Monday, March 24, 2014

কংগ্রেসকে সমর্থনে বুদ্ধর পাশে ইয়েচুরি

কংগ্রেসকে সমর্থনে বুদ্ধর পাশে ইয়েচুরি
buddhadev
গৌতম হোড়

নয়াদিল্লি: রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য কংগ্রেসকে সমর্থনের যে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, তাকেই কার্যত সমর্থন করলেন সিপিএমের পলিটব্যুরোর সদস্য সীতারাম ইয়েচুরি৷ তিনি বলেছেন, 'ভোটের পর যে-রকম পরিস্থিতি হবে, সে-রকম সিদ্ধান্ত নেব৷ সেটা তখন দেখা যাবে৷ এখন তো আমরা লড়াইয়ের ময়দানে আছি৷ যখন প্রয়োজন হবে, তখন দেখব৷' এর থেকে স্পষ্ট ইঙ্গিত এই মুহূর্তে সিপিএমের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের পক্ষে দেওয়া সম্ভব নয়৷ সীতারাম ভালো করেই বুঝিয়ে দিয়েছেন, বুদ্ধবাবুর মতে তাঁর অন্তত সায় আছে৷ এমনিতে কংগ্রেসকে সমর্থনের প্রশ্নে দলের মধ্যে সাধারণত কট্টর অবস্থান নেন প্রকাশ কারাট এবং বৃন্দা কারাট৷ সেই বৃন্দাও এ দিন বলেছেন, 'কী হলে কী হবে, সে সব প্রশ্নের কোনও জবাব দেব না৷ আমাদের ইস্তাহারে স্পষ্ট, আমরা কংগ্রেস সরকারকে হারাতে চাই৷ আর বিজেপি তো সাম্প্রদায়িক৷ তাঁদের হারাতেই হবে৷ দেশে ধর্মনিরপেক্ষ সরকার তৈরি করতে হবে৷ আপনারা বেশি করে নরেন্দ্র মোদীর উপর নজর দিন৷ এর বেশি আমি কিছু বলব না৷' বৃন্দাও কিন্ত্ত বুদ্ধবাবুর মত খারিজ করে দেননি৷ নরেন্দ্র মোদীর বিরোধিতা করতেই তো বুদ্ধবাবু কংগ্রেসের হাত ধরার ইঙ্গিত দিয়েছেন৷ সিপিআই-ও এ ব্যাপারে বুদ্ধবাবুর সঙ্গে আছে৷ দলের জাতীয় কর্মসমিতির সদস্য পল্লব সেনগুন্তর সাফ কথা, '২০০৪ সালের মতো ঘটনা ঘটলে তো অনেক সম্ভাবনাই তৈরি হবে৷ তার মধ্যে বুদ্ধবাবু যেটা বলছেন, সেটাও নিঃসন্দেহে একটা সম্ভাবনা৷' অর্থাত্‍‌ , মোদীকে ঠেকাতে কংগ্রেসের সঙ্গে হাত মেলানোর ব্যাপারে দুই প্রধান বাম শরিকের মতের ফারাক নেই৷

তবে সীতারাম ও বৃন্দা দু'জনেই যে কথাটা প্রকাশ্যে বলেছেন, তা হল, যা হওয়ার তা ভোটের পর হবে৷ আপাতত সিপিএমের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব বিষয়টি নিয়ে ভাবছে না৷ সীতারামের বক্তব্য, 'আমরা রাজনৈতিক যুদ্ধে নেমেছি৷ আমরা সৈনিক৷ জেতার জন্য লড়ছি৷ এখনই যদি হারের ভাবনা আসে, তা হলে যুদ্ধে লড়ব কী করে?' সিপিএমের ঘোষিত লক্ষ্য হল, অ-কংগ্রেসি ও অ-বিজেপি সরকার গঠন করা৷ এখন থেকে যদি প্রকাশ্যে কংগ্রেসকে সমর্থনের কথা বলা হয়, তা হলে তো এটা মেনে নেওয়া যে, তৃতীয় বিকল্প আর হবে না৷ তারা সরকার গঠন করতে পারবে না৷ তা হলে বুদ্ধদেব কংগ্রেসকে সমর্থনের কথা বললেন কেন? সীতারামের জবাব, 'আপনারা যদি-কিন্ত্ত দিয়ে প্রশ্ন করেছিলেন, তাই উনি ওই জবাব দিয়েছেন৷ কিন্ত্ত এখন তো সমর্থনের প্রশ্ন বা পরিস্থিতি নেই৷ যখন আসবে, তখন দেখব৷' বৃন্দাও বলেছেন, 'মোদী প্রচারে মিথ্যা বলছেন৷ অবাঞ্ছিত কথা বলছেন৷ বিজেপি-কে হারাতে হবে৷' বুদ্ধবাবুর বক্তব্যের প্রসঙ্গ উঠতেই এ ভাবে নরেন্দ্র মোদী ও বিজেপি-র দিকে বিষয়টা ঘুরিয়ে দিতে চেয়েছেন বৃন্দা৷ পল্লব সেনগুপ্তও বলেছেন, ভোটের ফলাফল বেরনোর আগে, এ সব আলোচনা অর্থহীন, তবে বুদ্ধবাবু একটা সম্ভাবনার কথা বলেছেন, যেটা প্রাসঙ্গিক৷ কংগ্রেসের সঙ্গে হাত মেলানো বা কংগ্রেসের সাহায্যে তৃতীয় বিকল্পের সরকারের সম্ভাবনা যে পুরোদস্ত্তর আছে তার ইঙ্গিত দিতে সীতারাম টেনে এনেছেন অতীতের প্রসঙ্গ৷ তিনি বলেছেন, 'কেউ কি ভেবেছিল, ২০০৪ সালে মনমোহন সিং প্রধানমন্ত্রী হবেন৷ তার আগে '৯৬ সালে দেবগৌড়ার নেতৃত্বে সরকার হতে পারে অথবা ১৯৯৮ সালে বাজপেয়ী ছ'বছরের জন্য প্রধানমন্ত্রী হবেন? তাই অপেক্ষা করুন৷ ভোটের ফল বের হোক৷ যাবতীয় সিদ্ধান্ত, ফ্রন্ট সবকিছুই ভোটের পরে হবে৷' এই একই কথা তো বুদ্ধবাবুও বলেছেন, প্রয়োজনে কংগ্রেসের সঙ্গে হাত ধরতে হতে পারে৷
http://eisamay.indiatimes.com/-/iyechuri-supports-buddhadev/articleshow/32642994.cms

No comments:

Post a Comment