আমার মাথা নত করে দাও হে তোমার চরণ ধূলার তলে
রবীন্দ্র স্মরণানুষ্ঠান
মোরসালিন মিজান ॥ গত বুধবার ছিল বাইশে শ্রাবণ। বাঙালীর প্রাণের স্পন্ধন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ৭৩তম প্রয়াণবার্ষিকী। এদিন প্রিয় পৃথিবী থেকে চির প্রস্থান গ্রহণ করেন কবিগুরু। প্রতিবছর নানা আয়োজনে দিবসটি পালিত হয়। তবে এবার ঈদের কারণে আয়োজন ছিল সীমিত। আর তার পর শুক্রবার। এদিন পুরোদমে জমে ওঠেছিল সংস্কৃতি অঙ্গন। সঙ্গত কারণেই রবির আলোয় উদ্ভাসিত হয়েছে চারদিক। এদিন, রবীন্দ্র প্রয়াণবার্ষিকীর একাধিক উৎসব অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয় রাজধানীতে।
রবীন্দ্রচর্চার বাতিঘর ছায়ানটে সন্ধ্যায় বিশেষ সঙ্গীত ও নৃত্যানুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। আরও বিশেষ করে তুলেন সংগঠনের সভাপতি দেশের সাংস্কৃতিক আন্দোলন সংগ্রামের পুরোধা ব্যক্তিত্ব ও রবীন্দ্রসঙ্গীত শিল্পী সন্জীদা খাতুন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার পাশাপাশি ভক্ত ও অনুরাগীদের গান গেয়ে শোনান তিনি। অসামান্য সূচনা করে তিনি গেয়ে যান-মরণ রে, তুঁ হুঁ মম শ্যামসমান।/মেঘবরণ তুঝ, মেঘজটাজুট,/ রক্তকমলকর, রক্ত-অধরপুট,/ তাপবিমোচন করুণ কোর তব/ মৃত্যু-অমৃত করে দান...। বহুবার শোনা গান। বহুবার। এর পরও তন্ময় হয়ে শুনতে হয়। সন্জীদা খাতুন বলেই কেমন যেন অধিকার করে নেন শ্রোতাকে। এ পারে বসেই কী যে সুন্দর করে ওপারের গান গেয়ে যান গুণী! তিনি গানের বাণীতে সুরে কী যেন যোগ করেন, কিংবা কিছুই যোগ করেন না। শুধু যেভাবে গাওয়া যথার্থ সেভাবেই তিনি গেয়ে যান। গেয়ে শোনান। তাতেই ভেতর বাহির কেমন যেন করে ওঠে। আনন্দের ভাব হয়। বেদনারও। শিল্পী নিজেও গানের প্রেক্ষাপট গানের বলাটি নিজের বিশ্লেষণে তুলে ধরেন। ফলে খুব সহজেই শ্রোতা তাঁর গানের সঙ্গে একাত্ম হন। ভাবটির সঙ্গে মিলেমিশে একাকার হয়ে যান। সন্জীদা খাতুনের বার্ধক্য বলে কিছু নেই। থাকতে পারে না। ক্লান্তি নেই। থাকা সমীচীন নয়- আরও একবার যেন সে কথা প্রমাণ করেন তিনি।
এর পর মঞ্চে ওঠেন ছায়ানটের শিল্পীরা। সম্মেলক দিয়ে শুরু। শিল্পীরা গান-শুন লো শুন লো বালিকা, রাখ কুসুমমালিকা,/ কুঞ্জ কুঞ্জ ফেরনু সখি, শ্যামচন্দ্র নাহি রে...। একক সঙ্গীত শুরু হয় সৈকত মুখার্জির পরিবেশনা দিয়ে। তাঁর কণ্ঠে ছিল- এক হাতে ওর কৃপাণ আছে, আর-এক হাতে হার...। সিফায়েত উল্লাহ মুকুল শোনান ‘কেন আমায় পাগল করে যাস’ গানটি। এর পর আজিজুর রহমান তুহিনের পরিবেশনা। তিনি গেয়ে যান চির বেদনার সঙ্গীত- ‘যখন পড়বে না মোর পায়ের চিহ্ন এই বাটে,/আমি বাইব না মোর খেয়াতরী এই ঘাটে...। এটিএম জাহাঙ্গীর রবীন্দ্রনাথকেই যেন বলেন- ‘তুমি রবে নীরবে’। আবদুল ওয়াদুদ, ফাহমিদা খাতুন, তানিয়া মান্নান প্রমুখের পরিবেশনাও ছিল চমৎকার। এ পর্যায়ে আবারও সন্জীদা খাতুন। পুনরায় মঞ্চে এসে গান ধরেন তিনি। এবার রবীন্দ্রনাথ থেকে তাঁর বলাটি-আমায় ক্ষমো হে ক্ষমো, নমো হে নমো, তোমায় স্মরি, হে নিরুপম,/ নৃত্যরসে চিত্ত মম উছল হয়ে বাজে...। গানের সঙ্গে নৃত্য পরিবেশন করেন ওয়ার্দা রিহাব। জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনার মধ্য দিয়ে শেষ হয় রবীন্দ্র স্মরণানুষ্ঠান।
রবীন্দ্রসঙ্গীত শিল্পী সংস্থার আয়োজন॥ একই দিন বিকেলে রবীন্দ্রসঙ্গীত শিল্পী সংস্থা ‘তবু মনে রেখো’ শিরোনামে দুইদিনের অনুষ্ঠানমালার সূচনা করে। সুফিয়া কামাল জাতীয় গণগ্রন্থাগারের শওকত ওসমান স্মৃতি মিলনায়তনে এ উৎসবের আয়োজন করা হয়। মঞ্চের আলো জ্বলে উঠতেই চোখে পড়ে রবীন্দ্রনাথের জন্মভিটা জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়ির ছবি। ব্যাকড্রপে বিশাল এ ছবি দিয়ে চমৎকার আবহ তৈরি করে। মনে হয়, পুরো আয়োজনটি ঠাকুরবাড়ির উঠোনে হচ্ছে!
সমবেত কণ্ঠে জাতীয়সঙ্গীত ‘আমার সোনার বাংলা’ পরিবেশনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় অনুষ্ঠান। পরে শিল্পীরা গেয়ে শোনান- আগুনের পরশমণি ছোঁয়াও প্রাণে।/ এ জীবন পুণ্য করো দহন-দানে/ আমার এই দেহখানি তুলে ধরো,/ তোমার ওই দেবালয়ের প্রদীপ করো...। পরের গান- আমার মাথা নত করে দাও হে তোমার চরণধূলার তলে।/ সকল অহঙ্কার হে আমার ডুবাও চোখের জলে।/ নিজেরে করিতে গৌরব দান নিজেরে কেবলই করি অপমান,/ আপনারে শুধু ঘেরিয়া ঘেরিয়া ঘুরে মরি পলে পলে...। এই গানের মধ্য দিয়ে শেষ হয় সমবেত পরিবেশনা। একক সঙ্গীত নিয়ে প্রথম মঞ্চে আসেন অনিন্দিতা রায়। রবীন্দ্রনাথের ভীষণ জনপ্রিয় একটি গান গাওয়ার জন্য বেছে নেন তিনি। গানটি-চোখের আলোয় দেখেছিলেম চোখের বাহিরে।/ অন্তরে আজ দেখব, যখন আলোক নাহি রে।/ ধরায় যখন দাও না ধরা হৃদয় তখন তোমায় ভরা/ এখন তোমার আপন আলোয় তোমায় চাহিরে...। পরে একে একে গান করেন আমিনা আহমেদ, বুলা মাহমুদ, ছায়া কর্মকার, মিরা ম-ল, অনিল ভৌমিক, রানু কর্মকার, সালমা আকবর, সেলিনা হুদা, সেলিনা পারভেজ, সন্ধ্যা ভট্টাচার্য, শ্রাবণী চক্রবর্তী, শারমিন আহমেদ লিপি, শিমু দে, সুস্মিতা মন্ডল, সুমাইয়া ইমাম, তনুশ্রী ভট্টচার্য, তানজিমা তমা প্রমুখ। এখানেও মুগ্ধ হয়ে পছন্দের গান শোনেন উপস্থিত শ্রোতা-দর্শক। সব মিলিয়ে রবীন্দ্র বন্দনায় দারুণ একটি দিন কাটিয়েছেন ভক্ত অনুরাগীরা।
রবীন্দ্রচর্চার বাতিঘর ছায়ানটে সন্ধ্যায় বিশেষ সঙ্গীত ও নৃত্যানুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। আরও বিশেষ করে তুলেন সংগঠনের সভাপতি দেশের সাংস্কৃতিক আন্দোলন সংগ্রামের পুরোধা ব্যক্তিত্ব ও রবীন্দ্রসঙ্গীত শিল্পী সন্জীদা খাতুন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার পাশাপাশি ভক্ত ও অনুরাগীদের গান গেয়ে শোনান তিনি। অসামান্য সূচনা করে তিনি গেয়ে যান-মরণ রে, তুঁ হুঁ মম শ্যামসমান।/মেঘবরণ তুঝ, মেঘজটাজুট,/ রক্তকমলকর, রক্ত-অধরপুট,/ তাপবিমোচন করুণ কোর তব/ মৃত্যু-অমৃত করে দান...। বহুবার শোনা গান। বহুবার। এর পরও তন্ময় হয়ে শুনতে হয়। সন্জীদা খাতুন বলেই কেমন যেন অধিকার করে নেন শ্রোতাকে। এ পারে বসেই কী যে সুন্দর করে ওপারের গান গেয়ে যান গুণী! তিনি গানের বাণীতে সুরে কী যেন যোগ করেন, কিংবা কিছুই যোগ করেন না। শুধু যেভাবে গাওয়া যথার্থ সেভাবেই তিনি গেয়ে যান। গেয়ে শোনান। তাতেই ভেতর বাহির কেমন যেন করে ওঠে। আনন্দের ভাব হয়। বেদনারও। শিল্পী নিজেও গানের প্রেক্ষাপট গানের বলাটি নিজের বিশ্লেষণে তুলে ধরেন। ফলে খুব সহজেই শ্রোতা তাঁর গানের সঙ্গে একাত্ম হন। ভাবটির সঙ্গে মিলেমিশে একাকার হয়ে যান। সন্জীদা খাতুনের বার্ধক্য বলে কিছু নেই। থাকতে পারে না। ক্লান্তি নেই। থাকা সমীচীন নয়- আরও একবার যেন সে কথা প্রমাণ করেন তিনি।
এর পর মঞ্চে ওঠেন ছায়ানটের শিল্পীরা। সম্মেলক দিয়ে শুরু। শিল্পীরা গান-শুন লো শুন লো বালিকা, রাখ কুসুমমালিকা,/ কুঞ্জ কুঞ্জ ফেরনু সখি, শ্যামচন্দ্র নাহি রে...। একক সঙ্গীত শুরু হয় সৈকত মুখার্জির পরিবেশনা দিয়ে। তাঁর কণ্ঠে ছিল- এক হাতে ওর কৃপাণ আছে, আর-এক হাতে হার...। সিফায়েত উল্লাহ মুকুল শোনান ‘কেন আমায় পাগল করে যাস’ গানটি। এর পর আজিজুর রহমান তুহিনের পরিবেশনা। তিনি গেয়ে যান চির বেদনার সঙ্গীত- ‘যখন পড়বে না মোর পায়ের চিহ্ন এই বাটে,/আমি বাইব না মোর খেয়াতরী এই ঘাটে...। এটিএম জাহাঙ্গীর রবীন্দ্রনাথকেই যেন বলেন- ‘তুমি রবে নীরবে’। আবদুল ওয়াদুদ, ফাহমিদা খাতুন, তানিয়া মান্নান প্রমুখের পরিবেশনাও ছিল চমৎকার। এ পর্যায়ে আবারও সন্জীদা খাতুন। পুনরায় মঞ্চে এসে গান ধরেন তিনি। এবার রবীন্দ্রনাথ থেকে তাঁর বলাটি-আমায় ক্ষমো হে ক্ষমো, নমো হে নমো, তোমায় স্মরি, হে নিরুপম,/ নৃত্যরসে চিত্ত মম উছল হয়ে বাজে...। গানের সঙ্গে নৃত্য পরিবেশন করেন ওয়ার্দা রিহাব। জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনার মধ্য দিয়ে শেষ হয় রবীন্দ্র স্মরণানুষ্ঠান।
রবীন্দ্রসঙ্গীত শিল্পী সংস্থার আয়োজন॥ একই দিন বিকেলে রবীন্দ্রসঙ্গীত শিল্পী সংস্থা ‘তবু মনে রেখো’ শিরোনামে দুইদিনের অনুষ্ঠানমালার সূচনা করে। সুফিয়া কামাল জাতীয় গণগ্রন্থাগারের শওকত ওসমান স্মৃতি মিলনায়তনে এ উৎসবের আয়োজন করা হয়। মঞ্চের আলো জ্বলে উঠতেই চোখে পড়ে রবীন্দ্রনাথের জন্মভিটা জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়ির ছবি। ব্যাকড্রপে বিশাল এ ছবি দিয়ে চমৎকার আবহ তৈরি করে। মনে হয়, পুরো আয়োজনটি ঠাকুরবাড়ির উঠোনে হচ্ছে!
সমবেত কণ্ঠে জাতীয়সঙ্গীত ‘আমার সোনার বাংলা’ পরিবেশনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় অনুষ্ঠান। পরে শিল্পীরা গেয়ে শোনান- আগুনের পরশমণি ছোঁয়াও প্রাণে।/ এ জীবন পুণ্য করো দহন-দানে/ আমার এই দেহখানি তুলে ধরো,/ তোমার ওই দেবালয়ের প্রদীপ করো...। পরের গান- আমার মাথা নত করে দাও হে তোমার চরণধূলার তলে।/ সকল অহঙ্কার হে আমার ডুবাও চোখের জলে।/ নিজেরে করিতে গৌরব দান নিজেরে কেবলই করি অপমান,/ আপনারে শুধু ঘেরিয়া ঘেরিয়া ঘুরে মরি পলে পলে...। এই গানের মধ্য দিয়ে শেষ হয় সমবেত পরিবেশনা। একক সঙ্গীত নিয়ে প্রথম মঞ্চে আসেন অনিন্দিতা রায়। রবীন্দ্রনাথের ভীষণ জনপ্রিয় একটি গান গাওয়ার জন্য বেছে নেন তিনি। গানটি-চোখের আলোয় দেখেছিলেম চোখের বাহিরে।/ অন্তরে আজ দেখব, যখন আলোক নাহি রে।/ ধরায় যখন দাও না ধরা হৃদয় তখন তোমায় ভরা/ এখন তোমার আপন আলোয় তোমায় চাহিরে...। পরে একে একে গান করেন আমিনা আহমেদ, বুলা মাহমুদ, ছায়া কর্মকার, মিরা ম-ল, অনিল ভৌমিক, রানু কর্মকার, সালমা আকবর, সেলিনা হুদা, সেলিনা পারভেজ, সন্ধ্যা ভট্টাচার্য, শ্রাবণী চক্রবর্তী, শারমিন আহমেদ লিপি, শিমু দে, সুস্মিতা মন্ডল, সুমাইয়া ইমাম, তনুশ্রী ভট্টচার্য, তানজিমা তমা প্রমুখ। এখানেও মুগ্ধ হয়ে পছন্দের গান শোনেন উপস্থিত শ্রোতা-দর্শক। সব মিলিয়ে রবীন্দ্র বন্দনায় দারুণ একটি দিন কাটিয়েছেন ভক্ত অনুরাগীরা।
http://allbanglanewspapers.com/janakantha/
No comments:
Post a Comment