Saturday, March 22, 2014

সেলিনা হোসেনের সাক্ষাতকার_ ক্ষমতায় থাকা আর ক্ষমতার বাইরে থাকা দুরকম ব্যাপার

সেলিনা হোসেনের সাক্ষাতকার_ ক্ষমতায় থাকা আর ক্ষমতার বাইরে থাকা দুরকম ব্যাপার

সেলিনা হোসেন


সেলিনা হোসেন কথাসাহিত্যিক। তাঁর জন্ম ১৪ জুন১৯৪৭ সালে রাজশাহী শহরে। তিনি মূলত গল্প-উপন্যাস লেখক। বাংলাদেশের প্রতিক্রিয়াশীল ধারার রাজনৈতিক দল আওয়ামি লিগের সমর্থক হিসেবেও তিনি যথেষ্ট পরিচিত। ষাটের দশকের মধ্যভাগে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময়ে লেখালেখির সূচনা। তাঁর রচিত উপন্যাসের সংখ্যা ২০টির অধিক। গল্পগ্রন্থ ৭টি,শিশুসাহিত্য ৪টি। শিশুদের আর্থসামাজিক বিষয়ে ইউনিসেফের জন্য দুটি বই সম্পাদনা করেছেন। সেলিনা হোসেনের লেখার জগত বাঙলাদেশের মানুষতার সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য। ভ্রমণ তাঁর নেশা। তিনি দেশের আনাচে কানাচে নিয়ত ঘুরে বেড়ান। পেয়েছেন দেশের উল্লেখযোগ্য সব পুরস্কার। ইংরেজিহিন্দি,মারাঠিরুশমালেফরাসি প্রভৃতি ভাষায় তাঁর লেখা অনূদিত হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে তাঁর যাপিত জীবন’ এবং যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে নিরন্তর ঘণ্টাধ্বনিউপন্যাসদ্বয় বাঙলাদেশ পত্রে পাঠ্য। আসাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে তাঁর দুটি উপন্যাস পাঠ্য। কর্মজীবনে তিনি বাংলা একাডেমির পরিচালক ছিলেন। বর্তমান সাক্ষাকারটি আমি ২০০০ সনের অক্টোবর মাসে তাঁর বাংলা একাডেমির অফিসরুমে বসে বেশ কয়েক দিনে হাতে লিখে গ্রহণ করি,কারণ তিনি অডিও রেকর্ডারে সাক্ষাকার প্রদান করতেন না।
অনুপ সাদি: স্বাধীনতা পরবর্তী সরকারগুলো কোন কোন ভূল পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিল যেগুলোর কারণে দেশের আর্থ সামাজিক উন্নয়ন বাধাগ্রস্থ হয়েছে বলে আপনি মনে করেন।
সেলিনা হোসেন: দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের প্রাথমিক শর্ত একটি স্বাভাবিকশান্তসুস্থির সামাজিক পরিস্থিতি। এই পরিস্থিতির অভাবে দেশের উন্নয়ন কর্মকান্ড ব্যাহত হয়। যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশে এই ধরনের পরিস্থিতি বিরাজমান ছিল না। বঙ্গবন্ধু সরকার গৃহীত উন্নয়ন কর্মকান্ড কোন কোন ক্ষেত্রেসামাজিক রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলার কারণে ব্যাহত হয়েছে। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগষ্ট বঙ্গবন্ধুর হত্যাকান্ডের পরবর্তী সময়ে একটি অস্থিতিশীল পরিস্থিতি এদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নকে তিগ্রস্থ করে। ৭৫ পরবর্তী সরকার একটি স্বাধীনতা বিরোধী সরকার ছিলো। এ সরকার মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধুলিস্মা করে মুক্তিয্দ্ধু বিরোধী লোকদের নিয়ে  দেশ পরিচালনা করেছে যা প্রকৃত অর্থে জনগনের কল্যাণে কাজে লাগেনি। তারা সংবিধান থেকে সমাজতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা বাদ দিয়ে একটি চরম ভুল পদক্ষেপ গ্রহণ করে। সমাজতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা জনগণের মৌলিক অধিকার। এই অধিকার খর্ব করে দিয়ে সাধারণ মানুষকে বঞ্চিত করা হয়েছে। দ্বিতীয়ত বঙ্গবন্ধুর খুনিদের রক্ষা করার জন্যে ইনডেমনিটি অর্ডিন্যান্স করে আইনের শাসনকে ব্যাহত করা হয়েছে। এসব কিছু আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের পরিপন্থী বলে আমি মনে করি।
এ পরিপ্রেক্ষিতে আরো একটি প্রধান বিষয় বিবেচ্য যে আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়নের সাথে সরাসরিসম্পৃক্ত প্রকল্পসমূহের বাজেট কমিয়ে সামরিক খাতে বাজেট বরাদ্ধ বাড়িয়ে দেয়া জনগণের কল্যাণেগৃহীত কর্মসুচি ছিল না। দেশের সিংহভাগ বাজেট একটি বিশেষ বাহিনীর খাতে ব্যয় হলে আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ব্যাহত হতে বাধ্য। এটি নিঃসন্দেহে একটি ভুল পদক্ষেপ। আরো বলা যায় বৈদেশিকঋণ বা সাহায্য গ্রহণ করে গৃহীত প্রকল্পসমূহের বাস্তবায়ন ঠিকমত সম্পন্ন না করা ছিল উন্নয়নপিছিয়ে থাকার অন্যতম কারণ। অনেক সময় দেখা গেছে সময়মতো প্রকল্প বাস্তবায়ন না করতে পারারজন্য দাতাগোষ্ঠি অসন্তোষ প্রকাশ করেছে। এটি একটি জাতির জন্য অত্যান্ত লজ্জার ও গ্লানির। কাজেরঅগ্রগতিকে সার্বিকভাবে ত্বরান্বিত না করাাজের সমন্বয়হীনতা এবং লক্ষ্যে পৌঁছানোর জন্যতাগাদার অভাব আমাদের উন্নয়নকে পিছিয়ে দিয়েছে ইভাবে। এর বাইরে রয়েছে শাষকগোষ্টিরদুর্নীতিআমলাতন্ত্রের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহীতার অভাবরাজনীতিবিদদের নৈতিকতা বর্জিতসততাহীতাসংসদের নিজ নিজ এলাকার প্রতি অবহেলা ও গণবিচ্ছিন্ন থাকাসন্ত্রাসহানাহানি ইত্যাদিএমন আরো অনেক কিছুর বিরুদ্ধে কোনো সরকারই এমন কোনো দৃষ্টান্তমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করতেপারেনি যার দ্বারা দেশের উন্নয়নের ইতিবাচক ভুমিকা রাখা সম্বভ ছিলো
অনুপ সাদি: সব সরকার এসেই দূর্নীতি দমন করার কথা বলে। কিন্তু দুর্নীতি দুর করার বদলে আত্মসমর্পণ করে দুর্নীতির কাছে। কেন এমনটি ঘটছে?
সেলিনা হোসেন: সত্যি কথা বলতে কিক্ষমতায় থাকা এবং ক্ষমতার বাইরে থাকা দুরকম ব্যাপার। আমাদের এটি একটি অন্যরকম চারিত্রিক দিক। এই যে আমরা যে যে অবস্থানে থাকি না কেন তার উপর নির্ভর করে কথা বলি। মুখে বড় কথাকাজে বিভিন্ন আচরণআমদের দুর্নীতির একটি সামাজিক প্রশ্রয়। আমার তো মনে হয় আদর্শবিহীন রাজনীতি দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেয়। সে জন্য যে সরকারইক্ষমতায় থাকুক না কেন দুর্নীতি তার হাতে বৈধতা পায়। আরো দেখা গেছেসামাজিক মানসিকতায় এ-দুর্নীতি অশোভন এবং অনৈতিক হিসেবে এখন আর ধিকৃত হয় না। এখন তো অনেকের সাথে কথা বলে দেখি ঘুষ গ্রহণ তাদের কাছে অধিকার। কোন কোন ক্ষেত্রে কাজ করে দেবার জন্য সম্মানী। এই অবস্থা জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রকে গ্রাস করেছে।
অনুপ সাদি: আমাদের উচ্চবিত্ত শ্রেণিটি  থেকেছে বলে কি আপনার মনে হয়?
সেলিনা হোসেন: মনে হওয়ার কোনো প্রশ্নই ওঠে না। আমদের উচ্চবিত্ত শ্রেণি কালো টাকা দিয়ে বিত্তের পাহাড় গড়েছে। আর যারা বিত্তের পাহাড় গড়ে তাদের সততা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়। এ প্রসঙ্গে আরো উল্লেখ করা যায় যেউচ্চবিত্ত শ্রেণির নৈতিক মূল্যবোধের অভাবে দুর্নীতির জন্ম দেয়,ঋণখেলাপীর জন্ম দেয়কালো বাজারীর জন্ম দেয় এবং তা ধীরে ধীরে গ্রাস করে সমাজের মুল্যবোধের সুস্থতা এবং সাধারণ মানুষের স্বস্তির জীবন। উপরন্তু সমাজ বিভক্ত হয়ে যায়। ব্যবধানটা অনেক বড় হলে এমন একটা নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি তৈরি হয় যেটা সুস্থ সমাজের ভারাসাম্য রক্ষা করে না। এই ভারসাম্যহীনতা বর্তমানে বাংলাদেশে চলছে এবং এটি আমাদের দেশের উন্নতির জন্য বড় অন্তরায়।
অনুপ সাদি: দুর্নীতি দূর করতে হলে মানসিকতার পরিবর্তন করাকেই কি আপনি যথেষ্ট বলে মনে করেন?
সেলিনা হোসেন:  দূর্নীতি দূর করার জন্য মানসিকতার পরিবর্তনকে যথেষ্ট বলে মনে করি না। এই পরিবর্তন করার জন্য কঠিন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবেযেটা দেখে যে কেউ দূর্নীতি করতে সাহস পাবে না। মানসিকতার পরিবর্তনের জন্য আইন একটি বড় হাতিয়ার। দূর্নীতি এ সমাজের কন্ঠরোধ করে ফেলেছে। মানুষকে নৈতিকভাবে শক্তিশালী করতে হলে মানসিকতার পরিবর্তন ছাড়া বিকল্প কোনো পথ নেই।
অনুপ সাদি: বিশ্বে ধনী-দরিদ্রের বৈষম্য বাড়ছে। ধনী-দরিদ্রের বৈষম কমাতে হলে কি নারী-পুরুষের অর্থনৈতিক বৈষম্য কমানোকেই আপনি প্রধান পদক্ষেপ বলে বিবচনা করবেনবৈষম্য কমানোর ক্ষেত্রেআপনার প্রস্তাবনা থাকলে বলুন। 
সেলিনা হোসেন: নারী-পুরুষের অর্থনৈতিক বৈষম্য দূর করাই হবে ধনী-দরিদ্রের বৈষম্য কমানোর প্রধান পদক্ষেপ। কারণ নারী-পুরুষের অর্থনৈতিক বৈষম্যের মাঝেই নিহিত আছে ধনী-দরিদ্রের বৈষম্য। একটি পরিবারের নারী যদি অর্থনৈতিক বৈষম্যের শিকার হয় তাহলে বৈষম্য বাড়ে বৈ কমে না। এই পরিবারকে কেন্দ্র করেই সমাজ এবং রাষ্ট্র। সে জন্যই নারী-পুরুষের বৈষম্য আমার কাছে অত্যান্ত গুরুত্বপূর্ন বিষয়। বৈষম্য কমানোর ক্ষেত্রে আমার একটি প্রস্তাব হলো নারীকে অর্থনৈতিক ভাবে স্বনির্ভর করা।
অনুপ সাদি: বাংলাদেশের নারীদের সমান অধিকার বা পুরুষের পাশাপাশি অবস্থান নির্ধারণে পুরুষরাকি করতে পারে?
সেলিনা হোসেন: এ ক্ষেত্রে পুরুষরা পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতার পরিবর্তন ঘটিয়ে নারীকে তার সমান অধিকার দেয়ার ক্ষেত্রে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। পুরুষদের পুরুষতান্ত্রিক মনোভাবের কারণে নারীকে তার ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। এর একটি অন্যতম দৃষ্টান্ত পিতার সম্পত্তিতে মেয়ের সমান অধিকার না থাকা। এ ধরনের বিষয়গুলোকে পরিবর্তন করলেই পুরুষরা এ সমাজকে আরও সহনশীলতা এবং বাসযোগ্য করতে পারে।
অনুপ সাদি: বিয়ে থেকে মুক্তি ছাড়া কি নারী মুক্তি সম্ভব?
সেলিনা হোসেন: বিয়ে থেকে একজন নারীর মুক্তি একক ধারনা হতে পারে কিন্তু সমষ্টি হতে পারেনা। বিয়ে একটি সামাজিক বন্ধন। বিয়ের মধ্য দিয়েই সমাজের অগ্রগতি হয়েছে। এবং একটি নিয়ম কানুনের ভিতর দিয়ে এখনও সভ্যতা এগিয়ে যাচ্ছে। নারী মুক্তি মানে যদি হয় বিয়েহীন স্বাধীন জীবন সেটা সামাজিক সুস্থতা নয়। কেউ যদি মনে করে বিয়ে না করে একক জীবনের ভিতর দিয়ে সবটুকু স্বাধীনতা ভোগ করা যায় তাহলে আমি বলবো সেটা তার ব্যক্তিগত বিশ্বাস। এ বিশ্বাস খন্ডিত। জীবনের পূর্নতা নয়। এটাও সত্যি বিবাহিত জীবনকে সুস্থ ও সাচ্ছন্দ রাখার জন্য নারী এবং পুরুষের দায়িত্ব সমান। পুরুষের সমান দায়িত্ব পালনের ভেতর দিয়ে নারী তার স্বাধীনতার স্বাদ উপভোগ করতে পারে।
অনুপ সাদি: জন ষ্টুয়ার্ট বলেছেনআজকের দিনে বিবাহই হলো একমাত্র ক্ষেত্র যেখানে আইনত দাসপ্রথা টিকে আছে এ মতের সাথে আপনি কতটুকু একমত?
সেলিনা হোসেন: অধিকাংশ ক্ষেত্রে এটা সত্যি। যতক্ষণ পর্যন্ত না গৃহস্থালীকে মেয়েদের পেশা হিসাবে বিবেচনা করা হবে এবং তার জন্য এটি নির্ধারিত মজুরীর ব্যবস্থা করা হবে ততক্ষণ পর্যন্ত এটাকে এক ধরনের দাসপ্রথাই বলতে হবে। কারণ আজকের দিনে গৃহস্থালীতে মেয়েদের সময় এবং শ্রমকে ভিন্নভাবে মূল্যায়নের সময় এসেছে। এতদিন ধরে যে একতরফা মূল্যবোধের ভিতরে স্বামীরঅর্থনৈতিক ভিত্তিকে মেয়েদের বিবাহিত জীবনের শর্ত হিসেবে দেখতে শেখানো হয়েছিল সেটা এখন আর সত্য নয়। এই শ্রম বিনিয়োগের প্রায়োগিক ক্ষেত্র নিরুপন অর্থনৈতিক ভারসাম্যের একটি অন্যতম দিক। আমরা এই প্রথাগত মুল্যবোধকে ভেঙে মূলোবোধের নতুন ক্ষেত্র তৈরি করতে চাই যেটা দিয়ে বিবাহিত জীবনে নর-নারীর সম্পর্ক নতুন করে নিরুপিত হবে নইলে এই দাসপ্রথা শব্দটি মেয়েদেরক্ষেত্রে ব্যবহৃত হতেই থাকবে।
অনুপ সাদি: আমাদের দেশে নারী নির্যাতন বিষয়টির জন্য অনেকেই পুরুষতন্ত্রকে দায়ী করে এটা কতটুকু ঠিক?
সেলিনা হোসেন: এটা একশত ভাগ ঠিক। তবে এর ক্ষেত্র দুটি। নির্যাতনের ৯৫ ভাগ পুরুষরা করে এবং বাকী ৫ ভাগ নারীরা করে। তবে কতিপয় নারীর এই নির্যাতনের মানসিকতা ছোট বেলা থেকেদেখে আসা পুরুষতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থা থেকেই শেখা এবং নারী যখন নারীর উপর নির্যাতন করে দেখা গেছে এই নির্যাতনের মাত্রা নারীর সাথে নারীর সম্পর্কের বিভিন্ন দিক থেকেই হয়। যেমনশ্বাশুড়ির সাথে পূত্রবধুর বিরোধআবার পূত্রবধু কর্তৃক শ্বাশুড়ির অবহেলা এবং অমর্যাদা করাননদ এবং ভাবীর মধুর সম্পর্ক না হয়ে ঈর্ষা এবং হীন্যতার সম্পর্ক তৈরি হওয়াগৃহকর্ত্রী র্তৃক বাড়ির কাজের মেয়েকে নির্যাতন করাপতিতালয়ের সর্দারনী কর্তৃক কিশোরী মেয়েকে নির্যাতন করাআমার অভিজ্ঞতায় দেখা মা কর্তৃক মেয়েকে শারীরিক মানসিক নির্যাতন করা কিংবা মেয়ে কর্তৃক মাকে অবহেলা করা ইত্যাদি নারী নির্যাতনের বিভিন্ন পর্যায়। এসব কিছু এসেছে পুরুষতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থায় বসবাস করা এবং তাদের নিজের অভিজ্ঞতা দিয়ে লাভ করা মূল্যবোধ থেকে। এই অর্থে পুরষতান্ত্রিক সমাজ ব্যাবস্থা নারী নির্যাতনের জন্য মূলত দায়ী। এবং পুরুষতান্ত্রিক প্রক্রিয়া দীর্ঘ সময় ধরে তাদের নিজেদের প্রয়োজনেই নারীকে পুরুষতন্ত্রের প্রতিনিধি হিসেবে তৈরি করেছে।
অনুপ সাদি: উন্নত অনুন্নত উন্নয়নশীল প্রতিটি দেশেই নারী নির্যাতনের হার প্রায় কাছাকাছি। এটা কেন?
সেলিনা হোসেন: আগের যে প্রশ্নটি ছিল সে প্রসঙ্গের জের টেনেই বলতে চাই একইভাবে পুরুষতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থা নারীকে দেখবার যে দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তুলেছে সেটা উন্নত-অনুন্নত সব দেশেই প্রাই একই রকম। সভ্যতার বড়াই করি আমরা ঠিকইকিন্তু নারী এবং পুরুষকে যদি দুটি শ্রেণিহিসেবে বিভাজন করি তাহলে দেখতে পাচ্ছি সব দেশেই সুবিধাভোগী পুরুষেরা নারীকে তাদের প্রয়োজন মাফিক ব্যবহার করে। নারী পণ্য হয়পতিতা হয় এবং বাড়িতে ক্রীতদাস হয় সবটায় একটিরই যোগফল। অন্য অর্থে নারীর অর্থনৈতিক শক্তিটি এবং আমি বলবো রাজনৈতিক ক্ষেত্রের শক্তিটিও পুরুষের সমান নয় বলে এই অবিচার এবং নির্যাতন উন্নত দেশগুলোতেও একেবারে মুছে যায়নি। এটা বিরাজ করেছে শিক্ষারুচি এবং মানবিক বোধকে পাশ কাটিয়ে রাখার কারণে। পৃথিবীর সব মানুষকে প্রকৃত মানুষ হতে আরো সময় লাগবে।
অনুপ সাদি: সাহিত্যে নারীকে মা পত্নীরুপে আদর্শায়িত করা হয়েছে। এ মানসিকতার পরিবর্তন করা কি প্রয়োজনীয় বলে আপনি মনে করেনমনে করলে সাহিত্যে কি ধরনের নতুনত্ব আনা দরকার আপনার দৃষ্টিতে?
সেলিনা হোসেন: সাহিত্যে নারীকে মা পত্নীরুপে আদর্শায়িত করা হয়েছে কথাটি একদম ঠিক নয়। বাংলা সাহিত্যের আদি নিদর্শন চর্যাপদএখানে একটি চরিত্র আছে ডোম্বী নামে। এই নারী পদ্মাখালে নৌকা বাইতো। অষ্টম শতাব্দীতে একজন নারীর এমন দুঃসাহসী চরিত্র বাংলা সাহিত্যের আদি নিদর্শনে প্রতিফলিত হয়েছে। পরবর্তী সময়ের শ্রীকৃঞ্চ কীর্তন’-এর রাধা চরিত্রটি একটি অসাধারণ প্রেমিকাচরিত্র। এভাবে যদি আমরা এগুতে থাকি তাহলে দেখতে থাকবো এই ২০০০ সাল পর্যন্ত সাহিত্যে নারী চরিত্র সংগ্রামেরত্যাগেরসহিঞ্চুতারবিদ্রোহেরভালোবাসার ইত্যাদি। আরো অনেকক্ষেত্রেই প্রতিনিধিত্ব করে। এমনকি আজকের সাহিত্যে বহু নারী চরিত্র নিজেদের অস্তিত্বের প্রশ্নে ঘর ছেড়ে বেরিয়ে আসছে। আপনি সাহিত্যে নারী চরিত্রের ক্ষেত্রে নতুনত্ব আনার কথা বলেছেন। আমি মনে করি নারী চরিত্রগুলো আপন প্রয়োজনে বিভিন্ন মাত্রা লাভ করে নতুন চরিত্রই হয়ে উঠেছে।
অনুপ সাদি: প্রতিক্রিয়াশীলতা কি সাহিত্য রচনায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছেকরলে কী ধরনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে?
সেলিনা হোসেন: আমি মনে করি না সাহিত্য রচনায় প্রতিক্রিয়াশীলতা কোনো প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে পারেছে। আমরা প্রতিক্রিয়াশীলতার দুষ্টচক্রকে উপেক্ষা করে সাহিত্য রচনা করছি। প্রতিক্রিয়াশীলতা যদি রাষ্ঠ্র্রীয় সমর্থন পায় তবে সাহিত্য রচনা বাধাগ্রস্থ হয়। রাষ্ট্র তাদের হাতকে শক্তিশালী করলে লেখকের মানবিক দৃষ্টিভঙ্গিসংস্কারমুক্ত চিন্তা এবং সৃজনশীলতা বাধাগ্রস্থ হয়। কিন্তু বর্তমানে দেশে প্রতিক্রিয়াশীলতা কার্যকর থাকা সত্বেও সাহিত্য চর্চায় তারা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে সমর্থ হয়নি।
অনুপ সাদি: স্বাধীনতার পর সাম্প্রদায়িকতাধর্মান্ধতাপ্রতিক্রিয়াশীলতা আধিপত্য বিস্তার করেছে গোটা দেশ জুড়ে। প্রতিক্রিয়াশীলতা বৃদ্ধির পেছনে মৌলবাদীরা না রাজনীতিবিদরা দায়ী বলে আপনি মনে করেন।
সেলিনা হোসেন: আমি মনে করি রাজনৈতিক সংস্কৃতির ব্যর্থতার কারণে এ দেশে মৌলবাদীরা মাথাতুলে দাঁড়াবার সুয়োগ পেয়েছে। বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ডের পরে মুক্তিযুদ্ধবিরোধী সরকার এবং সামরিক সরকার মৌলবাদীদের উত্থানকে সহজ করে দিয়েছে। সংবিধান থেকে রাষ্ট্রীয় চার মূলনীতির একটি ধর্মনিরপেক্ষতা উঠিয়ে দেয়ার ফলে মৌলবাদীরা এ সুযোগটা গ্রহণ করেছে। তার কুফল বহন করতে হচ্ছে আজ জাতিকে। এ পরিস্থিতেতে অসাম্প্রদায়িক চেতনাসম্পন্ন রাজনৈতিক দলগুলো মৌলবাদীদের মোকাবেলা করার দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে পারেনি।
অনুপ সাদি: মৌলবাদীরা মানুষকে ইহজাগতিকতা থেকে দূরে রাখছে এবং করে তুলছে অতীতমুখী। আপনার কি মনে হয় মানুষকে ইহজাগতিক কর্মের সাথে সম্পৃক্ত করতে পারলে এবং তাদের জীবনমানের উন্নতি ঘটলে মৌলবাদের শক্তি কমবে?
সেলিনা হোসেন: অবশ্যই আমি এটা মনে করি। এক সময় ধর্মকে আফিমের মতো ব্যবহার করা হয়েছে মানুষের জীবনে। ফলে মানুষ ইহজাগতিক চেতনা থেকে দূরে সরে গিয়ে অদৃষ্টবাদী হয়ে উছেঠিল। ফলে সেসব ধর্মান্ধ মানুষেরা সুযোগ নিয়েছিল নিজেদের স্বার্থ উদ্ধারের। মানুষ যতো বেশি ইহজাগতিক কর্মকান্ড এবং ইহজাগতিক চেতনার সাথে সম্পৃক্ত হবে ততোই মৌলবাদ পিছু হাটতে বাধ্য হবে। ইহজাগতিকতাই একজন সম্পন্ন মানুষের বিবেক বলে আমি কনে করি। তাহলে মানুষ তার বিবেককে ইহজাগতিক কল্যাণে কাজে লাগবে।
অনুপ সাদি: গণতন্ত্রের বিকাশ ও চর্চার জন্য কী পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন আপনার দৃষ্টিতে?
সেলিনা হোসেন: আমি মনে করি গণতন্ত্র মিথ। গণতন্ত্র এবং গণতান্ত্রিক অধিকারের সংজ্ঞা নানাভাবে নিরুপণ করা যায়। তবে গনতন্ত্রের বিকাশ ও চর্চার জন্যে প্রাথমিক শর্ত মানুষের মৌলিক অধিকারকে স্বীকার করে নেয়া। যতক্ষণ পর্যন্ত মানুষের মৌলিক অধিকার স্বীকৃত হবে না ততক্ষণ পর্যন্ত গণতন্ত্রের বিকাশ ও চর্চার পথ উন্মুক্ত হবে না। গণতন্ত্র চর্চাকে ইন্সটিটিউশন হিসেবে দাঁড় করিয়ে যদি একে একটি প্রাতিষ্ঠানিক রুপ দেয়া যায় তবেই এ চর্চার  একটি সুফল আমরা পেতে পারিঅন্যথায় নয়।
অনুপ সাদি: বাংলাদেশে প্রকৃত গণতন্ত্র না আসার কারণ হিসেবে কি আপনি সামরিক শাসনকে দায়ী করেন?
সেলিনা হোসেন: হ্যাঁঅবশ্যই আমি বাংলাদেশে প্রকৃত গণতন্ত্র না আসার কারণ হিসেবে সামরিক শাসনকে দায়ী করি। দীর্ঘ সময় ধরে সামরিক শাসন এ দেশের গণতন্ত্রের চর্চাকে ব্যাহত করেছে। দেখা গেছে সামরিক শাসকরা গণতন্ত্র চর্চার নামে রাজনৈতিক দল গঠন করেছেকিন্তু আসলে এসব রাজনৈতিক দলের মধ্যেই গণতন্ত্রের চর্চা নেই। দলগুলো একনায়কত্বের প্রতিভূ। এসব দলের সদস্যদের স্পষ্ট মতামত ব্যক্ত করার অধিকারও নেই। এসব আর যাই হোক গণতন্ত্রের শিক্ষা নয়।
অনুপ সাদি: দেশের অনেক রাজনীতিবিদও দুর্নীতিস্বজনপ্রীতিমাস্তানদের সাথে সংশিষ্ট থেকে অন্যায় করছে। এসব থেকে মুক্তি পেতে হলে দেশের সুশীল সমাজ (সিভিল সোসাইটি) কী করতে পারে?
সেলিনা হোসেন: সুশীল সমাজ একটি বড় ভূমিকা পালন করতে পারে। তবে এই ভূমিকা পালন খুব সহজ নয়। সুশীল সমাজের ক্ষুদ্র অংশ একটি বৃহ অংশের সাথে লড়তে গেলে যে শক্তির প্রয়োজন সেই শক্তি বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সুশীল সমাজের থাকে না। তাই বেশীর ভাগ ক্ষেত্রে সুশীল সমাজের ভূমিকা হয়ে পড়ে নিষ্ক্রিয়। তবে এটাও কি নিস্ক্রিয় থাকা জাতির জন্য মঙ্গলকর নয়সে কারণেই বলছি বড় ভূমিকা পালনের কথাবড় দায়িত্বের কথা। কেননা কোনোভাবে সুশীল সমাজকেই এ দায়িত্ব পালন করতেই হবে। এ দায়িত্ব পালন করে সফল হয়েছে এ উদাহরণও আমাদের সমাজে আছে। বিদেশের অনেক মনীষী আন্তর্জাতিক দায়িত্ব পালন করেছেন নিজ উদ্যোগে এবং তা সফলও হয়েছে।
অনুপ সাদি: একটি সমাজে বা রাষ্ট্রে আইনে শাসন প্রতিষ্ঠিত করতে হলে প্রথমত অপরাধীদের চিহ্নিত করা ও তাদের বিচারে সম্মুখীন করা প্রয়োজন। তবে কি স্বাধীনতার পর রাজাকার ও তাদের সহযোগীদের চিহ্নিত না করে মুক্তিযোদ্ধাদের চিহ্নিত করার জাতির জন্য মারাত্বক ভূল পদক্ষেপ ছিলো?
সেলিনা হোসেন: স্বাধীনতার পর রাজাকার ও তাদের সহযোগীদের চিহ্নিত না করা ভূল পদক্ষেপ ছিল। কারণ এ সব স্বাধীনতাবিরোধী ছাড়া দেশের আপামর মানুষ ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা। কেউ সরাসরি যু্দ্ধেঅংশ গ্রহণ করেছেন কেউ নেপথ্যে থেকে মুক্তিযোদ্ধার ভূমিকা পালন করেছেন। এই মুক্তিযোদ্ধাদের চিহ্নিত করার কোনো প্রয়োজন ছিল না। প্রয়োজন ছিল রাজাকারদের মতো মানুষদের চিহ্নিত করে নির্মুল করা। তবে এটা সত্যিই একটি যুদ্ধবিধ্বস্থ দেশ পূর্নগঠনে শক্তি ও সামর্থে নিয়োগ করতে হয়েছিল এবং তার কারনেই এসব কাজ গুরুত্ব পায়নি। পেলে আজকে স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি এমন সব প্রিয় হয়ে উঠতে পারতো না। এদের নির্মূল করার জন্য আমাদের জেগে উঠতে হতো না।  
অনুপ সাদি: আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির কারনে সমস্যা হচ্ছে অহরহ। এ থেকে মুক্তি পেতে হলে রাজনীতিবিদরা কি করতে পারে 
সেলিনা হোসেন: রাজনীতিবিদরা সন্ত্রাসীদের প্রশ্রয় না দিয়ে সমাজকে সন্ত্রাসমুক্ত করতে পারে। এজন্যে প্রত্যেক রাজনৈতিক দলের ঐক্যমত প্রয়োজন। একদল সন্ত্রাসী পুষবে আর অন্য দল পুষবে না এমন অহিংস নীতি কোনো দলই মানতে পারবে না। ক্ষেত্রে আমার বিশ্বাস রাজনীতিবিদরা মানুষের জীবনকে জীম্মি না করে যদি নিজেরা স ও মানবিক হন তবে সমাজ ও জীবন থেকে সন্ত্রাস নির্মূল হতে সময় লাগবে না ।
অনুপ সাদি: কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র রাজনীতিশিক্ষক রাজনীতিগোলযোগ ইত্যাদিতে শিক্ষারপরিবেশ সংকটাপন্ন হয়ে পড়েছে। এথেকে উত্তরনের পথ কি?
সেলিনা হোসেন: এথেকে উত্তরনের পথ একটাইতাহলো এ-ধরনের কার্যকলাপ থেকে নিজেদের দূরে সরিয়ে ফেলা। কিন্তু প্রশ্ন হলো তারা কি নিজেদের দূরে সরিয়ে ফেলবেনতাদের কি সেই শুভ বুদ্ধির উদয় হবেব্যক্তির স্বার্থের বাইরে তারা কি সমষ্টির জন্য চিন্তা কররেনএসব প্রশ্নের উত্তর দেয়ার কেউ আছে কি না আমি জানি না ।
অনুপ সাদি: বাংলাদেশে প্রায় ৩ দশকেও উন্নতি হয়নিএজন্য রাজনীতিবিদরা দেশকে উন্নয়নের পথে নিয়ে যেতে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে বলে কি আপনার মনে হয় না?
সেলিনা হোসেন: বাংলাদেশে প্রায় ৩ দশকেও উন্নতি হয়নিএটা পুরো সত্য নয়। অনেক কিছু হয়েছে এটা মাতেই হবে। ব্যর্থতার প্রশ্ন উঠলে আমি শুধু রাজনীতিবিদদের কথা বলবো না। এই ব্যর্থতার জন্য সামরিক শাসকরা দায়িসুশীল সমাজ দায়ী এবং আপামর জনগও দায়ী। কারণ প্রত্যেকে প্রত্যেকের ক্ষেত্রে নিজ নিজ দায়িত্ব নিষ্টার সাথে পালন করেনি। তবে এটাও সত্যি একটি বড় মাপের নেতৃত্ব মানুষকে উদ্ধুদ্ধ করার জন্য প্রয়োজন ছিল। এই নেতৃত্বহীনতা দীর্ঘ সময় ধরে এ সমাজে নানা ফোকর তৈরি করেছে। যে ফোকরে নষ্ট জল ঢুকে ভাসিয়ে নিয়ে গেছে মানুষের শুভবোধ।
অনুপ সাদি: স্বাধীনতার প্রায় তিন দশকে বাংলাদেশ কোন কোন ক্ষেত্রে ল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে। অবশ্যই আপনার দৃষ্টিত
সেলিনা হোসেন: স্বাধীনতা পরবর্তী সময়েই যে দুটি প্রধান সাফল্য আমার কাছে অত্যান্ত গুরুত্বপূর্ণ তার একটি হলো অল্প সময়ে একটি অসাধারণ সংবিধান রচনাদ্বিতীয়টি বাংলাদেশ থেকে মিত্র বাহিনীর দেশে ফিরে যাওয়া। এছাড়া বাংলাদেশকে ১০৮টি দেশের স্বীকৃতি প্রদানজাতীসংঘের সদস্য পদ লাভ এবং বিশ্বের বড় বড় সংস্থার সদস্য পদ পেয়ে দেশের উন্নয়নের জন্য বৈদেশিক সাহায্য লাভ আরও অনেক সাফল্যের মধ্যে অন্যতম। ইউনিয়ন পরিষদে নারীদের নির্বাচন এবং নারীদের মূল স্রোতে টেনে আসার প্রক্রিয়াকে আমি বর্তমান সরকারের উল্লেখযোগ্য দিক মনে করি।
অনুপ সাদি: আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।
সেলিনা হোসেন: আপনাকেও অনেক ধন্যবাদ। বাংলাবাজার পত্রিকা সংশিষ্ঠ সবাইকে এবং অগনিত পাঠকদের ধন্যবাদ।

প্রকাশকাল: ২৯ অক্টোবর২০০০দৈনিক বাংলাবাজার পত্রিকা।

No comments:

Post a Comment