Saturday, May 31, 2014

সদয় অক্ষরেখায় ঝড়-বৃষ্টি

সদয় অক্ষরেখায় ঝড়-বৃষ্টি

Kolkata-rains-001
দু'দিন যেতে না-যেতেই আবার বৃষ্টির বার্তা৷

এক নিম্নচাপ মায়ানমার উপকূল থেকে পথ বদলে একেবারে বাংলার ভিতরে ঢুকে এসেছিল৷ যার আশীর্বাদে দফায় দফায় প্রায় ১৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস নেমে যায় তাপদগ্ধ বাংলার পারা৷ চার দিন মেঘলা আকাশ, বৃষ্টিভেজা বাংলা৷ নিম্নচাপ দুর্বল হয়ে আসামের দিকে সরে যেতে রোদ উঁকি দিতে শুরু করেছিল৷ সবে চেপে বসতে শুরু করেছিল বাতাসের অত্যধিক জলীয় বাষ্প৷ কিন্ত্ত গরম মাথা তোলার আগেই বৃষ্টির হাজিরা সুনিশ্চিত করে তুলছে একটি নিম্নচাপ অক্ষরেখা৷ আলিপুর আবহাওয়া দন্তরের অধিকর্তা গোকুলচন্দ্র দেবনাথ বলেন , 'পশ্চিম উত্তরপ্রদেশ থেকে উত্তরবঙ্গ পর্যন্ত একটি নিম্নচাপ অক্ষরেখা বিস্তৃত রয়েছে৷ শনিবার সেটি দক্ষিণবঙ্গের উপর নেমে আসবে৷ ফলে আগামী ৪৮ ঘণ্টায় গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গের সব জেলাতেই ঝড় -বৃষ্টির সম্ভাবনা উজ্জ্বল হচ্ছে৷ 'এ বার অবশ্য ক'দিন আগের নিম্নচাপের ঢঙে বৃষ্টি হবে না৷ নিম্নচাপ অক্ষরেখার টানে জলীয় বাষ্প ছুটে যাবে ঝাড়খণ্ডের মালভূমির দিকে৷ গরম হাওয়ার সঙ্গে জোট বাঁধবে সেখানে৷ তৈরি হবে বজ্রগর্ভ মেঘ , যা ধেয়ে যাবে কলকাতা -সহ উপকূলের দিকে৷ এমন পরিস্থিতিতেই জন্ম নেয় কালবৈশাখী৷ সেই সম্ভাবনাও কি উজ্জ্বল ? গোকুলবাবুর কথায় , 'আমরা কালবৈশাখীর সতর্কতা জারি করেছি৷ তবে এত আগে থেকে কালবৈশাখীর পূর্বাভাস দেওয়া যায় না৷ কারণ , সেই মেঘ সৃষ্টি হয় দ্রুত৷ তবে এটুকু বলা যেতে পারে , পরিস্থিতি যথেষ্ট অনুকূল৷ ' চলতি মরসুমে এপ্রিল মাসে একটিও কালবৈশাখী পায়নি কলকাতা৷

শিকে ছেঁড়ে মে মাসের শুরুতে৷ তার পর অবশ্য ঝড় -বৃষ্টির অভাবে ফের হানা দেয় তাপপ্রবাহ৷ ১৯৫৪ -পরবর্তী ৬০ বছরে মধ্যে এ বারের এপ্রিল যেমন উষ্ণতম তকমা ছিনিয়ে নিয়েছে , মে মাসেও তেমন সর্বোচ্চ তাপমাত্রার নিরিখে ভেঙে গিয়েছে পাঁচ বছরের রেকর্ড৷ আবহবিদরা বলছেন , শহরে সর্বোচ্চ তাপমাত্রার যা বাড়বাড়ন্ত তা একেবারে অস্বাভাবিক নয়৷ কিন্ত্ত যে ভাবে অসহ্য গরম একটানা দাপিয়ে বেরিয়েছে , তা কিছুটা বিরলই৷ এর জন্য নির্দিষ্ট সময় অন্তর কালবৈশাখীর হাজির না -হওয়াকেই দায়ী ঠাওরেছেন আবহবিদরা৷ বর্ষা আসার আগে তার দেখা পাওয়ার সুযোগ মিলেছে , এ বার অপেক্ষা পূর্বাভাস সত্যি হওয়ার৷

ঝড় -বৃষ্টি হোক বা না -হোক , অক্ষরেখার প্রভাবে যে জলীয় বাষ্প ঢুকবে , তার জেরে আজ , শনিবার সকাল থেকে আকাশ আংশিক মেঘলা থাকবে৷ ফলে রোদের দাপট সহ্য করতে হবে না আমজনতাকে৷ গোকুলবাবুও বলছেন , 'মেঘ থাকায় গরম তেমন থাকবে না৷ তা ছাড়া , অক্ষরেখার অবস্থানের জন্য দখিনা বাতাস বইছে৷ ফলে অস্বস্তিও কম হবে৷ ' আজ শেষ দিন মে মাসের৷ নিয়ম মানলে কাল , ১ জুনের মধ্যে বর্ষা ঢুকে পড়ার কথা কেরালায়৷ কিন্ত্ত মৌসম ভবনের আবহবিদরা জানিয়ে রেখেছেন , আরব সাগর উপকূলে বর্ষা ঢুকতে ঢুকতে অন্তত ৫ জুন৷ কেরালার সঙ্গে সঙ্গে উত্তর -পূর্ব ভারতের কিছুটা অংশেও ১ জুন নাগাদ দক্ষিণ -পশ্চিম মৌসুমি বায়ু হাজির হয়ে যায়৷ কিন্ত্ত কাল , রবিবারের মধ্যে সে সম্ভাবনাও নেই৷ মৌসুমি বায়ুর বঙ্গোপসাগর শাখা বাংলাদেশের চট্টগ্রাম লাগোয়া মায়ানমার পর্যন্ত ঢুকে পড়লেও , এখনই তার নড়াচড়ার আশা কম , বলছেন আলিপুরের আবহবিদরা৷ 

মোদীর ৪৫ সদস্যের মন্ত্রীসভায় বাঙালি সদস্য নেই

মোদীর ৪৫ সদস্যের মন্ত্রীসভায় বাঙালি সদস্য নেই
অনলাইন ডেস্ক ২৬ মে:
প্রকাশ : ২৬ মে, ২০১৪

শপথ গ্রহনের পর ৪৫ সদস্যের মন্ত্রীসভা নিয়ে ভারতে যাত্রা শুরু করলো নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকার। ভারতের নতুন মন্ত্রিসভায় ঠাঁই পেয়েছেন ৪৫ জন পূর্ণ মন্ত্রী, ১০ জন প্রতিমন্ত্রী (মন্ত্রীবিহীন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে), ১১ জন প্রতিমন্ত্রীতবে মন্ত্রিসভায় পশ্চিমবঙ্গ থেকে কেউ স্থান পাননি।
ভারতের নতুন মন্ত্রিসভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হচ্ছেন ক্ষমতাসীন বিজেপির সভাপতি রাজনাথ সিং। তিনি সরকারে মোদির পর দ্বিতীয় ব্যক্তি হিসেবে কাজ করবেন। সোমবার মোদির পর তিনি শপথ গ্রহণ করেন। রাজনাথের পর শপথ গ্রহণ করেন সুষমা স্বরাজ।
 ১০ মন্ত্রীর দপ্তর নিশ্চিত করেছে ভারতীয় সংবাদ মাধ্যম। তাদের মধ্যে রয়েছেন রাজনাথ সিং (স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী), সুষমা স্বরাজ (পররাষ্ট্রমন্ত্রী), অরুন জেটলি (অর্থমন্ত্রী), ভেঙ্কাইয়া নাইডু (কৃষি ও গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী), সদানন্দ গৌড়া (রেলমন্ত্রী), নীতিন গাডকারি (টেলিযোগাযোগমন্ত্রী), রবিশঙ্কর প্রসাদ (তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী), অরুন শৌরি (প্লানিং কমিশনের চেয়ারম্যান), হর্ষবর্ধন (স্বাস্থ্যমন্ত্রী), স্মৃতি ইরানি (এইচআরডি)।
ভারতীয় সেনাবাহিনীর সাবেক প্রধান জেনারেল ভি কে সিং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করবেন। মোদীর ৪৫ সদস্যের মন্ত্রীসভায় এবারই কোন বাঙালি সদস্য নেই। পশ্চিমবঙ্গ থেকে কাউকে রাখা হয়নি মোদির কেবিনেটে। আর একমাত্র মুসলমান হিসেবে নাজমা তেপতুল্লাহ সংখ্যালঘু মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন। উল্লেখ্য এবারের নির্বাচনে বিজেপি থেকে ৯ জন মুসলমান প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও কেউই জয়ী হননি।নাজমা হেপতুল্লা ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামী মাওলানা আবুল কালাম আজাদের ঘনিষ্ঠ আত্মীয়।মধ্য প্রদেশের রাজধানী ভুপালের বাসিন্দা নাজমা তিন সন্তানের জননী।  ৭৪ বছর বয়স্ক নাজমা ১৯৮৬ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত ৫বার রাজ্যসভার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি টানা ১৭ বছর রাজ্যসভার ডেপুটি চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন। তিনি বর্তমানে বিজেপির কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি।
উল্লেখ্য, রাষ্ট্রপতি ভবনের সামনের উন্মুক্ত স্থানে এর আগে মাত্র দু’বার শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান হয়। ১৯৯০ সালে চন্দ্রশেখর এবং ১৯৯৮ সালে অটল বিহারী বাজপেয়ি উন্মুক্ত প্রাঙ্গণে শপথ নেন। ওই দু’বার নিমন্ত্রিত অতিথির সংখ্যা ছিল ১ হাজার ২০০ এবং ১ হাজার ৩০০।
- See more at: http://www.jugantor.com/current-news/2014/05/26/103759#sthash.ThEg7fAu.dpuf

বেলালের বাড়িতে আগুন দিয়েছে একরাম সমর্থকরা

বেলালের বাড়িতে আগুন দিয়েছে একরাম সমর্থকরা
ফেনী, ২৬ মে:
প্রকাশ : ২৬ মে, ২০১৪

ফেনীর ফুলগাজী উপজেলা চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ সভাপতি একরামুল হক হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতা বেলাল হোসেনের বাড়িতে আগুন দিয়েছেন একরামুল হকের সমর্থকেরা। তবে এতে কেউ হতাহত হয়নি।
সোমবার বেলা ১১টার দিকে বেলালের বাড়ি ঘেরাও করে একরামুলের সমর্থকেরা বেলালের বাড়িতে এ আগুন দেয়।
পুলিশ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত কর জানায়, একরামুলের সমর্থকেরা আগুন দেয়ার সময় বেলাল হোসেন বাড়ি থেকে পালিয়ে যান। পরে তারা ওই বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেন। এসময় ঘরের অন্যান্য সদস্যরাও ঘর থেকে বের হয়ে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যান। খবর পেয়ে ফেনী থেকে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নেভান। তবে এতে কেউ হতাহত হয়নি। পরে ফুলগাজী থানা থেকে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
বেলালের বাড়ি উপজেলার আনন্দপুর ইউনিয়নের ইসলামপুর গ্রামে। তিনি আনন্দপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ও আনন্দপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। এক সময় একরামুলের ঘনিষ্ঠ ছিলেন তিনি। একরামুল হত্যায় বেলালের জড়িত বলে একরাম সমর্থক ও আওয়ামী লীগের একটি অংশের ধারণা।
 
- See more at: http://www.jugantor.com/current-news/2014/05/26/103741#sthash.JpIJbGDt.dpuf

যশোরে ঝুঁকিপূর্ণ ২৪৫টি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবন

যশোরে ঝুঁকিপূর্ণ ২৪৫টি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবন
ইন্দ্রজিৎ রায়, যশোর ব্যুরো
প্রকাশ : ২৬ মে, ২০১৪
যশোরের ২৪৫টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জরাজীর্ণ ভবনে শিক্ষার্থীদের পাঠদান করা হচ্ছে। সংস্কার না করায় ভবনগুলো ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ এসব ভবনেই পাঠদান কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন শিক্ষকরা। স্কুল কতর্ৃৃপক্ষ ও প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে এসব জরাজীর্ণ স্কুলের তালিকা পাঠিয়েছে। এ তালিকায় সবচেয়ে বেশিসংখ্যক চৌগাছায় ৫৬টি ও ঝিকরগাছা উপজেলায় ৫৪টি বিদ্যালয় রয়েছে। যশোরের ৮ উপজেলায় ২৪৫টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবন জরাজীর্ণ রয়েছে। এরমধ্যে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক চৌগাছা উপজেলায় ৫৬টি। বিদ্যালয়গুলোর মধ্যে রয়েছে সলুয়া, কাবিলপুর, চৌগাছা, কয়ারপাড়া, বন্দুলীতলা, দিঘলসিংহা, পুড়াপাড়া, পুড়াহুদা, স্বরূপদাহ, যাত্রাপুর, আন্দারকোটা, চাঁদপাড়া, খড়িঞ্চা, মাঠচাকলা, সাঞ্চাডাঙ্গা, স্বরূপপুর, ফুলসারা, মুক্তাদহ, রায়নগর, আন্দুলিয়া, হাজরাখানা, মাশিলা, মুক্তারপুর, আফরা, উজিরপুর, জগদীশপুর, জাহাঙ্গীরপুর, মৎসারাঙ্গা, আজমতপুর, চাঁদপুর, শিবনগর, রঘুনাথপুর, মশিয়ুরনগর, গয়ড়া, দশপাকিয়া, পাঁচনামানা, কুলিয়া, বর্ণি, শাহাজাদপুর, ঝিনাইকুণ্ডু, দুর্গাপুর, দক্ষিণ রামকৃষ্ণপুর, বল্লভপুর, ভাদড়া, আড়কান্দি, কোটালীপুর, জিওলগাড়ি, আড়পাড়া, হোগলডাঙ্গা, ধুলিয়ানী, কাঁদবিলা, পাতিবিলা, আরাজি সুলতানপুর ও ছোট নিয়ামতপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। ঝিকরগাছা উপজেলায় ৫৪টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জরাজীর্ণ ভবনে শিক্ষার্থীদের ক্লাস চলছে। স্কুলগুলো হল- মনোহরপুর, সোনাকুড়, বামন আলী, কাশীপুর, শরীফপুর, কামারপাড়া, বোধখানা, বাঁকড়া, পায়রাডাঙ্গা, বেনেয়ালী, শিমুলিয়া, বল্লা, বড়খলসী, কুলবাড়িয়া, গঙ্গানন্দপুর, আটিলিয়া, মাগুরা, রাজারডুমুরিয়া, মুধুখালী, হাঁড়িয়া, ফুলবাড়ী, বারাকপুর, শ্রীরামপুর, টওয়রা উত্তরপাড়া, ইসলামপুর ঢাকপাড়া, নবগ্রাম-গঙ্গাধরপুর, অমৃতবাজার, নাজমুল ইসলাম, আন্দোলপোতা, বড় পোদালিয়া, বাকুড়া, রাজবাড়িয়া, দক্ষিণ দিগদানা, ছোটখলসী, খোসালনগর, খাটবাড়িয়া, কুমরী, জগানন্দকাটি, মহিনীকাটি, দেউলী নাভারণ, রাঘুনাথনগর, সৈয়দপাড়া, রাধানগর, আশিংড়ী, বায়সা, হাজিরালী, দোশতিনা, শিওরদাহ, বিষ্ণুপুর, শংকরপুর ও রঘুনাথপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। যশোর সদর উপজেলার অন্তত ৪২টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জরাজীর্ণ ভবনে ক্লাস নেয়া হচ্ছে। স্বুলগুলো হল- ললিতাদাহ, সমসপুর, বারান্দি মোল্লাপাড়া, মালঞ্চি, হৈবতপুর, ঝাউদিয়া, চুড়ামনকাটি, আদর্শ, নঙ্গরপুর, ধোপাখোলা, বকচর, বারান্দি, রামনগর খাঁপাড়া, ফুলবাড়ি দীঘিরপাড়, নাটুয়াপাড়া, তেঘরিয়া, ইছাপুর, হালসা, জয়নাব সাত্তার, রামনগর, শাহবাজপুর, জগহাটি, তীরেরহাট, জোতরহিম, মাথাভাঙ্গা, ঘাটকুল কচুয়া, নরেন্দ্রপুর পশ্চিম মাঠপাড়া, পূর্ব আবাদ কচুয়া, শাঁখারিগাতি, দেয়াড়া, ঘোপ নরসিংহপুর, আবাদ কচুয়া, মাহিদিয়া, পুলেরহাট, এফএবি, জগন্নাথপুর, গোবিন্দপুর, ছোটবড় গোবিন্দপুর, শেখহাটি ও নিমতলী বাজে দুর্গাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। এছাড়াও শার্শা উপজেলার ২২টি, মনিরামপুরে ২১টি, বাঘারপাড়ার ২৬টি, অভয়নগরে ৭টি, কেশবপুরে ১৭টি বিদ্যালয়ে জরাজীর্ণ ভবনে পাঠদান চলছে।
- See more at: http://www.jugantor.com/bangla-face/2014/05/26/103476#sthash.EZeLLQkX.dpuf

ঢাকা থেকে খুনের নির্দেশনা টেলিকনফারেন্সে

ঢাকা থেকে খুনের নির্দেশনা টেলিকনফারেন্সে
তোহুর আহমদ, ফেনী থেকে ফিরে
প্রকাশ : ২৬ মে, ২০১৪

উপজেলা চেয়ারম্যান একরামুল হক একরামকে হত্যার পরিকল্পনা তিন স্তরে সাজানো হয়েছিল। প্রতি স্তরেই ছিল কঠোর নজরদারি। নজরদারির দায়িত্বে ছিলেন প্রভাবশালী এক রাজনৈতিক নেতার অস্ত্র ও কিলিং স্কোয়াডের প্রধান জেলা আওয়ামী লীগের নেতা জাহাঙ্গীর মোহাম্মদ আদেল। ১৯ মে রাতে জাহাঙ্গীর মোহাম্মদ আদেলের পেট্রোবাংলা রোডের বাসায় বসে প্রভাবশালীর ঘনিষ্ঠ ৬ জন সহযোগী কিলিং মিশনের ছক কাটেন। এ সময় প্রভাবশালী ওই নেতা কৌশলগত কারণে ঢাকায় অবস্থান করে ৬ সহযোগীর সঙ্গে টেলিকনফারেন্সে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন। গত তিন দিনে গ্রেফতারকৃত ১৩ কিলার পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে এসব তথ্য জানিয়েছে।
এ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ফেনী পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আবদুল্লাহ হেল শিবলু, আওয়ামী লীগ নেতা জাহিদ চৌধুরী ওরফে জিহাদ, নিজাম হাজারীর অস্ত্রভাণ্ডারের নিয়ন্ত্রক মামুন, জেলা আওয়ামী লীগের নেতা জিয়াউল আলম মিস্টার, এমপির অস্ত্রধারী দেহরক্ষী রাশেদ ও গানম্যান খোকন। জাহাঙ্গীর মোহাম্মদ আদেল মধ্যরাত পর্যন্ত এদের নিয়ে বৈঠক শেষে দক্ষ প্রকৌশলীর মতো কিলিং মিশনের মানচিত্র আঁকেন। জাহাঙ্গীর মোহাম্মদ আদেলের হাতে আঁকা এ মানচিত্রটি উদ্ধারও করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশের একটি সূত্র।
সূত্র জানায়, পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০ মে সকাল ৮টায় কিলাররা একে একে ফেনীর সালাম কমিউনিটি সেন্টারে উপস্থিত হয়। এখানেই তাদের মধ্যে দায়িত্ব বণ্টন ও অস্ত্রের মহড়া অনুষ্ঠিত হয়। অস্ত্র মহড়ার প্রশিক্ষক ছিলেন ফেনী পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর আবদুল্লাহ হেল বাকি ওরফে শিবলু কমিশনার। কিলিং মিশন সফল করতে প্রয়োজনীয় অস্ত্রের জোগান দেন ফুলগাজী উপজেলার আওয়ামী লীগ নেতা জাহিদ চৌধুরী ওরফে জিহাদ। কিলিং মিশন শুরুর আগে নিহত একরামুল হকের বাড়ি থেকে ফেনী ডায়াবেটিক হাসপাতাল ও ফেনী রেলগেট এলাকা পর্যন্ত তার গতিবিধি তদারকির দায়িত্বে ছিলেন একরামুল হকের দীর্ঘদিনের সঙ্গী আনন্দপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বেলাল মেম্বার।
গ্রেফতারকৃতরা জানিয়েছে, আওয়ামী লীগ নেতা জাহাঙ্গীর মোহাম্মদ আদেল কিলিং শুরুর আগে একটি মোটরসাইকেলে করে নিজেই দায়িত্বপ্রাপ্তদের অবস্থান পর্যবেক্ষণ করেন। এরপর তিনি ফেনী পৌরসভায় নিজ অফিসে মিশন সফল হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষায় থাকেন। এ সময় তিনি তার অন্যতম সহযোগী বেলাল মেম্বারের সঙ্গে দফায় দফায় ফোনে কথা বলেছেন। আওয়ামী লীগ নেতা জিয়াউল আলম মিস্টার, মামুন ও জাহিদ চৌধুরী ঘটনাস্থলের পাশেই অবস্থান নিয়ে জুনিয়র কিলারদের রাস্তায় অবস্থান নিশ্চিত করেন এবং উৎসাহ জোগান।
আদেল ও মিস্টারের উত্থান যেভাবে : সূত্র জানায়, জাহাঙ্গীর মোহাম্মদ আদেল বাংলাদেশ ছাত্রলীগে যোগ দেন আশির দশকে। এরপর ১৯৮৫ সালে ফেনী জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি হন। ছাত্রলীগের নেতা থাকা অবস্থায় তার খ্যাতি জোটে ‘কূটবুদ্ধি’র জোগানদাতা হিসেবে। এক পর্যায়ে তাকে ছাত্রলীগের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়া হলে তিনি জয়নাল হাজারীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা তৈরি করেন। ফেনীর বিভিন্ন খুন ও গুমের পরিকল্পনাকারী হিসেবে ধরা হয় তাকে। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ শাসনামলে দলে অবস্থান পাকাপোক্ত করে না দেয়ায় জয়নাল হাজারীর ওপর ক্ষুব্ধ হন আদেল। ২০০১ সালে জয়নাল হাজারী দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার পর জাহাঙ্গীর মোহাম্মদ আদেলও আত্মগোপনে চলে যান। ২০০২ সালে জয়নাল হাজারীর কুখ্যাত ক্লাস কমিটির ক্যাপ্টেন আজাহারুল হক আরজু, শাহজাহান সাজু, শাখাওয়াত হোসেন, করিম উল্লাহ বিকমের সঙ্গে জাহাঙ্গীর আদেলও কুমিল্লা থেকে গ্রেফতার হন। দীর্ঘদিন জেলে থাকার সময় জয়নাল হাজারী তাদের কোনো খোঁজ না নেয়ায় নিহত উপজেলা চেয়ারম্যান একরামুল হক ফেনী-২ আসনের এমপি নিজাম উদ্দিন হাজারীকে নিয়ে আলাদা গ্র“প তৈরি করেন তিনি। এই গ্র“পটি চট্টগ্রাম থেকে জামায়াত- শিবিরের অস্ত্রধারী শীর্ষ ক্যাডারদের ভাড়ায় এনে জয়নাল হাজারীর ক্যাডারদের বিরুদ্ধে অভিযানে নামে। ফেনীর তৎকালীন ডিসি আবদুল কুদ্দুস খান ও ওসি আমিনুল ইসলামের সহযোগিতায় জয়নাল হাজারীর ক্যাডারদের গণহারে গ্রেফতার করে জেলে ঢোকানো হয়। অনেকে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যান। এক পর্যায়ে আতংক ছড়াতে জয়নাল হাজারীর বাড়ি শৈলকুটিরে তিন দফা হামলা চালায় আদেলের গ্র“প। এর ফলে জয়নাল হাজারী শিবিরের আতংকে ছড়িয়ে পড়ে। এই আতংককে পুঁজি করে একরাম-নিজাম-আদেল সিন্ডিকেট ফেনীতে শক্ত অবস্থান তৈরি করে। ২০০৯ সালে বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর একরাম-নিজাম-আদেল সিন্ডিকেট জেলাজুড়ে টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি, বালুমহাল নিয়ন্ত্রণ, বিদ্যুৎ-গ্যাস সংযোগ ও ট্রাক-বাস টার্মিনাল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে ব্যাপক চাঁদাবাজি শুরু করে। চাঁদাবাজির ভাগবাটোয়ারা নিয়ে সিন্ডিকেটের মধ্যে ফাটল ধরলে উপজেলা চেয়ারম্যান একরাম সিন্ডিকেট থেকে বেরিয়ে যান। এরপর থেকে একরাম ও আদেল-নিজামের সিন্ডিকেটের মধ্যে শুরু হয় ঠাণ্ডা লড়াই। ২০১০ সালে নিজাম উদ্দিন হাজারী নতুন করে ফেনী জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য পদ নেন। মাত্র অল্প কিছুদিনের মধ্যেই জয়নাল হাজারীশূন্য ফেনী আওয়ামী লীগে অন্যতম প্রধান নেতায় পরিণত হন নিজাম উদ্দিন হাজারী। ২০১২ সালে তিনি নিজেকে ফেনী আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলে প্রচার করেন। তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী জাহাঙ্গীর মোহাম্মদ আদেল ফেনী শহরে অস্ত্র ও চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণে জেলার ডন হিসেবে পরিচিতি পান এবং বিশাল এক ক্যাডার বাহিনী তৈরি করেন। তার ক্যাডারদের মধ্যে অন্যতম হল- ফেনী পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর কৌহিনুর আলম, আবদুল্লাহ হিল মাহমুদ শিবলু, শীর্ষ সন্ত্রাসী নুরুল আলম ওরফে দাদা ভাই, জিয়াউল আলম মিস্টার, মামুন, আনোয়ার, জানে আলম, নরুল আফছার আপন, কুখ্যাত সন্ত্রাসী রুটি সোহেল ও শহিদান। আদেলের নেতৃত্বে ফেনীর বিভিন্ন টার্মিনাল থেকে চাঁদা আদায় ও টেন্ডারবাজির কমিশন নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বে আছেন স্বপন মিয়াজী, মার্কেন্টাইল ব্যাংকের ফেনী শাখার কর্মকর্তা সেন্টু, শুসেন চন্দ শীল, বাহার উদ্দিন বাহার, সোনাগাজীর ভুট্টুসহ আরও অনেকে। এমপি নিজাম উদ্দীন হাজারীর অস্ত্র ও মাদকভাণ্ডার নিয়ন্ত্রক জিয়াউল আলম মিস্টার। ২০০৮ সালে মহাজোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর নিজাম-একরাম-আদেল সিন্ডিকেটে যোগ দেন জিয়াউল আলম ওরফে মিস্টার। চাঞ্চল্যকর উপজেলা চেয়ারম্যান একরামুল হককে হত্যার আগে তার গতিবিধি পর্যবেক্ষণ ও কিলিং মিশনের নেতৃত্ব দেন জিয়াউল আলম মিস্টার। এ কাজে তার সঙ্গী হিসেবে রাখেন মামুন, জনি, রুটি সোহেল, আনোয়ার ও সোনাগাজীর ভুট্টোকে। মাদক ব্যবসার অভিযোগও আছে মিস্টারের বিরুদ্ধে। ফেনীর ৮টি স্থানে মাদকের পাইকারি বাজার গড়ে তুলেছেন তিনি। মাদক ব্যবসার সূত্রে কয়েক বছরের ব্যবধানে তিনি নিজেকে কোটিপতির কাতারে নিয়ে গেছেন।
ওসির রুমে ঘুমালেন শিবলু : শনিবার রাতে গ্রেফতার হওয়ার পর ওয়ার্ড কাউন্সিলর আবদুল্লাহ হেল মাহমুদ শিবলুকে নিয়ে নানা ধরনের নাটক করেছে পুলিশ। প্রথমে তাকে হাতকড়া না পরিয়ে ওসির কক্ষে চেয়ারে বসিয়ে রাখা হয়। ঘনিষ্ঠ বন্ধু হওয়ার কারণে শিবলুর রাতের খাবারের জন্য সদর থানার সেকেন্ড অফিসার এসআই আলমগীর ব্যস্ত হয়ে ছোটাছুটি করেন। রাত ১২টায় ওসির কক্ষে নতুন ফ্যান লাগানো হয়। এরপর সকাল ৮টায় শহরের ‘ফাইভ স্টার’ নামের হোটেল থেকে নাস্তা আসে। শিবলুর বাড়ি থেকে ফলমূল ও উন্নত খাবার নিয়ে যায় পুলিশ। কিন্তু এসবই হয় গোপনে। সাংবাদিকের থানায় যাওয়া ছিল নিষিদ্ধ।
আদেলের বক্তব্য : একরাম হত্যার সঙ্গে জড়িত ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ফেনী জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক জাহাঙ্গীর মোহাম্মদ আদেল রোববার যুগান্তরকে বলেন, ঘটনার সময় তিনি ফেনীতে ছিলেন না। তাই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে তার জড়িত থাকার প্রশ্নই আসে না। তিনি বলেন, একরাম হত্যায় জামায়াত-শিবিরের লোক জড়িত। জামায়াত-শিবিরের লোকজনই এখন উদ্দেশ্যমূলকভাবে তাকেসহ আওয়ামী লীগ নেতাদের ঘটনার সঙ্গে জড়াতে চাইছে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে এমপি নিজাম উদ্দিন হাজারীকে জড়িয়ে বক্তব্য দিয়ে জয়নাল হাজারী পানি ঘোলা করছেন। জয়নাল হাজারী এ হত্যাকাণ্ডের প্রধান নায়ক দাবি করে তিনি বলেন, হাজারী অনেক লোককে হত্যা করেছে। তার কারণে আওয়ামী লীগ বিতর্কিত হয়েছে। এমনকি আওয়ামী লীগ সভানেত্রীও বিতর্কিত হয়েছেন। নিজাম হাজারীর নেতৃত্বে ফেনীতে যখন সুন্দর একটি রাজনৈতিক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে তখন জয়নাল হাজারী পরিস্থিতি জটিল করে তুলছেন।
- See more at: http://www.jugantor.com/first-page/2014/05/26/103543#sthash.RVrMo6or.dpuf

বিভক্ত প্রসিকিউটররা

বিভক্ত প্রসিকিউটররা
সরোজ মেহেদী
প্রকাশ : ০১ জুন, ২০১৪
logo
মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের জন্য গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দুই গ্রুপে বিভক্ত হয়ে পড়েছে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা (প্রসিকিউটর)। অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছে যে, এক পক্ষের সঙ্গে অপর পক্ষের স্বাভাবিক কথা বলা পর্যন্ত বন্ধ রয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী প্যানেল প্রধানের (চিফ প্রসিকিউটর) পদে কে থাকবেন তা নিয়েই সৃষ্টি হয়েছে এই দ্বন্দ্বের। চিফ প্রসিকিউটর এক মাস ছুটি শেষে সুস্থ হয়ে ফিরলেও কাজে যোগ দিতে পারছেন না। তার কাজে সরকারের সংশ্লিষ্টরা আশানুরূপ সন্তুষ্ট না হওয়ায় কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন ভারপ্রাপ্ত চিফ প্রসিকিউটর সৈয়দ হায়দার আলী। বিদ্যমান পরিস্থিতিতে গোলাম আরিফ টিপুকে চিফ প্রসিকিউটরের পদ থেকে সরে যেতে হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন সরকারের নীতিনির্ধারকরা।
ক্ষমতাসীন দলের একজন নীতিনির্ধারক জানান, সরকারের উচ্চমহল থেকে চিফ প্রসিকিউটর গোলাম আরিফ টিপুকে পুনরায় কাজে যোগ না দিয়ে নতুন করে ছয় মাসের ছুটিতে যেতে বলা হয়েছে। তাকে বলা হয়েছে, প্রসিকিউশন টিম নিয়ে সব ধরনের বিতর্ক নিরসনে আপাতত ছুটিতে থাকতে। এর মধ্য দিয়ে টিপুকে চিফ প্রসিকিউটরের পদ থেকে অব্যাহতি দেয়া হচ্ছে বলে মনে করছেন ট্রাইব্যুনাল সংশ্লিষ্টরা।
জানতে চাইলে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক শনিবার বিকালে টেলিফোনে যুগান্তরকে বলেন, ওনার (গোলাম আরিফ টিপু) ব্যাপারটা আমার কাছেও পরিষ্কার নয়। উনি ছুটি নিয়েছেন আমার কাছ থেকে। তবে ফিরে এসে কাজে যোগ দেয়ার ব্যাপারে আমাকে কিছু জানাননি।
আইনমন্ত্রী আরও জানান, গোলাম আরিফ টিপু এক মাসের ছুটিতে ছিলেন। এখন উনি সুস্থ কিনা ব্যাপারটা আমাকে জানতে হবে। ওনার পক্ষ থেকে আমাকে বলা হয়েছিল উনি ছয় মাসের ছুটিতে যাবেন। আমি এখন কিছু বলতে পারব না। আমি দু-একদিনের মধ্যে ওনার সঙ্গে বসে ব্যাপারটা খোলাসা করব।
অবশ্য চিফ প্রসিকিউটর গোলাম আরিফ টিপু বলছেন, আমি কি বলেছি তা আমি জানি না। অথচ আইনমন্ত্রী তা বলে বেড়াচ্ছেন কি করে। তিনি বলেন, এই ধরনের ছুটিতে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশের কথা আমার জানা নেই। তিনি বলেন, আমি ছুটি শেষে কাজে যোদ দেয়ার সময় আইনমন্ত্রী দেশে ছিলেন না। আর আমি কাজে যোগ দিয়ে ট্রাইব্যুনালে আমার অফিসে যোগদানপত্র দিয়েছি। ওনাকে তো আমার জানানোর দরকার নেই। আমি আইনমন্ত্রীর কাছ থেকে এ ধরনের বক্তব্য আশা করিনি। এখন দেখছি আমাকে ফোর্সফুল্লি ছুটিতে পাঠানো হচ্ছে। তিনি বলেন কে কি করছে আই ডোন্ট বদার। ২০ এপ্রিল আইন মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী প্যানেলের প্রধান (চিফ প্রসিকিউটর) গোলাম আরিফ টিপু ১৩ এপ্রিল থেকে এক মাসের ছুটিতে চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুর যাচ্ছেন। তার অবর্তমানে সৈয়দ হায়দার আলী ভারপ্রাপ্ত চিফ প্রসিকিউটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। ছুটির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই ৩০ এপ্রিল ট্রাইব্যুনালে এসে কাজে যোগ দেন চিফ প্রসিকিউটর গোলাম আরিফ টিপু। তিনি বিষয়টি লিখিত চিঠির মাধ্যমে ভারপ্রাপ্ত চিফ প্রসিকিউটর সৈয়দ হায়দার আলীকে অবহিত করেন।
এরপর তাকে কাজে যোগ দিতে দেয়া হয়নি বলে অভিযোগ টিপুর অনুসারী প্রসিকিউটরদের। এ বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত চিফ প্রসিকিউটর সৈয়দ হায়দার আলী যুগান্তরকে বলেন, গোলাম আরিফ টিপু ছুটিতে যাওয়ার পর আর কাজে যোগ দেননি। ফলে আমাকে ভারপ্রাপ্ত হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে।
সূত্র জানায়, চিফ প্রসিকিউটর গোলাম আরিফ টিপুর কোনো নির্দেশনা মানেন না ভারপ্রাপ্ত চিফ প্রসিকিউটর হায়দার আলীর অনুসারীরা। আবার হায়দার আলীর পদকে অবৈধ দাবি করে তার ডাকা কোনো বৈঠকে যোগ দেন না টিপুপন্থী প্রসিকিউটররা। এ নিয়ে প্রসিকিউটররা পরস্পরবিরোধী অভিযোগ করেছেন। এসব বিরোধের জের ধরে বেশ কয়েকজন প্রসিকিউটর ছুটি ছাড়াই ট্রাইব্যুনালে আসছেন না। আবার কেউ কেউ ট্রাইব্যুনালে এসে হাজিরা দিয়ে গেলেও মামলার সঙ্গে তাদের সংশ্লিষ্টতা নেই।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের জন্য গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (প্রসিকিউটর) একেএম সাইফুল ইসলাম গত দু’মাস ধরে দেশের বাইরে অবস্থান করছেন। ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এটিএম আজহারুল ইসলামের মামলা পরিচালনা করছেন তিনি। জানা যায়, মামলাটি পরিচালনা নিয়ে প্রসিকিউটরদের দুই গ্র“পের বিরোধের জের ধরে ৩ এপ্রিল তিনি ১৪ দিনের ছুটিতে দেশের বাইরে চলে যান। ছুটির মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে দেড় মাস আগে। এরপর ছুটির মেয়াদ বাড়াতে সাইফুল ইসলাম নতুন করে আবেদন করেনি বলে জানিয়েছে প্রসিকিউশন কার্যালয়।
আরও জানা গেছে, রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ থাকা জামায়াতে ইসলামীর আমীর মতিউর রহমান নিজামীর বিরুদ্ধে মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের মূল আইনজীবী ছিলেন প্রসিকিউটর মীর ইকবাল। গত বছরের মার্চে তার কাছ থেকে মামলাটি নিয়ে অন্য একজন প্রসিকিউটরকে পরিচালনার জন্য দেয়া হয়। এ নিয়ে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী প্যানেলের সদস্যদের মধ্যে (প্রসিকিউশন টিম) ওই সময় মতবিরোধ দেখা দেয়। এরপর থেকে অনেকটা নিষ্ক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন মীর ইকবাল। বর্তমানে এক মাসের ছুটিতে রয়েছেন তিনি। সূত্র জানায়, মাস ছয়েক আগে মীর ইকবাল প্রসিকিউশন টিম থেকে পদত্যাগ করতে চেয়েছিলেন। তবে ট্রাইব্যুনালের ভাবমূর্তির কথা চিন্তা করে শেষ পর্যন্ত পদত্যাগের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেন। সাইফুল ইসলামের দেশে ফিরে আসার ব্যাপারে কোনো তথ্য রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী প্যানেলের প্রধান (চিফ প্রসিকিউটর) গোলাম আরিফ টিপু ও ভারপ্রাপ্ত চিফ প্রসিকিউটর সৈয়দ হায়দার আলীর কাছে নেই। মীর ইকবালের ব্যাপারেও তারা অবগত নন। ছুটির বিষয়টি আইন মন্ত্রণালয় দেখভাল করে বলে জানান তারা।
সূত্র জানায়, বেশ কয়েকজন সিনিয়র প্রসিকিউটর বিচারের শুরু থেকেই কোনো মামলা পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না। তারা শুধু প্রসিকিউশন কার্যালয়ে এসে হাজিরা দিয়ে যান। এছাড়া বেশ কয়েকজন প্রসিকিউটরের হাতে বর্তমানে কোনো মামলা নেই। আবার মামলা পরিচালনা নিয়েই দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়তে দেখা গেছে বেশ কয়েকজনকে। মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের আইনি লড়াইয়ের জন্য প্রসিকিউশন টিম গঠনের শুরু থেকেই এ দ্বন্দ্ব ছিল বলে জানা যায়। তবে তা নিরসনে কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়নি। ফলে ধীরে ধীরে সমন্বয়হীন হয়ে পড়ে পুরো টিম।
সূত্র মতে, বর্তমানে দুটি দলে ভাগ হয়ে কাজ করছেন প্রসিকিউটররা। গত মার্চে তাদের বিরোধ তীব্র আকার ধারণ করলে বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। ওই সময় ট্রাইব্যুনালে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ড. তুরিন আফরোজ অপর আইনজীবী মোহাম্মদ আলীর বিরুদ্ধে চিফ প্রসিকিউটর বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। তখন আইনমন্ত্রী যুগান্তরকে বলেছিলেন, বিবদমান দুটি পক্ষের সঙ্গে বসে তিনি সমস্যার সমাধান করে দেবেন। শনিবার তার কাছে এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে আইনমন্ত্রী বলেন, ওদের মধ্যে মিটমাট হবে না। তবে প্রসিকিউশন টিমকে গতিশীল করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছি। টিমটাকে গতিশীল করা হবে। তিনি বলেন, আমি কিছু পদক্ষেপ নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। শিগগিরই তা বাস্তবায়ন করা হবে। এরপরই সব ঠিক হয়ে যাবে।
পরস্পরবিরোধী অভিযোগ : জানতে চাইলে প্রসিকিউটর মোহাম্মদ আলী বলেন, চিফ প্রসিকিউটর বয়সের ভারে কোনো কিছুই নিয়ন্ত্রণ করতে পারছেন না। ফলে তার নাম ভাঙিয়ে জেয়াদ আল মালুমসহ কয়েকজন প্রসিকিউটর ফায়দা লোটার পাশাপাশি গোলমাল তৈরির চেষ্টা করছেন। ড. তুরিনকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, এখানে একজন বাম বুদ্ধিজীবীর উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের জন্য একজন প্রসিকিউটর কাজ করছেন। মিডিয়ায় কথা বলা ও ঝামেলা তৈরি ছাড়া তিনি আর কোনো কাজই জানেন না। তিনি ও তার মতো দুয়েকজন ছাড়া আমাদের মধ্যে কোনো সমস্যা নেই।
মোহাম্মদ আলী বলেন, ড. তুরিন আফরোজ ট্রাইব্যুনালে মামলা পরিচালনা করতে আসেননি। মূলত শাহরিয়ার কবীরের এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য ট্রাইব্যুনালে অনুপ্রবেশ করেছেন। আমাদের তাদের ব্যাপারে সতর্ক হতে হবে।
নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করবেন না জানিয়ে প্রসিকিউটর ড. তুরিন আফরোজ বলেন, এই বিচার আমি বা শাহরিয়ার কবিরের একার কোনো ব্যাপার নয়। এর সঙ্গে পুরো দেশ জড়িত। সুতরাং কারোরই এমন কোনো কিছু করা ঠিক হবে না যাতে বিচারটা বাধাগ্রস্ত হয়। অপর প্রসিকিউটর জেয়াদ আল মালুম বলেন, যারা অভিযোগ করছে তাদের কাছে জানতে চান কি অভিযোগ। ক্ষমতার কি অপব্যাহর করেছি। আর আমি চিফ প্রসিকিউটরের নাম ভাঙিয়ে কিছু করে থাকলে তার জবাব তো তিনিই ভালো দিতে পারবেন।
- See more at: http://www.jugantor.com/last-page/2014/06/01/106216#sthash.Ua9Z9JVa.dpuf

নির্বাচনে অংশ না নেয়ায় বিএনপিই পচে গেছে

নির্বাচনে অংশ না নেয়ায় বিএনপিই পচে গেছে
যুগান্তর রিপোর্ট
প্রকাশ : ০১ জুন, ২০১৪

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, নির্বাচনে অংশ না নিয়ে বিএনপিই পচে গেছে। বিএনপিকে এখন ফরমালিন দিয়ে তাজা রাখা হচ্ছে। তিনি মধ্যবর্তী নির্বাচনের সম্ভাবনা সম্পূর্ণরূপে নাকচ করে দিয়ে বলেন, ৫ জানুয়ারির নির্বাচন নিয়ে কোনো প্রশ্ন তোলার সুযোগ নেই। প্রধানমন্ত্রী জানান, সে সময় প্রশাসন, পুলিশ, সেনাবাহিনীসহ সবাই গণতন্ত্রের পক্ষে ছিল বলে নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। অবৈধ ক্ষমতা দখলকারীর হাতে যে দলের জন্ম বরং তারাই অবৈধ।
৫ জানুয়ারির নির্বাচনে সব দল অংশগ্রহণ করেনি, এ অবস্থায় সব দলের অংশগ্রহণে কোনো মধ্যবর্তী নির্বাচন দেয়ার সুযোগ আছে কিনা? এমন এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, আপনারা যদি চান মধ্যবর্তী নির্বাচন দিতে আমার কোনো সমস্যা নেই। আপনারা যদি চান দেশে আবার সন্ত্রাস, খুন, রাহাজানি, দুর্নীতি-জঙ্গিবাদ ফিরে আসুক তাহলে নির্বাচন দিতে আমার সমস্যা নেই। অপর এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জানান, র‌্যাব এখন একটি বাস্তবতা। তাই বললেই চট করে এলিট ফোর্স র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) বাতিল করা সম্ভব নয়।
নিজের জাপান সফর প্রসঙ্গে শনিবার বিকালে গণভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন প্রধানমন্ত্রী। এর আগে নির্ধারিত সময় বিকাল চারটায় তিনি গণভবনের ব্যাঙ্কুয়েট হলে প্রবেশ করেন। প্রথমে ২০ মিনিটে তিন পৃষ্ঠার একটি লিখিত বক্তৃতা পড়ে শোনান প্রধানমন্ত্রী। এই লিখিত বক্তব্যে তিনি সাম্প্রতিক জাপান সফর বিষয়ে আলোকপাত করেন। প্রধানমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রায় জাপান সবসময় পাশে থাকবে। এ সফরকে অত্যন্ত ফলপ্রসূ বলেও দাবি করেন শেখ হাসিনা। লিখিত বক্তব্যের পর দীর্ঘ এক ঘণ্টা শেখ হাসিনা তার স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতে সাংবাদিকদের নানা প্রশ্নের উত্তর দেন। এ সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে বেশ রসিকতাও করেন প্রধানমন্ত্রী।
সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় সংসদের উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী, দলের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলী, তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম, গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা ডা. দীপু মনি, কর্নেল (অব.) ফারুক খান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। সংবাদ সম্মেলনে বিভিন্ন গণমাধ্যমে কর্মরত সিনিয়র সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাপানের সম্রাট আকিহিতো ও প্রধানমন্ত্রী শিন জো অ্যাবের সঙ্গে সাক্ষাতে দ্বিপাক্ষিক বিভিন্ন বিষয়ে সমঝোতা চুক্তি সইয়ের কথা তুলে ধরে বলেন, দুই নেতাই বাংলাদেশ সফরের আশ্বাস দিয়েছেন। একই সঙ্গে অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রায় বাংলাদেশের পাশে থাকার কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন। জাপান বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশকে নানা ধরনের সাহায্য-সহযোগিতা দিয়ে আসছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। আমার এ সফরের মাধ্যমে বাংলাদেশ-জাপান সম্পর্কে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। আমরা দ্বিপাক্ষিক অনেক বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছাই।
প্রধানমন্ত্রী জানান, তার এ সফরে জাপানের সঙ্গে ২১ দফার যৌথ ইশতেহার স্বাক্ষর হয়েছে। আগামী ৪-৫ বছরে বাংলাদেশকে ছয়শ’ কোটি মার্কিন ডলার অর্থ সহায়তা দেবে জাপান। এ অর্থ দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে ব্যয় করা হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দ্বিপাক্ষিক বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনার পাশাপাশি বাংলাদেশের প্রকৃতি ও পরিবেশ সম্পদ সম্পর্কে জাপানি প্রজন্মকে ধারণা দিতে দেশটিকে এক জোড়া রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার উপহার দেয়ার আশ্বাস দিয়েছি। এছাড়া, দেশে আরেকটি পরমাণু বিদ্যুৎ প্রকল্প স্থাপনে জাপানের সহায়তাও চাওয়া হয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। শেখ হাসিনা জানান, জাপানে অনুষ্ঠেয় অলিম্পিক-প্যারা অলিম্পিকের বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণে শ্রমিক প্রয়োজন হলে বাংলাদেশ থেকে শ্রমিক নেয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। তার এ আহ্বানের পরিপ্রেক্ষিতে আশ্বাস দেন জাপানি প্রধানমন্ত্রী। বাংলাদেশকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে দেখছে জানিয়ে দেশের উন্নয়নে গৃহীত পদক্ষেপের কথা জাপানি সম্রাট ও প্রধানমন্ত্রীকে জানান শেখ হাসিনা। এছাড়া, ওয়াসেদা বিশ্ববিদ্যালয়ে দেয়া বক্তব্যে শিক্ষার্থীদের ‘যুদ্ধ নয় শান্তি, ধ্বংস নয় উন্নয়ন’ মন্ত্রে দীক্ষিত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।
সম্প্রতি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ‘এ সরকার পচে গেছে, আরেকটু পচুক তারপর আন্দোলন’ এই ধরনের বক্তব্য প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বলেন, ‘নির্বাচনে অংশ না নিয়ে বিএনপিই পচে গেছে। তিনি উল্টো প্রশ্ন উত্থাপন করে বলেন, আমাদের পচার প্রশ্ন আসছে কোথা থেকে!’ তিনি বলেন, এখন বিএনপিকেই ফরমালিন দিয়ে তাজা রাখার চেষ্টা হচ্ছে।
র‌্যাব বাতিল সম্ভব নয় : সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তারা (বিএনপি) এখন র‌্যাব বাতিলের দাবি জানাচ্ছে। অথচ তারাই র‌্যাব গঠন করেছিল। অপারেশন ক্লিন হার্টের সময় মানুষ মারা হয়েছে। তখন কেউ কথা বলেনি, এখন কেন র‌্যাবের বিরুদ্ধে কথা উঠছে! তিনি বলেন, বললেই চট করে র‌্যাব বাতিল করা সম্ভব নয়, র‌্যাব তো আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় ভালো কাজও করছে।
শেখ হাসিনা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, রক্ষীবাহিনীর বিরুদ্ধে নানা কথা বলে, ওই রাজনৈতিক দলই (বিএনপি) র‌্যাব গঠন করে। প্রথমদিকে র‌্যাবের মাধ্যমে কেবল হত্যার কাজ করা হতো। বিএনপি’র পাঁচ বছরের শাসনামলে এক হাজারেরও বেশি হত্যাকাণ্ড হয় র‌্যাবের হাতে। কিন্তু আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে র‌্যাবকে আরও বিভিন্ন কাজে সম্পৃক্ত করতে থাকে। ধীরে ধীরে র‌্যাব মানুষের কাছে ভরসার একটি বাহিনীতেই পরিণত হয়। এ অবস্থায় কেউ চাইলেই র‌্যাবকে বন্ধ করে দেয়া যাবে না। তিনি বলেন, র‌্যাবের কেউ কেউ কিছু কিছু অপরাধের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে সরকার।
জামায়াতের বিচার সময় মতোই হবে : জামায়াতের বিচার নিয়ে মন্ত্রীর (আইনমন্ত্রী) দেয়া আইনি ব্যাখ্যা সঠিক বলে দাবি করেন প্রধানমন্ত্রী। তবে যুদ্ধাপরাধের দায়ে জামায়াতের বিচার সময়মতোই হবে বলে জানান তিনি। এ সময় জামায়াতের বিচারসংক্রান্ত উচ্চ আদালতে বিচারাধীন একটি রিট আবেদনের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন শেখ হাসিনা। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার শেষ করার ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ বিচার শেষ হবে। আমাকে আমার মতো বিচার করতে দিন। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার তো আমরাই শুরু করেছি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, যুদ্ধাপরাধী কাদের মোল্লার ফাঁসির রায় যেন কার্যকর না করি এজন্য জন কেরি, জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুনসহ প্রভাবশালী অনেকেই চাপ দিয়েছেন। তিনি নিজের দৃঢ়তা প্রকাশ করে বলেন, কই আমি তো তা থেকে সরে আসিনি! ক’জনের এমন সাহস থাকে। থাকে বঙ্গবন্ধুর কন্যার।