সিঙ্গুরে ডুবিয়েছে অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসই, কবুল বুদ্ধর
এই সময়: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বধীন জমি আন্দোলনকে খাটো করে দেখা এবং অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসই যে সিঙ্গুর-সমস্যাকে হাতের বাইরে নিয়ে গিয়েছিল, ছ'বছর পর তা কবুল করলেন বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য৷ পাশাপাশি টাটা গোষ্ঠীর কর্ণধার রতন টাটা তলে তলে গুজরাটে প্রকল্প সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করলেও, তাঁরা তা আঁচ করতে পারেননি বলেও এত দিন পর মেনে নিলেন রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী৷ সংবাদসংস্থা পিটিআই-কে দেওয়া সাক্ষাত্কারে সিঙ্গুর পরিস্থিতির মূল্যায়ন নিয়ে দল এবং তত্কালীন বাম সরকারের এই ব্যর্থতার কথা স্বীকার করেছেন বুদ্ধবাবু৷
লোকসভা ভোটের প্রাক্কালে বুদ্ধবাবুর দীর্ঘ সাক্ষাত্কারের একাংশ গত রবিবার প্রকাশ করে এই সংবাদসংস্থা৷ বুধবার সে সাক্ষাত্কারের পরবর্তী অংশ প্রকাশ করেছে তারা৷ সেখানে আসন্ন লোকসভা ভোটে বামফ্রন্টের সাফল্যের সম্ভাবনা থেকে বহুচর্চিত সিঙ্গুর-নন্দীগ্রাম প্রসঙ্গ, রেজ্জাক মোল্লার বহিষ্কার থেকে তৃণমূল সরকারের পারফরম্যান্স নিয়ে খোলাখুলি নিজের অভিমত প্রকাশ করেছেন সিপিএমের এই পলিটব্যুরো সদস্য৷
প্রায় তিন বছরের তৃণমূল জমানায় শিল্পায়ন না-হওয়া নিয়ে দীর্ঘ দিন ধরেই প্রচার চালাচ্ছেন বামফ্রন্ট নেতৃত্ব৷ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার ক্ষমতায় আসার পর প্রথম ক্যাবিনেট বৈঠকেই সিঙ্গুরে তথাকথিত অনিচ্ছুক কৃষকদের জমি ফেরত দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও, মামলার গেরোয় আজও তা বাস্তবায়িত হয়নি৷ ন্যানো প্রকল্পের জমির মালিকানা নিয়ে দ্বন্দ্ব এখনও কাটেনি৷ ফলে ন্যানো প্রকল্প বাতিল হওয়ার পর ছ'বছর কেটে গেলেও, সিঙ্গুর কিংবা নন্দীগ্রাম ইস্যু এ রাজ্যে এখনও প্রাসঙ্গিকতা হারায়নি৷ সিপিএম নেতাদের একাংশ এখনও মনে করেন, সিঙ্গুরে ন্যানো প্রকল্পের পাশে দুর্গাপুর এক্সপ্রেসওয়ের উপর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে মঞ্চ বেঁধে লাগাতার আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া উচিত হয়নি তত্কালীন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধবাবুর৷ মমতাকে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ দেওয়াতেই সিঙ্গুর সমস্যা হাতের বাইরে চলে যায় বলে রাজ্য সিপিএমের একাধিক নেতা মনে করেন৷
বুধবার বিদ্রোহী সিপিএম নেতা লক্ষ্মণ শেঠের কথায় যার প্রতিফলন পাওয়া গিয়েছে৷ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে ভাবে পাহাড়-জঙ্গলমহলের সমস্যার সমাধান করেছেন, তার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন তমলুকের প্রাক্তন সাংসদ৷ তাঁর কথায়, 'আমাদের সময়ে দৃঢ়তার অভাব ছিল৷ এই মুখ্যমন্ত্রীর বুকের পাটা রয়েছে৷' বস্ত্তত, তৃণমূল নেত্রীর আন্দোলন টেনে নিয়ে যাওয়ার ক্ষমতাকে তাঁরা যে যথেষ্ট গুরুত্ব দেননি, তা এত দিন পর বুদ্ধবাবুর কথা থেকে বেরিয়ে এল৷ তাঁর কথায়, 'আমি নিশ্চিত ছিলাম এই সমস্যার (সিঙ্গুর) সমাধান করতে পারব৷ আমি ভেবেছিলাম উনি (মমতা) কয়েকবার ভাষণ দেবেন, কিন্ত্ত শেষ পর্যন্ত কারখানা খুলবে৷' প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর কথা থেকে স্পষ্ট, মমতা যে সিঙ্গুর আন্দোলনকে দীর্ঘ দিন টেনে নিয়ে যাবেন, তা ধারণার মধ্যে ছিল না সিপিএম নেতৃত্বের৷
তবে সিঙ্গুরে জোর করে জমি অধিগ্রহণের অভিযোগ বুদ্ধবাবু মানতে নারাজ৷ সাক্ষাত্কারে তাঁর যুক্তি, 'আমি আবার বলছি, সিংহভাগ জমির মালিক স্বেচ্ছায় জমি দিয়েছিলেন৷' তা স্বত্ত্বেও প্রকল্প বাতিল হওয়ার জন্য তিনি রাজ্যের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রীকে দুষেছেন৷ বুদ্ধবাবুর বক্তব্য, 'সিঙ্গুর রাজ্যের ভবিষ্যত্কে শেষ করে দিয়েছে, যা হয়েছে তার জন্য উনি (মমতা) দায়ী৷' টাটা-কর্ণধার সিঙ্গুর পরিস্থিতির দোহাই দিলেও তিনি অনেক আগেই থেকেই প্রকল্প সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছিলেন বলে অভিযোগ বুদ্ধবাবুর৷ তাঁর কথায়, 'উনি (রতন টাটা) বললেন, অবাঞ্ছিত অতিথি হিসেবে উনি থাকবেন না৷ তাই রতন টাটা সিঙ্গুর থেকে প্রকল্প সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন৷ দুর্ভাগ্যজনক হল, পরে আমি জানতে পারি উনি গুজরাট সরকারের সঙ্গে অনেক আগে থেকেই কথা বলছিলেন৷'
বামফ্রন্ট সরকার চলে যাওয়ার পর রাজ্যে নতুন একটি শিল্প-বিনিয়োগ আসেনি বলে ফের অভিযোগ করেছেন তিনি৷ উইপ্রো-র পর ইনফোসিস রাজ্যে ৯০ হাজার চাকরি তৈরির প্রস্তাব দিয়ে বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিলেও, তৃণমূল জমানায় এর কোনও অগ্রগতি হয়নি৷ বুদ্ধবাবুর কথায়, 'কৃষি, শিল্প, আইনশৃঙ্খলা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য-- সব ক্ষেত্রেই ফল শূন্য৷ একটিও নতুন রাস্তা, বিদ্যুত্কেন্দ্র, সেতু, হাসপাতাল হয়নি৷ শুধু শিলান্যাস হচ্ছে, অদ্ভুত!'
লোকসভা ভোটের প্রাক্কালে বুদ্ধবাবুর দীর্ঘ সাক্ষাত্কারের একাংশ গত রবিবার প্রকাশ করে এই সংবাদসংস্থা৷ বুধবার সে সাক্ষাত্কারের পরবর্তী অংশ প্রকাশ করেছে তারা৷ সেখানে আসন্ন লোকসভা ভোটে বামফ্রন্টের সাফল্যের সম্ভাবনা থেকে বহুচর্চিত সিঙ্গুর-নন্দীগ্রাম প্রসঙ্গ, রেজ্জাক মোল্লার বহিষ্কার থেকে তৃণমূল সরকারের পারফরম্যান্স নিয়ে খোলাখুলি নিজের অভিমত প্রকাশ করেছেন সিপিএমের এই পলিটব্যুরো সদস্য৷
প্রায় তিন বছরের তৃণমূল জমানায় শিল্পায়ন না-হওয়া নিয়ে দীর্ঘ দিন ধরেই প্রচার চালাচ্ছেন বামফ্রন্ট নেতৃত্ব৷ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার ক্ষমতায় আসার পর প্রথম ক্যাবিনেট বৈঠকেই সিঙ্গুরে তথাকথিত অনিচ্ছুক কৃষকদের জমি ফেরত দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও, মামলার গেরোয় আজও তা বাস্তবায়িত হয়নি৷ ন্যানো প্রকল্পের জমির মালিকানা নিয়ে দ্বন্দ্ব এখনও কাটেনি৷ ফলে ন্যানো প্রকল্প বাতিল হওয়ার পর ছ'বছর কেটে গেলেও, সিঙ্গুর কিংবা নন্দীগ্রাম ইস্যু এ রাজ্যে এখনও প্রাসঙ্গিকতা হারায়নি৷ সিপিএম নেতাদের একাংশ এখনও মনে করেন, সিঙ্গুরে ন্যানো প্রকল্পের পাশে দুর্গাপুর এক্সপ্রেসওয়ের উপর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে মঞ্চ বেঁধে লাগাতার আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া উচিত হয়নি তত্কালীন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধবাবুর৷ মমতাকে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ দেওয়াতেই সিঙ্গুর সমস্যা হাতের বাইরে চলে যায় বলে রাজ্য সিপিএমের একাধিক নেতা মনে করেন৷
বুধবার বিদ্রোহী সিপিএম নেতা লক্ষ্মণ শেঠের কথায় যার প্রতিফলন পাওয়া গিয়েছে৷ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে ভাবে পাহাড়-জঙ্গলমহলের সমস্যার সমাধান করেছেন, তার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন তমলুকের প্রাক্তন সাংসদ৷ তাঁর কথায়, 'আমাদের সময়ে দৃঢ়তার অভাব ছিল৷ এই মুখ্যমন্ত্রীর বুকের পাটা রয়েছে৷' বস্ত্তত, তৃণমূল নেত্রীর আন্দোলন টেনে নিয়ে যাওয়ার ক্ষমতাকে তাঁরা যে যথেষ্ট গুরুত্ব দেননি, তা এত দিন পর বুদ্ধবাবুর কথা থেকে বেরিয়ে এল৷ তাঁর কথায়, 'আমি নিশ্চিত ছিলাম এই সমস্যার (সিঙ্গুর) সমাধান করতে পারব৷ আমি ভেবেছিলাম উনি (মমতা) কয়েকবার ভাষণ দেবেন, কিন্ত্ত শেষ পর্যন্ত কারখানা খুলবে৷' প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর কথা থেকে স্পষ্ট, মমতা যে সিঙ্গুর আন্দোলনকে দীর্ঘ দিন টেনে নিয়ে যাবেন, তা ধারণার মধ্যে ছিল না সিপিএম নেতৃত্বের৷
তবে সিঙ্গুরে জোর করে জমি অধিগ্রহণের অভিযোগ বুদ্ধবাবু মানতে নারাজ৷ সাক্ষাত্কারে তাঁর যুক্তি, 'আমি আবার বলছি, সিংহভাগ জমির মালিক স্বেচ্ছায় জমি দিয়েছিলেন৷' তা স্বত্ত্বেও প্রকল্প বাতিল হওয়ার জন্য তিনি রাজ্যের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রীকে দুষেছেন৷ বুদ্ধবাবুর বক্তব্য, 'সিঙ্গুর রাজ্যের ভবিষ্যত্কে শেষ করে দিয়েছে, যা হয়েছে তার জন্য উনি (মমতা) দায়ী৷' টাটা-কর্ণধার সিঙ্গুর পরিস্থিতির দোহাই দিলেও তিনি অনেক আগেই থেকেই প্রকল্প সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছিলেন বলে অভিযোগ বুদ্ধবাবুর৷ তাঁর কথায়, 'উনি (রতন টাটা) বললেন, অবাঞ্ছিত অতিথি হিসেবে উনি থাকবেন না৷ তাই রতন টাটা সিঙ্গুর থেকে প্রকল্প সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন৷ দুর্ভাগ্যজনক হল, পরে আমি জানতে পারি উনি গুজরাট সরকারের সঙ্গে অনেক আগে থেকেই কথা বলছিলেন৷'
বামফ্রন্ট সরকার চলে যাওয়ার পর রাজ্যে নতুন একটি শিল্প-বিনিয়োগ আসেনি বলে ফের অভিযোগ করেছেন তিনি৷ উইপ্রো-র পর ইনফোসিস রাজ্যে ৯০ হাজার চাকরি তৈরির প্রস্তাব দিয়ে বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিলেও, তৃণমূল জমানায় এর কোনও অগ্রগতি হয়নি৷ বুদ্ধবাবুর কথায়, 'কৃষি, শিল্প, আইনশৃঙ্খলা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য-- সব ক্ষেত্রেই ফল শূন্য৷ একটিও নতুন রাস্তা, বিদ্যুত্কেন্দ্র, সেতু, হাসপাতাল হয়নি৷ শুধু শিলান্যাস হচ্ছে, অদ্ভুত!'
http://eisamay.indiatimes.com/-/budha-says-about-singur-land-protest/articleshow/32737106.cms
No comments:
Post a Comment