Tuesday, August 5, 2014

চোখের জল মুছিয়ে বাবার হাতে পদক তুলে দিলেন দীপা

চোখের জল মুছিয়ে বাবার হাতে পদক তুলে দিলেন দীপা

Aajkaal: the leading bengali daily newspaper from Kolkata

কিরীটী দত্ত
জন্মভূমিতে পৌঁছেই বাবার হাতে তুলে দিলেন বহু-আকাব্ভিত পদক৷‌ সোমবার সকালে আগরতলা বিমানবন্দরের লাউঞ্জে৷‌ মেয়েকে বুকে আগলে ধরতে বিমান আসার প্রায় একঘণ্টা আগেই লাউঞ্জে ঢুকে পড়েন গর্বিত পিতা দুলাল কর্মকার৷‌ সকাল ৯টা ৫০-এ ইন্ডিগো বিমান আগরতলা আসতেই উত্তেজনায় কাঁপছিলেন তিনি৷‌ লাউঞ্জে বাবাকে দেখেই দৌড়ে ছুটে আসেন দীপা৷‌ ‘হীরের টুকরো মেয়েকে’ বুকে জড়িয়ে খুশিতে চোখের জল ধরে রাখতে পারেননি দুলালবাবু৷‌ বুক থেকে ছাড়া পেয়ে মেয়েই মুছে দেন বাবার চোখের জল৷‌ এবং বাবার হাতে তুলে দেন কমনওয়েলথ গেমস থেকে জয় করা ব্রো? পদক৷‌ মেয়েকে বুকে জড়িয়ে যখন লাউ? থেকে বের হচ্ছিলেন, তখনও চোখ ছলছল করছিল৷‌ পরে নিজেকে সামলে দুলালবাবু বলেন, ‘আমার জীবনের স্বপ্নপূরণ করল মেয়ে৷‌ এর থেকে খুশির আর কী আছে! আজ থেকে কেউ আর আমার মেয়ে দীপা বলবে না, বলবে দীপার বাবা আমি৷‌ এর থেকে গর্বের আর কী আছে? মেয়ে আরও এগিয়ে যাক, বয়ে বেড়াক সাফল্যের সিঁড়ি, তা কামনা করি৷‌’ বাবার চোখে যখন খুশিতে জল, তখন ওর মা গৌরী কর্মকারের আফসোস৷‌ মেয়েকে আদর করে বুকে জড়িয়ে ধরতে অসুস্হ শরীর নিয়ে গিয়েছিলেন বিমানবন্দরে৷‌ কিন্তু উৎসুক জনতার ভিড়ে একটু ছুঁতেও পারেননি ছোট্ট মেয়েকে৷‌ এমনকি র্যালি করে উমাকাম্ত মাঠে এলেও দেখা করতে পারেননি মেয়ের সঙ্গে৷‌ আফসোস ঝেড়ে ফেলে বলেন, ‘ঘরে ফিরলেই মন খুলে কথা বলব ওর সঙ্গে৷‌ ওর প্রিয় খাবারও তৈরি করা হচ্ছে৷‌’ দু’মাস আগে কমনওয়েলথ আমন্ত্রণমূলক আসর থেকে পদক জয় করে ফিরে আসার পরই ৪ কুড়ি বয়সীর ঠাকুরমা ভুবনেশ্বরী কর্মকার নাতনির কাছে আবদার করেছিলেন আম্তর্জাতিক আসর থেকে পদক জয় করে এনে দেওয়ার জন্য বলেছিলেন, ‘মৃত্যুর আগে আম্তর্জাতিক পদক দেখে যেতে চান নাতনির গলায়৷‌’ সোমবার ভোররাতে ঘুম থেকে উঠে স্নান সেরে নেন৷‌ কানে কম শোনা এবং চোখে কম দেখা ঠাকুরমা গাঁদা ফুলের বড় মালা নিয়ে সকাল ৯টা থেকে ঠাঁই মেরে বসেছিলেন বিমানবন্দরের বাইরে৷‌ বিমানবন্দরের লাউ? থেকে দীপা বেরোতেই তিনি এগিয়ে যান৷‌ কিন্তু জনতার ভিড়ে তিনি নিজেকে ঠিক রাখতে পারেননি৷‌ সরে দাঁড়ান৷‌ পরে বলেন, ‘নাতনি আমার স্বপ্নপূরণ করেছে৷‌ এতেই আমি খুশি৷‌’

No comments:

Post a Comment