Tuesday, April 1, 2014

রেপো রেট ৮ শতাংশই রাখল আরবিআই

রেপো রেট ৮ শতাংশই রাখল আরবিআই

rajan
এই সময় ডিজিটাল ডেস্ক: রেপো রেট অপরিবর্তিতই রাখলেন আরবিআই-র গভর্নর রঘুরাম রাজন। ১ এপ্রিল জারি মনিটারি পলিসিতে সুদের হারে কোনও পরিবর্তন না-করে রেপো রেট ৮ শতাংশই রাখল আরবিআই। অর্থাত্‍‌ ইএমআই-তে কোনও পরিবর্তন হবে না। উল্লেখ্য, রেপো রেটের ভিত্তিতেই আরবিআই থেকে বিভিন্ন ব্যাঙ্ক লোন নিয়ে থাকে।

শিল্প জগত বরাবরই রেপো রেট কমানোর দাবি করে এসেছে। কিন্তু মূল্যবৃদ্ধিতে রাশ টানতে রাজন যে পদক্ষেপ করেছিলেন, তাতে অটল থেকেই রেপো রেট অপরিবর্তিত রাখলেন। সেপ্টেম্বর মাসে আরবিআই-র গভর্নর পদে আসার পর থেকে তিন বার রেপো রেট বাড়ানো হয়েছে। জানুয়ারি মাসে মনিটারি পলিসিতে ০.২৫ শতাংশ বৃদ্ধি করেছিল আরবিআই। যার ফলে রেপো রেট বেড়ে দাঁড়িয়েছিল ৮ শতাংশ। সিআরআর-এও কোনও পরিবর্তন করা হয়নি।

গত ফেব্রুয়ারিতে হোলসেল প্রাইজ ইনফ্লেশন ৯ মাসে সর্বনিম্ন ৪.৬৮ শতাংশে পৌঁছে যায়। আবার রিটেল প্রাইজ ২৫ মাসে প্রথম বার ৮.১০ শতাংশে পৌঁছয়। এর পর থেকেই রেপো রেট কমানোর দাবি উঠতে থাকে।

বিয়ের পণ নিয়ে দর কষাকষির জেরে ধর্ষণ ও খুনের শিকার তরুণী

বিয়ের পণ নিয়ে দর কষাকষির জেরে ধর্ষণ ও খুনের শিকার তরুণী

এই সময়, কালনা: কুড়ি দিন নিখোঁজ থাকার পর রবিবার রাতে পূর্বস্থলীর যজ্ঞেশ্বরপুরের গঙ্গায় মিলল প্রেমিকার ক্ষতবিক্ষত মৃতদেহ৷ মৃতার বাড়ি নদীয়ার ধুবুলিয়া থানা এলাকার শান্তিনগরে৷ তার পরিবারের অভিযোগ, ধর্ষণের পর খুন করে দেহ ভাসিয়ে দেওয়া হয় গঙ্গায়৷ পুলিশ জানিয়েছে, মৃতার গলা ও পেটে কাটা দাগ রয়েছে৷ শনিবার রাতে ঘটনায় অভিযুক্ত প্রেমিক প্রশান্ত মণ্ডল অপরাধ স্বীকার করলে, তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলেও জানিয়েছে পুলিশ৷ তরুণীর দাদা অমিয় বিশ্বাসের অনুমান, নগদ তিন লক্ষ টাকা পণ নিয়ে দর কষাকষির জেরেই পরিকল্পিত ভাবে খুন করা হল তাঁর বোনকে৷ 

জানা গিয়েছে, কৃষ্ণনগরের ডিএল রায় কলেজের স্নাতক প্রথম বর্ষের ছাত্রী ওই তরুণীর সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরেই প্রেমের সম্পর্ক ছিল শরত্‍পল্লির বাসিন্দা প্রশান্তর৷ পেশায় স্কুল শিক্ষক প্রশান্ত মণ্ডলের সঙ্গে সম্প্রতি বিয়ের দিনও ঠিক হয়ে গিয়েছিল তার৷ গত ১১ মার্চ স্থানীয় একটি কম্পিউটার ট্রেনিং সেন্টারে যাওয়ার জন্য বাড়ি থেকে বের হয় ওই তরুণী৷ দীর্ঘক্ষণ পরও বাড়িতে না ফিরলে প্রশান্তের বাড়ি গিয়ে তরুণীর দাদা অমিয় বিশ্বাস জানাতে পারে, বাড়িতে নেই প্রশান্ত৷ এমনকি, সে কোথায় তা জিজ্ঞাসা করলে পরিবারের তরফে এড়িয়ে যাওয়া৷ এরপর ১৫ মার্চ তরুণীর পরিবারের তরফে একটি নিখোঁজের ডায়রি করা হয়৷ কিন্ত্ত ২২ মার্চ তার পরিবার জানতে পারে, ওই তরুণীকে খুন করা হয়েছে৷ সেই মতো ধুবুলিয়া থানায় অপহরণের একটি অভিযোগ দায়ের করা হলে, বাড়ি ছেড়ে গা ঢাকা দেয় প্রশান্তের পরিবারের সকলে৷ 

তরুণীর দাদা অমিয়বাবু জানান, প্রশান্তর পরিবারের তরফে গোটা ঘটনার ছক কষা হয়েছে প্রশান্তের মামাবাড়ি পূর্বস্থলীর মধ্য সাজিয়ারা এলাকাতে৷ মৃত্যুর আগে ওই তরুণীর ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হয় বলেও দাবি করেন তিনি৷ পরিবারের পক্ষে আরও অভিযোগ, দেহ যাতে ভেসে উঠতে না পারে, তার জন্য তার পেট চিরে ভারি জিনিস ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছিল৷ এ দিন, ওই তরুণীর মৃতদেহ উদ্ধারের পর ময়না তদন্তের জন্য কালনা মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে তা স্থানান্তরিত করা হয়৷ কালনার এসডিপিও ইন্দ্রজিত্‍ সরকার বলেন, 'স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছ থেকে খবর পেয়েই মৃতদেহ উদ্ধার করে পূর্বাস্থলী থানার পুলিশ৷' 

রোগিণীর মারে ঘায়েল ডাক্তার

রোগিণীর মারে ঘায়েল ডাক্তার

এই সময়: কিশোর ছেলেকে নিয়ে ডাক্তার দেখাতে এসেছিলেন ত্রিশোর্ধ্ব মহিলা৷ সপ্তাহের প্রথম দিন সকালে সরকারি হাসপাতালের আউটডোরে প্রবল ভিড় দেখে আর ধৈর্য ধরে রাখতে পারেননি তিনি৷ প্রথমে গালিগালাজ, তার পর স্বাস্থ্যকর্মীদের সঙ্গে তর্কাতর্কি এবং শেষে সটান মেরে বসলেন ডাক্তারবাবুকেই৷ সকলকে চমকে দিয়ে, স্বয়ং চিকিত্‍সকের গলা থেকে ছিনিয়ে নেওয়া স্টেথো দিয়েই সজোরে আঘাত করলেন ডাক্তারবাবুর মাথায়৷ 

সোমবার বেলা সাড়ে ১১টা নাগাদ ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজের মেডিসিন আউটডোরে ঘটা এই ঘটনায় অবশ্য সঙ্গে সঙ্গেই গ্রেপ্তার করা হয় রুবানা বিবি নামের ওই মহিলাকে৷ ফেটে যাওয়া মাথায় তিনটি সেলাই নিয়ে আপাতত ওই হাসপাতালেই চিকিত্‍সাধীন আহত চিকিত্‍সক, মেডিসিন বিভাগের প্রধান দেবু মুখার্জি৷ অভিযুক্ত মহিলা দক্ষিণ ২৪ পরগনার মগরাহাটের বাসিন্দা৷ তাঁর বিরুদ্ধে স্থানীয় বেনিয়াপুকুর থানার পুলিশ জামিনযোগ্য ধারায় মামলা করায় ওই মহিলা যদিও এ দিনই জামিন পেয়ে গিয়েছেন৷ ন্যাশনালের উপাধ্যক্ষ পীতবরণ চক্রবর্তী বলেন, 'ঘটনাটি বিক্ষিপ্ত হলেও, আমরা সকলে স্তম্ভিত৷ ওঁর বাঁধানো হাঙ্গামায় যাতে অন্যদের অসুবিধা না-হয়, সে জন্য দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয়৷ রুবানা বিবিকে পুলিশের হাতে তুলে দিলেও, ওঁর অসুস্থ ছেলের যথাযথ চিকিত্‍সায় কোনও ব্যাঘাত ঘটেনি মেডিসিন আউটডোরে৷' 

যদিও এ দিনের ঘটনায় বড় হয়ে দেখা দিয়েছে পরিকাঠামো উন্নয়নের অভাবে অতিরিক্ত ভিড়ের সমস্যাটিও৷ চিকিত্‍সকের গায়ে হাত তোলার ঘটনার প্রতিবাদ করেও স্বাস্থ্যক্ষেত্রে শূন্যপদ পূরণের দাবিতে সোচ্চার হয়েছেন চিকিত্‍সকদের একটা বড় অংশ৷ সরকারি চিকিত্‍সকদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অফ হেলথ সার্ভিস ডক্টর্সের সাধারণ সম্পাদক সত্যজিত্‍ চক্রবর্তী বলেন, 'এমন সিনিয়ার ডাক্তারবাবুর গায়ে হাত তোলা চরম নিন্দনীয়৷ চিকিত্‍সকের সুরক্ষার ব্যাপারে প্রশাসনকে আরও দায়িত্ব নিতে হবে৷' কিন্ত্ত রোজ রোজ রোগী অসন্তোষের ঘটনা কেনই বা ঘটবে সরকারি হাসপাতালে, সে প্রশ্নও তুলেছেন তিনি৷ 'রোগী কিংবা তাঁদের পরিজন কেন ধৈর্য হারান? উত্তরটা যে মাত্রাতিরিক্ত ভিড়, তা তো সকলেই জানে৷ এই ব্যাপারটিও গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করতে হবে সরকারকে৷ কর্মীর সংখ্যা বাড়ানো ও পরিকাঠামো উন্নয়ন না-হলে এমন অনভিপ্রেত ঘটনার পুনরাবৃত্তি এড়ানো মুশকিল,' মন্তব্য সত্যজিতবাবুর৷ 

ঠিক কী ঘটেছিল এ দিন ন্যাশনালের রামমোহন ব্লকের একতলায়? প্রত্যক্ষদর্শী এক রোগীর কথায়, 'বেলা তখন সাড়ে ১১টা হবে৷ আউটডোরে প্রবল ভিড়৷ এক মহিলা লাইনের অনেক পিছনে দাঁড়িয়েও অনেক ক্ষণ ধরে চিত্‍কার-চেঁচামেচি করছিলেন, ওঁর ছেলেকে আগে ডাক্তার দেখাবেন বলে৷ কিন্ত্ত লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা অন্য রোগীরা কেউ-ই ওঁকে আগে ছাড়তে রাজি না-হওয়ায়, সকলকেই উনি গালিগালাজ করছিলেন৷ হাসপাতালের স্টাফরা ওঁকে শান্ত করতে গেলে, ওঁদের সঙ্গে মহিলার প্রায় ধস্তাধস্তি শুরু হয়ে যায়৷' উপস্থিত স্বাস্থ্যকর্মীরা জানান, অভিযুক্ত মহিলা কারও কথাই শুনতে চাইছিলেন না৷ গালমন্দ করার পাশাপাশি কর্মীদের গায়েও হাত তুলছিলেন৷ তখনই বিভাগীয় প্রধান দেবুবাবু কর্মীদের বলেন, ওঁর আউটডোরে যেন নিয়ে আসা হয় মহিলাকে৷ 

আহত দেবুবাবুর কথায়, 'কী হয়েছে, কেন উনি এমন করছেন, সে কথাটাই ওঁকে একটু ধমকে জিজ্ঞাসা করেছিলাম৷ উনি তখনও এলোপাথাড়ি হাত ছুড়ছিলেন৷ বুঝতেই পারিনি, আচমকা আমার গলা থেকে স্টেথো টেনে নিয়ে ভারী দিকটা (ডায়াফ্রামের অংশটি) দিয়ে আমার মাথাতেই বাড়ি মেরে দেবেন উনি৷ দীর্ঘ ৩৫ বছরের কেরিয়ারে এমন অভিজ্ঞতা এই প্রথম৷' আকস্মিকতা কাটিয়ে একটু ধাতস্থ হওয়ার পর তিনি প্রথমে পুলিশে অভিযোগ দায়ের করলেও, মহিলার অসহায়তার কথা চিন্তা করেই পুলিশকে পরে অনুরোধ করেন রুবানাকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য৷ পুলিশি ব্যাখ্যা হল, কর্তব্যরত সরকারি চিকিত্‍সকের নিগ্রহ জামিন-অযোগ্য অপরাধ হলেও, দেবুবাবুর অনুরোধেই তারা জামিনযোগ্য ধারায় মামলা রুজু করেছে৷ 

বারাসতে যৌন লালসার শিকার শিশু, ধৃত অভিযুক্ত

বারাসতে যৌন লালসার শিকার শিশু, ধৃত অভিযুক্ত

rape
এই সময় ডিজিটাল ডেস্ক: ফের ধর্ষণ বারাসতে। লালসার শিকার এক শিশুকন্যা। সোমবার রাতে ঘটনাটি ঘটেছে বারাসতের উত্তরায়ণে। পুলিশ অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে। ধৃতের নাম সৌভিক মল্লিক।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সে রাতে অভিযুক্ত প্রতিবেশী শিশুটিকে খাবারের লোভ দেখিয়ে বাড়িতে ডাকে। সেখানেই তার ধর্ষণ করে। পরে তার মা-বাবা সব জানতে পেরে থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। পুলিশ অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে। শিশু

ধাপে ধাপে কৃষিতে বেসরকারি পুঁজি প্রবেশের পক্ষে সওয়াল

ধাপে ধাপে কৃষিতে বেসরকারি পুঁজি প্রবেশের পক্ষে সওয়াল


ধাপে ধাপে কৃষিতে বেসরকারি পুঁজি প্রবেশের পক্ষে সওয়াল

কৃষি ক্ষেত্রের উন্নতির জন্য বেসরকারি ও বৃহৎ পুঁজির প্রয়োজন রয়েছে। কৃষকের সঙ্গে বাজারের যোগসূত্র স্থাপনের প্রতিবন্ধকতা ও সম্ভাবনা নিয়ে বণিকসভা ফিকি-র সঙ্গে ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব ম্যানেজমেন্ট, কলকাতা (আইআইএমসি) আয়োজিত সভায় সোমবার এ কথা বলেন রাজ্য শিল্পোন্নয়ন নিগমের ভাইস চেয়ারম্যান অভিরূপ সরকার। পাশাপাশি, অর্থনীতির শিক্ষক অভিরূপবাবুর বক্তব্য, ধাপে ধাপে কৃষিতে সেই পুঁজির প্রবেশ কাম্য। আর, এই পরিবর্তনের জেরে যাঁরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন, তাঁদের পুনর্বাসনের জন্যও শিল্পায়নই একমাত্র পথ।

বাজারে কৃষি পণ্য যে-দামে বিক্রি হয়, কৃষক তার সিকিভাগও পান না। লাভের গুড় খায় অন্যেরা। উপরন্তু সঠিক পরিকাঠামোর অভাবে নষ্ট হয় কৃষি পণ্যের অনেকটা। সেই সূত্রেই উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, পরিকাঠামো নির্মাণ, বিপণন-সহ কৃষিতে বেসরকারি পুঁজি লগ্নি নিয়ে দেশ জুড়ে বিতর্ক চলছে। বিপুল বাজারের সম্ভাবনার প্রসঙ্গও উঠছে।
সভায় উপস্থিত ম্যারিকো ইন্ডিয়ার অন্যতম কর্তা প্রবোধ কুমার হ্যালদে-র হিসেবে, সারা দেশে খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ শিল্পের বাজার প্রায় ১২ লক্ষ কোটি টাকার। এর মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের ভাগ অন্তত এক লক্ষ কোটি টাকার। তবে কৃষিতে আধুনিক প্রযুক্তি ও পরিকাঠামোর অভাব এ ক্ষেত্রে বেসরকারি পুঁজির প্রয়োজনীয়তার পথ প্রশস্ত করছে। এই পুঁজি এলে সামাজিক ও আর্থিক ক্ষেত্রে তার বিরূপ প্রভাব নিয়েই বিতর্ক চলছে। আশঙ্কা, তা নতুন জট তৈরি করবে। এ রকম বিভিন্ন জট কাটিয়ে সার্বিক ভাবে লাভজনক পরিস্থিতি তৈরির জন্য কী ধরনের নীতি প্রয়োজন, তা খতিয়ে দেখতে এ রাজ্যের চার জেলায় সমীক্ষা শুরু করেছে আইআইএমসি। সেখানকার শিক্ষক পার্থপ্রতিম পাল এ দিন জানান, ব্রিটিশ হাইকমিশন তাঁদের এই প্রকল্পের ভার দিয়েছে। প্রাথমিক কাজ শেষ হওয়ায় শীঘ্রই বর্ধমান, হুগলি, নদিয়া ও পূর্ব মেদিনীপুরে সরেজমিনে সমীক্ষার কাজ শুরু হবে। আগামী মার্চে এই সমীক্ষার রিপোর্ট ব্রিটিশ হাই কমিশনের পাশাপাশি কেন্দ্রকেও দেওয়া হবে। আম চাষেও আইআইএমসি একই সমীক্ষা করছে দক্ষিণ ভারতে।
অভিরূপবাবু অবশ্য কৃষিতে বৃহৎ পুঁজির প্রয়োগ কৌশল নিয়ে সতর্ক। তাঁর মতে, এই পুঁজির দীর্ঘমেয়াদি সুফল আছে। তবে স্বল্পমেয়াদে সঙ্কটে পড়তে পারেন মধ্যবর্তী ছোট ব্যবসায়ীরা। পাশাপাশি কৃষকের আয় বাড়লে পণ্যের দাম বাড়বে। সে ক্ষেত্রে গ্রামাঞ্চলের মানুষের (যাঁরা অন্যের জমিতে কাজ করেন) খরচও বাড়বে। এঁদের সকলের ক্ষতিপূরণের কথা মাথায় রেখেই সরকারকে নীতি প্রণয়নে জোর দেন তিনি। তাঁর মতে, আমজনতার পকেটে চাপ কমাতে বাধ্যতামূলক ভাবে কৃষককে পণ্যের একটা অংশ ন্যূনতম মূল্যে সরকারকে বিক্রি করতে হবে। এবং জোরদার করতে হবে সরকারি গণবণ্টন ব্যবস্থাও। স্বল্পমেয়াদে যাঁরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন, শিল্পায়নই তাঁদের একমাত্র বিকল্প রুজির সূত্র হতে পারে বলে মনে করেন অভিরূপবাবু।

সবিতা বাবূ কড়া রোদ্দূরে আনন্দিত,সাত্বিক রীত জিম্মার ছবি তুলে ফেলেছে

রাশিয়া-ভারত নতুন মেরুকরণে বাংলাদেশের যোগ দেয়ার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে

রাশিয়া-ভারত নতুন মেরুকরণে বাংলাদেশের যোগ দেয়ার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে


মেজর জেনারেল মুনীরুজ্জামান (অব.), প্রতিরক্ষা এবং নিরাপত্তা বিষয়ক আন্তর্জাতিক বিশ্লেষক। প্রভাবশালী বেসরকারি গবেষণা সংস্থা বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব পিস এ্যান্ড সিকিউরিটি স্টাডিজ(বিআইপিএসএস)-এর সভাপতি। ক্রাইমিয়া প্রশ্নে জাতিসংঘের ভোটদানে বাংলাদেশের বিরত থাকা,ভারত-রাশিয়া মেরুকরণে বাংলাদেশের অবস্থান এবং পররাষ্ট্রনীতিতে পরিবর্তনের ইঙ্গিতসহ এ জাতীয় বিষয়গুলো নিয়ে কথা বলেছেন আমাদের বুধবার-এর সঙ্গে।
আমাদের বুধবারক্রাইমিয়াকে রাশিয়ার অঙ্গীভূতকরণ প্রক্রিয়ার ব্যাপারে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে বাংলাদেশের ভোটদানে বিরত থাকাসহ সাম্প্রতিক বেশ কিছু বিষয়াবলী পর্যবেক্ষণে ধারণা করা যাচ্ছেবাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিতে পরিবর্তন ঘটছে। এ সম্পর্কে আপনার মতামত কি?
মেজর জেনারেল মুনীরুজ্জামান (অব.): নতুন ভাবে পর্যবেক্ষণে দেখা যাচ্ছেবাংলাদেশের পররাষ্ট্র নীতির ক্ষেত্রে একটি পশ্চাৎমুখী অবস্থানের দিকে আমরা আবার ফিরে যাচ্ছি। ভারত ও রাশিয়া তাদের পুরনো মৈত্রী সম্পর্ককে আবার জোরালোভাবে পুনঃস্থাপন করতে যাচ্ছে। যদিও ভারত বেশ কিছু বছর ধরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত মিত্র হিসেবে প্রকাশ পেয়েছিল এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রও ভারতকে এই অঞ্চলের প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তার ব্যাপারে নতুন স্থানে ভারতকে স্থান দেয়ার পরিকল্পনা করছিল। কিন্তু হঠাৎ করে দেখা যাচ্ছেভারত সেখান থেকে মোড় নিয়ে পুরনো মিত্র রাশিয়ার সঙ্গে আবার নতুন করে শক্ত অবস্থান নিচ্ছে। এটা বিভিন্নভাবে প্রকাশ পাচ্ছে যার মধ্যে একটি বড় বহিঃপ্রকাশ দেখা গেছেযখন রাশিয়া ক্রাইমিয়াকে অঙ্গীভূতকরণ (এনেক্সসেশনপ্রক্রিয়ার দিকে অগ্রসর হচ্ছিল তখন ভারতই একমাত্র বড় দেশ যারা ওই পক্ষে অবস্থান নিয়েছিল। যার কারণে ক্রাইমিয়া অঙ্গীভূতকরণ প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতকে ধন্যবাদ জানিয়েছিলেন। এ থেকে বোঝা যাচ্ছেভারত এবং রাশিয়া পুরনো যে মৈত্রী সম্পর্ক ছিল সেটা শুধু পুনঃস্থাপনই হচ্ছে নাএর সঙ্গে নতুন একটি মেরুকরণেরও সৃষ্টি হচ্ছে। মেরুকরণের ফলে যে বলয় সৃষ্টি হচ্ছে তার মধ্যে অন্যান্য দেশগুলোকেও যোগ দেয়ার জন্য একদিকে চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে এবং অন্যদিকে অনুপ্রেরণা যোগানো হচ্ছে। সেই কাতারে যে দেশগুলো নাম লেখাচ্ছে তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশ এই নতুন মেরুকরণে যোগ দেয়ার যে ইঙ্গিত দিচ্ছে তারই একটি বহিঃপ্রকাশ হচ্ছে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ক্রাইমিয়া প্রশ্নে যে ভোটাভুটি হয় তাতে বাংলাদেশ ভোটদানে বিরত থাকে। ভারতও ভোটদানে বিরত ছিল। বাংলাদেশ ভারতের সঙ্গে কাধে কাধ মিলিয়ে ভোটদানে বিরত ছিল। নানা কর্মকাণ্ডে এবং ইঙ্গিতে বোঝা যাচ্ছে -রাশিয়া ভারতের নতুন মৈত্রী এবং মেরুকরণের বলয়ের দিকে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে।
আমাদের বুধবারকেন এবং কোন কারণে বাংলাদেশ রাশিয়া-ভারত বলয়ের দিকে ঝুকে পড়ছে বলে আপনি মনে করেন এবং এর ভূ-রাজনৈতিক দিকটিই বা কি?
জেনারেল মুনীরুজ্জামান (অব.): আসলে ভূ-রাজনৈতিক বিষয়ের চেয়েও বেশি হচ্ছে ব্যক্তিগত এবং দলীয় দৃষ্টিভঙ্গিতে বিষয়টিকে কিভাবে দেখা হচ্ছেপর্যালোচনা আসছে সে বিষয়টি বিশ্লেষণ করতে হবে। দেখা যাচ্ছেবাংলাদেশের বর্তমান শাসন ক্ষমতায় যারা আছেন তারা এক ধরনের পশ্চাৎমুখী পররাষ্ট্রনীতিতে বিশ্বাসী। এছাড়া তাদের মধ্যে এক ধরনের নষ্টালজিয়া কাজ করে। ১৯৭১ পরবর্তী সময়ে পররাষ্ট্রনীতি তারা গ্রহণ করেছিলেনসেই নষ্টালজিয়ার কারণে তারা সেদিকেই আবার ফিরে যেতে চাইছেন। কিন্তু এটি তারা উপলব্ধি করতে ব্যর্থ হচ্ছেন যে১৯৭১ পরবর্তী এই দীর্ঘ সময়ে বিশ্ব পরিস্থিতি সম্পূর্ণ পাল্টে গেছে। বর্তমান বিশ্বে আন্তর্জাতিক সম্পর্কের যে ক্ষেত্রগুলো রয়েছে তার সঙ্গে এটি কতোটুকু সামঞ্জস্যপূর্ণ সে বিষয়টি হয়তো তারা সঠিকভাবে বিশ্লেষণ করতে পারছেন না। দ্বিতীয় যে কারণটি দেখা যাচ্ছে তাহলো যে পররাষ্ট্রনীতি বাংলাদেশ অনুসরণ করছে তা ভারত ঘেষা। অর্থাৎ ভারত যেভাবে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিতে প্রভাব ফেলছে তা এভাবে কোনোদিনই তারা করতে পারেনি। বর্তমানে ভারতমুখী পররাষ্ট্রনীতি হওয়ার কারণে ভারতকে পুরোপুরি অনুসরণের মনোভাবে তারা আচ্ছন্ন হয়ে আছেন। ভারত যেহেতু ক্রাইমিয়ার প্রশ্নে একটি সিদ্ধান্ত নিয়েছে সেহেতু বাংলাদেশও সেই দিকে অগ্রসর হয়েছে। এ বিষয়টি বিবেচনা করা প্রয়োজন যেক্রাইমিয়ার অবস্থান এবং বাংলাদেশের অবস্থানের মধ্যে বড় ধরনের মিল রয়েছে। দুটো দেশই কৌশলগত এবং ভূ-রাজনৈতিক ক্ষেত্রে বিশেষ করে সমুদ্রের অবস্থানের কারণে খুবই গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে। একই সঙ্গে দুটোই ক্ষুদ্র রাষ্ট্র এবং ভূ-রাজনৈতিক অবস্থানের কারণে দুটো দেশের পাশেই দুটো বড় রাষ্ট্রের অবস্থান। ক্রাইমিয়া প্রশ্নে ইউক্রেনের সঙ্গে বাংলাদেশের যে ভূ-রাজনৈতিক এবং ভূ-অর্থনৈতিক মিল রয়েছে তা যদি সঠিকভাবে বিশ্লেষণ ও অনুধাবন করা যায় তাহলে দেখা যাবে ক্রাইমিয়ায় বর্তমানে যে পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে তা থেকে আমাদের শিক্ষা নেয়ার প্রয়োজন রয়েছে। শিক্ষা নেয়ার প্রয়োজন রয়েছে এ কারণে যেযাতে জাতীয় সত্ত্বাজাতীয় নিরাপত্তা আমরা সমুন্নত রাখতে পারি। কিন্তু বাংলাদেশ যেভাবে ক্রাইমিয়া প্রশ্নে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিকভাবে যে অবস্থান নিয়েছে তা ওই সব বিষয়গুলোর সম্পূর্ণ বিপরীতে যাচ্ছে। রাশিয়াকে এক ধরনের সমর্থন দেয়া হলো যেএই ধরনের অঙ্গীভূতকরণ বা এনেক্সসেশন করা যেতে পারে। আমাদের মনে রাখা উচিতএ ধরনের পরিস্থিতি কি আমাদের ক্ষেত্রেও ঘটতে পারে নাএ প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের অবস্থান সম্পূর্ণ ভিন্ন হওয়ার উচিত ছিল। খুব জোরালো অবস্থানে বলা উচিত ছিলযে কোন রাষ্ট্রের ভৌগোলিক অবস্থান এবং মানচিত্র পরিবর্তন করা ক্ষুদ্র রাষ্ট্রের নিরাপত্তার প্রশ্নে কোনোক্রমেই আইনসম্মত হতে পারে না।
আমাদের বুধবারতাহলে বাংলাদেশের এই অবস্থান গ্রহণের পেছনে আর কি কারণ রয়েছে বলে আপনি মনে করেন?
জেনারেল মুনীরুজ্জামান (অব.): সাম্প্রতিককালে বাংলাদেশের সঙ্গে রাশিয়ার বিভিন্ন ধরনের অর্থনৈতিক কিছু চুক্তি হয়েছে এবং ভবিষ্যতে আরও হবে বলে মনে হচ্ছে। এখানে উল্লেখ করা যেতে পারেগত বছর রাশিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশ ১০০ কোটি ডলারের একটি অস্ত্র ক্রয় চুক্তি সম্পাদন করেছে। এতো বড় অঙ্কের অর্থ ঋণ নিয়ে অস্ত্র ক্রয় চুক্তি অন্য কোন দেশের সঙ্গে এর আগে কখনই হয়নি। আরেকটি বিষয় বলা প্রয়োজনআন্তর্জাতিকভাবে যে রাষ্ট্রগুলো অস্ত্র বেচা-কেনার ব্যাপারে অস্বচ্ছতা অবলম্বন করে এবং এ কারণে দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে তার শীর্ষে অবস্থান করে রাশিয়া। এমন একটি দেশের সঙ্গে এ ধরনের অস্বচ্ছ চুক্তি নানা ধরনের সংশয় এবং প্রশ্ন জনমনে জন্ম দিয়েছে। কাজেই শুধু রাজনৈতিক কারণেই নয়অর্থনৈতিক স্বার্থও জড়িত হয়ে গেছে। এটা কি শুধুমাত্র রাষ্ট্রের স্বার্থে জড়িত রয়েছে এ নিয়েও নানাবিধ প্রশ্ন জনমনে রয়েছে। এছাড়াও আরো তিনটি কারণ চিহ্নিত করা যায়। একনতুন ধরনের একটি মেরুকরণ হচ্ছে রাশিয়া এবং ভারতের মধ্যে। যারা এ বিষয়ে চিন্তা-ভাবনা করছেন তারা এ অবস্থাকে বলছেন স্নায়ুযুদ্ধ ২ অর্থাৎ কোল্ডওয়ার টু। বিশ্বের রাজনীতি এবং রাষ্ট্রীয় সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি নতুন পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। দুইবাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি এতো বেশি ভারত প্রভাবিত যে কারণে বিভিন্ন ক্ষেত্রে ভারত যে সব অবস্থান নিচ্ছে তাদেরই জাতীয় স্বার্থেসে ক্ষেত্রে আমরা আমাদের স্বার্থ রক্ষা করে কোনো ব্যবস্থা নিতে পারছি না। এছাড়াও রাশিয়ার সঙ্গে পারমাণবিক বিদ্যুৎ স্থাপনা নির্মাণের জন্য একটি চুক্তি করা হয়েছে সে ক্ষেত্রেও অনেক অস্বচ্ছতা রয়েছে। কারণ আন্তর্জাতিক যে প্রতিযোগিতামূলক ব্যবস্থাটি থাকা উচিত ছিল এ চুক্তি সম্পাদনের ক্ষেত্রেসে মতো কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। এক্ষেত্রে অর্থনৈতিকভাবে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে পারমাণবিক নিরাপত্তা ও যোগ্যতার যে প্রশ্নগুলো রয়েছে সেখানেও নানা ধরনের সংশয় দেখা দিয়েছে। আমরা সবাই জানিনিজ দেশে এবং অন্যান্য দেশে রাশিয়া যে পারমাণবিক স্থাপনাগুলো প্রতিষ্ঠা করেছে তার সেফটি রেকর্ড সন্তোষজনক নয়। চেরনোবিলে যে দুর্ঘটনা হয় তার পরে বিভিন্ন বিশ্লেষণে দেখা গেছে,রাশিয়ার পারমাণবিক কেন্দ্রগুলোর সেফটি রেকর্ড আন্তর্জাতিক মানের নয়। যে ধরনের কারিগরি কৌশল বা টেকনোলজি দিয়ে পারমাণবিক চুল্লি তারা স্থাপন করতে যাচ্ছেতা রাশিয়ার বাইরে খুব সম্ভবত ভিয়েতনাম ছাড়া অন্য কোথাও তারা স্থাপন করতে পারেনি। এখানে প্রশ্ন হলো যেখানে বিভিন্ন দেশের নানা উন্নত প্রযুক্তির পারমাণবিক চুল্লি আমরা কিনতে পারতাম সেখানে কেন এই ঝুকিপূর্ণ অবস্থানের দিকে আমরা গেলামসামগ্রিক বিষয় পর্যালোচনা করলে দেখা যায়বাংলাদেশে রাশিয়া বড় ধরনের অর্থনৈতিক স্বার্থ জড়িত হয়ে পড়েছে। তাছাড়া পুরো সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়াটি পরিষ্কার বা স্পষ্ট নয়।
আমাদের বুধবারসরকার বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে যে পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে তার ভবিষ্যত প্রতিক্রিয়া কি হতে পারে?
জেনারেল মুনীরুজ্জামান (অব.): বাংলাদেশের সঙ্গে পশ্চিমা বিশ্বের যে সম্পর্ক রয়েছে সেখানে বহু ক্ষেত্রে বাংলাদেশের স্বার্থ জড়িত রয়েছে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়তৈরি পোশাক শিল্পের বড় বড় যে বাজারগুলো রয়েছে তা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা বিশ্বে। বাংলাদেশের সঙ্গে তাদের যে কৌশলগত স্বার্থ এবং সম্পর্ক রয়েছে তার উপরে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে। সম্পর্কের যে ধারা ছিল তা বজায় রাখা যাবে কিনা সে নিয়েও সন্দেহ দেখা দিয়েছে। এছাড়াও একটি বিষয় মনে রাখতে হবেপশ্চাৎমুখী পররাষ্ট্রনীতি অগ্রসরমান নতুন পরিস্থিতির দিকে আমাদের কখনোই নিয়ে যাবে না।
আমাদের বুধবারআপনাকে ধন্যবাদ।।
http://amaderbudhbar.com/?p=3465