Thursday, March 20, 2014

শক্তিমান কথাসাহিত্যিক আখতারুজ্জামান ইলিয়াস

লেখকি সততা, নির্মোহ দৃষ্টি ভঙ্গি, গভীর জীবনবোধর মতো বিরল গুণাবলি বাংলা সাহিত্যের যে ক’জন লেখক অর্জন কতে সক্ষম হয়েছেন তাঁদের মধ্যে আখতারুজ্জামান ইলিয়াস অন্যতম। দায়বন্ধতা থেকেই তিনি পরম দরদে তুলে এনেছেন সমাজের নিচু তলার নিষ্পেশিত মানুষের শ্রেণী জীবন। এনেছেন তাদের বিচিত্র জীবনযাত্রা, বিশ্বাস, দুঃখ-আনন্দ, ক্ষোভ, সংস্কার, অনুভুতি, সংলাপ। যেন রাষ্ট্রের চরিত্র ও মানুষের গণসংগ্রামের মিথস্ক্রিয়া। ক্ষণজন্মা এই লেখক কখনোই সস্তা জনপ্রিতা বা বণিক বুদ্ধিতে লিখেন নি। দু’টি উপন্যাস, পাঁচটি ছোট গল্পগ্রন্থ আর একটি প্রবন্ধ গ্রন্থই তাঁর রচনা সম্ভার। তাঁর কালোত্তীর্ণ লেখা জন্ম-মৃত্যু নির্ধারিত জীবন অবলীলায় ছাড়িয়ে যায়। তাঁর অখন্ড জীবনবোধ, ইতিহাস ও রাজনৈতিক সচেতনতা আকস্মিক নয়; পিতার রাজনৈতিক চর্চার আবহে বাড়লেও তিনি মুক্ত মানুষের মুক্ত সমাজের কথা ভাবতেন। পেশা জীবনে শেষ পর্যন্ত শিক্ষাবোর্ডের উপ-পরিচালক, ঢাকা কলেজে বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান ছিলেন। সেখানে তাঁর নামে একটি হলও আছে। তিনি কখনোই কায়েমি স্বার্থকে মেনে নেন নি। সরকারি কলেজের শিক্ষকদের বাকশাল-এ যোগদান বাধ্যতামূলক করা হলেও তিনি দেন নি। পত্রিকায় তাঁর খোয়াবনামা উপন্যাস প্রকাশনা বন্ধ করে দেয় হয়। প্রগতিশীল সাহিত্যকে দিশা দেখানোর জন্য বাংলাদেশ লেখক শিবির প্রতিষ্ঠা করেন। রাষ্ট্রীয় নিপীড়ন ও সাম্প্রদায়িক-মৌলবাদী উত্থানের বিরুদ্ধে স্বোচ্চার থেকেছেন সর্বদা। তাঁর সুস্পষ্ট উচ্চরণ, ‘শিল্প-সাহিত্য বিপ্লবকে দিক ভাষা,বিপ্লব শিল্প-সাহিত্যকে দেবে মুক্তি’।
আখতারুজ্জামান ইলিয়াস যেমন পঠন-পাঠন জরুরী, তাঁকে পরিচর্যা ও ধারণ করাও তেমনি জরুরি। এই রাষ্ট্র যেমন তাঁর গল্পের চরিত্রদের জীবনের প্রশ্ন সমাধান করতে পারে নি, তেমনি নিজের দৈন্যতায় তাঁকেও ধারণ করতে পারেনি। তবু বাংলাসাহিত্যকে দিয়ে গেছেন অম্লান সাহিত্য। তিনি বেশ কিছু তাৎপর্যপূর্ণ পুরস্কাও পেয়েছিলেন। ১৯৩৪ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি গাইবান্ধার সাঘাটা থানার গোটিয়া’য় তাঁর জন্ম। ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে ঢাকা কমিউনিটি হাসপাতালে ১৯৯৭ সালে ৪ জানুয়ারি এ শক্তিমান লেখকের মহাপ্রয়াণ ঘটে।
ভারতের প্রখ্যাত লেখিকা মহাশ্বেতা দেবী তাঁর ‘মাস্টার সাব’ বইটি উৎসর্গ করে বলেন,‘...এবং আমি বিশ্বাস করি , কি পশ্চিমবাংলা কি বাংলাদেশ, সবটা মেলালে তিনি শ্রেষ্ঠ উপন্যাস লেখক। আমার চেয়ে অনেক বড় লেখক।’‘ইলিয়াস-এর পায়ের নখের তুল্য কিছু লিখতে পারলে আমি ধন্য হতাম।’

--
এহ্সান ইসলাম
আহবায়ক
ঢাকা কলেজ সংসদ

No comments:

Post a Comment