Tuesday, March 25, 2014

মমতার ঘোষিত রেলপ্রকল্পের বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন

মমতার ঘোষিত রেলপ্রকল্পের বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন

mamata
গৌতম গুপ্ত

ভোটের প্রচারের সময় এ বিতর্ক উঠে পড়তেই পারে, কলকাতা ও শহরতলির জন্য তৃণমূল কংগ্রেসের নতুন মেট্রো রেল প্রকল্পগুলি কি কেন্দ্রের ইউপিএ সরকার ইচ্ছে করে কাটছাঁট করে দিয়েছে? প্রশ্নটা অমূলক নয়৷ কেননা, রেলমন্ত্রী হিসেবে শহরের আশেপাশে মোট পাঁচটি প্রকল্প ঘোষণা করে গিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ যার মোট দৈর্ঘ্য ৮৫ কিলোমিটার৷ ইতিমধ্যেই রেল মন্ত্রক তা কমিয়ে ৪৮ কিলোমিটারে নামিয়ে এনেছে৷ এ বার প্রশ্ন হল, এই ছাঁটাই কি ইচ্ছাকৃত, না, অবস্থার চাপে নিরুপায় সিদ্ধান্ত?

ওই পাঁচ প্রকল্পের কোনটির চেহারা কি দাঁড়াতে চলেছে, তা এক বার দেখা যাক৷ অক্ষত রয়েছে দুই প্রকল্পের চেহারা - ২৯ কিলোমিটার দীর্ঘ নিউ গড়িয়া- এয়ারপোর্ট রুট এবং ৪.৫ কিলোমিটার দীর্ঘ দমদম-নোয়াপাড়া-বরানগর-দক্ষিণেশ্বর রুট৷ কিন্ত্ত ১৮.৭২ কিলোমিটার দীর্ঘ বিবাদীবাগ-জোকা-ডায়মন্ডপার্ক রুটটিকে এখন নামিয়ে আনা হয়েছে মাত্র ৮ কিলোমিটারে৷ নোয়াপাড়া-এয়ারপোর্ট-বারাসাত রুটটি ১৮.৩ কিলোমিটার থেকে ছাঁটাই হয়ে তা দাঁড়িয়েছে ৬.৪ কিলোমিটার৷ বাদ পড়েছে বারাসত৷ সবচেয়ে খারাপ অবস্থা বরাহনগর-দক্ষিণেশ্বর-ব্যারাকপুর রুটটির৷ মোট ১৪.৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এই প্রকল্পটি আপাতত শিকেয় তুলে রাখা হয়েছে৷

এই পাঁচ প্রকল্পের জন্য রেল মন্ত্রক আনুমানিক ব্যয় ধরেছিল ১২ হাজার ২৩৬ কোটি টাকা৷ এখন খণ্ডিত প্রকল্প রূপায়ণে কত ব্যয় হবে? এখনও স্পষ্ট উত্তর নেই৷

যেমন, ২০১১-১২ অর্থবর্ষের বাজেটে এই পাঁচ প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ ধরা হয় ৬০০০ কোটি টাকা৷ আসলে ব্যয় হয়েছিল ৬৩২ কোটি টাকা মাত্র৷ পরের বছর, ২০১২-১৩য় বরাদ্দ ছিল ৪০০০ কোটি টাকা, ব্যয় হল ৭৫০ কোটি মাত্র৷ এর পর মেট্রো রেল নিজেই ২০১৩-১৪-র জন্য চেয়েছিল ১০০০ কোটি টাকা৷ সে টাকাও যে ৩১ মার্চের মধ্যে শেষ করা যাবে না, তা মেনে নিচ্ছেন মেট্রো কর্তৃপক্ষ৷

রুট বাতিল বা ছাঁটাই কেন হয়েছে, তার ব্যাখ্যাও রয়েছে৷ বরাহনগর থেকে ব্যারাকপুর যেতে হলে মেট্রোর স্তম্ভ বসাতে হত আগাগোড়া বি টি রোড বরাবর৷ কিন্ত্ত কলকাতা পুরসভা বলে দেয়, পলতা থেকে টালা পর্যন্ত পাশাপাশি ৬টি জলের পাইপ বসানো রয়েছে এই রাস্তার নীচে৷ এখানে স্তম্ভ বসাতে হলে পথের মাঝখানকার দু'টি পাইপলাইনকে তুলে ফেলতে হবে৷ পুরসভা তাতে রাজি নয়৷ কেননা, কলকাতা শহরের জল সরবরাহ বিপন্ন হতে পারে৷

জোকা থেকে বিবাদী বাগ যেতে হলে ময়দানের অংশে ভূগর্ভ দিয়ে মেট্রো টানেল নিয়ে যাওয়ার কথা৷ তাতেও সম্মতি নেই প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের৷ কাজেই জোকা এলাকা থেকে মেট্রোয় চেপে মাঝেরহাট স্টেশনে এসে সেখান থেকে পূর্ব রেলের চক্র রেলের রুট ধরে বিবাদীবাগ যাওয়া অবশ্য সম্ভব হবে৷

বারাসাত রুটে তো মেট্রো নির্মাণের কাজকর্ম শুরু হয়েও আপাতত বন্ধ৷ এখানে সমস্যা জমির৷ রেলের পুরনো অধিগৃহীত জমিই হোক কিংবা নতুন জমি জোগাড় করাই হোক, রাজ্য জোর করে কোনও জমিই মেট্রোর হাতে তুলে দেবে না না৷ এটাই রাজ্যের নীতি৷

কিন্ত্ত এখন যে ৪৮ কিলোমিটার রুটে নির্মাণ চলছে, তা কবে শেষ হবে? রেল মন্ত্রকের হিসেব, নতুন বাধা না এলে এবং অর্থের জোগান বজায় থাকলে চার প্রকল্পেই ২০১৬ থেকে ২০১৭-র মধ্যে ট্রেন চলবে৷
http://eisamay.indiatimes.com/city/kolkata/copy-on-mamatas-rail-project/articleshow/32613775.cms?

No comments:

Post a Comment