মণিপুরি মেরি না পাঞ্জাবী প্রিয়াঙ্কা?
সেঁজুতি শোণিমা নদী, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published: 2014-08-09 16:13:23.0 BdST Updated: 2014-08-09 16:16:06.0 BdST
অলিম্পিকে ভারতের হয়ে পদক জয়ী বক্সার মেরি কমের জীবনীভিত্তিক সিনেমা ‘মেরি কম’-এর ট্রেইলার মুক্তির দুই সপ্তাহের মধ্যেই ইউটিউবে দেখা হয়েছে ৪০ লাখেরও বেশিবার। মেরি কমের ভূমিকায় প্রিয়াঙ্কার অভিনয়ের ঝলকও অনেককেই মুগ্ধ করেছে। কিন্তু এই সিনেমা কি উত্তর-পূর্ব ভারতের মণিপুরের ছোট্ট এক গ্রামের মুষ্টিযোদ্ধা মেরি কমের গল্প না নাকি হার না মানা এক ক্রীড়াবিদের জীবনযুদ্ধের বলিউডি বয়ান - সে প্রশ্ন রয়েই গেছে।
RELATED STORIES
-
2014-07-24 19:53:02.0
সিনেমার ২ মিনিট ৫৪ সেকেন্ডের ট্রেইলারে তুলে ধরা হয়েছে মণিপুরের ছোট একটি গ্রামের দরিদ্র পরিবারের মেরি কমের বিশ্বসেরা বক্সার হয়ে ওঠার গল্প। সেই সঙ্গে উঠে এসেছে প্রেম, বিয়ে আর দুই সন্তানের মা হওয়ার পর ক্যারিয়ার টিকিয়ে রাখার লড়াই। পরিচালক উমাঙ্গ কুমার উত্তর-পূর্ব ভারতের নয়নাভিরাম দৃশ্য চমৎকার সিনেমাটোগ্রাফির মাধ্যমে তুলে এনেছেন।
তবে ট্রেইলারের সময়টুকুতে প্রিয়াঙ্কাকে যে বাচনভঙ্গীতে কথা বলতে দেখা যায় তা মনিপুরের স্থানীয়দের সঙ্গে কোনোভাবেই খাপ খায়না। যে কারণে প্রিয়াঙ্কার সংলাপগুলোক অনেকটাই মেকি ঠেকেছে।
ভিনদেশী হয়েও পুরোপুরি অন্যরকম এক সংস্কৃতির পরিচয়বাহী সিনেমা ‘গান্ধী’তে অভিনয় করে অস্কার জেতেন ব্রিটিশ অভিনেতা বেন কিংসলে। ১৯৮২ সালের এই সিনেমায় যদিও তাকে দিয়ে হিন্দি বলানোর কোনো চেষ্টাই করেননি পরিচালক রিচার্ড অ্যাটেনবরো।সিনেমাটির ভাষা ছিল ইংরেজি।
সাম্প্রতিক সময়ে ভারতের জাতীয় পুরস্কার জেতা সিনেমা ‘কাহানি’তেও দেখা গেছে দুটি ভিন্ন সংস্কৃতির চরিত্রদের সম্মিলন। সিনেমায় বিদ্যা বালান আর নাওয়াজ উদ্দিন সিদ্দিকি অভিনীত চরিত্র দুটির ভাষা হিন্দি। অন্যদিকে আরেক গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করা পরমব্রত চ্যাটার্জিকে কথা বলতে দেখা গেছে কলকাতার বাংলাতেই। একই সিনেমায় দুটি সংস্কৃতির সম্মিলন ঘটালেও ভাষাগত গোঁজামিল না থাকার কারণেই দারুণভাবেই উৎরে গেছে সিনেমার গল্প।
আর সেখানে প্রিয়াঙ্কাকে দেখা গেছে অস্বাভাবিক উচ্চারণে হিন্দি সংলাপ আওড়াতে। সিনেমাটির প্রযোজক সাঞ্জায় লিলা ভানসালির জন্য অবশ্য বিতর্কটি নতুন কিছু নয়। শরৎচন্দ্র চট্টপাধ্যায়ের ধ্রুপদ উপন্যাস ‘দেবদাস’ অবলম্বনে যখন তিনি সিনেমা তৈরি করেছিলেন, সেখানেও প্রধান চরিত্রগুলোকে কথা বলতে দেখা গেছে বাংলামিশ্রিত হিন্দিতে। বিশাল বাজেটের ওই সিনেমায় শাহরুখ খান, ঐশ্বরিয়া রাই আর মাধুরি দিকশিতদের মত তারকাদের মুখে হাস্যকর রকমের বাংলা সংলাপগুলো তাদের বাঙালি নয়, বিকৃত করে তুলেছিল।
সিনেমার নাম ভূমিকায় প্রিয়াঙ্কা চোপড়ার অন্তর্ভুক্তি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল আগেই।পাঞ্জাবী প্রিয়াঙ্কা চোপড়া মণিপুরি এই ক্রীড়াবিদের সংস্কৃতি ও চালচলনের কতটা প্রতিফলন ঘটাতে পারবেন এ নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছিলেন অনেকেই।
উত্তর-পূর্ব ভারত, বিশেষ করে মণিপুরের অধিবাসীরা হিন্দি সংস্কৃতিকে নিজেদের বলে মনে করেন না কখনোই এবং সেখানে হিন্দি সিনেমাও প্রদর্শিত হয় না। কাজেই সেখানকার বাজার নিয়ে মাথা না ঘামিয়ে একজন প্রতিষ্ঠিত বলিউডি নায়িকাকে সিনেমার কেন্দ্রীয় চরিত্রে নয় হয়তো বাজার ধরাটাই মুখ্য ছিল নির্মাতাদের জন্য।
কিন্তু বাজার ধরার জন্য বড় তারকা যে জরুরি নয় তার প্রমাণও রয়েছে ঢের। হানসাল মেহতা পরিচালিত বায়োপিক ‘শাহিদ’-এ আইনজীবি শাহিদ আজমীর ভুমিকায় অভিনয় করেই ভারতের জাতীয় পুরস্কার বাগিয়ে নিয়েছেন রাজকুমার রাও। অথচ এই সিনেমার আগে তেমন একটা পরিচিত ছিলেন না নবীন এই অভিনেতা।
আনুরাগ কাশ্যাপের ‘গ্যাংস অফ ওয়াসেপুর’ সিনেমার আগে নাওয়াজউদ্দিন সিদ্দিকিও অনেকটা অপরিচিতই ছিলেন।

যদিও মণিপুরকে তুলে ধরার ব্যাপারে এই সিনেমার নির্মাতারা তেমন একটা উৎসাহী ছিলেনৈ বলেও মনে হয়না। ট্রেইলার ইঙ্গিত দিচ্ছে উমাঙ্গ কুমারের এই সিনেমাটি হবে আর দশটা সাধারণ হিন্দি সিনেমার মতই। লড়াকু এক নারীর গল্প হয়তো দর্শকদের আলোড়িত করবে, কিন্তু মণিপুরি মেরি কম আড়ালেই রয়ে যাবেন।


No comments:
Post a Comment