Monday, June 30, 2014

এবার আই প্যাডেই মিলবে রতিসুখ

এবার আই প্যাডেই মিলবে রতিসুখ

sex-toy
এই সময় ডিজিটাল ডেস্ক: আই প্যাডের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক! এও কি সম্ভব? হলিউডি কোনও ফ্যান্টাসি নয়, বাস্তবে জীবন্ত যৌন সঙ্গীর অভাব কিছুটা হলেও পূরণ করতে চলেছে 'ফ্লেশলাইট লঞ্চপ্যাড'। সৌজন্যে সেক্স টয় প্রস্তুতকারী সংস্থা 'ইন্টারঅ্যাক্টিভ লাইফ ফর্মস'।

বান্ধবীর অভাবে 'একা বোকা' থাকার দিন এবার ফুরোল। হাতে থাকা স্মার্টফোন আর ট্যাবলেটের দৌলতে পছন্দসই বান্ধবীর সঙ্গে প্রেমালাপ করার সুবিধা মিলেছিল আগেই। সম্প্রতি সেই অনুভূতি আর এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার উদ্যোগে বাজারে আসছে 'ফ্লেশলাইট লঞ্চপ্যাড'। নির্মাতাদের দাবি, এর সাহায্যে আই প্যাডের পর্দায় ভেসে ওঠা প্রেমিকার ছবি দেখতে দেখতে তাঁর সঙ্গে যৌন মিলনের সুখও পাওয়া যাবে।

কী ভাবে সম্ভব হবে এই কাণ্ড? সংস্থার তরফ থেকে জানানো হয়েছে, আই প্যাডের সঙ্গে জুড়ে দেওয়া যাবে যোনির আকারের এক অ্যাটাচমেন্ট। এই কৃত্রিম যোনির সাহায্যেই সঙ্গিনীর সঙ্গে ভিডিও চ্যাট করার সময় যৌন তৃপ্তিতে মেতে উঠতে পারবেন ব্যবহারকারী। জানানো হয়েছে, ফেসটাইম বা স্কাইপে বান্ধবীর সঙ্গে কথা বলার পাশাপাশি শরীরী মিলনের স্বাদও দেবে 'ফ্লেশলাইট অভিজ্ঞতা'।

চলতি সপ্তাহেই বাজারে আসছে এই লঞ্চপ্যাড। মাত্র ২০ পাউন্ডের বিনিময়ে সুখের চাবিকাঠি অতএব হাতের মুঠোয়। বলা বাহুল্য, আপাতত তা থাকছে পুরুষদেরই একচেটিয়া।

পাড়ুইয়ের হূদয়ও এ বার বিজেপিতে

পাড়ুইয়ের হূদয়ও এ বার বিজেপিতে

parui
এখনও পুলিশি প্রহরায় দিন কাটে পাড়ুইয়ের ঘোষ পরিবারের।— রাজা ভকত।
এই সময়, বীরভূম: রাজনীতির ময়দান থেকে আদালতের আঙিনা৷ ন্যায়বিচারের দাবি আর পাড়ুই মামলা এক রকম সমার্থক হয়ে গিয়েছে গত এক বছরে৷ সেই পাড়ুই-যুদ্ধের প্রধান চরিত্র হূদয় ঘোষ এ বার নাম লেখাচ্ছেন বিজেপিতে৷ লোকসভা ভোটের ফল ঘোষণা ইস্তক এই বাংলাতেও গেরুয়া শিবিরে নাম লেখানোর ঢল নেমেছে৷ তা সত্ত্বেও হূদয় ঘোষের সিদ্ধান্ত আলাদা করে তাত্‍পর্য পাচ্ছে৷

এমনিতে বীরভূমের কসবা গ্রামের ছাপোষা এই মানুষটির রাজনীতিতে তেমন প্রতিষ্ঠা নেই৷ তৃণমূল করতেন৷ কিন্ত্ত গত বছর পঞ্চায়েত ভোটের সময় থেকেই সে পরিচয় ঘুচেছে৷ কিন্ত্ত আইনের আঙিনায় হূদয়ের লড়াই সম্ভ্রম কুড়িয়েছে তামাম রাজ্যেই৷ এ হেন এক চরিত্রের বিজেপিতে যোগদানের সিদ্ধান্ত সে কারণেই শোরগোল ফেলছে৷

সম্ভবত আজ, সোমবারই বিদ্যাধরপুরে হুল দিবসের অনুষ্ঠান মঞ্চে বিজেপি-র রাজ্য এবং জেলা নেতাদের উপস্থিতিতে হূদয়বাবু সঙ্গীসাথীদের নিয়ে বিজেপি-তে যোগ দিতে চলেছেন৷ বিক্ষুব্ধ তৃণমূলপন্থীদের হাতে থাকা কসবা গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান শঙ্করী দাস, উপপ্রধান পার্বতী বাগদি-সহ পাঁচ সদস্যও বিজেপিতে যোগ দিচ্ছেন৷ বিক্ষুব্ধদের দাবি, তাঁদের সঙ্গে তৃণমূলের 'সরকারি' এক সদ্যসও দল ছাড়বেন৷ আর তা হলে কসবা পঞ্চায়েতটিই বিজেপির দখলে চলে যাবে৷ হূদয়বাবু অবশ্য রবিবারও খোলসা করে কিছু বলেননি৷ তাঁর ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য, 'সোমবারই সব স্পষ্ট হবে৷'
আর বিজেপি-র বীরভূম জেলা সভাপতি দুধকুমার মণ্ডলের বক্তব্য, সোমবার হুল দিবসে একটি অনুষ্ঠান আছে৷ তার মূল উদ্যোক্তা রাজ্য আদিবাসী বনবাসী কল্যাণ আশ্রম৷ ওই আশ্রমের তরফে তাঁকেও আমন্ত্রণ করা হয়েছে৷ সেখানে আশ্রমের রাজ্য সম্পাদক অনুপ দাশগুপ্তও উপস্থিত থাকবেন৷ সেই সঙ্গেই দুধকুমারবাবুর সংযোজন, 'হূদয়বাবুরা বিজেপিতে যোগ দেওয়ার জন্য আগেই আবেদন করেছেন৷ দল তা বিবেচনা করছে৷'

গত বছর পঞ্চায়েত ভোটের সময় কসবা অঞ্চলে (পাড়ুই এই অঞ্চলেই) হূদয়বাবুর মতো আরও অনেক তৃণমূল নেতা-কর্মীর সঙ্গে দলের জেলা সভাপতি অনুব্রত মণ্ডলের বিরোধ বাধে প্রার্থী মনোনয়ন ঘিরে৷ শেষ পর্যন্ত জেলা নেতৃত্বের নিষেধ উপেক্ষা করেই হূদয়বাবুরা কয়েক জন নির্দল হিসেবে লড়াইয়ে নামেন৷ ভোটের দিন কয়েক আগে পাড়ুইয়ে দলের এক সভায় সেই নির্দলদের উদ্দেশে হুমকির সুরে অনুব্রত বলেন, 'নির্দলদের কেউ ভোট দেবেন না৷ ওরা হামলা করতে এলে ওদের বাড়ি-ঘরদোর সব জ্বালিয়ে দেবেন৷ আর পুলিশ-প্রশাসনের কেউ নির্দলদের মদত দিলে তাদের বোমা মারুন৷' অনুব্রতর ওই হুমকির পরেই ভোটের দু'দিন আগে বেশি রাতে কসবা গ্রামে হামলা হয়৷ বেশ কয়েক জনের বাড়িতে আগুন লাগানো হয়৷ হূদয়বাবুর বৃদ্ধ বাবা সাগর ঘোষকে লক্ষ করে গুলি চালানো হয়৷ পরে তিনি মারা যান৷

ওই ঘটনায় রাজ্য জুড়ে তোলপাড় হয়৷ জল গড়ায় অনেক দূর পর্যন্ত৷ বিচার চেয়ে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা দায়ের করা হয়৷ সেই মামলার শুনানি চলাকালীন বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত মন্তব্য করেছিলেন, 'মুখ্যমন্ত্রীর আশীর্বাদ আছে বলেই অনুব্রত হুমকি দেওয়ার পরেও পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করছে না৷' তিনি বার বারই প্রশ্ন তোলেন, অনুব্রত কেন এখনও অধরা৷ তাঁরই গড়ে দেওয়া বিশেষ তদন্তকারী দলের (সিট) ভূমিকা নিয়েও ক্ষোভপ্রকাশ করেছিলেন বিচারপতি দত্ত৷ এমনকি সিট তদন্তে গড়িমসি করলে সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হবে বলেও জানিয়েছিলেন তিনি৷ তদন্ত নিয়ে কৈফিয়ত্‍ দিতে আদালতে তলব করেন সিট-এর প্রধান, খোদ রাজ্য পুলিশের ডিজিকেই৷

লোকসভা ভোটের মুখে তুমুল বিড়ম্বনায় পড়ে রাজ্য সরকার তড়িঘড়ি প্রধান বিচারপতির এজলাসে গিয়ে স্থগিতাদেশ নেয়৷ মামলা গড়ায় সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত৷ পরে অবশ্য সেটি বিচারপতি দত্তের এজলাসেই ফিরে আসে৷ কিন্ত্ত মুখ্যমন্ত্রী-অনুব্রত সংযোগ নিয়ে নিজের পূর্ববর্তী মন্তব্যে অনড় থেকে এবং প্রধান বিচারপতির এজলাসের ভূমিকায় অসন্তোষের কারণে বিচারপতি দত্ত আর পাড়ুই মামলা শুনতে চাননি৷ তবে মামলা থেকে সরে দাঁড়ানোর সময়েও তাঁর মন্তব্য ছিল তাত্‍পর্যপূর্ণ, 'জীবদ্দশায় আমি এই মামলা শুনব না৷ তবে চিতায় ওঠার আগে পর্যন্ত মামলাটির কথা মনে থাকবে৷' কলকাতা হাইকোর্টের আর এক বিচারপতি হরিশ ট্যান্ডনের এজলাসে এখন পাড়ুই মামলা চলছে৷ আগামী ৮ জুলাই ফের শুনানি রয়েছে৷ অনুব্রত ধরা না পড়ায় বিচারপতি ট্যান্ডনও প্রশ্ন তুলেছেন৷

আর গত এক বছর ধরেই হূদয়বাবুর পরিবার চরম আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন৷ শাসকদলের নেতারা নানা ভাবে তাঁদের ভয় এবং হুমকি দেখাচ্ছেন বলে অভিযোগ৷ এই পরিস্থিতিতে হূদয়বাবুদের বিজেপিতে নাম লেখানো বীরভূমের রাজনীতির অঙ্কেও বিশেষ তাত্‍পর্য পাচ্ছে৷ সেই সঙ্গে রাজ্য জুড়ে তৃণমূলের অন্তর্বিরোধের আবহেও নতুন জল্পনায় ইন্ধন জোগাচ্ছে৷ বিজেপি সূত্রের দাবি, শুধু কসবাই নয়, বীরভূমের সাত্তোর, রূপপুর, কঙ্কালিতলা, আলবাঁধা সর্পলেহনা প্রভৃতি পঞ্চায়েতের প্রায় সাত হাজার তৃণমূল সমর্থক সোমবারই বিজেপিতে যোগ দেবেন৷

ব্রাজিলের মধ্যে বারো বছর আগের মিল খুঁজছেন স্কোলারি

ব্রাজিলের মধ্যে বারো বছর আগের মিল খুঁজছেন স্কোলারি

SCOLARI
রূপায়ণ ভট্টাচার্য সাও পাওলো

হাতের মধ্যে রাখা হেডফোন৷ ইংরেজি বা স্প্যানিশে প্রশ্নটা এলে ওটা কানে লাগাচ্ছেন অনুবাদ শোনার জন্য৷ পর্তুগিজে প্রশ্ন এলে ওটা নিয়ে নাড়াচাড়া করছেন৷ খেলা করার মতো৷

লুই ফিলিপে স্কোলারিকে বেলো অরিয়েন্তের প্রেস কনফারেন্স হলে দেখে মনেই হচ্ছিল না, কিছুক্ষণ আগে এই প্রবীণ মাঠে শিশুর মতো নাচছিলেন৷ যাঁকে সামনে পাচ্ছিলেন সামনে, জড়িয়ে ধরছিলেন৷ টাইব্রেকার শুরুর সময় হাতে জপের মালা ধরনের কী একটা রেখেছিলেন৷ অতি সংস্কারাচ্ছন্ন লোক৷ বারো বছর আগে বিশ্বকাপ জেতার সময় যা যা করেছিলেন, এ বারও তা করছেন৷ টিম ঘোষণার আগে সেবার যে গ্রামের গির্জায় গিয়েছিলেন প্রার্থনা করতে, এ বারও সেখানে গিয়েছিলেন৷

শান্ত গলায় স্কোলারি যা যা বলে যাচ্ছিলেন, তাতে অধিকাংশই তৃপ্তি ও স্বস্তি মাখা৷ তার সঙ্গে রয়েছে রেফারি হাওয়ার্ড ওয়েবের প্রতি ক্ষোভ৷ চিলি কোচ সাম্পাওলির বিরুদ্ধে রাগ৷ একটা সময় তাঁকে বিশ্বজয়ী কোচের মতো অত্যন্ত যুক্তিপূর্ণ শোনাচ্ছিল৷ কখনও কলকাতার ময়দানী কোচদের মতো সস্তার আবেগ গলায়৷ 'স্বর্গ থেকে আমরা তিন ধাপ দূরে দাঁড়িয়ে'৷

সামান্য বাদেই বোঝা যেতে শুরু করল, স্কোলারি ব্রাজিলের জনতার কাছে দুটো বক্তব্য তুলে রাখতে চাইছেন৷ এক, ব্রাজিল আক্রান্ত, তাদের সমর্থনে ভরিয়ে দিন৷ দুই, ব্রাজিলিয়ানরা সমর্থনের আরও উগ্র হয়ে উঠুক৷ আজ সকাল থেকেই দেখছি, ব্রাজিলের কাগজগুলোতে লেখালেখি শুরু হয়েছে, নেইমার কলম্বিয়া ম্যাচে খেলতে পারবেন কিনা সন্দেহ৷ চিলির ফুটবলারদের মারে তাঁর নাকি হাঁটু ফুলে ঢোল৷ চোট ভালোই লেগেছে৷ তবে অতটা কী? মনে হচ্ছে, এটা স্কোলারির চালেরই অঙ্গ৷ আগের দিন বিশ্বের মিডিয়ার কাছে এসে কিন্ত্ত এত কথা বলেননি ব্রাজিল কোচ৷ নেইমারকে নিয়ে স্কোলারির এটা নতুন চাল৷ কলম্বিয়াকে ধাঁধায় রাখার চাল৷

টাইব্রেকারের সময় কি হার্ট অ্যাটাক হয়ে যাচ্ছিল? আগের রাতে স্কোলারির জবাব ছিল, 'সেটা ডাক্তাররা বলতে পারবেন, কার কখন হার্ট অ্যাটাক হবে৷ আমি তো ড্রয়ের সময়ই বলেছিলাম, চিলি ঝামেলায় ফেলবে৷ এ বার বিশ্বকাপে কোস্তা রিকা পরের পর্বে গিয়েছে৷ বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন বিদায় নিয়েছে চিলির জন্য৷ কত অঘটন৷' পেনাল্টি না দেওয়া এবং গোল বাতিল নিয়ে মিক্সড জোনে স্বদেশি সাংবাদিকদের কাছে তীব্র ক্ষোভ জানিয়েছেন হাল্ক৷ স্কোলারিও ক্ষোভ জানালেন, তবে একটু ঘুরিয়ে৷ 'এই তো শুনি সব সময় রেফারির সিদ্ধান্তের সুবিধে পাচ্ছে ব্রাজিল৷ কিন্ত্ত ফাউল হলে ফাউল, পেনাল্টি হলে পেনাল্টি, গোল হলে গোল তো দেওয়াই উচিত৷'

'স্বর্গ থেকে তিন ধাপ দূরে' দাঁড়িয়ে যেন স্কোলারি প্রতি মুহূর্তে তাঁর বিশ্বচ্যাম্পিয়ন টিমের সঙ্গে এই ব্রাজিলকে মেলাতে যাচ্ছেন৷ মেলাতে বসলে দেখা যাচ্ছে, কোথাও খুব মিল৷ কোথাও অমিল৷ সেই বিশ্বকাপে স্কোলারির সামনের দিকে যা ফুটবলার ছিলেন, তাঁদের নাম করলে স্বর্গবাস অনিবার্য৷ রোনাল্দো, রিভাল্দো, রোনাল্দিনহো, কাকা৷ এ বার সেখানে সামনে শুধু নেইমার তাঁদের সঙ্গে তুলনায় আসবেন৷ প্রথমার্ধে দারুণ খেলে দ্বিতীয়ার্ধে মারে গুটিয়ে গেলেন নেইমার৷ কিন্ত্ত পঞ্চম পেনাল্টি কিকের সময় দেখালেন কী ঠাণ্ডা মাথা৷ স্কোলারি যে জন্য বললেন, 'নেইমারের মাথাটা একেবারে পঁয়তিরিশ বছরের লোকের মতো পরিণত৷ ও পরের দিকের পারছিল না চোটের জন্য৷ ওরা মেরে তো ওর পা ফুলিয়ে দিয়েছে৷ রেফারি কিছুই দেখল না৷'

এক যুগ আগে স্কোলারির যে দলটা ৩-৪-১-২ ছকে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল, তাতে ডিফেন্স বেশ জমাটই ছিল৷ ফাইনালের প্রথম এগারোয় পিছনে ছিলেন লুসিও, এডমিলসন, রকি জুনিয়র৷ মাঝমাঠে কাফু, জিলবার্তো সিলবা, ক্লেবারসন, রবের্তো কার্লোস৷ ইন দ্য হোল রোনাল্দিনহো৷ সামনে রোনাল্দো, রিভাল্দো৷ গোলে দিদা না খেলায় মার্কোস৷ সর্বকালের সেরা ২৫ জনের ব্রাজিল টিমে ঢোকার দাবিদার এঁদের মধ্যে পাঁচ জন৷ তিন 'রো' এবং রবের্তো কার্লোস-কাফু৷ এই টিমে সেখানে নেইমার ও তিয়াগো সিলবা ছাড়া কেউ সর্বকালের সেরা টিমে থাকার দাবিদার নন৷ কিন্ত্ত স্কোলারি ২০০২ সালের পাঁচ জনের মতো ২০১৪ সালে পাঁচ জনকে বাড়তি দায়িত্ব নিতে বলছেন৷ চার ডিফেন্ডার এবং নেইমার৷

স্কোলারির দুটো টিমে সবচেয়ে বড় ফারাক বোধহয় ছক৷ এ বার তাঁর টিম খেলছে ৪-১-২-২-১ ছকে৷ ৩-৫-২ ছক ভেঙে৷ এ বার ডিফেন্স ভালো, মাঝমাঠ খারাপ বলে ৪-৫-১ ছকটা ভাবা হয়েছে৷ আর একটা ফারাক আছে৷ আগের বার ওই টিমে জিলবার্তো সিলবা বা ক্লেবারসনের মতো শ্রমিক শ্রেণীর ফুটবলার থাকলেও রোনাল্দিনহো বা রিভাল্দোর মতো গেমমেকার ছিলেন৷ যা এখানে নেই এবং যার জন্য আক্ষেপ চলছেই৷ পেলের সতীর্থ তোস্তাওকে গতবার পর্যন্ত দেখেছি, নিয়মিত ব্রাজিলের প্র্যাক্টিস দেখতে আসছেন কলাম লিখবেন বলে৷ দেখা যেত মিডিয়া সেন্টারেও৷ এ বারই দেখছি না৷ তবে কলাম লিখছেন নিয়মিত৷ সেখানে ব্রাজিলের মাঝমাঠ না থাকার জন্য আক্ষেপ উথলে উঠছে বারবার৷

স্কোলারিকে এ দিন বলতে শোনা গেল, 'আমরা কিন্ত্ত ওদের ব্যর্থতায় কোয়ার্টার ফাইনালে গেলাম না৷ আমাদের আত্মবিশ্বাসই নিয়ে গেল পরের ধাপে৷' তার পরে আরও অবাক করে দিয়ে, 'আমরা বিদেশিদের প্রতি খুব নরম মনোভাব দেখিয়েছি৷ শান্ত ছিলাম৷ নম্র৷ এ বার ওটা বদলানোর সময় হয়েছে৷ চিলি তো প্রায়ই আমাদের বেঞ্চের টেকনিক্যাল এরিয়ায় ঢুকে পড়ছিল৷ অনেকটা যুদ্ধের মতো৷ অনেক হয়েছে৷ আর আমি নম্র থাকতে পারব না৷ আমাকে তো জানেন, আমি কেমন মেজাজি লোক৷'

'ফিলিপাও' স্কোলারির এই দলটাকে অন্যরকম দেখাচ্ছে আবেগ এবং ঐক্যে৷ ম্যাচ শুরুর আগে হাডলে ব্রাজিল দলের অধিকাংশ ফুটবলার কাঁদছেন৷ টাইব্রেকার শুরুর আগে হাডল করে টিম কাঁদছে৷ এ দৃশ্য কবে দেখিয়েছে ব্রাজিল? দাবিদ লুইস পিঠের অসহ্য যন্ত্রণা নিয়েও খেলছেন৷ নেইমার চিত্‍কার করে সেজারের উদ্দেশে বলছেন, 'ও আমাদের দৈত্য'! নেইমার মার খেলে প্রতিবাদে একসঙ্গে জ্যা মুক্ত তিরের মতো ছিটকে বেরোচ্ছেন দুই বিশ্বজয়ী কোচ স্কোলারি এবং আলবার্তো পাহিরা৷ গোল হলে বা পেনাল্টির দাবিতে বেঞ্চ থেকে গর্জন করতে করতে বেরোচ্ছে পুরো টিম৷

জেমস রদরিগেস-হোসে পেকেরমান যুগলবন্দি সামলাতে ফোর্তালেসার হলুদ গ্যালারির কাছেও ও রকম উগ্রতা চাইছেন স্কোলারি৷ যা জাপান-কোরিয়ার গ্যালারিকে মধ্যদিনের সূর্যের রং করে দিত প্রতিদিন৷
http://eisamay.indiatimes.com/fifa-word-cup-2014/lucky-brazil-three-steps-from-heaven-says-scolari/articleshow/37476812.cms?

পেলে-কাইজারকে তির মারাদোনার

পেলে-কাইজারকে তির মারাদোনার
maradona
সাও পাওলো: আবার বিস্ফোরক দিয়েগো মারাদোনা৷ এ বার তাঁর টার্গেটে পেলে ও ফ্রাঞ্জ বেকেনবাউয়ার৷

ব্রাজিল ও জার্মানির এই দুই প্রাক্তন সুয়ারেসের শাস্তি নিয়ে ফিফার পাশে দাঁড়িয়েছেন৷ যা দেখে মারাদোনা বলেছেন, 'ওদের তো ফিফাকে সমর্থন করতেই হবে৷ নইলে যে ফিফা ওদের মাসে মাসে যে মাইনে দেয় তা বন্ধ করে দেবে৷'

ক'দিন আগেই ফিফাকে তোপ দেগেছিলেন মারাদোনা৷ লুইস সুয়ারেসকে চার মাস ফুটবলের বাইরে করে দেওয়ার প্রতিবাদ হিসেবেই আর্জেন্তিনীয় ফুটবলের কিংবদন্তি বলেছিলেন, 'ফিফা মাফিয়া, তাই এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে৷' তিনি সুয়ারেসের পাশে থাকলেও পেলে ও বেকেনবাউয়ার কিন্ত্ত বলে দেন, 'ফিফা এমন দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিয়ে ঠিক কাজ করেছে৷' মারাদোনা বলেছেন, 'এ সব কথা এখন যারা বলছে, তারা কতটা নীতি মেনে ফুটবল খেলত তা আমার জানা আছে৷ ওরা নিজেরাই মাঠে অনৈতিক কাজ করত৷' পেলে সম্পর্কে দিয়েগোর মন্তব্য, 'খেলোয়াড় জীবনে পেলে একটা ম্যাচ একজন ফুটবলার নয়, চারজন ফুটবলারকে আহত করেছে৷ মারপিট করায় ওর বেশ নাম ছিল৷' জার্মানির প্রবাদ বেকেনবাউয়ার নিয়ে মারাদোনার বক্তব্য, 'ও যখন খেলত, তখন পায়ে খেলার থেকে প্রতিপক্ষকে কনুই দিয়েই মারার দিকেই বেশি নজর দিত৷ ওর সঙ্গে খেলা ফুটবলাররা এ নিয়ে আতঙ্কিত হয়ে থাকত৷' এখানেই থামা নয়, পেলে-বেকেনবাউয়ার এমন কথা বলায়, মারাদোনা প্রকাশ্যে তাঁদের নির্বোধ বলতেও ছাড়েননি৷ বলেছেন, 'নির্বোধ না হলে কেউ কোনও ফুটবলারের পা থেকে বল কেড়ে নেওয়া হলে, এমন মন্তব্য করতে পারে না৷' তার সঙ্গেই তার সংযোজন, 'ওরা ফিফার থেকে সুবিধে নেয় বলেই এ সব বলেছে৷ নইলে এ মাসে ফিফা ওদের অর্থ দেওয়া বন্ধ করে দেবে৷'

শুধু একা মারাদোনা নয়, সুয়ারেসের পাশে দাঁড়িয়েছেন লিওনেল মেসিও৷ বিশ্বকাপের আসর থেকেই বার্সেলোনার এই সুপারস্টার বলে দিয়েছেন, 'সুয়ারেসকে বার্সেলোনা দলে স্বাগত৷' লিভারপুল থেকে পাঁচ বছরের চুক্তিতে নৌকাম্পে আনার চেষ্টা চলছে৷ বার্সেলোনা স্পোর্টিং ডিরেক্টর জুবিজারেতা স্বয়ং সুয়াসেকে নেওয়ার জন্য উদ্যোগ নিয়েছেন৷ যা জেনেই মেসি মনে করছেন, এ বার ক্লাব দলে তাঁর সঙ্গী হবেন সুয়ারেস৷ এবং এটায় যে তিনি খুশি, তা মেসির স্বাগত জানানোর মধ্যেই পারিষ্কার৷

জেমসে মজে শাকিরা-সোফিয়া

জেমসে মজে শাকিরা-সোফিয়া

shak
এই সময়: রাদামেল ফালকাও-এর ছটায় ঢাকা পড়েছিলেন এতদিন৷ চোটের জন্য ফালকাও খেলতে না পারার সুযোগ চেটেপুটে নিচ্ছেন জেমস রদরিগেস৷ মেসি, নেইমারের মতো তারকাকে পিছনে ফেলে চার ম্যাচে পাঁচ গোল করে আপাতত গোল্ডেন বুটের দৌড়ে সবার আগে৷ এ সব শুকনো তথ্য ভুলে যান৷ আপাতত বছর বাইশের এই তারকার ফ্যান-ফলোয়ারের তালিকায় রয়েছে এমন দু'টি নাম, যাঁদের একজনের ফলোয়ার ৬১ লক্ষ তো অপর জন রয়েছেন আড়াই কোটিতে৷ প্রথম জন, কলম্বিয়া জাত অভিনেতা সোফিয়া ভার্গারা৷ আর দ্বিতীয় জন, পপ সুপারস্টার শাকিরা৷

শনিবার রাতে সাঞ্চেসহীন উরুগুয়েকে বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে দেওয়ার প্রধান রূপকার রডদিগেসের প্রশংসায় দেদার টুইট করে গিয়েছেন দু'জনেই৷ খেলার শুরুতেই ভার্গারা টুইট করেন, 'নাউ আই অ্যাম রেডি, লেট কলম্বিয়া...'৷ জয়ের পরে উচ্ছ্বসিত ভার্গারা তো কলম্বিয়ার জার্সি পড়ে নিজের সেলফি তুলেও পোস্ট করে দিয়েছেন নিজের ইনস্ট্যাগ্রাম অ্যাকাউন্টে৷ সঙ্গে করা টুইটে, বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথম বার কলম্বিয়ার শেষ আটে ওঠার সাফল্যের পুরো কৃতিত্বটাই দিয়েছেন রদরিগেসকে৷

সঙ্গী জেরার পিকে-র বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেন বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গেলেও নিজের দেশের হয়ে সমর্থনে টুইটারে রীতিমতো সরব শাকিরাও৷ টুইটে রডরিগেজের সঙ্গেই দলের গোলরক্ষক ওস্পিনার দেদার প্রশংসা করেছেন পপ-তারকা৷ 'আমরা শেষ আটে, জেমস তোমাকে অভিনন্দন৷ এখনও পর্যন্ত তুমিই বিশ্বের সেরা৷ ওস্পিনাও দারুণ', টুইটে লিখেছেন শাকিরা৷

কলাম্বিয়া ভোগাবে ব্রাজিলকেও

কলাম্বিয়া ভোগাবে ব্রাজিলকেও

col
কলম্বিয়া: ২ (জেমস ২৮, ৫০) উরুগুয়ে: ০

সত্যজিত্‍ চট্টোপাধ্যায়

রাত দুপুরে ব্রাজিল বিশ্বকাপের একটা ম্যাচ আমাকে এ ভাবে বছর তিরিশ পিছনে নিয়ে যাবে ভাবিনি৷ ভাবিনি ফুটবল জীবনের শুরুতে ইডেনে বসে দেখা এঞ্জো ফ্রান্সিসকোলির উরুগুয়ের সঙ্গে কাবানিদের উরুগুয়ের এ ভাবে মিল পেয়ে যাব!

ম্যাচটা ছিল '৮২-র নেহরু কাপে উরুগুয়ে-কোরিয়া ম্যাচ৷ সে বার উরুগুয়ে টিমে ফ্রান্সিসকোলি, রামোসদের মতো তারকা ফুটবলার৷ ম্যাচটায় ০-২ গোলে পিছিয়ে পড়েছিল ফ্রান্সিসকোলিরা৷ আর পিছিয়ে পড়ে শুরু করল টাফ ফুটবল৷ আমরা যেটাকে বলি চালিয়ে খেলা৷ যেটা শনিবার রাতে শুরু করেছিল গোদিনরা৷ সে দিন ইডেনে জিতেছিল, কিন্ত্ত ফোরলান-কাবানিরা পারল না৷

প্রশ্ন হল, কোথায় মার খেল উরুগুয়ে? সুয়ারেসের না থাকাটা একটা ফ্যাক্টর তো বটেই৷ উরুগুয়ের অ্যাটাকে সুয়ারেসের মতো পাওয়ার ফুটবলার না থাকলে কী হয়, সেটা হাড়ে হাড়ে বুঝল কোচ তাবারেজ৷ ফোরলানকে শুরু থেকে নামিয়ে একটা চেষ্টা করেছিল তাবারেজ৷ কিন্ত্ত আগের বিশ্বকাপের হিরো ফোরলান, চেনা ছন্দের ধারে-কাছে ছিল না৷ সব মিলিয়ে যা হওয়ার তাই হল৷

সত্যি কথা বলতে উরুগুয়ে জিতবে বলে আমার কখনওই মনে হয়নি৷ বরং কলম্বিয়া সব বিভাগেই টেক্কা দিয়ে জিতেছে৷ দু'টিমের যা ফারাক, তাতে বারবারই কলম্বিয়ার হয়ে বাজি ধরব৷ যার প্রথম কারণ যদি হয় জেমস রদরিগেস নামে দুর্দান্ত ফুটবলার, তো দ্বিতীয় কারণ ওদের কোচ পেকেরমান৷

কলম্বিয়ার কম্পোজড ফুটবল মন ভালো করে দিল৷ সব বাচ্চা ছেলে৷ অসাধারণ দৌড়ল ছেলেগুলো৷ আসলে কলম্বিয়া বলতে আমার চোখের সামনে ভাসে ভালদেরামা, রিঙ্কন, আসপ্রিয়াদের মুখ৷ বলতে কোনও দ্বিধা নেই, নয়ের দশকের ওই টিমটা এখনকার তুলনায় অনেক বেশি তারকা-নির্ভর ছিল৷ একটা বাজে গোল খাইয়ে ক্যামেরুনের বিরুদ্ধে টিমকে ডুবিয়ে দেওয়া বাদ দিলে হিগুয়েতাও গ্রেট গোলকিপার৷ ওদের গভীরতা অনেক বেশি ছিল৷

পেকেরমানের টিমে তেমন কেউ নেই৷ রদরিগেসের প্রথম গোলটা এখনও পর্যন্ত আমার মতে ব্রাজিল বিশ্বকাপের সেরা৷ তবু বলছি, টিমগেমই ওদের অস্ত্র৷ লাতিন আমেরিকা ঘরানার যে ফুটবল দেখতে পছন্দ করি, সেটাই খেলছে কলম্বিয়া৷

সত্যি কথা বলতে, বিশ্বকাপের একটা সেরা ম্যাচ দেখার জন্য বসে আছি৷ ঠিকই ধরেছেন, ব্রাজিল-কলম্বিয়া ম্যাচ৷ দুটো টিমই পাসিং ফুটবল খেলছে৷ নিজে‌েদের মধ্যে খেলে অ্যাটাকে যাচ্ছে৷ রদরিগেসের প্রথম গোলটা ব্যক্তিগত নৈপুণ্যে সেরা, কিন্ত্ত পরের গোলটার সময়, কলম্বিয়ার ফুটবলারদের নিজেদের মধ্যে টাচ খেলা দেখে সেরা ফর্মের স্পেনের কথা মনে পড়ছিল৷

সোজা কথায়, এই বিশ্বকাপে দারুণ একটা প্যাকেজ ফুটবল উপহার দিল কলম্বিয়া৷ দুই সাইডব্যাক আর্মেরো আর জুনিঙ্গা ছবির মতো উঠছে৷ আসলে অনেক বৈচিত্র্য রয়েছে পেকেরমানের টিমে৷ এই জায়গাতেই ব্রাজিলের সঙ্গে লড়াইটা জমবে৷

কলম্বিয়ার নেগেটিভ দিক কী? আমার মতে, ওদের ফিজিক৷ শরীরী লড়াইয়ে একটু হলেও এগিয়ে ফ্রেদ, হাল্করা৷ আর একটা ব্যাপার, যেটা কলম্বিয়ার ভালো লাগেনি, তা হল ওদের মানসিকতা৷
২-০ এগিয়ে যাওয়ার পর যেন একটু শেকি হয়ে যাচ্ছিল৷ ফোরলানরা পারেনি, নেইমাররা কিন্ত্ত এ সব পরিস্থিতিতে ছিঁড়ে খাবে৷ এ ছাড়া কলম্বিয়া কিন্ত্ত একটা কমপ্লিট টিম৷ নিজেদের আর একটু গুছিয়ে নিয়ে ওরা বিশ্বকাপে আরও এগোলে সেটাকে কোনও মতেই অঘটন বলা যাবে না৷ 
http://eisamay.indiatimes.com/fifa-word-cup-2014/world-cup-copy-of-satyajit-chatterjee/articleshow/37507652.cms?

সেসারের প্রেরণা বড় রোনাল্দোর প্রথম প্রেমিকা

সেসারের প্রেরণা বড় রোনাল্দোর প্রথম প্রেমিকা

CEASER
সেসার ও সুসানের সুখী পরিবার।
রূপায়ণ ভট্টাচার্য সাও পাওলো

অসম্ভব আবেগতাড়িত সুসানা ওয়ার্নারের প্রথম টুইটটা এল অন্ধকার থেকে পুরো ব্রাজিল জেগে ওঠার সামান্য বাদেই৷

জুলিয়াস সেজারের স্ত্রী সেখানে লিখেছেন, 'আমায় বিশ্বাস করলে বলছি, আমার বিশ্বকাপ আজ এখানেই শেষ হয়ে যেত৷ যারা জুলিয়াসের ওপর আস্থা রেখেছেন, তাদের সবাইকে ধন্যবাদ৷ সব কিছুর জন্য ঈশ্বরকে ধন্যবাদ৷' সামান্য বাদে দ্বিতীয় টুইট সুসানার, 'আমি এখন কোনও ইন্টারভিউ দেব না৷ জুলিয়াসই হিরো৷'

ঠিক ওই সময়ই হয়তো বেলো অরিয়েন্তের মাঠের মধ্যে স্কোলারি বা থিয়াগো সিলবাকে জড়িয়ে হাউহাউ করে কাঁদছেন জুলিও সেজার নিজে৷ কিংবা প্রেস কনফারেন্সে এসে এমন আবেগ তাড়িত হয়ে বলছেন, 'চার বছর আগে প্রচণ্ড দুঃখের দিনে আমায় একটা খারাপ অভিজ্ঞতার ইন্টারভিউ দিতে হয়েছিল৷ সেই দিনটা ভুলিনি৷ আর তিনটে ধাপ বাকি৷ আশা করছি, মারাকানায় কাপটাকে চুমু খেতে পারব৷' ব্রাজিলিয়ান সাংবাদিকরা হাততালি দিয়ে উঠছেন৷

পরিতৃপ্ত সেজার চোখের জল সামলে ধন্যবাদ দিয়ে যাচ্ছিলেন স্ত্রী ও পরিবারকে৷ 'চার বছর আগে ঝাঁঝরা হয়ে গিয়েছিল বুক৷ আমার পরিবার আর ঈশ্বর জানেন, কেমন ভাবে কেটেছে সেই দিন৷ সুসানের সঙ্গে বিয়ে, সন্তানদের জন্ম পাল্টে দিয়েছে আমায়৷ জয়টা সুসানা, পরিবার, সন্তান, কুড়ি কোটি ব্রাজিলিয়ানকে উত্‍সর্গ করছি৷'

ব্রাজিলের সাংবাদিকরা বলছেন, সেজারের দুঃখের দিনে তাঁর পাশে সব সময় অনুপ্রেরণা দিয়ে গিয়েছেন সুসানা৷ কে তিনি? ইনিই ব্রাজিলের রোনাল্দোর প্রথম প্রেমিকা৷ রোনাল্দোর উত্থানের সময় সুসানার সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক নিয়ে সোরগোল পড়েছিল ব্রাজিলে৷ সুসানা সেই আমলে উঠতি মডেল, নামী অভিনেত্রী৷

এখন যেমন ব্রুনার সঙ্গে নেইমারের সম্পর্ক নিয়ে আলোচনার শেষ নেই ব্রাজিলে, তখন ছিলেন রোনাল্দো-সুসানা৷ পরে রোনাল্দোর সঙ্গে সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার মুখে জুলিয়াস সেসারের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি হয়৷ দুই তারকাই তখন ব্রাজিল দলে৷ টেনশন একটা ছিলই৷ এই মুহূর্তে সেসারের দুই সন্তানের মা সুসানা অনেকটাই প্রচার থেকে সরে গিয়েছেন৷ মডেলিং, অভিনয় খুব কম করেন৷ সেসারের পুনরুত্থানে আবার ব্রাজিলে খোঁজ পড়েছে বড় রোনাল্দোর প্রথম প্রেমিকার৷

পুনরুত্থান মানে কী? শুনলাম, স্কোলারিকে টাইব্রেকারের আগে কথা দিয়েছিলেন ব্রাজিল গোলকিপার, 'আপনি যেমন ভরসা রেখেছেন আমার উপর, তার মর্যাদা আমি দেব৷ অন্তত তিনটে সেভ করব৷' কথাটা যে সত্যি, তা বোঝা গিয়েছে অধিনায়ক তিয়াগো সিলবার মন্তব্যেও৷ 'জুলিও বলেছিল, তিনটে সেভ করবে৷' ম্যাচের দুটো অবিশ্বাস্য সেভের সঙ্গে টাইব্রেকারের দুটো সেভ-সেটা দাঁড়াল চারটে৷ টাইব্রেকারের আগেই গোলকিপারকে কাঁদতে দেখিনি কোনও দিন৷ সেজার ওই সময়ও কাঁদছিলেন৷ কেন? শান্ত গলা এ বার, 'কাঁদছিলাম কেন? আমি কখনও শুনিনি, আমি আবেগতাড়িত লোক৷ কিন্ত্ত টাইব্রেকারের আগে টিমমেটরা আমার সম্পর্কে এত ভালো ভালো কথা বলল যে কান্না এসে গিয়েছিল৷ সাহস দেওয়ার জন্য আমি ওদের কাছে কৃতজ্ঞ৷'

রোনাল্দোর প্রাক্তন প্রেমিকাকে বিয়ে করলেও, সেজারের সঙ্গে রোনাল্দোর সম্পর্ক খুব ভালো৷ ম্যাচের পর এক টিভি অনুষ্ঠানে রোনাল্দো মজা করে সেজারের উদ্দেশে বলেন, 'আমিই শুধু তোমাকে গোল দিতে পারতাম'৷ শুনে সেজারের পাল্টা মজা, 'তোমার বাঁ দিক দিয়ে কিকগুলো খুব মনে আছে৷ দারুণ৷' ম্যাচটার পরে রোনাল্দো ইনস্টাগ্রামে সেজারের সঙ্গে তাঁর একটা ছবি পোস্ট করে অভিনন্দনও জানান৷ আসলে সুসানার সঙ্গে ১৯৯৭ থেকে ১৯৯৯ সম্পর্ক ছিল রোনাল্দোর৷ দু'জনের সম্পর্কের শুরু এক টিভি সিরিয়ালে অভিনয় করতে গিয়ে৷ রোনাল্দোর সঙ্গে মিলানেও দু'বছর ছিলেন সুসানা৷ সম্পর্ক ভাঙে রোনাল্দো মিলেনা দমিঙ্গেস নামে ব্রাজিলিয়ান ফুটবলারকে বিয়ে করলে৷ সেজারের ভূমিকা ছিল না কোনও৷

এই শতাব্দীর শুরুতে বিশ্ব ফুটবলে তিন গোলকিপারকে নিয়ে লেখালেখি হয়েছে খুব৷ জিয়ানলুইগি বুফোঁ, ইকের কাসিয়াস এবং এই সেজার৷ এক একটা সময় এক এক জনকে বিশ্ব সেরা মনে হয়েছে৷ গত দুটো বিশ্বকাপ বুফোঁ ও কাসিয়াস হাতে নেওয়ার পরে কোথায় হারিয়ে গিয়েছিলেন ইন্তার মিলানের নজর কাড়া এই কিপার৷ ভাবা যায় না, কুইন্স পার্ক রেঞ্জার্সের মতো ক্লাব তাঁকে কার্যত তাড়িয়ে দিয়েছে৷ আর এখন বন্যার মতো ভেসে আসছে সেজারের কৃতিত্ব-গাথা৷ দশ বছর আগে তিনি কী ভাবে কোপা আমেরিকায় বাঁচিয়েছিলেন উরুগুয়ের সাঞ্চেসের কিক, আর্জেন্তিনার দি'আলেসান্দ্রোর কিক৷ কনফেড কাপে গত বছর কীভাবে পেনাল্টিতে থামিয়ে দেন দিয়েগো ফোরলানকে৷

জুলিয়াস-পুজো আরও চলবে৷ চিলি ম্যাচের পরে নেইমারের মতো ফুটবলার উচ্ছ্বসিত হয়ে বলেছেন, 'এ বার সেসার অনেক লোকের মুখ বন্ধ করে দিয়েছে৷' কথাটা একেবারে ঠিক৷ বিশ্বকাপের আগে ব্রাজিলের একটা কাগজে খবর বেরিয়েছিল, রিওর এক মোটেলে এক মহিলা নিয়ে রাত কাটিয়েছেন সেজার৷ ব্রাজিলের মোটেলগুলোয় জোড়ায় জোড়ায় না হলে ঢোকা কঠিন৷ খবর শুনে ক্ষিপ্ত সুসানা ওয়ার্নার নিজে ফোন করে কাগজগুলোকে বলেন, 'হ্যাঁ, জুলিয়াস মোটেলে গিয়েছিল৷ আর সঙ্গের ওই মহিলা ছিলাম আমি৷'

এত সেজার, সেজার কথার মধ্যে কেউ ভাবতে পারেন, ওহ, ব্রাজিলকে শেষে বিশ্বকাপে বাঁচাচ্ছে কিনা গোলকিপার! ব্যাপারটা নতুন নয়৷ আশির দশকে ব্রাজিলের কিপার হিসেবে কে খেলত, মনে রাখত না কেউ৷ পেলের সত্তরের সোনার দলের কিপার ফেলিক্সকে কে মনে রেখেছে আর! কুড়ি বছর আগে ক্লদিও তাফারেল প্রথম দেখান, ব্রাজিলকে বিশ্বকাপ দিতে পারেন গোলকিপারও৷ তার দুটো বিশ্বকাপ পরে স্কোলারিকে কাপ দেওয়ার সময় বড় ভূমিকা নেন দিদা ও মার্কোস৷ দলের তিন নম্বর কিপার রজারিও সেনি বিশ্ব ফুটবলে রীতিমতো বিখ্যাত তাঁর ফ্রিকিকের জন্য৷ তবু যেন কিপাররা অন্ত্যজই৷

দিদার অবসরের পরে এক ঝাঁক ভালো কিপার ছিলেন ব্রাজিলে৷ টটেনহ্যামের হারহুলো গোমেস, পোর্তোর হেল্টন, রোমার দোনি আগে ছিলেন সেজারের৷ কিন্ত্ত এই সেজারই বটগাছ হয়ে ওঠেন৷ ইন্তার মিলানে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জিতেছেন৷ পাঁচটা সিরি এ৷ চার বছর আগে, কাসিয়াসের সঙ্গে তাঁর নাম ছিল ব্যালন ডি'ওরের তালিকায়৷ ভালো লাগল, এ দিন যখন আবেগ সামলে বলে উঠলেন, ' এখনও গল্প শেষ হয়নি আমার৷'

আজ সকাল থেকে ব্রাজিলের কাগজে কাগজে শুধু সেজার৷ একটা কাগজে উরুগুয়ের বিরুদ্ধে ৬৪ বছর আগে ফাইনাল দেখা সব প্রবীণ প্রবীণাদের ইন্টারভিউ বেরিয়েছে৷ কী তৃপ্তি তাঁদের চোখেমুখে-আর একটা 'মারাকানাসো' হল না!

কোথাও একটা পড়েছি, ব্রাজিলের রাস্তা বা বস্তিতে বাচ্চারা ফুটবল খেললেই আগে লটারি করে অদ্ভুত ভাবে৷ 'পাথর, কাঁচি, কাগজ' বলতে বলতে লটারি হয়, কে গোলে খেলবে৷ কেউ খেলতে চায় না৷ সবাই ফরোয়ার্ড হতে চায়৷ রোনাল্দো, রোমারিও, রোনাল্দিনহো, নেইমার৷ কে জানে, সেজার বিশ্বকাপ দিলে ওই 'পাথর, কাঁচি, কাগজ' খেলাটা বন্ধ হবে হয়তো!
http://eisamay.indiatimes.com/fifa-word-cup-2014/brazil-shootout-hero-jlio-csar-i-have-won-the-countrys-trust-back/articleshow/37476742.cms?