Saturday, March 22, 2014

মুদ্রায় ধর্মীয় চিহ্ন নিয়ে সরকার ও রিজার্ভ ব্যাঙ্কের কৈফিয়ত্‍ চাইল আদালত

এই সময়: মুদ্রায় কেন দেবদেবী ও মন্দিরের ছবি ছাপা হচ্ছে, তা নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকার ও রিজার্ভ ব্যাঙ্কের কাছে জবাবদিহি চাইল দিল্লি হাইকোর্ট৷ ভারত একটি ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র৷ তাই, রাষ্ট্রের পক্ষে কোনও বিশেষ ধর্মের প্রচার করা ধর্মনিরপেক্ষতা ভঙ্গেরই সামিল বলে মনে করে আদালত৷ 

দিল্লির বাসিন্দা নাফিস কাজি ও আবু সৈয়দের করা একটি জনস্বার্থ মামলার পরিপ্রেক্ষিতে আদালত এদিন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রক এবং রিজার্ভ ব্যাঙ্ককে নোটিস পাঠিয়ে জানতে চেয়েছে, মুদ্রায় মন্দির ও দেবদেবীর ছবি বা চিহ্ন ছাপানো নিয়ে সরকারের বর্তমান নীতি কী৷ তিন সপ্তাহের মধ্যে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রক এবং রিজার্ভ ব্যাঙ্ককে তাদের জবাব জানাতে বলা হয়েছে ওই নোটিসে৷ 

জনস্বার্থ মামলাটিতে আবেদন করা হয়, ২০১০ এবং ২০১৩ সালে ধর্মীয় চিহ্ন মুদ্রিত যতগুলি কয়েন বাজারে ছাড়া হয়েছিল সেই কয়েনগুলি তুলে নেওয়ার জন্য আদালত যেন কেন্দ্রীয় সরকার ও রিজার্ভ ব্যাঙ্ককে নির্দেশ দেন৷ সেই সঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকারকে একটি জাতীয় নীতি প্রণয়ন করার নির্দেশ দেওয়া হোক যাতে সরকারি কোনও স্থাবর এবং অস্থাবর সম্পত্তির উপর কোনও ধর্মীয় চিহ্ন, নাম বা দেবদেবীর প্রতিকৃতি আঁকা বা ছাপা না হয়৷ 

আবেদনে অভিযোগ করা হয়, '২০১০ সালে তামিলনাড়ুর বৃহদীশ্বর মন্দিরের ১০০০ বছর উপলক্ষ্যে থাঞ্জাভুরের ওই মন্দির ও মূর্তির ছবি সহ ৫ টাকার মুদ্রা চালু করা হয় এবং দেশে প্রথম বার ১০০০ টাকা মূল্যের কয়েনও তৈরি হয় সংগ্রাহকদের জন্য৷ ২০১৩ সালে শ্রী মাতা বৈষ্ণো দেবী শ্রাইন বোর্ডের রজতজয়ন্তী উপলক্ষ্যে ৫ ও ১০ টাকার মুদ্রা বাজারে চালু করে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক৷ এই দুই ঘটনার কোনটিই ধর্মনিরপেক্ষ নয়৷ সংবিধানের প্রাথমিক বিষয় ধর্মনিরপেক্ষতাকেই অগ্রাহ্য করা হয়েছে ওই চিহ্নগুলি ব্যবহার করে৷ কোনও ধর্মীয় চিহ্ন তৈরি, চিহ্নিত, অঙ্কন, মুদ্রণ ও প্রদর্শন করা কোনও রাষ্ট্রের পক্ষে কোনও ধর্ম প্রচারেরই সামিল৷' 

মামলাটি শুনানির পর দিল্লি হাইকোর্টের ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি বি ডি আহমেদের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ বলে, 'হিন্দু, ইসলাম বা খ্রিষ্ট বা অন্য কোনও ধর্ম হোক, কারও হয়েই প্রচার করা সাজে না রাষ্ট্রের৷' ধর্মনিরপেক্ষ শব্দটি সরকারের সঠিক ভাবে ব্যবহার করা উচিত বলেও মন্তব্য করেছে আদালত৷ 

সরকারের পক্ষে অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল রাজীব মেহরার জবাবী বক্তব্য ছিল, 'দু'টি ক্ষেত্রেই ঐতিহাসিক ঘটনার স্মারক হিসাবেই মুদ্রাগুলি চালু করা হয়েছিল৷ তবে, এ ব্যাপারে আমরা অবশ্য পরে আদালতে হলফনামা পেশ করব৷' 

এরপর মামলার পরবর্তী শুনানি দিন ২৩ এপ্রিল স্থির করে আদালত৷ 

আমাদের দেশে মুদ্রায় ধর্মীয় চিহ্নের মুদ্রণের ঘটনা এই প্রথম নয়৷ ১৯৫৪ সালের ১ এপ্রিল যে ১০০০ টাকার নোট ইস্যু হয়, তাতেও ইউনেসকোর বিশ্ব ঐতিহ্যের স্মারক বৃহদীশ্বর মন্দিরের ছবি দেওয়া ছিল, যদিও সেটি ১৯৭৮ সালে বাতিল করা হয়৷ কিন্ত্ত ৭০-এর দশকে যে ২০ টাকার নোট ছাপা শুরু হয়, প্রথম দিকে তাতে সংসদ ভবনের ছবি ছাপা হলেও, পরে ওড়িশার কোণার্ক মন্দিরের চাকার ছবি ছাপা হত৷ এই ২০ টাকার নোটগুলি এখনও 'লিগ্যাল টেন্ডার' হিসাবেই চালু রয়েছে৷ ২০০১ সালে ৫ টাকার স্মারক বের করা হয়েছিল তাতে লেখা ছিল 'ভগবান মহাবীর: ২৬০০বাঁ জনম কল্যাণক'৷ 

No comments:

Post a Comment