Wednesday, March 26, 2014

প্রেমে বাধার কারণেই সিলেটে জয়-জেনি-দীপুর আত্মহত্যা


প্রেমে বাধার কারণেই সিলেটে জয়-জেনি-দীপুর আত্মহত্যা



প্রেমে বাধার কারণেই সিলেটে অকালে ঝরে গেল তিনটি মেধাবী মুখ। জয় গোস্বামী ভালবাসতেন সহপাঠিনী জেনি পুরকায়স্থকে। সেটি জানতেন জেনির ভাই দীপু। তিনজনই ছিল একই সুতোয় গাঁথা। তিন জনের এক সঙ্গে মৃত্যুর ঘটনায় সিলেটের তোলপাড় চলছে। তেমনি দু’টি পরিবারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। আলোচিত দু’টি আত্মহত্যা ঘটনার পর ডা. জয় ও জেনির প্রেমের ঘটনাটি রটেছে এলাকার মানুষের মুখে মুখে। তবে, এ বিষয়টি পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে বেরিয়ে এলেও পরিবারের লোকজন এ ব্যাপারে মুখ খোলেননি। দীপু পুরকায়স্থ (২৬) ও ছোট বোন জেনি পুরকায়স্থ (২৪) সিলেট নগরীর আখালিয়া গ্রিন সিটি আবাসিক এলাকার সি ব্লকের ১নং রোডে ভিউটি লজের নিচতলার বাসিন্দা গিরিধন পুরকায়স্থের সন্তান। তাদের মূলবাড়ি সুনামগঞ্জ জেলার জামালগঞ্জ উপজেলার উজান দৌলতপুরে। ডা. জয় গোস্বামীর বাড়িও একই এলাকায়। এ কারণে দীপুর সঙ্গে জয়ের ঘনিষ্ঠ বন্ধুত্ব ছিল। পরে জেনির সঙ্গে জয়ের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এই প্রেম নিয়ে দু’টি পরিবারের মধ্যে বেশ টানাপড়েন সৃষ্টি হয়। পারিবারিক সূত্র জানায়, জয়ের পরিবার বিয়ের বিপক্ষে দাঁড়ায়। তারা প্রেমে বাধা দিয়ে জয়কে অন্যত্র বিয়ে দেয়ার প্রস্তুতি শুরু করে। এতে পরিবারের ওপর ক্ষোভ বাড়ে জয়ের। নিজের পছন্দসই কনেকে বিয়ে করতে না পারায় ক্ষোভে-দুঃখে সে আত্মহত্যার পথ বেছে নেন। আর এই আত্মহত্যার ঘটনাটি ঘটে বুধবার বিকালে নগরীর শামীমাবাদ এলাকায়। ওই এলাকায় বসবাস করতেন ডা. জয়। নগরীর আরোগ্য ক্লিনিকে চাকরি করতেন। এদিকে, ওই সময় নিজ বাসা নগরীর আখালিয়ার গ্রিন সিটি আবাসিক এলাকায় ছিলেন জেনি ও দীপু। তাদের কাছে পৌঁছে যায় জয়ের আত্মহত্যার খবর। বন্ধুর মৃত্যুর খবর সইতে পারেননি দীপু। প্রেমিকের মৃত্যুর খবরে দিশাহারা হন জেনি। এ কারণে এক ফ্যানের সঙ্গে ঝুলে দুই ভাই-বোন আত্মহত্যা করেন। পুলিশ জানায়, জামালগঞ্জের একই এলাকার বাসিন্দা সিলেটে অবস্থানরত ডা. জয় গোস্বামী অতিরিক্ত ঘুমের ওষুধ সেবন করে আত্মহত্যা করেন। বুধবার দুপুরে অতিরিক্ত ঘুরের ওষুধ সেবন করার অসুস্থ হয়ে পড়লে বিকালে তাকে ওসমানী হাসপাতালে নিয়ে এলে কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন। সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার রহমত উল্লাহ জানান, ডা. জয় গোস্বামী দুই ভাই-বোন দীপু ও জেনির ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন। জয় গোস্বামীর আত্মহত্যার খবর পেয়ে এই দুই ভাই-বোন ভেঙে পড়েন। পরে তারাও আত্মহত্যা করেন। কোতোয়ালি থানার ওসি আতাউর রহমান জানান, ডা. জয় গোস্বামীর আত্মহত্যার প্রকৃত কারণ জানা যায়নি। তবে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, ডা. জয় গোস্বামী একটি মেয়েকে পছন্দ করতেন। তার পরিবার এতে রাজি হয়নি। উল্টো জয় গোস্বামীর পিতা অন্যত্র বিয়ে ঠিক করেন। এমনকি ৪-৫ দিন আগে এ ঘটনা নিয়ে জয় গোস্বামীকে মারধরও করা হয়। এর জের ধরে তিনি আত্মহত্যা করতে পারেন। দুই ভাই-বোনের আত্মহত্যার বিষয়ে জালালাবাদ থানার ওসি গৌসুল হোসেন জানান, দীপু ও জেনি ঘরের একটি ফ্যানের সঙ্গে ওড়না গলায় পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেন। আত্মহত্যার আগে তারা একটি চিরকুট লিখে গেছেন। যাতে তাদের মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী নয় বলে লেখা রয়েছে। ওসি জানান, দীপু এমসি কলেজ থেকে অনার্স মাস্টার্স শেষ করে বিসিএস প্রিলিমিনারী পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছিলেন। জেনিও পলিটেকনিকে থেকে ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ছিলেন। ওসি জানান, ডা. গোস্বামীর আত্মহত্যার সূত্র ধরে ঘটনাটি ঘটতে পারে। কারণ, তারা তিনজনই বন্ধু। ৩ ভাই ও ৪ বোনের মধ্যে জেনি সবার ছোট, বড় ছিলেন দীপু। এলাকার লোকজন জানান, তিন জনের বাড়ি একই এলাকায়। একই সঙ্গে গোত্র ও বিয়েতেও বাধা ছিল। এ কারণে পরিবারের লোকজন বিয়েতে মত দেননি। এ বিষয়টি ডা. দীপু সহ তিনজনকে বোঝালেও তারা তা মানেনি।

No comments:

Post a Comment