ক্ষীণ হয়ে আসছে আশা
সালাহউদ্দিন ওয়াহিদ প্রীতম, ফারহানা মির্জা, রিপন চন্দ্র মল্লিক বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published: 2014-08-05 22:37:18.0 BdST Updated: 2014-08-06 01:48:11.0 BdST
সময় যত গড়াচ্ছে, ততই ক্ষীণ হয়ে আসছে মুন্সীগঞ্জে পদ্মায় ডুবে যাওয়া লঞ্চ পিনাক-৬ উদ্ধারের সম্ভাবনা।
RELATED STORIES
-
2014-08-04 16:22:59.0
-
2014-08-05 15:52:50.0
-
2014-08-05 10:13:59.0
-
2014-08-05 20:15:54.0
-
2014-08-05 22:08:44.0
দুর্ঘটনার পর ৪০ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও ডুবে যাওয়া লঞ্চটির অবস্থান চিহ্নিত করতে না পারায় উদ্ধার অভিযান কার্যত আটকে আগে শুরুর জায়গাতেই।
এর মধ্যেই মঙ্গলবার রাতে কয়েকটি নৌযান নিয়ে নতুন করে শুরু হয় সমন্বিত তল্লাশি অভিযান ‘ল্যাডার স্ক্যানার সার্চ’, কিন্তু তাতেও কোনো ফল আসেনি।
তিন ঘণ্টার ওই অভিযান শেষে রাত ১টায় নৌবাহিনীর ক্যাপ্টেন নজরুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, “যে স্থানে লঞ্চটি ডুবেছিল, আমরা তার আশপাশে ৩৬ কিলোমিটার জায়গায় তন্ন তন্ন করে খুঁজেছি। কিন্তু এখন পর্যন্ত সিগনেফিকেন্ট কোনো অবজেক্ট আমরা পাইনি। সেরকম কিছুই আমাদের নজরে আসেনি।”
উদ্ধারকারী জাহাজ রুস্তমের পর নির্ভীকও মঙ্গলবার দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে। এর বাইরেও বিআইডব্লিউটিএর জাহাজ, টাগ বোট, স্পিডবোট মিলিয়ে উদ্ধার অভিযানে রয়েছে ১৫টি নৌযান।
বর্ষার প্রবল স্রোতের মধ্যেও সনাতনি পদ্ধতিতে দড়িতে বেঁধে নোঙর ফেলে পিনাক-৬ এর অবস্থান জানার চেষ্টা করছে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স। এতে অংশ নিচ্ছেন ২৭ জন ডুবুরি। আর আকাশে টহল দিচ্ছে নৌবাহিনী, র্যাব ও পুলিশের হেলিকপ্টার।
তারপরও মঙ্গলবার দিন শেষে উদ্ধার কার্যক্রমে কোনো ‘পজেটিভ আউটকাম’ আসেনি বলে জানিয়েছিলেন বিআইডব্লিউটিএর চেয়ারম্যান শামসুদ্দোহা খন্দকার।
সোমবার দুজনের লাশ পাওয়ার পর মঙ্গলবার সারা দিনে আর কোনো মৃতদেহ পাননি উদ্ধারকর্মীরা। স্বজনদের অভিযোগের ভিত্তিতে লৌহজং থানার করা তালিকা অনুযায়ী নিখোঁজ রয়েছেন ১৬৯ জন।
এই পরিস্থিতিতে সবাই অপেক্ষা করছেন চট্টগ্রাম বন্দর থেকে সমুদ্র জরিপে ব্যবহৃত ‘সাইড স্ক্যান সোনার’, ‘গ্লোবাল পজিশনিং সিস্টেম’ ও ‘সাব বটম প্রোপেলার’ আসার জন্য।
এসব যন্ত্রপাতি নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরের সার্ভে ভেসেল জরিপ-১০ দুপুরে মাওয়ার পথে রওনা হলেও বৈরি আবহাওয়ার কারণে সন্দ্বীপ চ্যানেলের কাছাকাছি এলাকা থেকেই ফিরে যায় নৌযানটি।
পরে চট্টগ্রাম বন্দরের টাগবোট কাণ্ডারী-২ এসব যন্ত্রপাতি নিয়ে মুন্সীগঞ্জের পথে রওনা হয় বলে বন্দর কর্মকর্তারা জানান।
লঞ্চ ছোট এবং কাঠের তৈরি বলে খরস্রোতা নদীতে তলিয়ে গেলে এর ওপর পলি জমতে পারে বলে ক্যাপ্টেন নজরুলের ধারণা।
“তাহলে সাইড স্ক্যান সোনারে এটি নজরে আসার কথা নয়,” বলেন তিনি।
বর্তমানে যে সাইড স্ক্যান সোনার দিয়ে কাজ চলছে, তা নদীর গভীরে ৭৫ ফুট পর্যন্ত এলাকা স্ক্যান করতে পারে। জরিপ-১০ এর যন্ত্রপাতি দিয়ে আড়াইশ’ ফুট পর্যন্ত স্ক্যান করা যায়।

ঈদফেরত যাত্রীদের চাপের মধ্যেই মাদারীপুরের কাওড়াকান্দি থেকে মাওয়া ঘাটে আসার পথে সোমবার বেলা ১১টার দিকে আনুমানিক সাড়ে তিনশ যাত্রী নিয়ে পদ্মায় ডুবে যায় পিনাক-৬।
উদ্ধারকর্মীরা বলছেন, যতো সময় যাচ্ছে, ডুবে যাওয়া লঞ্চটির স্রোতের টানে নদীর তলদেশে বহুদূর সরে যাওয়ার আশঙ্কা ততো বাড়ছে। আর সেটি কোথাও আটকে গেলে দ্রুত পলির নিচে ঢাকা পড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বর্ষা মৌসুমে নদীতে প্রচুর পলি আর বালি থাকে বলে সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে লঞ্চটি খুঁজে পাওয়ার সম্ভাবনাও ধীরে ধীরে কমে আসছে।
বিআইডব্লিউটিএর চেয়ারম্যান শামসুদ্দোহাও সন্ধ্যায় বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “নদীতে গতকাল থেকেই তীব্র স্রোত। ফলে লঞ্চটি ডাউন স্ট্রিমে চলে যাওয়ার কথা। যে জায়গায় লঞ্চ ডুবেছে তার সংলগ্ন ২০ কিলোমিটার নদীতে সাইড স্ক্যান সোনার দিয়ে লঞ্চ খোঁজার চেষ্টা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো পজেটিভ আউটকাম পাইনি।”
চেয়ারম্যান জানান, উদ্ধারকারী জাহাজ রুস্তম ও নির্ভীক দুর্ঘটনাস্থলে এসে বসে থাকলেও লঞ্চের অবস্থান জানা সম্ভব না হওয়ায় সেগুলো এখনো কাজই শুরু করতে পারেনি।
ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি হুমায়ুন কবির জানান, তারা তল্লাশি চালানোর চেষ্টা চালিয়ে গেলেও প্রবল স্রোতের কারণে সুবিধা করতে পারছেন না।
বিআইডব্লিউটিএর পরিচালক শফিকুল হক জানান, মাওয়া লঞ্চ ঘাট থেকে পৌনে ১ কিলোমিটার দূরে লৌহজং চ্যানেলে লঞ্চটি ডুবেছে ধরে নিয়ে ‘সাইড স্ক্যানার সোনার’ দিয়ে নৌযানটি খোঁজা হচ্ছে।
“নদীর ওই এলাকায় পানির গভীরতা ৮০ থেকে ৯০ ফুট। সেখানে পানিতে একটি প্রবল ঘূর্ণাবর্ত রয়েছে। বেঁচে যাওয়া যাত্রী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলেই ওই জায়গাটি তল্লাশির জন্য চিহ্নিত করা হয়েছে।”

নদীর ২০০ মিটার গভীরে অনুসন্ধান চালানোর ক্ষমতা থাকায় জরিপ-১০ মাওয়ায় এলে উদ্ধার তৎপরতা গতি পাবে বলে আশা প্রকাশ করেছিলেন নৌমন্ত্রী।
কিন্তু নিম্নচাপের প্রভাবে উত্তাল সাগরে কুলাতে না পেরে সার্ভে ভেসেলটি ফিরে যাওয়ায় টাগ বোট কাণ্ডারী-২ এ পাঠানো যন্ত্রপাতির ওপরই এখন উদ্ধারকর্মীদের নির্ভর করতে হবে।
চট্টগ্রাম বন্দরের সদস্য (হারবার মেরিন) কমোডর মোহাম্মদ শাজাহান জানান, চট্টগ্রাম বন্দরের হাইড্রোগ্রাফি বিভাগের একটি দলও কাণ্ডারী-২ এর সঙ্গে রয়েছে।
বুধবার বেলা ১২টা নাগাদ কাণ্ডারী দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছাবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
নিখোঁজ ১৬৯
লৌহজং থানার ওসি তোফাজ্জল হোসেন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান, পদ্মার তীরে ছুটে আসা স্বজনদের অভিযোগের ভিত্তিতে মঙ্গলবার সন্ধ্যা পর্যন্ত নিখোঁজ ১৬৯ জনের একটি তালিকা করেছেন তারা।
তবে এর আগে জেলা প্রশাসক মো. সাইফুল হাসান বাদল ১২৭ জনের তালিকা করার কথা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান।
তিনি বলেন, দুর্ঘটনার পর সোমবার একশজনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।
নিহতদের পরিচয়
সোমবার দুর্ঘটনার পর উদ্ধার হওয়া দ্বিতীয় লাশেরও পরিচয় পাওয়া গেছে।
নিহত হাসি বেগম (৫০) মাদারীপুর জেলার শিবচর উপজেলার উতরাইল গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। তিনি তার ভাই হান্নানের সঙ্গে টঙ্গী যাচ্ছিল।
অন্যজন ঢাকার শিকদার মেডিকেল কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী নুসরাত জাহান হীরা (২০) ঈদের ছুটি শেষে ফিরছিলেন। সোমবার তার লাশ উদ্ধারের পর মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার কাদেরপুর গ্রামে রাতেই দাফন করা হয়।
চাঁদপুরের মেঘনায় দুটি লাশ
চাঁদপুরের হাইমচরে মেঘনা নদী থেকে অজ্ঞাতপরিচয় দুটি লাশ উদ্ধার করা হয়েছে, যার মধ্যে একটি মুন্সীগঞ্জের লঞ্চডুবিতে নিহত কারো হয়ে থাকতে পারে বলে স্থানীয় পুলিশের ধারণা।
হাইমচর থানার ওসি মো. মনিরুজ্জামান জানান, উপজেলার নীলকমল ইউনিয়নের মধ্যচর এলাকার মেঘনা নদীতে সকালে দুটি লাশ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেয়। দুটি মৃতদেহের মধ্যে একটি একজন নারীর ও অন্যটি পুরুষের।
ওসি বলেন, “পুরুষের লাশটি গলিত। সেটি কয়েক দিন আগের। তবে যে মহিলার লাশটি পাওয়া গেছে, সেটি গতকাল মুন্সীগঞ্জের লঞ্চডুবির ঘটনার হতে পারে।”
মুন্সীগঞ্জের লৌহজংয়ের এসি ল্যান্ড আবুল কালাম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমরা চাঁদপুরে লাশ পাওয়ার কথা শুনেছি। তবে সেখানে লঞ্চডুবির লাশ আছে কি না সে বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।”
মাওয়ায় উদ্ধার অভিযানের নেতৃত্বে থাকা বিআইডব্লিটিএর নৌ সংরক্ষণ ও পরিচালন বিভাগের পরিচালক মো. জসিম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমরা সাধ্যমত চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। স্পিডবোট, ওয়ার্ক বোট, টাগবোটসহ বিভিন্ন ধরনের জলযান নিয়ে চাঁদপুর থেকে মাওয়া পর্যন্ত অনুসন্ধান চালানো হচ্ছে, যাতে ভেসে যাওয়া লাশের সন্ধান পাওয়া যায়।”
মামলা
লঞ্চডুবির ঘটনায় এমএল পিনাক-৬ এর মালিক এবি সিদ্দিক কালু, ওই লঞ্চের সারেং ও সুকানিসহ ছয় জনের বিরুদ্ধে একটি মামলা করেছেন বিআইডব্লিউটিএ’র পরিবহন পরিদর্শক জাহাঙ্গীর ভূইয়া।

লঞ্চটির মালিক এবি সিদ্দিক কালু মেদিনীমণ্ডল ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি। তার বাড়ি মাওয়া ঘাটের কাছে দক্ষিণ মেদিনীমণ্ডল গ্রামে।
মাওয়া-কাওড়াকান্দি নৌপথে ‘মাওয়া এক্সপ্রেস’ লঞ্চের মালিকানাতেও তার অংশীদারিত্ব আছে বলে লঞ্চ মালিক সমিতির নেতারা জানান।
মাঝপথে বাড়তি যাত্রী তোলে পিনাক-৬
দুপুরে ঘটনাস্থল ঘুরে দেখে নৌমন্ত্রী শাজাহান খান মাওয়ায় সাংবাদিকদের বলেন, “আমরা খোঁজ নিয়ে জেনেছি, কাওড়াকান্দি থেকে লঞ্চটি ১৬০-১৭০ জন যাত্রী নিয়ে আসছিল। এরপর কাঁঠালবাড়ি লঞ্চঘাট থেকে আরো শতাধিক যাত্রী তুলেছিল।
“যদি কাওড়াকান্দি থেকে সরাসরি মাওয়া আসতো, তাহলে লঞ্চটি হয়তো ডুবত না। বাড়তি এই শতাধিক যাত্রীর চাপ লঞ্চডুবির অন্যতম কারণ বলে মনে হচ্ছে।”
ভবিষ্যতে কেউ যাতে এভাবে ‘মানুষের জীবন নিয়ে খেলতে না পারে’ সেজন্য সরকার কঠোর হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
লৌহজং থানার ওসি তোফাজ্জল হোসেন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান, পিনাকের মতো দোতলা লঞ্চের ধারণ ক্ষমতা হয় ১২০ থেকে ১৫০ জন। তবে লঞ্চটি ডোবার সময়ে সেখানে প্রায় সাড়ে তিনশ যাত্রী ছিল বলে তারা জানতে পেরেছেন।
বিক্ষোভ অবরোধ
লঞ্চডুবির পর একদিন পেরিয়ে গেলেও নিখোঁজ যাত্রীদের সন্ধান না পেয়ে উদ্ধারকাজে অবহেলার অভিযোগ এনে সকালে প্রায় এক ঘণ্টা মাওয়া ঘাট অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখান স্বজনরা।
সারারাত অপেক্ষার পরও উদ্ধারকাজে কোনো অগ্রগতি না দেখে স্বজনরা সকালে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন এবং সাড়ে ৭টার পর মাওয়া ঘাটে ঢোকার রাস্তায় ভ্যান উল্টে ফেলে অবরোধ করেন।

পরে জেলা প্রশাসকসহ কর্মকর্তারা এসে বিক্ষুব্ধ স্বজনদের বুঝিয়ে সরিয়ে নিলে সকাল সাড়ে ৮টার দিকে আবার ঘাটে যানবাহন ঢোকা শুরু হয়।
সাংবাদিকদের ওপর হামলা
পিনাক-৬ পদ্মায় তলিয়ে যাওয়ার ঘটনায় বিভ্রান্তিকর সংবাদ পরিবেশনের অভিযোগে মঙ্গলবার সকালে মাওয়া ঘাটে দায়িত্বরত সাংবাদিকদের ওপর হামলা চালায় বিক্ষুব্ধ স্বজনরা।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ওই টেলিভিশনের দুই সাংবাদিক মাওয়া ঘাটে বিক্ষোভরত স্বজন ও স্থানীয়দের কাছ থেকে মন্তব্য নিতে গেলে বিক্ষুব্ধরা তাদের লাঠি ও গাছের ডাল দিয়ে বেদম পিটুনি দেয় এবং ক্যামেরা কেড়ে নিয়ে ভাংচুর করে।
বিপুল যজ্ঞ
সেনাবাহিনীর ৫০ জন, নৌবাহিনীর ২৫ জন, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ৫৯ জন, পুলিশের ২২৫ জন, কোস্ট গার্ডের ২০ জন, নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয় ও বিআইডব্লিউটিএর ২৫০ জনসহ মোট ৬২৯ জন উদ্ধারকর্মী মাওয়ায় উদ্ধারকাজে অংশ নিচ্ছেন।
এর বাইরেও রয়েছে প্রশাসন, স্বাস্থ্য বিভাগ, রেডক্রিসেন্টসহ বিভিন্ন সংস্থার কর্মী ও স্বেচ্ছাসেবীরা।
লঞ্চটির অবস্থান সনাক্ত করতে নৌবাহিনীর দুটি ও বিআইডব্লিউটিএ’র একটিসহ মোট তিনটি সাইড স্ক্যান সোনার ব্যবহার করা হচ্ছে।
জেলা প্রশাসক জানান, উদ্ধারকারী জাহাজ রুস্তম ও নির্ভীক ঘটনাস্থলে রয়েছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যা পর্যন্ত সম্ভাব্য দুর্ঘটনাস্থল থেকে চার কিলোমিটার এলাকায় নদীতে অসন্ধান চালিয়েছেন উদ্ধারকর্মীরা।
নিখোঁজদের সন্ধানে লঞ্চডুবির স্থান ও আশেপাশের এলাকায় টহল দিচ্ছে নৌবাহিনী, র্যাব ও পুলিশের তিনটি হেলিকপ্টার।
কন্ট্রোল রুম
মাদারীপুর জেলা প্রশাসক জি এস জাফরউল্লা জানান, লঞ্চডুবিতে নিহত কারো লাশ উদ্ধার হলে মাদারীপুরের শিবচরে পাঁচ্চর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে রাখা হবে। এছাড়া কাওড়াকান্দি ফেরি ঘাট ও পাঁচ্চর বাস স্ট্যান্ডে খোলা হয়েছে দুটি কন্টোল রুম।
তিনি বলেন, ওই লঞ্চের যাত্রীদের অধিকাংশই দেশের দক্ষিণাঞ্চলের বাসিন্দা বলে লাশ রাখার জন্য শিবচরকেই বেছে নেয়া হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, এখনো কোন লাশ পাঁচ্চর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে এসে পৌঁছায়নি। তবে চাঁদপুরের হাইমচর থানা ও শরীয়তপুর থেকে এক নারীসহ তিনজনের লাশ কিছ সময়ের মধ্যে আসবে।


No comments:
Post a Comment