Tuesday, July 1, 2014

বিচারপতিদের কেক-মিষ্টি পাঠিয়ে প্রশ্নের মুখেও নির্বিকারই সরকার

বিচারপতিদের কেক-মিষ্টি পাঠিয়ে প্রশ্নের মুখেও নির্বিকারই সরকার



উত্‍সব-পরবে মিষ্টিমুখ করানো বাঙালির ঐতিহ্য৷ তাই বিচারপতিদের কেক-মিষ্টি পাঠানোর সিদ্ধান্ত থেকেও সরবে না রাজ্য সরকার৷ বিচারপতিদের এই ভাবে কেক-মিষ্টি পাঠানোকে বিরোধী শিবির 'অনৈতিক' বললেও তাতে গুরুত্ব দিতে নারাজ সরকার৷ সোমবার বিধানসভায় এই মনোভাবই স্পষ্ট করলেন আইনমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য৷ শুধু বিচারপতিদের কেক-মিষ্টি পাঠানোই নয়, সরকারি আইনজীবীদের ঢালাও ফি-বৃদ্ধি থেকে ন্যাশনাল জুরিডিক্যাল সায়েন্সে সরকার মনোনীত প্রতিনিধি হিসেবে বিশিষ্ট আইনবিদ, প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি চিত্ততোষ মুখোপাধ্যায়ের বদলে চিত্রকর শুভাপ্রসন্নকে পাঠানোর মধ্যেও কোনও অন্যায় দেখছেন না বিভাগীয় মন্ত্রী৷ চন্দ্রিমাদেবীর সাফ কথা, 'সরকারের মনোনীত প্রতিনিধি কাকে করা হবে, তা একান্তই সরকারের এক্তিয়ারভুক্ত বিষয়৷' বিধানসভায় এ দিন আইন ও বিচার বিভাগের বাজেট-বরাদ্দ নিয়ে আলোচনার সময়ে বিচারপতিদের কেক পাঠানো নিয়ে সরব হন বিরোধী দলনেতা সূর্যকান্ত মিশ্র৷ চন্দ্রিমাদেবীর উদ্দেশে তিনি বলেন, 'এটা কি ঠিক বিচারপতিদের কেক পাঠানো হয়েছে? এটা কি পাঠানো যায়?' কেবল কেক পাঠানোই নয়, হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির চিকিত্‍সার খরচ রাজ্য সরকার বহন করছে কি না, তা-ও জানতে চান সূর্যবাবু৷ বিচারপতিদের কাছে রাজ্য সরকারের এই ভাবে কেক-মিষ্টি পাঠানো সম্পূর্ণ অনৈতিক বলে মন্তব্য করেন তিনি৷ বিরোধী দলনেতার বক্তব্য যে তাঁর মোটেই পছন্দ নয়, তা জবাবি ভাষণে বুঝিয়ে দেন মন্ত্রী৷ বিরোধী শিবিরের সমালোচনাকে তাঁরা যে গুরুত্ব দিচ্ছেন না, তা বোঝাতে চন্দ্রিমাদেবী বলেন, 'কেক দেওয়া কিংবা মিষ্টিমুখ করানো বাংলার রীতি৷ উত্‍সব-অনুষ্ঠানে এটা দেওয়া যায়৷ 

এটা না দিলে তাঁরা আমাদের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে আসবেন কেন? তাঁদের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক নষ্ট করার কোনও জায়গা নেই৷ এটা সৌহার্দ্যের বিষয়৷' মন্ত্রীর এই যুক্তির সঙ্গে মোটেই একমত হননি বিরোধী দলনেতা৷ তাঁর দাবি, 'বিচারপতিদের কিছুই পাঠানো যায় না৷ এটা অনৈতিক৷ কোনটা সৌজন্য, তা নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়৷' উল্টো দিকে হেঁটে বিচারপতিদের চিকিত্‍সার খরচ বহন করার মধ্যেও অবশ্য কোনও অন্যায় দেখছে না সরকারপক্ষ৷ আইনমন্ত্রীর যুক্তি, 'বিচারপতিদের বিল মেটানোর দায়িত্ব রাজ্য সরকারের৷ এই সভার কোনও সদস্যও যদি অসুস্থ হন, তা হলে মুখ্যমন্ত্রী তাঁর পাশে দাঁড়াবেন৷ এই নিয়ে প্রশ্ন তোলার মানেই হয় না৷' 

জুরিডিক্যাল সায়েন্সে শুভাপ্রসন্নকে রাজ্য সরকারের প্রতিনিধি করা নিয়ে চন্দ্রিমাদেবীর যুক্তি আরও চমকপ্রদ৷ যেখানে সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে চিত্ততোষ মুখোপাধ্যায়ের মতো প্রথিতযশা আইনবিদ, প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি ছিলেন, সেই জায়গায় কী ভাবে একজন চিত্রশিল্পী আসেন--প্রশ্ন তোলেন সূর্যবাবু৷ আইনমন্ত্রী এর জবাবে বলেন,'আমি যদি স্বাস্থ্য নিয়ে তেমন অবগত না থেকেও স্বাস্থ্য দপ্তর চালাতে পারি তা হলে শুভাপ্রসন্ন চিত্রশিল্পী হয়ে কেন জুরিডিক্যাল সায়েন্সে রাজ্যের প্রতিনিধি হতে পারবেন না৷' সরকারি আইনজীবীদের ফি নিয়েও প্রবল বিতণ্ডায় জড়ান দুই নেতা-নেত্রী৷ সরকারি মামলা লড়ে তৃণমূলের এক নেতা ৭০ লক্ষ টাকা ফি পেয়েছেন বলে অভিযোগ করেন সূর্যবাবু৷ মন্ত্রীর পাল্টা বক্তব্য, বাম আমল থেকে সরকারি আইনজীবীদের ফি বকেয়া থাকার ফলেই এই অঙ্ক হয়েছে৷ সরকারি আইনজীবীদের ফি বাড়ানোর মধ্যেও কোনও অন্যায় দেখছেন না মন্ত্রী৷ তাঁর কথায়, 'অন্য রাজ্যের তুলনায় আমাদের রাজ্যে আইনজীবীরা খুব কম টাকাই পান৷ তার উপর আপনারা ফি বকেয়া রাখতেন৷ এটা থেকেই বোঝা যায়, আইনজীবীদের কী মনে করতেন আপনারা?' জলপাইগুড়িতে হাইকোর্টের সার্কিট বেঞ্চ দ্রুত চালু হবে বলেও এ দিন জানিয়েছেন মন্ত্রী৷ 

http://eisamay.indiatimes.com/city/kolkata/state-governments-distribution-of-sweets/articleshow/37560769.cms?

বর্ষাকে ভরসা দিতে সাগরে বাড়ছে নিম্নচাপ

বর্ষাকে ভরসা দিতে সাগরে বাড়ছে নিম্নচাপ

p1_rain
রাখলে নিম্নচাপ, বর্ষার নেই মার! ব্রাজিল আর বাংলার বর্ষা-- গোটা জুনে দুয়ের গ্রাফ প্রায় এক৷ নেইমার দুরন্ত হলে ঝলমলিয়ে উঠছে সাম্বা৷ নয়তো মেক্সিকো, চিলির মতো বামনরাও প্রায় রুখে দিচ্ছে৷ বর্ষাও তেমন৷ মৌসুমি বায়ু যে দিন বাংলায় সফর শুরু করল, সেই ১৮ জুন দক্ষিণবঙ্গের ঘাটতি ছিল ৫৩ শতাংশ৷ নিম্নচাপের টানা বৃষ্টিতে চার দিন পরেই তা নেমে আসে ১৬ শতাংশে৷ অর্থাত্‍, বর্ষা 'স্বাভাবিক'৷ কিন্ত্ত নিম্নচাপ দুর্বল হয়ে বাংলাদেশে ঢুকে যেতেই আবার ঊর্ধ্বমুখী ঘাটতি৷ যা জুনের শেষ দিনে দাঁড়িয়ে ২৫ শতাংশে৷ আমন ধান বোনার কাজ চলছে, একপক্ষ পরেই শুরু হয়ে যাবে রোপণ-পর্ব৷ এমন মোক্ষম সময়েও কি ছন্দে ফিরবে না বর্ষা? ফিরবে৷ এবং নিম্নচাপের আশীর্বাদেই৷

সোমবার সুখবর দিয়ে হাওয়া অফিস জানিয়েছে, বাংলাদেশ লাগোয়া বঙ্গোপসাগরে শক্তি বাড়াচ্ছে ঘূর্ণাবর্ত৷ আজ, মঙ্গলবারের মধ্যেই তা নিম্নচাপের চেহারা নেবে৷ তার পর ক্রমে ঢুকে আসবে বাংলার অন্দরে৷ পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, হাওড়া, কলকাতা, নদিয়া, মুর্শিদাবাদে ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা৷ দু'দিন পর উত্তরবঙ্গেও বৃষ্টির তীব্রতা বাড়বে৷ শুধু বাংলা নয়, ঘাটতিদীর্ণ বিহার-ঝাড়খণ্ড-ওডিশাতেও বৃষ্টি দেবে নিম্নচাপ৷ এমনিতেই পাঞ্জাব থেকে বাংলা হয়ে উত্তর-পূর্ব বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত একটি নিম্নচাপ অক্ষরেখা বিস্তৃত৷ চরিত্রে যা কতকটা মৌসুমি অক্ষরেখাই৷ দুয়ের জোগানো জলীয় বাষ্পে পুবের তল্লাটে মৌসুমি বায়ুই রাজত্ব করবে চলতি সপ্তাহে৷ আলিপুর আবহাওয়া দপ্তরের অধিকর্তা গোকুলচন্দ্র দেবনাথের কথায়, 'নিম্নচাপের প্রভাবে আগামী ক'দিন ভালো বৃষ্টির পরিস্থিতি অনুকূল৷'

ঠিক এমন অনুকূল পরিস্থিতি না-পেয়েই ১৯ জুন থেকে মধ্য ভারতে ঠায় দাঁড়িয়ে বর্ষা৷ দেশের ঘাটতি যে ৪৩ শতাংশে পৌঁছেছে, তার জন্য দায়ী বর্ষার বিলম্বই৷ গত বছর তাড়াহুড়ো করে বর্ষা ঢুকে পড়ায় জুনে স্বাভাবিকের তিন গুণ বৃষ্টি হয়েছিল উত্তরাখণ্ডে৷ মহারাষ্ট্রের বিদর্ভে হয়েছিল দু'গুণেরও বেশি৷ এ বার সেখানে স্বাভাবিকের অর্ধেক বৃষ্টিও জোটেনি৷ ফলে চাষ মার খাচ্ছে, কমছে জলবিদ্যুত্‍ উত্‍পাদন৷ আম-আদমির নাভিশ্বাস চড়িয়ে ছড়ি ঘোরাচ্ছে গরম৷ এ দিনও রাজস্থান, উত্তরপ্রদেশ, মধ্যপ্রদেশে তাপপ্রবাহ চলেছে৷ আবহবিদরা অবশ্য বলছেন, মৌসুমি বায়ু সক্রিয় হওয়ায় লাভ ওঠাবে উত্তর ভারতও৷ নয়াদিল্লি মৌসম ভবনের আবহবিদ ব্রহ্মপ্রকাশ যাদব বলেন, '২-৩ জুলাইয়ের মধ্যে দিল্লি-সহ উত্তর ভারতের বিস্তীর্ণ অংশে বর্ষা ঢুকে পড়বে৷ বাকি থাকবে শুধু রাজস্থান, গুজরাট ও মধ্যপ্রদেশের কিছুটা অংশ৷ তার জন্য জুলাইয়ের দ্বিতীয় সপ্তাহ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে৷'

জুলাইয়ের শুরুতে বর্ষা গা-ঝাড়া দিয়ে ওঠার বার্তায় খুশি রাজ্যের কৃষি দপ্তর৷ এ বছর ৪২.৭ লক্ষ হেক্টর জমিতে আমন ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে৷ কৃষি দপ্তরের সহ অধিকর্তা শরদিন্দু পালের কথায়, 'উত্তরবঙ্গে ভালো বৃষ্টি হওয়ায় বীজতলার কাজ অনেকটাই হয়ে গিয়েছে৷ দক্ষিণবঙ্গে এখনও পর্যন্ত চিন্তার কিছু নেই৷ নিম্নচাপ ভালো বৃষ্টি দিলে আশা করা যায় ঠিক সময়েই রোপণ শুরু করা যাবে৷' এমনিতে ১৫ জুলাই থেকে সেপ্টেম্বরের শেষ পর্যন্ত রোয়ার কাজ চলে বাংলায়৷ মৌসম ভবনের পূর্বাভাস বলছে, জুলাইয়ের তুলনায় অগস্টে ভালো বৃষ্টির সম্ভাবনা কিছুটা হলেও বেশি৷ অস্ট্রেলীয় আবহাওয়া দপ্তরও সুখবর দিয়ে জানাচ্ছে, 'এল নিনো'র 'রূপ' আশঙ্কামতো 'রুদ্র' না-ও হতে পারে৷ কিংবা হলেও, তত দিনে এ দেশে চার মাস কাটিয়ে ফেলবে বর্ষা৷ আপাতত তাই নিম্নচাপ সহায়৷ 

তাপসের মন্তব্যে ক্ষমা চাইলেন স্ত্রী নন্দিনী

তাপসের মন্তব্যে ক্ষমা চাইলেন স্ত্রী নন্দিনী

tapas
এই সময় ডিজিটাল ডেস্ক: তাপস পালের বিতর্কিত মন্তব্যের জন্য ক্ষমা চাইলেন তাঁর স্ত্রী নন্দিনী পাল। আবার তাপস পালের কাছ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে জবাব তলব করল তৃণমূল। অন্য দিকে তাপস পালের গ্রেপ্তারির দাবি তুলেছে মহিলা কমিশন।

তাপস পালের 'রেপ করিয়ে দেব' মন্তব্যের ভিডিও জারি হওয়ার পর এখনও ক্ষমা চাননি তৃণমূলের এই সাংসদ। কিন্তু স্বামীর মন্তব্যে যে বিতর্ক মাথা চাড়া দিয়ে উঠেছে, তা খানিকটা শান্ত করার চেষ্টা করেছেন স্ত্রী নন্দিনী। তিনি বলেন, 'সে সময় যা পরিস্থিতি ছিল, তার ওপর ভিত্তি করেই এই প্রতিক্রিয়া দিয়েছিলেন তাপস পাল। কিন্তু এটি ঠিক না। তাপসের নিয়ন্ত্রণ হারানো উচিত হয়নি। আমি এর জন্য ক্ষমাপ্রার্থী।'

সাংসদের এই মন্তব্যের পর তৃণমূলের মুখপাত্র ডেরেক ও ব্রায়ান জানিয়েছেন, 'তাপস পালের মন্তব্য অসংবেদনশীল। ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তাঁর কাছ থেকে জবাব তলব করা হয়েছে।'

বেআইনি নির্মাণে ধৃত প্রোমোটার

Handcuffed_hands
এই সময়: বেআইনি বহুতলের নির্মাণকাজ চালানোর অভিযোগে গ্রেপ্তার হলেন এক প্রোমোটার৷ সোমবার রাতে গরফা থানার পুলিশ ওই প্রোমোটারকে গ্রেপ্তার করেছে৷

পুলিশ জানায়, ধৃত ব্যক্তির নাম সমীর মুখোপাধ্যায়৷ প্রৌঢ় ওই প্রোমোটারের বাড়ি স্থানীয় রামলাল বাজার এলাকায়৷ সোমবার রাতে স্থানীয় 'জাফরান রেস্তোরাঁ'-র সামনে থেকে ওই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে৷ অভিযোগ, প্রসন্ন দাস রোডে জি+৩ অর্থাত্‍ চারতলা একটি বেআইনি বাড়ির নির্মাণকাজের সঙ্গে যুক্ত সমীরবাবু৷ কলকাতা পুরসভার তরফে দু'-দু'বার ওই প্রোমোটারকে নোটিস পাঠানো হয়েছে৷ প্রথমবার ৪০১ কেএমসি অ্যাক্ট অনুযায়ী ও দ্বিতীয়বার (জুন মাসের শেষ সপ্তাহে) কেএমসি(এ) ধারায়৷ প্রথমটি হল 'স্টপ নোটিস'৷ অর্থাত্‍ সেই নোটিসের মাধ্যমে নির্মাণকার্য বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয় সমীরবাবুকে৷ পরের নোটিসটি অনুযায়ী, তাকে নির্মাণস্থলের সামনে যাওয়ার ক্ষেত্রে বারণ করা হয়৷ সমীরবাবু দু'টি নির্দেশের একটিও মানেননি বলে পুলিশকে জানায় পুরসভা৷ দ্বিতীয় নোটিসটির মাধ্যমেই তার বিরুদ্ধে পুলিশে অভিযোগ দায়ের করে পুরসভা৷

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রথম নোটিসটি পাওয়ার পর নির্মাণ বন্ধ না-করে কাজকর্মের উপর লুকিয়ে নজর রাখতে শুরু করেন সমীরবাবু৷ প্রিন্স আনোয়ার শাহ রোড সংলগ্ন প্রসন্ন দাস রোডের ওই নির্মাণকাজের অগ্রগতি সমীরবাবু যে নজরে রাখছেন, গোপন সূত্রে সে খবর পৌঁছয় পুলিশের কাছে৷ মঙ্গলবার সমীরবাবুকে পুরসভা আদালতে তোলা হয়৷ তাকে ১৫ দিন জেল হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়৷ নির্মাণকাজ বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে৷

মনিরুল-মামলায় সিবিআই তদন্ত চেয়ে হাইকোর্টে তিন নিহতের মা

মনিরুল-মামলায় সিবিআই তদন্ত চেয়ে হাইকোর্টে তিন নিহতের মা

Calcutta_High_Court
এই সময়: পাড়ুইয়ের পর লাভপুর৷ অনুব্রত মণ্ডলের পর মনিরুল ইসলাম৷ বীরভূমে শাসকদলের জেলা সভাপতি অনুব্রতের পর জেলার লাভপুরে দলের দাপুটে বিধায়ক মনিরুল ইসলামের অস্বস্তি বাড়ল আদালতে নতুন মামলার সূত্রে৷

পাড়ুইয়ে সাগর ঘোষ হত্যাকাণ্ডের মতোই চার বছর আগে লাভপুরে সিপিএম সমর্থক তিন ভাইয়ের খুনের ঘটনায় সিবিআই তদন্তের দাবিতে মামলা দায়ের হল হাইকোর্টে৷ নিহত ধানু শেখ, কটুন শেখ ও তুরুক শেখের মা জারিনা বিবি ও এক ভাই আনারুল শেখ সোমবার এই মামলা দায়ের করেছেন৷ তাঁদের আইনজীবী সুব্রত মুখোপাধ্যায় জানিয়েছেন, চলতি সপ্তাহেই যে কোনও দিন শুনানি হতে পারে৷ যোগাযোগ করা হলে এ নিয়ে কোনও মন্তব্য করতে রাজি হননি মনিরুল৷

তদন্তে জেলা পুলিশের নিষ্ক্রিয়তার প্রতিবাদে নিহতদের পরিবারের তরফে এর আগেই অবশ্য হাইকোর্টে মামলা দায়ের হয়েছিল৷ সেই মামলার শুনানি চলাকালীনই কেন আবার সিবিআই তদন্ত চেয়ে মামলা? এই প্রশ্নে সুব্রতবাবু জানিয়েছেন, আগের মামলায় বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত গত ১১ এপ্রিল ওই পরিবারটিকে পুলিশি নিরাপত্তা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন৷ কিন্ত্ত সেই নির্দেশ পালন করেনি জেলা পুলিশ৷ ফলে অভিযুক্তরা অনবরত হুমকি দিয়ে চলেছে৷ পুলিশ সব জেনেও চুপ করে রয়েছে৷ হুমকির জেরে জারিনার পরিবারের সদস্যরা চার বছর ধরে বাড়ি ছাড়া৷ এক রকম আত্মগোপন করে থাকতে বাধ্য হচ্ছেন৷ জারিনার অভিযোগ, তাঁর নাতি-নাতনিরা স্কুলে পর্যন্ত যেতে পারছে না৷ তাঁদের চাষবাসও বন্ধ৷

সুব্রতবাবুর অভিযোগ, হাইকোর্টের নির্দেশের পরেও জারিনা বিবিদের জন্য পুলিশি নিরাপত্তার ব্যবস্থা না হলেও মূল অভিযুক্ত লাভপুরের তৃণমূল বিধায়ক মনিরুল ইসলামকে চার থেকে সাত জন নিরাপত্তারক্ষী দেওয়া হয়েছে৷ আর সেই সুযোগেই প্রতি দিন তিনি মামলা তুলে নেওয়ার জন্য হুমকি দিয়ে চলেছেন৷ ধানু শেখদের তিন ভাইকে খুনের কথা অবশ্য প্রকাশ্যেই কবুল করেছেন মনিরুল৷ গত পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগে ২১ জুলাই বীরভূমের সাঁইথিয়ায় তৃণমূলের এক নির্বাচনী জনসভায় মনিরুল বলেছিলেন, গলায় পা দিয়ে জারিনার তিন ছেলেকে তিনিই মেরেছেন৷ সেই ভাষণের ভিডিও টেপ থাকা সত্ত্বেও অবশ্য পুলিশ মনিরুলের নাম খুনের মামলার চার্জশিট থেকে বাদ দিয়েছে৷ এ ক্ষেত্রে পুলিশের পক্ষ থেকে এই মর্মে যুক্তি দেওয়ার চেষ্টা হয়েছে যে, জারিনারা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে গোপন জবানবন্দিতে জানিয়েছিলেন, মনিরুল ওই খুনের ঘটনায় যুক্ত নন৷ কিন্ত্ত জারিনার দুই নাতি-নাতনিকে অপহরণ করে জোর করে ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে ওই মিথ্যা জবানবন্দি দেওয়ানো হয়েছে বলেই দাবি সুব্রতবাবুর৷ অপহরণ সংক্রান্ত সেই অভিযোগেও অবশ্য কোনও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে না৷ এ দিকে মনিরুলের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে অভিযোগ এনে সম্প্রতি জেলাশাসকের কাছে অনুমতি চেয়েছে পুলিশ৷ যদিও জেলাশাসকের কাছে সেই অনুমতি চার বছর আগেই এক বার চাওয়া হয়েছিল৷ তখন সেই অনুমতি দেওয়াও হয়েছিল৷ সুব্রতবাবুর মন্তব্য, 'এর থেকেই বোঝা যাচ্ছে পুলিশ তদন্তের নামে প্রহসন চালাচ্ছে৷' তাঁর দাবি, সারা দেশে একাধিক ক্ষেত্রে নজির রয়েছে, কোনও ঘটনায় ক্ষমতাসীন দলের কোনও ব্যক্তির জড়িত থাকার অভিযোগ থাকলে, নিরপেক্ষতার স্বার্থেই সেই রাজ্যের পুলিশকে তদন্ত করতে না দিয়ে দায়িত্ব সিবিআইয়ের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে৷ এই রাজ্যেও রিজওয়ানুর থেকে নেতাই-সহ একাধিক ঘটনায় হাইকোর্ট ইতিপূর্বে সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে৷

অভিযোগ, ২০১০-এর ৩ জুন ময়ূরাক্ষীর বালিঘাটের দখল নিয়ে বিবাদ মেটাতে মনিরুল ইসলামের বাড়িতে (ঘটনার সময় ফরওয়ার্ড ব্লক নেতা, পরে লাভপুরের তৃণমূল বিধায়ক) সালিশি সভা ডাকা হয়েছিল৷ বেলা দুটো নাগাদ মনিরুলের নেতৃত্বে প্রায় ৫০ জন সশস্ত্র ব্যক্তি জারিনার ছেলেদের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে৷ ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় জারিনার দুই ছেলে ধানু শেখ ও কটুন শেখের৷ অন্য দুই ভাই তুরুক শেখ ও সানোয়ার শেখকে গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তির জন্য নিয়ে যাওয়ার পথেই তুরুকের মৃত্যু হয়৷ দীর্ঘ চিকিত্‍সার পর সানোয়ার সুস্থ হয়ে মনিরুলদের বিরুদ্ধে লাভপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করেন৷ কিন্ত্ত চার বছর কেটে গেলেও পুলিশ তদন্তে না এগোনোয় সানোয়ার হাইকোর্টে মামলা দায়ের করেন৷ বিচারপতি কৈফিয়ত্‍ তলব করতেই পুলিশ গত মাসে নিম্ন আদালতে চার্জশিট দাখিল করে৷ কিন্ত্ত মূল অভিযুক্ত মনিরুল ও বেশ কয়েক জন তৃণমূল নেতার নাম সুকৌশলে সেই চার্জশিট থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে৷ পুলিশে তাই প্রবল অনাস্থা জারিনাদের৷ সিবিআই তদন্তেই একমাত্র বিহিত সম্ভব মনে করেই নতুন করে মামলা হল হাইকোর্টে৷

এবার টুইটারে যোগ দিলেন খোদ রাষ্ট্রপতি

এবার টুইটারে যোগ দিলেন খোদ রাষ্ট্রপতি

Untitled-1


এই সময় ডিজিটাল ডেস্ক: ফেসবুকের পর এবার টুইটারে নিজের প্রোফাইল খুললেন রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়

ভারতের রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচিত হওয়ার পর পরই তিনি সোশ্যাল মিডিয়াতে যোগ দেন। ফেসবুকে তাঁর পেজ লাইক প্রায় পাঁচ লক্ষেরও বেশি। সূত্রের খবর, ফেসবুকের মতো জনপ্রিয় সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে বিশ্বের বহু মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ রাখেন। তিনি সেইসব মানুষের সঙ্গে সাধারণ মানুষের মতই কথা বলেন।


সাধারণ মানুষ তো বটেই, বহু রাষ্ট্র নেতাও তাঁর প্রোফাইলে রয়েছেন। তবে তিনিই প্রথম নন, টুইটারে আছেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা, পোপ ফ্রান্সিসও।এছাড়া লোকসভা নির্বাচনের আগেই টুইটারে যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। 

তাপসকে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে বলল দল

তাপসকে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে বলল দল

tapas


এই সময় ডিজিটাল ডেস্ক: বিতর্কিত মন্তব্যের জেরে তাপস পালকে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে বললেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক মুকুল রায়। শুধু তাই নয়, দলের প্রতি সাংসদের চিঠিতে দলের অসন্তুষ্টির কথা জানিয়ে দ্বিচীয় চিঠি দিতে নির্দেশ দেওয়া হল তাঁকে।

গত মে মাসে নদিয়ার চৌমাহা গ্রামের সভায় তৃণমূল সাংসদ তাপস পালের মন্তব্য ঘিরে বিতর্ক বেড়েই চলেছে। ভাষণে আপত্তিকর ভাষা ও উস্কানি মূলক কথার প্রতিবাদে সরব সমাজের বিভিন্ন শ্রেণির মানুষ। দলীয় সাংসদের আচরণে দৃশ্যতই অস্বস্তিতে তৃণমূল শীর্ষ নেতৃত্ব। মঙ্গলবার দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক মুকুল রায় জানিয়েছেন, ইতিমধ্যে গোটা ঘটনা ব্যাখ্যা করে এবং তার জন্য ক্ষমা চেয়ে তৃণমূলের সকল শ্রেণির নেতা-কর্মী-সমর্থককে চিঠি লিখেছেন তাপস। তবে মুখ্যমন্ত্রীকে আলাদা ভাবে কোনও চিঠি তিনি লেখেননি বলে জানা গিয়েছে।

সাংসদের ব্যাখ্যায় অবশ্য মোটেই খুশি হয়নি দল। তৃণমূল নেতৃত্বের স্পষ্ট নির্দেশ, নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়ে ফের চিঠি দিতে হবে তাপস পালকে। দলের তরফ থেকে এদিন মুকুলবাবু জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে এমন ঘটনা যাতে না ঘটে, তা দেখা হচ্ছে। শিক্ষামন্ত্রী তথা তৃণমূলের শীর্ষ নেতা পার্থ চট্টোপাধ্যায় এদিন জানিয়েছেন, তাপস পালের মন্তব্যে স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মর্মাহত।

তৃণমূল সাংসদের এ হেন আচরণে স্বাভাবিক ভাবেই সমালোচনায় মুখর হয়েছে রাজ্যের বিরোধী দলগুলি। এদিন বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা সূর্যকান্ত মিশ্র অভিনেতা তথা সাংসদ তাপল পালের বিতর্কিত ভাষণ সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে বলেন, সিনেমায় এমন ভাষা ব্যবহার করলে ভারতীয় সেন্সর বোর্ড তা বাতিল করে দিত। তিনি জানান, থানায় থানায় তাপস পালের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানানো হবে। বাম নেতার কথা ফলেছে হাতে-নাতে। মঙ্গলবার বিতর্কিত ভাষণের জেরে সাংসদ তাপস পালের বিরুদ্ধে নাকাশিপাড়া থানায় মামলা দায়ের করেছে বিজেপি। জানা গিয়েছে, তাঁর বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ২৩ নম্বর ধারায় অভিযোগ করা হয়েছে। আবার, বিতর্কিত মন্তব্যের জেরে শ্যামপুকুর থানাতেও একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

পাশাপাশি, প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অধীর রঞ্জন চৌধুরী আবার কোদ মুখ্যমন্ত্রীকে আক্রমণ করে বলেন, 'দিদির শিক্ষায় ভাইরা বেড়ে উঠছে।' তিনি জানিয়েছেন, এই ঘটনার নিন্দার ভাষা খুঁজে পাচ্ছেন না। আবার রাজ্য কংগ্রেসের আরেক শীর্ষ নেতা মানস ভুঁইয়া জানিয়েছেন, একজন সাংসদের থেকে এমন মন্তব্য আশা করা যায় না। তাঁর বক্তব্য সমর্থন করার প্রশ্নই ওঠে না। সিপিএম পলিটব্যুরোর সদস্য সীতারাম ইয়েচুরি তৃণমূল সাংসদের মন্তব্যের কঠোর নিন্দা করে জানান, জনপ্রতিনিধির এ হেন আচরণ স্বাধিকার ভঙ্গের আঁওতায় পড়ে কি না, তা খতিয়ে দেখবে বাম শিবির।

শুধু রাজনৈতিক মহলই নয়, তাপস পালের মন্তব্যে স্তম্ভিত সমাজের বিশিষ্টরাও। এদিন কবি শঙ্খ ঘোষ এ ব্যাপারে মন্তব্য করেন, 'রাজনীতি আজ কোন বর্বরতায় এসে পৌঁছেছে, এ সব তারই লজ্জাজনক নজির।' জাতীয় মহিলা কমিশনের চেয়ারপার্সন মমতা শর্মাও এ বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রীর নীরবতা নিয়ে কটাক্ষ করতে ছাড়েননি।

প্রসঙ্গত, স্বামীর বিতর্কিত মন্তব্যের জেরে ইতিমধ্যেই ক্ষমা চেয়েছেন তাপস পালের স্ত্রী নন্দিতা পাল। তিনি জানিয়েছেন, পরিস্থিতির প্রভাবে ওই মন্তব্য করলেও তা অনুচিত হয়েছে সাংসদের।