডুবেই মৃত্যু বলে রিপোর্টে বলা হয়েছে৷ তবে মাদক ছিল কি না, সে জন্য ভিসেরা পরীক্ষা করা হবে৷ সোমবার বিকেলে শুভঞ্জিতার সঙ্গে যাওয়া তিন বন্ধুকে থানায় ডেকে দফায় দফায় ঘটনা নিয়ে জেরা করেন পুলিসের পদস্হ কর্তারা৷ শুভঞ্জিতা গড়িয়ার শ্রীরামপুর রোডে একটি বাড়িতে পেয়িং গেস্ট হিসেবে থাকতেন৷ বছর তিনেক আগে বেলেঘাটার বাসিন্দা রাজ্য সরকারের ব্লক এডুকেশন অফিসার হিসেবে কর্মরত সম্রাট সোরেনের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়েছিল৷ কিন্তু পড়াশোনার কারণে গত বছর ১৩ নভেম্বর থেকে গড়িয়ার ওই বাড়িতে পেয়িং গেস্ট হিসেবে প্রিয়াঙ্কা ভট্টাচার্য নামে এক বন্ধুর সঙ্গে থাকতে শুরু করেছিলেন শুভঞ্জিতা৷ দীনবন্ধু অ্যান্ড্রুজ কলেজে ইন্দিরা গান্ধী ন্যাশনাল ওপেন ইউনিভার্সিটির দূরসঞ্চার শিক্ষার কোর্সে ব্যাচেলর অফ কম্পিউটার অ্যাপ্লিকেশন পড়ছিলেন৷ শুভঞ্জিতার সঙ্গে পেয়িং গেস্ট হিসেবে থাকতেন হুগলি তারকেশ্বরের বাসিন্দা প্রিয়াঙ্কা ভট্টাচার্য৷ ওই প্রিয়াঙ্কা ও প্রিয়াঙ্কারই দুই বন্ধু অভিষেক সিং ও রোহিত ত্রিপাঠীর সঙ্গে রবিবার সন্ধ্যায় ‘ফ্রেন্ডশিপ ডে’ উপলক্ষে হাওড়ার অভিজাত লেকল্যান্ড কান্ট্রি ক্লাবের রিসর্টে এক পার্টিতে এসেছিলেন শুভঞ্জিতা৷ মাথাপিছু হাজার টাকা দিয়ে টিকিট কেটে তাঁরা ওই পার্টিতে যোগ দিয়েছিলেন৷ সন্ধের পর জমে উঠেছিল পার্টি৷ সুইমিং পুলের ধারে খাওয়াদাওয়া, সঙ্গে মদ্যপান ও নাচগান শুরু হয়েছিল৷ এর পর ফোম, আইসক্রিম মেখে নাচানাচি আরম্ভ হয়৷ মত্ত হয়ে ডিস্ক জকি মিউজিকের সঙ্গে নাচানাচির সময়ই ছন্দপতন ঘটে রাত ১০টা নাগাদ৷ শুভঞ্জিতা কখন সুইমিং পুলের জলে পড়ে যান খেয়াল ছিল না কারও৷ হঠাৎ দেখা যায় শুভঞ্জিতা জলে ভাসছেন৷ কীভাবে শুভঞ্জিতার দেহ জলে ভেসে উঠল তা নিয়ে ধন্দে পড়েছে পুলিস৷
কীভাবে জলে?
শুভঞ্জিতার হঠাৎ জলে পড়ে যাওয়া নিছকই দুর্ঘটনা, নাকি এর নেপথ্যে অন্য কোনও কারণ আছে, তা নিয়ে রহস্য ঘনীভূত হয়েছে৷ পার্টিতে পরিচিতরা যখন এক জায়গায় পান-ভোজন ও নাচে ব্যস্ত, শুভঞ্জিতা হঠাৎ করে সুইমিং পুলের কাছে চলে গেলেন এবং তা কেউ খেয়াল করলেন না, প্রশ্ন উঠেছে তা নিয়েই৷ কেউ কি ধাক্কা মেরে ফেলে দিয়েছিল তাঁকে? নাকি নেশার ঘোরে তিনি নিজেই সুইমিং পুলে নেমে পড়েছিলেন? সেই প্রশ্ন উঠেছে৷ সুইমিং পুলে তিন সাড়ে তিন ফুটের বেশি জল ছিল না৷ যেখানে শুভঞ্জিতার উচ্চতা পাঁচ ফুট দুই ইঞ্চির মতো৷ তা হলে সেখানে কীভাবে তলিয়ে গেলেন শুভঞ্জিতা? অতিরিক্ত মদ্যপান বা অন্য কোনও ঘুমের ওষুধ জাতীয় কিছু খেয়ে সুইমিং পুলের জলে ভারসাম্য রাখতে না পেরে অচৈতন্য হয়ে পড়ে তাঁর আকস্মিক মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে৷
অ্যালকোহল ও ডাইজিপামের বিক্রিয়া?
ঘটনাস্হলে পুলিস মদ ও বিয়ারের বোতল ছাড়াও ঘুমের ওষুধের স্ট্রিপ পায়৷ সম্ভবত, নেশা চড়াতেই শুভঞ্জিতা ট্যাবলেটও খেয়ে ফেলেছিলেন৷ কিন্তু পার্টিতে বন্ধু-বান্ধবরা কি তাঁকে নিষেধ করেননি? শুধু শুভঞ্জিতা না কি অন্য বন্ধুরাও ট্যাবলেট খেয়েছিলেন? সোমবার সকালে ওই রিসর্টে গিয়ে দেখা গেল, রাত-পার্টির সব আয়োজনই মজুত ছিল৷ যে সুইমিং পুলে শুভঞ্জিতার দেহ পড়েছিল, সেখানেও ফাঁকা বিয়ারের ক্যান ভাসতে দেখা যায়৷ সেই সব নমুনা সংগ্রহ করেছে পুলিস৷ পাশাপাশি শুভঞ্জিতার পকেট থেকে ঘুমের ট্যাবলেটের পাতা পাওয়া গেছে৷ ওই পাতায় ৩টে ট্যাবলেট ছিল না৷ মদ্যপান কিংবা অন্য কোনও মাদকে তাঁর কোনও আসক্তি ছিল কিনা তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে৷ সুইমিং পুলটি আপাতত ঘিরে দেওয়া হয়েছে৷ সেখানে কোমর সমান জল রয়েছে৷ ওই জলে শুভঞ্জিতা কীভাবে ডুবে গেলেন তাই নিয়ে সকলের মনেই প্রশ্ন দেখা দিয়েছে৷ রহস্য উঞ্জাটনে ঘটনার সময় রিসর্টের দায়িত্বে থাকা কর্মচারীদের জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিস৷
সি সি টিভি সেখানে নেই
ওই সুইমিং পুলের কাছে কোনও সি সি টিভি না থাকায় ঠিক কী ঘটনা সেদিন রাতে ঘটেছিল, তা এখন পুলিসের কাছে স্পষ্ট নয়৷ সোমবার দুপুরে ডোমজুড় থানায় যান শুভঞ্জিতার স্বামী সম্রাট ও তাঁর জ্যাঠতুতো দাদা দেব বসাক৷ তাঁরা গোটা ঘটনার তদম্ত করে প্রকৃত রহস্য উঞ্জাটনের আবেদন জানান পুলিসের কাছে৷ সম্রাট বলেন, ‘প্রিয়াঙ্কা ও তার দুই বন্ধুকে জেরা করলে প্রকৃত সত্য জানা যাবে৷ যে পার্টিতে প্রায় ৪০০ জন এসেছিল, সেখানে যথাযথ নিরাপত্তা ব্যবস্হা কেন ছিল না৷ কেন এমন হবে? তাঁর দাদা দেব বসাক বলেন, ‘বাপের বাড়ি বা শ্বশুরবাড়ি কোনও জায়গাতেই থাকতেন না শুভঞ্জিতা৷ দুই বাড়ির সঙ্গে তাঁর খুব একটা ঘনিষ্ঠ সম্পর্কও ছিল না৷ গত কয়েক মাস যাবৎ একাকী জীবনযাপনে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছিলেন৷ তার জেরেই কি তাঁকে মরতে হল? আমরা চাই প্রকৃত রহস্য বের হোক৷
বন্ধুদের জিজ্ঞাসাবাদ
সোমবার বিকেলে শুভঞ্জিতার সঙ্গে থাকা তাঁর ৩ বন্ধু প্রিয়াঙ্কা, অভিষেক ও রোহিতকে ডোমজুড় থানায় ডেকে পাঠিয়ে দীর্ঘক্ষণ জেরা করে পুলিস৷ অভিষেক ও রোহিত জানায়, শুভঞ্জিতাকে আগে আমরা চিনতাম না৷ প্রিয়াঙ্কার মাধ্যমে যোগাযোগের পর এই পার্টিতে তাঁরা এসেছিলেন৷ তাঁদের বক্তব্য খতিয়ে দেখছে পুলিস৷ হাওড়ার অতিরিক্ত পুলিস সুপার (গ্রামীণ) ইন্দ্র চক্রবর্তী জানান, ‘এই বিষয়ে কারও বিরুদ্ধে কোনও লিখিত অভিযোগ জমা পড়েনি৷
সম্রাটের অভিযোগ
রবিবারের ঘটনার পর ভবানীপুর থানায় সম্রাট সোরেন গেলে পুলিস তাঁর কথা শুনতে চায়নি বলে অভিযোগ করেছেন তিনি৷ তাঁর বক্তব্য, স্ত্রীর সঙ্গে সেপারেশন চলছে, এ কথা বলার পরই জনৈক সাব-ইনস্পেক্টর নাকি তাঁকে বলেন, এ সব কথা এখানে বলতে এসেছেন কেন? শুরু হয় কথা কাটাকাটি৷ সম্রাটকে ধমক দিয়ে জনৈক পুলিসকর্মী নাকি বলেছেন, বধূ নির্যাতন মামলায় লকআপে ঢুকিয়ে দেব৷ এর পর সম্রাট সরকারি কর্মী বলে পরিচয় দেন৷ তখন তাঁর বক্তব্য শোনার জন্য অন্য ঘরে নিয়ে যাওয়া হয়৷
শুভঞ্জিতার মৃত্যু ঘিরে প্রশ্ন
মৃত্যুর কারণ ময়নাতদম্তের রিপোর্টে ইতিমধ্যেই স্পষ্ট৷ কিন্তু স্পষ্ট নয় শুভঞ্জিতা প্রিয়াঙ্কার সঙ্গেই গিয়েছিলেন কি না? গড়িয়া থেকে জোমজুড় তাঁরা পৌঁছলেন কীভাবে? প্রিয়াঙ্কা বলেছেন, তিনি নাকি ঘটনার সময় ফুড কোর্টে ছিলেন৷ হঠাৎ পাবলিক অ্যাড্রেস সিস্টেমে ঘোষণা করা হয়, একজন সুইমিং পুলে তলিয়ে গেছেন৷ তখন তিনি ছুটে গিয়ে দেখেন, শুভঞ্জিতাকে জল থেকে তোলা হচ্ছে৷ শার্ট দেখে চিনতে পারেন বন্ধুকে৷
No comments:
Post a Comment