‘কাগজ-টিভি খুললেই তো মোদীকে নিয়ে বিজ্ঞাপন ’
লোকসভা নির্বাচনের গরম হাওয়া কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরেও৷ যুক্তি-তক্কো-গপ্পে আলোড়িত ক্যাম্পাস৷ 'এই সময়' গিয়েছিল স্কটিশ চার্চ কলেজে৷ চায়ের আড্ডায় পড়ুয়াদের মতামত শুনে লিখছেন জয় সাহা৷
প্রত্যয়, সায়নিকা, অরিজিত্রা বেজায় উত্তেজিত৷ কারণ প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিক হিসেবে এ বারই প্রথম নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন তাঁরা৷ এ নিয়েই আড্ডা জমে উঠেছিল স্কটিশ চার্চ কলেজে বাপিদার ক্যান্টিনে৷ চায়ের সঙ্গে ভেজিটেবল চপ, সঙ্গে চার মূর্তি৷ প্রত্যয়দের সঙ্গে ছিলেন সৌরভও৷ যদিও তিনি এ বারের ভোটে নবাগত নন৷ কাজেই অভিজ্ঞতা আর নতুনত্বের মেলবন্ধনে আড্ডা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে, তার পুঙ্খানুপুঙ্খ বিবরণ তুলে ধরতে গেলে নির্দিষ্ট শব্দসংখ্যা ছাড়িয়ে যেতে হবে৷ মোটের উপর কংগ্রেস ও বিজেপি বাদ দিয়ে বিকল্প কোনও শক্তি দেশ শাসনের গুরুদায়িত্ব পালন করতে পারবে কি না, তা নিয়েই আলোচনা ঘুরপাক খেয়েছে উত্তর কলকাতার এই কুলীন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অন্দরে৷
তৃতীয় বিকল্পের কথা প্রথম উত্থাপন করেন রসায়ন বিভাগের স্নাতকোত্তরের ছাত্র সৌরভ দেব৷ আলোচনা শুরু হতেই সৌরভ বলে ওঠেন, 'অসাম্প্রদায়িক ও দুর্নীতিমুক্ত সরকার গড়তে বামেদের নেতৃত্বে তৈরি হওয়া তৃতীয় ফ্রন্টই পারবে এ দেশের মানুষকে বিকল্পের সন্ধান দিতে৷ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও দেখছি, ওই একই ডাক দিয়েছেন৷ তবে একটা রাজ্য চালাতে গিয়ে যাঁকে প্রতিনিয়ত নানা জটিলতার মধ্যে পড়তে হচ্ছে, তিনি কি পারবেন দেশের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিতে?' বিরোধিতা যে হবেই, স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছিল৷ প্রথম আপত্তিটা করলেন অর্থনীতির ছাত্র প্রত্যয় গুপ্ত৷ তাঁর কথায়, 'বামেরা এখন গোটা দেশেই অপ্রাসঙ্গিক৷ তাদের রাজনৈতিক লাইন মানুষ বর্জন করেছেন৷ যখন তাদের পক্ষে বিকল্প সরকার গড়ার সুযোগ ছিল, তখন তারা ঐতিহাসিক ভুল করেছে৷ এখন আর এই সব নীতিহীন কথা বলে লাভ কী?' সৌরভ পাল্টা দিতে যাচ্ছিলেন, কিন্ত্ত কথাটা ছিনিয়ে নিলেন বাংলার ছাত্র অরিজিত্ মুখোপাধ্যায়৷ তাঁর কথায়, 'কংগ্রেস বা বিজেপির বাইরে কোনও তৃতীয় শক্তির ক্ষমতায় আসার কথা এ বারের ভোটে অন্তত ভাবা যায় না৷ কারণ , এখনও গোটা দেশের আঞ্চলিক শক্তিগুলি সংঘবদ্ধ হতে পারেনি৷ আর ভোটের পর যে ভাবে টাকার খেলা হবে, তাতে আরও সমস্যা বাড়বে৷' এতে বিরক্ত শোনায় টেবিলের এক কোণায় বসে থাকা সংস্কৃত বিভাগের ছাত্রী সায়নিকা দাসকে৷ তাঁর মূল্যায়ন, 'যে যায় লঙ্কায় সেই হয় রাবণ৷ কাজেই মানুষের কাছে সাম্প্রদায়িক-অসাম্প্রদায়িক-সততা-দুর্নীতির থেকেও বেশি বিচার্য হবে রাজনৈতিক দলগুলির পারফরম্যান্স৷ গোটা দেশের ভোট হলেও নিজের এলাকায় রাস্তা, জল, বিদ্যুত্, সন্ত্রাস-- এ সবই হবে ভোট মেশিনের সামনে দাঁড়ানো সংশ্লিষ্ট ভোটারের ইস্যু৷' মোদী-হাওয়া বা রাহুল গান্ধীর ইয়ং ব্রিগেডের ডাক কি তবে গিমিক? মানুষের কি তাতে কিছু যায়-আসে না? প্রশ্নটা করতেই উত্তর আসে সায়নিকার কাছ থেকে৷ বলেন, 'দেশ চালানোর জন্য অভিজ্ঞতা চাই৷ আর মোদীকে তো তেল-সাবানের মতো করে দেওয়া হয়েছে৷ কাগজ-টিভি খুললেই ওঁকে নিয়ে বিজ্ঞাপন দেখতে হয়৷ এটা খুব বোরিং!'
প্রত্যয়, সায়নিকা, অরিজিত্রা বেজায় উত্তেজিত৷ কারণ প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিক হিসেবে এ বারই প্রথম নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন তাঁরা৷ এ নিয়েই আড্ডা জমে উঠেছিল স্কটিশ চার্চ কলেজে বাপিদার ক্যান্টিনে৷ চায়ের সঙ্গে ভেজিটেবল চপ, সঙ্গে চার মূর্তি৷ প্রত্যয়দের সঙ্গে ছিলেন সৌরভও৷ যদিও তিনি এ বারের ভোটে নবাগত নন৷ কাজেই অভিজ্ঞতা আর নতুনত্বের মেলবন্ধনে আড্ডা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে, তার পুঙ্খানুপুঙ্খ বিবরণ তুলে ধরতে গেলে নির্দিষ্ট শব্দসংখ্যা ছাড়িয়ে যেতে হবে৷ মোটের উপর কংগ্রেস ও বিজেপি বাদ দিয়ে বিকল্প কোনও শক্তি দেশ শাসনের গুরুদায়িত্ব পালন করতে পারবে কি না, তা নিয়েই আলোচনা ঘুরপাক খেয়েছে উত্তর কলকাতার এই কুলীন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অন্দরে৷
তৃতীয় বিকল্পের কথা প্রথম উত্থাপন করেন রসায়ন বিভাগের স্নাতকোত্তরের ছাত্র সৌরভ দেব৷ আলোচনা শুরু হতেই সৌরভ বলে ওঠেন, 'অসাম্প্রদায়িক ও দুর্নীতিমুক্ত সরকার গড়তে বামেদের নেতৃত্বে তৈরি হওয়া তৃতীয় ফ্রন্টই পারবে এ দেশের মানুষকে বিকল্পের সন্ধান দিতে৷ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও দেখছি, ওই একই ডাক দিয়েছেন৷ তবে একটা রাজ্য চালাতে গিয়ে যাঁকে প্রতিনিয়ত নানা জটিলতার মধ্যে পড়তে হচ্ছে, তিনি কি পারবেন দেশের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিতে?' বিরোধিতা যে হবেই, স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছিল৷ প্রথম আপত্তিটা করলেন অর্থনীতির ছাত্র প্রত্যয় গুপ্ত৷ তাঁর কথায়, 'বামেরা এখন গোটা দেশেই অপ্রাসঙ্গিক৷ তাদের রাজনৈতিক লাইন মানুষ বর্জন করেছেন৷ যখন তাদের পক্ষে বিকল্প সরকার গড়ার সুযোগ ছিল, তখন তারা ঐতিহাসিক ভুল করেছে৷ এখন আর এই সব নীতিহীন কথা বলে লাভ কী?' সৌরভ পাল্টা দিতে যাচ্ছিলেন, কিন্ত্ত কথাটা ছিনিয়ে নিলেন বাংলার ছাত্র অরিজিত্ মুখোপাধ্যায়৷ তাঁর কথায়, 'কংগ্রেস বা বিজেপির বাইরে কোনও তৃতীয় শক্তির ক্ষমতায় আসার কথা এ বারের ভোটে অন্তত ভাবা যায় না৷ কারণ , এখনও গোটা দেশের আঞ্চলিক শক্তিগুলি সংঘবদ্ধ হতে পারেনি৷ আর ভোটের পর যে ভাবে টাকার খেলা হবে, তাতে আরও সমস্যা বাড়বে৷' এতে বিরক্ত শোনায় টেবিলের এক কোণায় বসে থাকা সংস্কৃত বিভাগের ছাত্রী সায়নিকা দাসকে৷ তাঁর মূল্যায়ন, 'যে যায় লঙ্কায় সেই হয় রাবণ৷ কাজেই মানুষের কাছে সাম্প্রদায়িক-অসাম্প্রদায়িক-সততা-দুর্নীতির থেকেও বেশি বিচার্য হবে রাজনৈতিক দলগুলির পারফরম্যান্স৷ গোটা দেশের ভোট হলেও নিজের এলাকায় রাস্তা, জল, বিদ্যুত্, সন্ত্রাস-- এ সবই হবে ভোট মেশিনের সামনে দাঁড়ানো সংশ্লিষ্ট ভোটারের ইস্যু৷' মোদী-হাওয়া বা রাহুল গান্ধীর ইয়ং ব্রিগেডের ডাক কি তবে গিমিক? মানুষের কি তাতে কিছু যায়-আসে না? প্রশ্নটা করতেই উত্তর আসে সায়নিকার কাছ থেকে৷ বলেন, 'দেশ চালানোর জন্য অভিজ্ঞতা চাই৷ আর মোদীকে তো তেল-সাবানের মতো করে দেওয়া হয়েছে৷ কাগজ-টিভি খুললেই ওঁকে নিয়ে বিজ্ঞাপন দেখতে হয়৷ এটা খুব বোরিং!'
http://eisamay.indiatimes.com/-/copy-on-scotish-church-college/articleshow/32649328.cms
No comments:
Post a Comment